<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Global Affairs &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<atom:link href="https://mamoon.net/category/opinion/global-affairs/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://mamoon.net</link>
	<description>mamoon.net</description>
	<lastBuildDate>Sat, 03 Oct 2026 08:14:04 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://mamoon.net/wp-content/uploads/2026/05/Logo-Mamoon-Vai-150x150.png</url>
	<title>Global Affairs &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<link>https://mamoon.net</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>Flydubai FZ1073: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল ১৮২ প্রাণ</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1378</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1378#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 03 Oct 2026 04:31:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1378</guid>

					<description><![CDATA[৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেলআভিভের পথে Flydubai FZ1073। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছুটে চলা বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী ও ৮ জন বিমানকর্মী সহ মোট ১৮২ জন। হঠাৎ মাত্র...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেলআভিভের পথে Flydubai FZ1073। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছুটে চলা বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী ও ৮ জন বিমানকর্মী সহ মোট ১৮২ জন।</p>
<p>হঠাৎ মাত্র ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। যাত্রীরা তখনও বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটছে। পরে জানা যায়, ককপিটে সহ-পাইলটের সঙ্গে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে এবং ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।</p>
<p>গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার বুঝতে পেরেছিলেন, শুধু নিজের জীবন নয়, বিমানে থাকা ১৮২ জন মানুষের জীবন তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।</p>
<p>আহত অবস্থায় তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলটও পরে নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সবাই প্রাণে বেঁচে যান।</p>
<p>এই অসাধারণ সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্য ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘হিরো’ বলা হচ্ছে।</p>
<p>সহ-পাইলট একজন ওমানি নাগরিক। তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে ABC News জানিয়েছে, ২০২৪ সালে Oman Air-এ trainee co-pilot থাকাকালে তাঁকে নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং তাঁর কাছে উগ্রপন্থী উপাদান পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও কীভাবে তিনি আবার বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটে দায়িত্ব পেলেন, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে এসব তথ্যের পূর্ণ সত্যতা ও ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন।</p>
<p>নির্দোষ মানুষের জীবনহানি ও ভুল বার্তা: বিমান বা বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু বানালে কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয় না।</p>
<p>ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮.৬ শতাংশ, অর্থাৎ ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ মুসলিম, ইসরায়েলের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী। তাই কোনো বিমান যদি সত্যিই যাত্রীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধ্বংস করা হতো, সেখানে মুসলিম ইসরায়েলিরাও প্রাণ হারাতে পারতেন।এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ও হিংসাত্মক ঘটনা সেখানে বসবাসকারী সাধারণ মুসলিমদের জীবনযাত্রা এবং নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এর ফলে সামগ্রقভাবে মুসলিম কমিউনিটির ওপর সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দেয়াল আরও উচু হয়।</p>
<p>এ ধরনের ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল বা অন্যান্য সংবেদনশীল পেশায় কর্মরত মুসলিমদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি এবং সন্দেহ বাড়ে। এমনকি পাইলট বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিমদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক সতর্কতা বা বাধা তৈরি হতে পারে, যা একটি পুরো সম্প্রদায়ের পেশাগত অগ্রগতির পথকে সংকুচিত করে দেয়।</p>
<p>অতীতে বিমান ভ্রমণ যতটা সহজ ও স্বস্তিদায়ক ছিল, এই ধরনের সংকীর্ণ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে আজ সারা বিশ্বের সাধারণ যাত্রীদের, বিশেষ করে মুসলিম যাত্রীদের বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানি ও কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হয়।</p>
<p>এ ধরনের অন্ধ কাজ কোনো ন্যায়সঙ্গত বা মহৎ উদ্দেশ্যে সহায়তা করে না; বরং এটি মূল আন্দোলন বা সংগ্রামকে দুর্বল করে যা রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবেও তা আত্মঘাতী।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1378/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উসামার জন্য এপিটাফ</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/global-affairs/672</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/global-affairs/672#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 03 Sep 2026 03:27:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=672</guid>

					<description><![CDATA[পুরো নাম উসামা বিন মুহাম্মদ বিন আওয়াদ বিন-লাদেন। ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের এ্যাবোটাবাদ শহরের একটি উঁচু প্রাচীর ঘেরা বাড়িতে উসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন সিল কমান্ডো বাহিনী। বিশ্বের...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পুরো নাম উসামা বিন মুহাম্মদ বিন আওয়াদ বিন-লাদেন। ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের এ্যাবোটাবাদ শহরের একটি উঁচু প্রাচীর ঘেরা বাড়িতে উসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন সিল কমান্ডো বাহিনী। বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তিনি। তাই আমেরিকা ও তার দোসরদের চোখে উসামা যেমন ছিলেন একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী, অন্যদিকে আমেরিকার আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য অনেকের চোখে তিনি ছিলেন বিদ্রোহের প্রতীক।</p>
<p>তার পরিচিতির এই বৈসাদৃশ্যের জন্য তিনি পরিণত হয়েছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্বে। আমেরিকার প্রতাপ, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দাকে ফাঁকি দিয়ে উসামা দীর্ঘ দশটি বছর লুকিয়ে ছিলেন। উসামাকে খুঁজে বের করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল আমেরিকা ও তার মিত্র জোট। এ জন্য বিশ্বজুড়ে চলছিল অঘোষিত যুদ্ধ। </p>
<p>উসামাকে হত্যা করতে আমেরিকার সময় লেগেছে ১০ বছর, দখল করতে হয়েছে দু’টি দেশ, খরচ হয়েছে প্রায় ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আমেরিকার জনসংখ্যার মাথাপিছু ১২,০০০ ডলারের সমতুল্য। ইরাক ও আফগানিস্তানে নিহত হয়েছে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ। লন্ডনভিত্তিক মেডিকেল জার্নাল ‘দি লান্সেট’ এর রক্ষণশীল হিসাব মতে, টুইন টাওয়ারে নিহত প্রতিটি আমেরিকানের জন্য কমপক্ষে ৮০ জন বেসামরিক মুসলিমকে হত্যা করেছে আমেরিকা। </p>
<p>এ্যাবোটাবাদের শয়নকক্ষে উসামার প্রতিরোধহীন মৃত্যু খোদ আমেরিকানদের বিস্মিতি করেছে। তিনি যখন আক্রান্ত হলেন, তখন তার পাশে ছিল না কোনো দেহরক্ষী কিংবা এক্সপ্লোসিভ ভেস্ট পরা মুজাহিদ। উসামার নিরস্ত্র স্ত্রী আমাল আল-সাওদা স্বামীকে রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সিল কমান্ডোদের উপর। জানা যায়, উসামার বিছানার কাছে সব সময় থাকত ১৯৮৭ সালে এক রাশিয়ান জেনারেল থেকে ছিনিয়ে নেয়া মাকারভ পিস্তল ও একে-৪৭ রাইফেল। ফ্রন্ট লাইনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন উসামা। তোরা-বোরা গুহার ভয়ংকর রণক্ষেত্র থেকেও তিনি পিছু হটে আসতে চাননি। কিন্তু তার সঙ্গী সাথীরা রীতিমত জোর করে তাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এ জন্য তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অথচ সেই উসামা মার্কিন কমান্ডোরা আসার আগে উসামা তার পিস্তলটাও হাতে তুলে নেবার সময় পেলেন না। </p>
<p>নিরস্ত্র লাদেনকে জীবিত ধরে কি বিচার করা যেতো না? তার মানে বিন লাদেন খুব বেশি জানতেন বলেই কি তাকে হত্যা করা হল? কিন্তু সাদ্দাম কি কম জানতেন? হাজারো কুর্দিকে গ্যাস প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫৩ জন ইরাকীকে হত্যার অভিযোগে তার ফাঁসি হয়। আদালতে সাদ্দামকে তেমন কিছু বলতে দেয়া হয়নি আর সাদ্দাম কিছু বললেও সেটা বহির্বিশ্ব জানতে পারেনি। তাই উসামার বিচার করা হলেও উসামার ভাষ্য বিশ্ব¦ কি কখনো জানতে পারতো? </p>
<p>আফগানিস্তানের পাহাড়-পর্বতে না ঘুরে থাকার জন্য উসামা এ্যাবোটাবাদেও আবাসিক এলাকার এক বিশাল কম্পাউন্ড বেছে নিয়েছিলেন। বহির্জগতের সাহায্য ছাড়া যাতে চলা যায় সে জন্য এ্যাবোটাবাদের কম্পাউন্ডে নাকি স্বয়ম্বর পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছিল। বাড়ির পেছনে খালি জমিতে ছিল শাক-সব্জির বাগান, ছোটখাট মুরগীর খামার, গরু, খরগোশ ইত্যাদি। ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গেলেও বাড়িতেই তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল। এ্যাবোটাবাদের বাড়িতে উসামার তিনজন স্ত্রীর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ আমাল ছাড়া বাকি দু’জন ছিলেন উচ্চ শিক্ষিতা। ওদের একজন আবার ইসলামিক শারিয়ার পিএইচডি ডিগ্রিধারী ছিলেন। </p>
<p>উসামার খোঁজ কিভাবে পাওয়া গেল সে নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। তবে উসামার খুব কাছের কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মনে হয় না। তাই যদি হতো, উসামার খোঁজ পেতে আমেরিকাকে দশটি বছর অপেক্ষা করতে হতো না। ৫০ মিলিয়ন ডলারের লোভে বহু আগেই ধরা পড়তেন উসামা, যেমন মাত্র ৯ মাসের মাথায় ধরা পড়েছিলেন ইরাকের সাদ্দাম হোসেন। </p>
<p>বিশ্বস্ত সহচর আবু আহমদ আল-কুয়েতীর মাধ্যমেই উসামা বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। পাকিস্তানের খ্যাতনামা জার্নালিস্ট নজম শেঠি থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী নিয়মিত ফোনে আঁড়ি পেতে আল-কায়েদার জঙ্গীদের কথাবার্তা শোনার চেষ্টা করত। আরবি ভাষায় কোনো কথাবার্তা ধরা পড়লে পাকিস্তানী গোয়েন্দারা সেটা রেকর্ড করে আমেরিকানদের হাতে তুলে দিত। </p>
<p>উসামার প্রতি তার সহযোদ্ধাদের আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা ছিল কিংবদন্তির মতো। উসামার বিশ্ব¦স্ত বার্তাবাহক আবু আহমদ আল-কুয়েতী উসামার সাথে একই কম্পাউন্ডে থাকতেন। তিনি চাইলে বহু আগে উসামাকে ধরিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু কুয়েতী তা করেননি বরং উসামার প্রতি আনুগত্যের কারণে তাকে পরে অবশ্য জীবনও দিতে হয়েছে। </p>
<p>কারো সাথে যোগযোগ করার প্রয়োজন হলে বাড়ি থেকে অন্তত ৯০ মিনিটের পথ গাড়ি করে গিয়ে মোবাইল সেটে ব্যাটারি ও সিম ঢুকিয়ে তবেই কুয়েতী ফোন করতো। যার ফলে উসামার অবস্থান নির্ণয় করা ছিল দুরুহ। এ্যাবোটাবাদের ঘটনার ৬-৯ মাস আগে একটি সিম থেকে প্রায় ৬ বার আরবিতে কথাবার্তা ধরা পড়ে। পাকিস্তানী গোয়েন্দারা বরাবরের মতো ফোনকলের টেপ মার্কিনীদের হাতে তুলে দেয়। তবে ওই ফোন কলের একটি ছিল এ্যাবোটাবাদের কম্পাউন্ড থেকে যা অবশেষে আমেরিকাকে উসামার ঠিকানায় নিয়ে যায়। কুয়েতী ভুলক্রমে এ্যাবোটাবাদের বাড়ি থেকে একটি ফোন করে বসেন, যা উসামার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। </p>
<p>তবে অপারেশনের আগে উসামার অবস্থান সস্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হবার জন্য সিআইএ পাকিস্তানী ডাক্তার শাকিল আফ্রিদির সাহায্য নেয়। আমেরিকার নির্দেশে টিকাদান কর্মসূচীর নামে ডা. অফ্রিদি উসামার বাড়ির সদস্যদের রক্ত নমুনা সংগ্রহ করে সিআইএর হাতে তুলে দেয়। অতঃপর ২০১০ সালে বোস্টনে মারা যাওয়া উসামার বোনের ডিএনএ’র সাথে এ্যাবটোবাদের কম্পাউন্ডে বসবাসরত সদস্যদের রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হয়। এভাবে আমেরিকা উসামা ও তার পরিবারের অবস্থান নিশ্চিত করে। </p>
<p>বিন লাদেন বহুবার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক রবার্ট ফিস্কের ‘দি গ্রেট ওয়ার ফর সিভিলাইজেশান’ থেকে তার কিছু বিবরণ পাওয়া যায়। আফগান যুদ্ধের সময় অন্তত চারবার গোলাবর্ষণের মধ্য থেকে বেঁচে গেছেন উসামা। একবার বিন লাদেনের কয়েক মিটারের মধ্যে কামানের গোলা পড়েও সেটা ফাটেনি। এছাড়া ১৯৯৮ সালে আফগানিস্তানের ট্রেনিং ক্যাম্পে আমেরিকার ক্রুজ মিসাইল আক্রমণ, ২০০০ সালে বিন লাদেনের গাড়ি বহরের উপর রকেট হামলা এবং ২০০১ সালে আফগানিস্তানের তোরাবোরা পর্বতের গুহায় বিধ্বংসী বিমান হামলা থেকেও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। মৃত্যুর হাত থেকে অলৌকিকভাবে বারবার বেঁচে যাওয়ার কারণে উসামা তার অনুসারীদের কাছে জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হন। </p>
<p>উসামার চরিত্রের কারিশমা যে মানুষকে আকৃষ্ট করতো সেটা তার ঘোর শত্রু আমেরিকা একটু বাঁকা করে হলেও এভাবে স¦ীকার করেছে। উসামার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে আমেরিকার তৎকালিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট গেট্স ‘পিকুলিয়ার কারিশমা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। </p>
<p>১৯৭৯ সাল ছিল উসামার জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ওই বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি শেষ করেন। উনসত্তরের নভেম্বরে হজ্জ্ব চলাকালীন কিছু সশস্ত্র বিদ্রোহী কাবাঘর দখল করে আব্দুল্লাহ আল-কাহতানীকে ইমাম মেহেদী বলে দাবি করে। সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে মসজিদুল হারামে প্রায় ৪০০ লোকের মৃত্যু হয়। আর ওই বছরের ফেব্রুয়ারীতে ঘটে ইরানের ইসলামি বিপ্লব। </p>
<p>এর মাসখানেক পরেই সোভিয়েত রাশিয়া আফগানিস্তান চালায় আগ্রাসন। চাঞ্চল্যকর এই সব ঘটনা প্রবাহ উসামার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি তার তাত্ত্বি¡ক গুরু আব্দুল্লাহ আজ্জামের সাথে সোভিয়েত দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিতে পাকিস্তান যাবার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে যাবার সাথে সাথেই তিনি রাইফেল কাঁধে নিয়ে আফগানিস্তানের ফ্রন্টলাইনে ছুটে যাননি। কার্যত ১৯৮৬ সালের পর থেকেই তিনি সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমুখ সমরে অংশ নিতে শুরু করেন। </p>
<p>আশির দশকের প্রথম পাঁচ বছর উসামা আফগানী মুজাহিদদের অর্থনৈতিক সাহায্য, অস্ত্র সরবরাহ, আরব বিশ্ব থেকে যোদ্ধা সংগ্রহ, বিভিন্ন যোদ্ধা উপদলের মধ্যে মধ্যস্থতা করা ইত্যাদি লজিস্টিক সার্পোটের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া মুজাহিদদের জন্য রাস্তাঘাট ও বাঙ্কার নির্মাণ, যুদ্ধে আহতদের সেবার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল এবং রিফিউজিদের জন্য ক্যাম্প নির্মাণের কাজে তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যান। এ ধরনের জনসেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে সাধারণ আফগানী জনতার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেন উসামা। তাই তো ২০০১ সালে আমেরিকার কর্তৃক আক্রান্ত হবার পরও শুভাকাংখী উসামাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়নি আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। </p>
<p>১৯৮৮ সালে আল-কায়েদা গঠনের পর থেকে উসামা আমেরিকার রাডারে চলে আসেন। মূলত সোভিয়েত-আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ চলাকালে আফগানিস্তানের মুজাহিদিন ক্যাম্পে সংগঠনটি গড়ে ওঠে। তবে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিখিত ফতোয়া দিয়ে আমেরিকা ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার পর আমেরিকার এক নম্বর শত্রুতে পরিণত হন উসামা। ফতোয়ায় কুরআনের আয়াত এবং হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশের সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের যে কোনো দেশে হত্যা করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য বলে দাবি করা হয়। </p>
<p>অথচ কুরআনের আনুষঙ্গিক বাণীটির অবতীর্ণ হবার কারণ, ওই সময়কার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান সময়ে তার উপযোগিতা ইত্যাদি হাদিসের আলোকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে উসামার ব্যাখার সাথে মেলে না। এভাবে জিহাদের নামে বেসামরিক মানুষ হত্যার ফতোয়া দিয়ে উসামা সন্ত্রাসশর পথেই পা বাড়িয়েছিলেন। নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কুরআনের বাণীর এ ধরনের অপব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয়। যা ইসলামকে কলুষিত করার জন্য মুসলিম বিদ্বেষীদেরই বেশি সুযোগ করে দেয়। </p>
<p>আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুরোর বিরুদ্ধে আল-কায়েদা জিহাদ ঘোষণা করলেও তেমন সফল হতে পারেনি। ১৯৯৫ সালে রিয়াদের খোবার টাওয়ার ও ইয়ামেনে ২০০০ সালের আমেরিকান ডেস্ট্রয়ার ‘কোল’ আক্রমণ ছাড়া অন্য কোন বড় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আল-কায়দা হামলা চালাতে পারেনি। ১৯৯৮ সালের তানজানিয়া ও কেনিয়ার মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলায় নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। যদিও আমেরিকান দূতাবাসকে এক ধরনের কমান্ড সেন্টারই বলা যায়, কিন্তু তানজনিয়া ও কেনিয়ায় মার্কিন দূতাবাসের বোমা হামলায় নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। </p>
<p>আফগান মুজাহিদদের হাতে সোভিয়েত রাশিয়ার পরাজয় উসামাকে আমেরিকার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে মনোবল যুগিয়েছিলে বলে জানা যায়। কিন্তু একটি সুপার পাওয়ারকে মোকাবিলা করার জন্য অদম্য সাহসই যে যথেষ্ট নয় তা উসামার শেষ পরিণতি দেখেই বোঝা যায়। উল্লেখ্য, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ দিয়ে আফগানদের সাহায্য করেছিল আর পাকিস্তানের মাটিতে ছিল আফগান মুজাহিদদের নিরাপদ আশ্রয়। </p>
<p>যুদ্ধবিশারদদের মতে, আমেরিকার দেয়া স্টিঙ্গার মিসাইলই যুদ্ধের ভারসাম্য মুহজাহিদের পক্ষে নিয়ে যায়। স্টিঙ্গার মিসাইলের আঘাতে প্রায় ৩০০ রাশিয়ান যুদ্ধবিমান ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে, আফগানিস্তানের আকাশে রাশিয়ার আধিপত্য খর্ব হয়ে যায়। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল-কায়দার যোদ্ধাদের না আছে উন্নত মানের অস্ত্র, না আছে নিরাপদ আশ্রয়। ড্রোনের আঘাত থেকে বাঁচার জন্য এক আস্তানা থেকে অন্য আস্তানায় পালিয়ে বেড়াতেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে আল-কায়দা যোদ্ধাদের যাবতীয় শক্তি। শীর্ষ নেতা উসামাকেই যদি পলাতক হয়ে দিনের পর দিন বন্দী জীবন কাটাতে হয়, তাহলে তিনি দিক নির্দেশনা দেবেন কিভাবে?</p>
<p>ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আমেরিকা নিজের মাটিতে বিদেশি আক্রমণ কখনোই মেনে নেয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করলে আমেরিকা কেবল সর্বাত্মক যুদ্ধেই ঝাঁপিয়ে পড়েনি, এটম বোমা ফেলে জাপানকে নতজানু করতে বাধ্য করে। যদিও ওই সময় জাপানকে পরাজিত করার জন্য পারমাণবিক বোমার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ৯/১১ পর তাই আমেরিকা বিশাল ঝুঁকি নিয়ে ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ করতেও দ্বিধা করেনি। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের দীর্ঘ ১০ বছর পরও আল-কায়দার বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াই চালিয়ে গেছে। </p>
<p>উসামা হত্যার প্রতিশোধ স্বরূপ আল-কায়দা আমেরিকার বিরুদ্ধে বড় আকারের আক্রমণের অঙ্গীকার করলেও পাকিস্তানে তালেবানদের কিছু বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি ছাড়া তেমন কোনো কিছু করতে সমর্থ হয়নি। উসামার মৃত্যুর পর ইয়ামেনে আল-কায়দাকে কিছুটা সক্রিয় দেখা গেলেও তাত্ত্বিক গুরু ও তুখোড় বক্তা আনোয়ার আল-আওলাকিসহ বহু আল-কায়দার শীর্ষনেতাকে হত্যা করেছে আমেরিকা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনযন্ত্রে হাজারেরও বেশি সিএইএ এজেন্ট কাজ করছে। </p>
<p>উসামার শূন্যস্থানে পা রেখেছেন আল-জাওয়াহিরি। কিন্তু আল-কায়দার নেতারা এখন মূলত আত্মরক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে উসামার পুত্র হামজা বিন লাদেনেকেও হত্যা করেছে আমেরিকা। তাই পাকিস্তানের এ্যাবোটাবাদে উসামার হত্যার মধ্য দিয়ে আল-কায়দারও যে মৃত্যু হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।</p>
<p>উসামা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলির মধ্যে সাত শতকের ইসলামি খেলাফতের আদলে একতা আনতে চেয়েছিলেন। তাই যে সব সরকার ইসলামি শাসন কায়েম করতে চায় তাদের বিভিন্ন উপায়ে তিনি সাহায্যও করেছেন। যেমন ১৯৯১ সালে সুদানের ইসলামি সরকারকে সাহায্য করার জন্য উসামা বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন। যদিও সুদান সরকার সেই অর্থের কিছুই তাকে ফেরত দেয়নি। কিন্তু তালেবান শাসিত আফগানিস্তানকে বিশ্বের একমাত্র আদর্শ ইসলামিক দেশ হিসাবে উল্লেখ করার পর উসামাকে নিয়ে মুসলিম সমাজেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। </p>
<p>উসামা সাত শতকের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন, অথচ তালেবানরা যে পথে ইসলামি শাসন কায়েম করতে চাচ্ছিল সেটা ছিল পশ্চাদমুখী ও বাস্তবতা বিমুখ, যা সাত শতকের ইসলামের সাথে মেলে না। সাত শতকের ইসলাম সহনশীলতা, উদারনীতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রগতির মাধ্যমেই বিশ্বের সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়েছিল। সেই যুগের মুসলিমরা গ্রিক, পার্সিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ ও প্রাচ্যের সভ্যতা থেকে জ্ঞান আহরণ করে উৎকর্ষতার শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল। অথচ তালেবানরা মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ করে দিয়ে ছুটছিল সময়ের উল্টো দিকে। </p>
<p>ইসলামি খিলাফত বলতে উসামা আসলেই কী চান তার কোনো সুনির্দিষ্ট রুপরেখা কিংবা তত্ত্ব তিনি দিয়ে যেতে পারেননি। আমেরিকা বিরোধিতাই ছিল উসামা দর্শনের মূল ভিত্তি। উসামা আরব দেশগুলিতে আমেরিকা সমর্থিত শাসকদের উৎখাত করতে চেয়েছিলেন। যদিও জনগণের বিদ্রোহের মুখে বেশ ক’টি আরব দেশে ইতিমধ্যে স্বৈারাচারী সরকারের পতন হয়েছে, তবে ওই সব দেশে উসামার ডাকে সাড়া দিয়ে ইসলামি খিলাফাত প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম হয়নি। আরব জনগণ রাস্তায় নেমেছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। এটা ছিল উসামা ও আল-কায়দার জন্য বিশাল রাজনৈতিক পরাজয়।</p>
<p>লাদেনের হত্যা ও শেষকৃত্যের সাথে ল্যাটিন আমেরিকার মার্ক্সিষ্ট বিপ্লবী চে গুয়েভেরার বেশ কিছু মিল দেখা যায়। চে গুয়েভেরাকে ১৯৬৭ সালে বলিভিয়ার জঙ্গলে ধরে হত্যা করা হয়। চের সমাধি যাতে পরে তীর্থস্থানে পরিণত হতে না পারে সে জন্য সিআইএ’র পরামর্শে একটি গোপন স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। উসামাকে হত্যার পর তার মরদেহ কিভাবে সমাহিত করা হবে সে নিয়ে আমেরিকার নীতিনির্ধারকরা চে গুয়েভেরার কথাই হয়ত স্মরণ করেছিলেন। কিন্তু আমেরিকার কাছে বিন লাদেন আরো ভয়ংকর ছিল বলেই হয়তো তাকে ভূপৃষ্ঠে সমাহিত করারও ঝুঁকি নেয়নি। মৃত্যুর প্রমাণ হিসাবে চে গুয়েভেরার মরদেহের ছবি পত্রিকায় ছাপানো হলেও বিন লাদেন ফোবিয়ায় আক্রান্ত আমেরিকা তাও করেনি। </p>
<p>চে গুয়েভেরা বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বলে তিনি ছিলেন আমেরিকার পথের কাঁটা। তার বিরুদ্ধে কিউবাতে গণহত্যার অভিযোগ যেমন রয়েছে তেমনি ল্যাটিন আমেরিকার বঞ্চিত মানুষের কাছে তিনি ছিলেন মুক্তির প্রতীক। অন্যদিকে চে’র মতো বড় আকারের বুদ্ধিজীবী না হলেও বিন-লাদেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ইসলাম নিয়েও প্রচুর পড়াশোনা করেছেন বলেও জানা যায়। উসামার ব্যক্তিত্ব ও বিরল সাহসিকতা তার অনুসারীদের অনুপ্রেরণা জোগাতো। উসামা নিরপরাধ মানুষ হত্যার দায়ে যেমন অভিযুক্ত তেমনি আবার সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াকু মানুষের নিরব ভালোবাসায় সিক্ত। </p>
<p>মৃত্যুতে মিল থাকলেও একজন সফল বিপ্লবী হিসাবে চে গুয়েভেরার সাথে উসামার তুলনা করা হয়তো সাজে না। তবে লাদেন ডাইনেস্টির একজন উত্তরসূরী হিসাবে উসামা সহজেই বিলাসবহুল জীবন বেছে নিতে পারতেন। আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার জন্য নিজের পরিবার উসামাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে, স্বদেশ সৌদি আরব থেকে তিনি হন বিতাড়িত। জানা যায়, মৃত্যুর আগে তিনি রীতিমতো অর্থকষ্টে ছিলেন। কিন্তু সম্পদের মোহ ছুড়ে ফেলে কাঁধে রাইফেল তুলে নিয়ে স্বেচ্ছায় যেভাবে দুর্গম গুহার জীবন তিনি বেছে নিয়েছিলেন, জীবন বাজী রেখে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়েছেন; সেকথা বিবেচেনা করলে উসামাকে কেবল একজন সন্ত্রাসী হিসাবে আখ্যা দেয়া যায় কিনা সে নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে।</p>
<p>২০০১ সালে টুইন টাওয়ারের ঘটনার পর পলাতক জীবনের বোঝা বইতে গিয়ে উসামা নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন। শীর্ষ নেতা হিসাবে আল-কায়দার উপর ছিল না উসামার কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ। পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নির্বাসিত জীবনে মাঝে মধ্যে দু’একটি ভিডিও টেপ তৈরি করা ছাড়া তার তেমন কিছু করার ছিল না। বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আল-কায়দার সেলগুলো স্থানীয় কমান্ডারের নেতৃত্বে তাই অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছিল। বিন-লাদেন কেবল একজন প্রতীকী নেতা হয়ে হয়ে দূর থেকে সহযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছিলেন। </p>
<p>পাকিস্তানের খ্যাতিমান সাংবাদিক হামিদ মীরের কাছে দেয়া বিরল সাক্ষাৎকারে উসামা অঙ্গীকার করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী তাকে জীবিত ধরতে পারবে না, তার লাশই শুধু পাবে। এ্যাবোটাবাদে অবশ্য তার সেই অঙ্গীকার পূরণ হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করে যিনি মরতে চেয়েছিলেন, আমেরিকার হাতে সেই উসামার মৃত্যু ছিল যেন সবচেয়ে যথাযথ। </p>
<p>গভীর সমুদ্র বুকে হারিয়ে আজ গেছে উসামার নশ্বর দেহ। উসামার সমাধিতে এখন এপিটাফ লেখার কোনো সুযোগ আর নেই। তবুও আমাকে যদি উসামার জন্য এপিটাফ লিখতে বলা হতো, তাহলে সমাধিস্তম্ভে উৎকীর্ণ লিপিতে মহাকবি সেক্সপিয়ারের বিয়োগান্তক নাটক ম্যাকব্যাথের এই পংক্তিটিই তুলে ধরতাম– ‘Nothing in his life became him like the leaving it.’</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/global-affairs/672/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বংসী দাবানল, আসল ভিলেন কে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/666</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/666#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 02 Sep 2026 03:25:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=666</guid>

					<description><![CDATA[বনাঞ্চলের দাবানল অস্ট্রেলিয়ায় নতুন কিছু নয়। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে চারমাস ব্যাপী চলমান দাবানলের তান্ডব অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সব দাবানলকে ছাড়িয়ে গেছে। দাবানলে মারা গেছেন ২৫ জন, ধ্বংস হয়েছে আড়াই...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বনাঞ্চলের দাবানল অস্ট্রেলিয়ায় নতুন কিছু নয়। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে চারমাস ব্যাপী চলমান দাবানলের তান্ডব অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সব দাবানলকে ছাড়িয়ে গেছে। দাবানলে মারা গেছেন ২৫ জন, ধ্বংস হয়েছে আড়াই হাজার বাড়ি। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০ জন। আগুনের শিখায় ঝলসে গেছে অসংখ্য কোয়ালা, ন্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী। শুধু নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যেই প্রায় আট হাজার কোয়ালার মৃত্যু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরলতম প্রজাতির এই প্রাণীর অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। স্মরণকালের এই ভয়ংকর দাবানলে শুধু নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে পুড়ে গেছে প্রায় দুই কোটি একর এলাকা, যার পরিমাণ গত বছরের ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। আগুনের সৃষ্ট ছাই ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় সিডনি শহরের আকাশ তামাটে বর্ণ ধারণ করেছিল। </p>
<p>গ্রীষ্মের শুরুতেই শুষ্ক ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে গড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় দাবানল হয়। অস্ট্রেলিয়ায় ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত দাবানলে পুড়ে নিহত হয়েছে ২০০ জন। দাবানলের জন্য প্রতি বছর বাড়ি-ঘর, ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২ বিলিয়ন ডলার। দাবানলের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ অংক কষে বের করা সম্ভব নয়। তবে দাবানল যে কেবল ধ্বংস করেই চলে তা নয়, বন-বাদাড়ের জন্য কিছু কল্যাণও বয়ে আনে। যেমন আগুনে বনাঞ্চল পুড়ে গেলেও ওই এলাকায় নতুন গাছ, লতাপাতার পুনর্জন্ম হয়, প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে। এছাড়া দাবানলের উষ্ণতায় ইউকেলিপ্ট এবং ব্যাঙ্কসিয়া প্রজাতির বেশ কিছু গাছপালার বীজ খোসা ছেড়ে অংকুরিত হয়। দাবানল বলতে গেলে প্রাকৃতিক কালচক্রেরই একটি অধ্যায়। </p>
<p>বিভিন্ন কারণে দাবানলের সৃষ্টি হয়। যেমন বনাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ডাল-পালা, শুকনো পাতায় উষ্ণ আবহাওয়া কিংবা বজ্রপাতের কারণে খুব সহজে আগুন ধরে যেতে পারে। ইউকেলিপ্ট গাছের মধ্যে যে তেল রয়েছে তা দহনপ্রক্রিয়ার জ্বালানি হিসাবে কাজ করে বলে বনাঞ্চলের আগুন সহজেই নির্বাপিত হয় না। অস্ট্রেলিয়ানরা ঘরের বাইরে, বনাঞ্চলে বার্বিকিউ এবং ক্যাম্পিং করতে খুব পছন্দ করে। এজন্য অনেক সময় আশ-পাশের গাছপালায় আগুন লেগে যায়। তাছাড়া কৃষি এবং ওয়েল্ডিং-এর কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও দাবানলের অন্যতম কারণ। </p>
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যই দাবানলের তীব্রতা বাড়ছে বলে দাবি করেছে অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা সংস্থা CSIRO. উল্লেখ্য, গত দুই দশকে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে। সিডনি আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যানুযায়ী এ বছরের অক্টোবর মাসের তাপমাত্রা গত ১৫০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার তাপমাত্রা গত এক শতকে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। যার প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার উত্তারঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে যেমন বন্যার সৃষ্টি করছে তেমনি অধিকাংশ জনবসতির এলাকা দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে কমে গেছে বৃষ্টিপাত। </p>
<p>অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরের তাপামাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত ৪ জানুয়ারি সিডনির পশ্চিমে পেনরিথ শহরের তাপমাত্রা ৪৮.৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উঠে যায়। ওই দিন বিশ্বের আর কোথাও এর চেয়ে বেশি তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়নি। যা দেখে মনে হচ্ছে সিডনি শহরের আবহাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলের শহরগুলোকে হার মানাবে। </p>
<p>সম্প্রতি জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের মারাত্মক দাবানলের সাথে বিশ্ব উষ্ণায়নের সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য একদিকে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি সমুদ্রের পানির তাপগত স্ফীতিও ঘটছে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চল হল গ্রীষ্মপ্রধান, দক্ষিণাঞ্চল নাতিশীতোষ্ণ এবং মধ্যাঞ্চল জুড়ে রয়েছে শুষ্ক মরু অঞ্চল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ঘিরে রয়েছে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর। এই দুই মহাসাগরের নিরন্তর পরিবর্তনশীল জলপ্রবাহের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া খুবই পরিবর্তনশীল ও অত্যন্ত বৈচিত্রপূর্ণ। </p>
<p>বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির জন্য ‘এল নিনো লানিনা’ ও ‘ইন্ডিয়ান ওসেন ডাইপোল’ নামের দুটো অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার পরিবতর্ন দেখা দেয়। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দুই পরিস্থিতির প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গিয়ে খরার সৃষ্টি হচ্ছে। আর দীর্ঘ সময় ধরে চলা খরা মারাত্মক দাবানলের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।</p>
<p>বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে, বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। চীন ও আমেরিকার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার মোট কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ খুবই কম যেমন মাত্র ১.৩ শতাংশ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রতি কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমনের হার হচ্ছে ২৪ টন যা চীন, ভারত ও আমেরিকার চেয়ে বেশি। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের চেয়ে ২৮ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা। কিন্তু কয়লা রপ্তানি ব্যাহত হবে বলে সেই অঙ্গীকার পূরণ করতে অস্ট্রেলিয়া খুব একটা আগ্রহী নয়। কয়লা রপ্তানির উপর নির্ভরশীল অস্ট্রেলিয়া ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দ্বিধান্বিত। তবে এখন থেকে লাগাম টেনে না ধরলে আগামীতে দাবানল পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে। </p>
<p>খরা, উচ্চ তাপমাত্রা, প্রকৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনাকে যদিও দাবানলের কারণ বলে মানা হচ্ছে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ক্রিমিনলজীর গবেষণা বলছে অন্য কথা। গবেষণার ফলাফল বলছে, শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রেই কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষের স্বেচ্ছায় অগ্নিসংযোগের জন্যই দাবানলের সৃষ্টি হয়। বিশ্বাস হয়নি। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের পুলিশ সম্প্রতি ১৮৩ জনকে পাকড়াও করার পর মেনে নিতে হচ্ছে গবেষণার ফলাফল। এদের মধ্যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, অন্য ৪৭ জনের বিরুদ্ধে জ্বলন্ত সিগারেট ও দিয়াশলাইয়েল কাঠি মাটিতে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। সবচেয়ে গোলমেলে হচ্ছে অভিযুক্তদের মধ্যে ৪০ জন হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক। </p>
<p>অস্ট্রেলিয়ার আইনে স্বেচ্ছায় অগ্নিসংযোগের জন্য শাস্তি হল ১০ থেকে ২৫ বছরের জেল। অপরাধী যদি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী হয় তাহলে যাবজ্জীবন কারাদন্ডও ভোগ করতে পারে। কিন্তু আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু নরাধম প্রতিবছরই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।</p>
<p>দুঃখজনক হল, প্রকৃত অপরাধী খুব কমই ধরা পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হবার কারণে খুব সহজেই পার পেয়ে যায়। নিউ সাউথ ওয়েলেস দাবানলের সময় বেশ কিছু কিশোরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় আগুন লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। যাদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র ৮ বছর! নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মানুষ নিয়ম ভেঙ্গে আগুন নিয়ে খেলতে দ্বিধা করছে না। গত নভেম্বরে নিউ সাউথ ওয়েলস গ্রামীণ ফায়ার সার্ভিসের একজন সেচ্ছাসেবকের বিরুদ্ধে সেচ্ছায় অগ্নিসংযোগের সন্দেহে সাতটি অভিযোগ আনা হয়। </p>
<p>তবে দাবানলের মতো জাতীয় বিপর্যয়ের সময় দল-মত নির্বিশেষে অস্ট্রেলিয়ার জনগণ যেভাবে পুনর্বাসনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন তা সত্যিই অনুপ্ররেণাদায়ক এবং অনুকরণীয়। দমকল বাহিনীর কর্মী ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিক স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করার জন্য জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও এগিয়ে আসেন। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের নিজ নিজ অফিস থেকে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করার জন্য ছুটি দেয়া হয়। এবার দমকল বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৪০ হাজারেও বেশি স্বেচ্ছাসেবক দাবালন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করেছেন। </p>
<p>এবারের ভয়ংকর দাবানলের পর সময় সিডনির বিভিন্ন জনকল্যাণ ও কম্যুনিটি সংগঠনগুলো দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল সংগ্রহে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটিও হাত খুলে দান করছে। বিভিন্ন এলাকার রোটারী ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। সিডনির একটি জনপ্রিয় পত্রিকা তাদের প্রতিটি বিক্রীত সংখ্যা থেকে অর্জিত অর্থ হতে এক ডলার করে বুশ ফায়ার তহবিলে দান করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া তহবিল সংগ্রহ করছে রেডক্রস, সেলভেশন আর্মি, ভিন্সেন্টে দ্য পল সোসাইটির মতো দাতব্য সংস্থা। কোল্স, উলওয়ার্থ এবং টার্গেট-এর মতো মেগা ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলোও নেই বসে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের আবেদন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে যাতে বীমার অর্থ দিয়ে নতুন করে তারা বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারেন। </p>
<p>উন্নয়নের ঘোড়দৌড়ে এগিয়ে থাকার জন্য প্রকৃতিকে ধ্বংস করে বিশ্বব্যাপী যে উন্নয়নের কাজ চলছে তাতে গ্রিনহাউস গ্যাসনিঃসরণ এবং ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জলবায়ুতে পরিবর্তন আসছে। আর এজন্য প্রকৃতি নয় আমরাই দায়ী। প্রকৃতির সাথে সহ-অবস্থান করে অর্থনীতির বিস্তার ঘটাতে ব্যর্থ হলে জলবায়ু পরিবর্তনের দাবানলে সবাইকে একদিন পুড়তে হবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/666/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মুক্ত ফিলিস্তিন কি অলীক স্বপ্নই রয়ে যাবে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/648</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/648#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 30 Aug 2026 02:28:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=648</guid>

					<description><![CDATA[ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশ। ফিলিস্তিনদের মুক্তির জন্য কবিতার ভাষা দিয়ে তিনি লড়েছেন। কবির ক্ষুরধার কলম দিয়ে নিঃসৃত প্রতিবাদের ফুলকি দখলদার ইসরাইলীদের তখত তাউসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সত্তর দশকে তাঁর...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশ। ফিলিস্তিনদের মুক্তির জন্য কবিতার ভাষা দিয়ে তিনি লড়েছেন। কবির ক্ষুরধার কলম দিয়ে নিঃসৃত প্রতিবাদের ফুলকি দখলদার ইসরাইলীদের তখত তাউসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সত্তর দশকে তাঁর লেখা কবিতা ‘আমাকে ছেড়ে যেও না’ ‘পরিচয় পত্র’ আলোড়িত করেছিল আমার মতো অনেক তরুণের হৃদয়। ফিলিস্তিনিদের মুক্তি সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল আমাদের লড়াই। ফিলিস্তিনি নেতা ইসারিত আরাফাত ও কবি মাহমুদ দারবিশ হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের তাবত নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রতীক। </p>
<p>ফিলিস্তিনিদের সাথে আমি স্বপ্ন দেখতাম, একদিন মুক্ত হবে প্যালেস্টাইন। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সাত দশক কেটে গেছে। তারুণ্যের টগবগে দিনগুলো পেরিয়ে আমি এখন প্রৌঢ়ত্বের দ্বারগোড়ায়। কিন্তু ফিলিস্তিন এখনো শৃঙ্খলমুক্ত হয়নি। মুক্ত ফিলিস্তিন এখনো নির্বাসিত স্বপ্ন হয়ে মাহমুদ দারবিশের কবিতার পংক্তিমালায় কেঁদে মরছে। কিন্তু কেন?</p>
<p>১৯৬৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২৪২ নং প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলের ইহুদি বসতি নির্মাণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গত পাঁচ দশক ধরে জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাব ও আন্তর্জাতিক অভিমত উপেক্ষ করে অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। ফলে উজাড় হচ্ছে এক একে ফিলিস্তিনি জনপদ, বাড়ি-ঘর ও জলপাইয়ের বাগান। </p>
<p>ফিলিস্তিনিদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ইসরাইলের অন্যতম কৌশল হচ্ছে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনের অজুহাতে বুলডোজার দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘর গুড়িয়ে দেয়া। তবে জবরদখলের পাশাপাশি ভূমি দখলের জন্য সুদূরপ্রসারী কৌশলও প্রয়োগ করা হচ্ছে। আর এই নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য দখলদার ইসরাইলী কর্তৃপক্ষের সাথে একাট্টা হয়ে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রভাবশালী ইহুদি জনগোষ্ঠি। </p>
<p>যেমন আকাশচুম্বী মূল্যের বিনিময়ে জেরুজালেমের বসতবাটি বিক্রি করে আমেরিকা, ইউরোপসহ উন্নত দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য প্রলুব্ধ করা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। ওইসব দেশের স্থায়ী ভিসা কিংবা পাসপোর্ট করে দেয়ার গ্যারান্টিও দিচ্ছে প্রভাবশালী ইহুদিরা। ইসরাইলী দখলদার বাহিনীর নির্যাতনে অতিষ্ট ও হতাশাগ্রস্ত বহু ফিলিস্তিনি ভূসম্পত্তি বিক্রি করে আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। ফলে বৈধ ও আইনগত প্রক্রিয়ায় জেরুজালেমের বিশাল অংশ ইসরাইলীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এভাবে ইহুদিদের সুপরিকল্পিত পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফিলিস্তিনিরা স্বদেশের ভূমি তুলে দিচ্ছেন ইসরাইলের হাতে। </p>
<p>গত পাঁচ দশকে ভূমি জবরদখল করে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ ইহুদি অবৈধভাবে বসতি গেড়েছে ফিলিস্তিনে; নির্মিত হয়েছে ২৭০টি উপ-শহর। পূর্ব জেরুজালেমের ৮৬ শতাংশ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ৪২% জমি এখন অবৈধ ইহুদি বসতির দখলে। তাই পূর্ব জেরুজালেমকে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করার যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল, এখন হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। যে পূর্ব জেরুজালেমের প্র্রায় পুরোটাই ইহুদিদের দখলে তা ফিলিস্তিনের রাজধানী হয় কি করে? শুধু তাই নয়, শোনা যাচ্ছে, পিএলও নিয়ন্ত্রিত বাকি অঞ্চলগুলো খুব সহসা বিশেষ আইনের আওতায় ইসরাইল সরকার দখল করে নেবে।</p>
<p>তেলআবিব থেকে আমেরিকার দূতাবাস অধিকৃত জেরুজালেমে সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি। এ নিয়ে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। গত পাঁচ দশক ধরে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে ইসরাইল যেরকম সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে সমগ্র ফিলিস্তিনজুড়ে অবৈধ বসতি নির্মাণ করে চলেছে তাতে সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ার মতো বাস্তবতা যেন আর নেই। </p>
<p>ফিলিস্তিনিদের ভূসম্পত্তি জবরদখল ঠেকানোর জন্য নতুন কৌশল নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দের উপর সাধারণ মানুষ যারপরনাই ক্ষুব্ধ। দুঃখজনক হলেও সত্য, ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ এখন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার চেয়ে ক্ষমতা আকঁড়ে ধরে থাকতেই যেন বেশি আগ্রহী। প্রশাসনের সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু মানুষ পাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা আর উপেক্ষিত হচ্ছে সাধারণ জনতা। ১৯৯৩ সালের ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। গাজ্জা ভুখন্ডে ক্ষমতাসীন হামাসের সাথে চলমান দ্বন্দ্ব এবং ইরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ব্যাপারে পিএলও’র নিষ্ক্রিয়তা ইসরাইলের হাতকেই শক্তিশালী করছে। </p>
<p>শান্তি চুক্ষির নামে কালক্ষেপন করে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করাই হচ্ছে ইসরাইলের অন্যতম কৌশল। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থা যে বহু আগেই ব্যর্থ হয়ে গেছে তা বর্তমান পিএলও’র নেতৃবৃন্দ মানতে রাজি নন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তাঁরা এখনো সেই ব্যর্থ চুক্তির শবদেহকে আঁকড়ে ধরে আছেন। পিএলও’র প্রতি ফিলিস্তিনিরা আস্থা হারিয়ে ফেলছে। পিএলও নেতৃত্বের উচিত ইসরাইলী দখলদারিত্ব মোকাবিলা করার জন্য সহসা নতুন রূপরেখা তৈরি করা। </p>
<p>ফিলিস্তিনিদের হতাশা এবং ক্ষোভ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত একজন ফিলিস্তিনির অন্ত্যেষ্টক্রিয়ার অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ফাতাহ দলের সিনিয়র নেতা আজ্জাম আল-আহমদকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ২২ বছর বয়স্ক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর জন্য আজ্জামই দায়ী। ইসরাইলী নিরাপত্তা বাহিনীকে সরবরাহকৃত আজ্জামের তথ্যের সূত্র ধরেই খুন হয়েছে ওই ফিলিস্তিনি যুবক। উল্লেখ্য, অসলো চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলার গোয়েন্দা তথ্য পিএলওকে সরবরাহ করতে হয়। ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যেকার এই নিরাপত্তা চুক্তি ক্ষেপিয়ে তুলছে ফিলিস্তিনিদের।</p>
<p>নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল এবং বিভক্তির জন্যই দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারছে না ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনে সমান্তরলভাবে কাজ করছে দু’টো প্রশাসন। গাজা ভূখন্ডে হামাস আর পশ্চিম তীরে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন পিএলও। বহু চেষ্টা করেও গাজা ভূখন্ডে হামাসের আধিপত্য খর্ব করতে পারেনি পিএলও। ২০১৪ সালে হামাস ও ইসরাইলে মধ্যেকার সংঘর্ষে প্রায় দুই হাজারের মতো গাজাবাসী নিহত হন। এই যুদ্ধের নেপথ্যে পিএলও নেতা মাহমুদ আব্বাসের হাত রয়েছে বলে অনেকের ধারণা। কারণ ইসরাইলের হাত দিয়ে পরোক্ষভাবে হামাসকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে গাজা ভূখন্ডেও পিএলও’র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। পিএলও এবং হামাসের মধ্যে সমঝোতা না হলে সামনে এগুবার কোনো পথ দেখছি না। </p>
<p>ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যার স্থায়ী নিষ্পত্তি করে দেবেন বলে হুংকার দিচ্ছিলেন। এজন্য মধ্যস্থতাকারী হিসাবে তিনি নিয়োগ দিয়েছেন নিজেরই জামাতা নিউউয়র্কের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ৩৬ বছর বয়স্ক জারড ক্রুশনারকে। ক্রুশনার, যার নেই কোনো কুটনৈতিক অভিজ্ঞতা, তাকে কি করে এমন একটি জটিল সংঘাত মেটানোর দায়িত্ব দেয়া হল তা ভেবে সবাই হতবাক!</p>
<p>তবে সম্প্রতি আমেরিকার দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেবার ঘোষণা দেয়ার পর ট্রাম্পের মুখোশ খুলে পড়েছে। তিনি ইসরাইলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই যেন বদ্ধপরিকর চান। ট্রাম্প ও ক্রুশনারের নতুন ছক অনুযায়ী পশ্চিম তীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দেয়া হবে ইসরাইলকে। পশ্চিম তীরের যে সব শহর ঘিরে ইসরাইলী অবৈধ আবাসন নির্মাণের কাজ চলছে সেগুলো জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। ক্ষতিপূরণ হিসাবে গাজা সংলগ্ন মিসরের উত্তর সিনাইয়ের একটি অংশ ফিলিস্তিনিদের দেয়া হবে। আর এই উদ্ভট আকারের দেশটির রাজধানী হবে জেরুজালেমের উপকন্ঠে অবস্থিত মাত্র তের হাজার মানুষের ছোট্ট শহর আবু দিজ। ফলে এতদিন ধরে ফিলিস্তিনীরা যে স্বাধীন রাষ্টের স্বপ্ন দেখছিল তার কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। </p>
<p>ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার সব প্রশাসনই ইসরাইলবান্ধব। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে, যেকোনো মূল্যে ইসরাইলের স্বার্থরক্ষা করা এবং জাতিসংঘে ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাবে ভেটো দেয়া। তবে এবারের ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরাইলপ্রীতি আগের সব প্রশাসনকে ছাড়িয়ে গেছে। ভয়ংকর কথা হল, তার সাথে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা, মুসলিম বিদ্বেষ ও বর্ণবাদ। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আজ যারা সমাসীন তাদের অনেকেই শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ব ফোবিয়ায় আক্রান্ত। তাই এই প্রশাসন থেকে কোনোভাবেই ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায্য সমাধান আশা করা যায় না।<br />
 </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/648/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সিডনির রাস্তায় সন্ত্রাস</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/638</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/638#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 02:41:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=638</guid>

					<description><![CDATA[বৃহত্তর সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর হচ্ছে প্যারামাট্টা। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী অ্যাবোরোজিনালদের ‘বুরামাট্টা’ শব্দ থেকেই নাকি এই শহরের নামের উৎপত্তি। তবে আমাদের অনেকে প্যারামাট্টার সাথে ‘পরমাত্মা’ শব্দেরও মিল খুঁজে পায়। রাস্তার...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বৃহত্তর সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর হচ্ছে প্যারামাট্টা। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী অ্যাবোরোজিনালদের ‘বুরামাট্টা’ শব্দ থেকেই নাকি এই শহরের নামের উৎপত্তি। তবে আমাদের অনেকে প্যারামাট্টার সাথে ‘পরমাত্মা’ শব্দেরও মিল খুঁজে পায়।</p>
<p>রাস্তার দু’পাশের সারিবদ্ধ অফিস বিল্ডিংয়ের একটিতেই রয়েছে এই মসজিদ, যা ভেতরে না ঢুকলে বোঝার উপায় নেই। শুক্রবার এই দেশে কাজের দিন। তাই মানুষের সুবিধার জন্য ১:১০, ১:৫০ এবং ২:৩০ মিনিটে খুতবাসহ তিনবার জুমআ’র নামাজের জামাত হয়। </p>
<p>মসজিদ থেকে ফুটপাত দিয়ে দু’শ মিটার হেঁটে গেলেই পড়ে প্যারামাট্টা পুলিশ হেডকোয়ার্টার। ২০১৫ সালের অক্টোবরের এক বিকেলে এই জায়গাটি পরিণত হয়েছিল এক রণক্ষেত্রে। এখানেই মুসলিম তরুণ ফরহাদ পুলিশ সার্ভিসের কার্টিস চ্যাঙ নামের একজন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। যিনি ছিলেন পুলিশ বাহিনীর ফাইন্যান্স বিভাগের একজন বেসামরিক কর্মী।</p>
<p>খুব কাছ থেকে ঠান্ডা মাথায় কার্র্টিসকে গুলি করে হত্যা করেছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর ফরহাদ জাবর। পরবর্তীতে পুলিশের গুলিতে কিশোর ফরহাদ নিহত হয়। সিডনি শহরের গোলাগুলি বাংলাদেশ থেকে দশ হাজার মাইল দূরে ঘটলেও এটা ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। কারণ দুঃখজনকভাবে নিরাপত্তারহীনতার কারণে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল হবার ঠিক পরপরই ঘটেছে সিডনির এই সন্ত্রাসী হামলা। </p>
<p>বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরের মতো সিডনি শহরে খুন খারাবীর ঘটনা নতুন কিছু নয়। পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে অস্ট্রেলিয়ায় গড়ে আড়াইশ’রও বেশি মানুষ বিভিন্ন কারণে খুন হয়েছে। তবে তফাৎ হচ্ছে, সিডনির এই হত্যাকান্ডের নায়ক হল একজন মুসলিম কিশোর। তাই মিডিয়া এবং সবার শ্যেন দৃষ্টি সিডনির পুরো মুসলিম কমিউনিটির উপর পড়ে। </p>
<p>বরাবরের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে মুসলিমদের সাফাই গাইতে হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার উত্তরসূরী টনি এ্যাবোটের মতো পুরো মুসলিম কমিউনিটির দিকে সন্দেহের তীর না ছুড়ে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য যে পদক্ষেপ নিলেন তা মূলধারার অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে ইসলামোফোবিয়া ও ঘৃণার আগুনে যেমন তড়িৎ জল ঢেলে দিয়েছে, তেমনি মুসলিম কমিউনিটির অস্বস্তি এবং আতঙ্ক কিছুটা হলেও প্রশমিত করেছে। </p>
<p>কিশোর ফরহাদ ইরাকি-কুর্দিশ বংশোদ্ভুত এবং তার জন্ম ইরানে। ১৫ বছর আগে কুর্দিস্তান থেকে নিরাপদ জীবন ও জীবিকার সন্ধানে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে তার পরিবার। আর দশটা টিনেজারের মতো এলাকার আর্থার ফিলিপ হাই স্কুলে পড়াশোনা করছিল ফরহাদ। পুলিশের খাতায় তার সম্পর্কে নেই কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড। ঘটনার দিন সকালে ফরহাদ তার মা’কে রাতে ডিনারের জন্য তার প্রিয় খাবার মুরগি এবং সাদা ভাত রান্না করার তাগিদ দিয়ে যায়। কিন্তু সেই খাবার আর তার খাওয়া হয়নি। সবার মনে এখন প্রশ্ন, মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন কিশোর এমন ভয়ংকর কাজ কেন করতে গেল? আর এই তরুণের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিলই বা কে?</p>
<p>নিহত ফরহাদের বাড়ি তল্লাশী করে সন্দেহজনক কোনো কিছু খুঁজে পায়নি পুলিশ। টুইটারে রিয়েলিটি ট্যালেন্ট শো ‘দি ভয়েস’ সম্পর্কে একটি মন্তব্য ছাড়া ফরহাদের সোস্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলো ২০১৩ সাল থেকে ছিল মোটামুটি ইনঅ্যাক্টিভ। তাই এ ঘটনায় সে একাই জড়িত ছিল বলে মনে প্রথমে ধারণা করা হলেও, ধীরে ধীরে গোলাগুলির ঘটনার সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং সন্ত্রাসের যোগসূত্র পরিষ্কার হয়ে আসছে। এখন মনে হচ্ছে, এটা ফরহাদের একার কাজ নয়। এর সাথে অন্য কোনো গোষ্ঠীর যোগসূত্র থাকতে পারে। ফারহাদের ব্যাকপ্যাকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। ওই চিঠিতে সিডনির রাস্তায় রক্তগঙ্গা বইবে বলে বার্তা দিয়েছে। পুলিশ স্কুলের কাছেই একটি ময়লার বিন থেকে এই ব্যাকপ্যাকটি উদ্ধার করে। </p>
<p>স্কুলের বন্ধুরা জানায়, ঘটনার আগে কিছুদিন ধরে ফরহাদের চাল চলনে ভিন্নতা ছিল লক্ষণীয়। যেমন ফরহাদ তার প্রিয় বাস্কেটবল এবং ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেয় বলে পুলিশকে জানিয়েছে স্কুলের সহপাঠীরা। ইতিমধ্যে ফেসবুকে ফরহাদের স্মৃতিতে একটি পেইজ খোলা হয়েছে যাতে ফরহাদের ঠান্ডা মাথার এই হত্যাকাণ্ড আল্লাহর ইচ্ছে পূরণের জন্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগে কর্মরত একজন নিরস্ত্র কর্মচারীকে এভাবে খুন করা কি ইসলাম অনুমোদন করে? এছাড়া এই পেইজে অস্ট্রেলিয়ার ফ্ল্যাগ পোড়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিদ্বেষপূর্ণ এবং উস্কানীমূলক ম্যাসেজ পোস্ট করা হচ্ছে। যা সত্যিই আশঙ্কাজনক। </p>
<p>ব্যক্তি সন্ত্রাসের কারণে বিশ্বের সব দেশেই প্রতিদিন মানুষ খুন হচ্ছে। সেদিন আমেরিকার একটি স্কুলে গোলাগুলিতে প্রাণ হারালো বহু নিরীহ ছাত্র-শিক্ষক। ক্রোধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, পার্থিব মোহ, আধিপত্য বিস্তার, শত্রুতা, মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি বহুবিধ কারণে ব্যাক্তিগত সন্ত্রাস হয়ে থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা মনগড়া ধর্মীয় মতবাদ অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার জন্য যে সন্ত্রাস করা হয় তা অনেক বেশি ভয়ংকর। কারণ এ ধরনের সন্ত্রাসের লক্ষ্যবস্তু হয় নিরপরাধ নাগরিক ও রাষ্ট্র্রযন্ত্র। এমনকি প্রার্থনার স্থানও এ থেকে রক্ষা পায় না। অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন, ফরহাদ জাবর যদি একজন শ্বেতকায় তরুণ হতো তাহলে তাকে সান্ত্রাসী না বলে হয়তো একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত তরুণ বলে আখ্যা দেয়া হতো। এই যুক্তি এখানে খাটে না। আমাদের মধ্যকার কিছু চরমপন্থী ফরহাদের কর্মকাণ্ডকে ধর্মীয় রং দিয়ে যেভাবে সাফাই গাইছেন তখন সেটা আর ব্যক্তিগত সন্ত্রাসের পর্যায়ে থাকে না। </p>
<p>তবে এটাও সত্য, অস্ট্রেলিয়ার অমুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের মধ্যে বিরাজমান ইসলামোফোবিয়া মুসলিম তরুণ ও যুব সমাজকে সন্ত্রাসের দিকে যেতে ইদ্ধন যোগাচ্ছে। রেডিও টক শো, ট্যাবলয়েড পত্রিকায় হরহামেশা বলা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ান মূলধারার সাথে মুসলিমরা মিশতে চায় না, মুসলিম মানেই সন্ত্রাসী, তারা যেখান থেকে এসেছে তাদের সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত ইত্যাদি। এ ধরনের বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া তরুণদের আহত করে। তারা ভাবতে শুরু করে, এই দেশ হয়তো তাদের জন্য নয়। </p>
<p>তরুণদের এই হতাশার সুযোগ নিয়ে ইসলামি চরমপন্থীরা খুব সহজেই তাদের মগজ ধোলাই করে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডে নামিয়ে দেয়। ফরহাদের মতো কিশোররা যাতে এই হতাশার ফাঁদে না পড়ে সেজন্য কর্তৃপক্ষ এবং অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটির সবাই মিলে সচেষ্ট হতে হবে। তবে ইসলামের শান্তির বাণীকে যেভাবে কিছু মুসলিম নামধারী উগ্রপন্থীরা হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে। সেটাকে রুখে দেবার দায় আমার মতে, অন্যদের চেয়ে মুসলিমদের অনেক বেশি। </p>
<p>অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী অধিকাংশ মুসলিমই অস্ট্রেলিয়ার জীবনধারা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মুসলিম কমিউনিটির একটি খুব নগন্য অংশ জঙ্গী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মুসলিম তরুণ ও যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করছে। যার ফলশ্রুতিতে ফরহাদের মতো বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ যার হাতে ক্রিকেট ব্যাট থাকার কথা, সে তুলে নিচ্ছে পিস্তল। তাই সম্প্রতি বেশ কিছু মুসলিম অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের সিরিয়ায় আইএসের সাথে যোগ দেয়ার ঘটনা আর হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। এই ব্যাপারে মুসলিম সমাজ এবং বাবা-মাদের সদা সচেতন থাকতে হবে। </p>
<p>ফরহাদ যা করেছে, যে কারণেই করে থাকুক না কেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুসলিম কমিউনিটিতে কোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে আমাদের আগ বাড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়াকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সেই দেশে বসবাসকারী অন্যদের মতো মুসলিমদেরও সমান। তাই এখনই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেষ্ট না হেল সেটা একদিন বুমেরাং হয়ে নিজেদের দিকেই ফিরে আসবে। </p>
<p>প্যারামাট্টা মসজিদে ফরহাদের যাওয়া আসা ছিল। স্বভাবতই স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়ে প্যারামাট্টা মসজিদ। একসময় মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেয়ারও দাবি ওঠে। ধীরে ধীরে যদিও প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হয়েছে এই মসজিদ। তবে একজন মুসলিম তরুণের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সমাজের ভাবমূর্তির যে চরম সর্বনাশ করেছে, তা কখনো মেরামত করা যাবে বলে মনে হয় না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/638/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পানির জন্য বিরোধ নয়, চাই সহযোগিতা</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/634</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/634#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 27 Aug 2026 03:30:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=634</guid>

					<description><![CDATA[১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় ২২ মার্চকে বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সুপেয় জল এবং পানিসম্পদের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়ানোই হলো এই বিশেষ দিনটির মূল...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় ২২ মার্চকে বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সুপেয় জল এবং পানিসম্পদের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়ানোই হলো এই বিশেষ দিনটির মূল লক্ষ্য। প্রতিবছর বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ স্লোগানকে সামনে রেখেই বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়। এ বছরের পানি দিবসের উপপাদ্য হল ‘পানি সহযোগিতা’ (Water Cooperation)। </p>
<p>জাতিসংঘের হিসাবে সারাবিশ্বের প্রায় ১১০ কোটি মানুষ নিরাপদ পানি পান করতে পারে না। প্রতিবছর ৫০ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে দূষিত পানির কারণে, মৃত্যু হচ্ছে প্রতিদিন ৬ হাজার নিষ্পাপ শিশুর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ২০২৫ সাল নাগাদ ৪০০ কোটি মানুষ পানির অভাবে ভুগবে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরগুলোতে এখন পানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ওয়াসার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বছরে ৩ মিটার বা ৯ ফুট করে নেমে যাচ্ছে। </p>
<p>গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ওয়াসার রিপোর্ট অনুযায়ী ঢাকা শহরের শতকরা ৮৪ ভাগ পানি সরবরাহ হয় ভূগর্ভস্থ পানি থেকে এবং বাকি ১৬ ভাগ আসে নদী থেকে। কিন্তু ক্রমশ খাল-বিল, নদী-নালা একের পর এক দখল, স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভরাট করে ফেলার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। ফলে এক নতুন সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতে পানির চাহিদা আরও বাড়বে। তাই পানির সঙ্কট মোকাবেলা করাটাই হবে আমাদের জন্য আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। </p>
<p>পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, সুরমার মতো বড় বড় নদী, অসংখ্য উপনদী ও খাল-বিল আবৃত করে রখেছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশে প্রবাহিত প্রধান নদীগুলোর পানির একটি বড় অংশ আসে অন্য দেশ থেকে। বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে বলে এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশের ১৯টি জেলা কম-বেশি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। উপকূল এলাকায় কৃষি উৎপাদন অশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের মনিপুর রাজ্যে প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে বাংলাদেশের উত্তারঞ্চলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে না পারলে স্বাদু পানির সঙ্কটে ডুবে যাবে বাংলাদেশে। প্রাকৃতিক পানির উৎসসমূহ রক্ষা এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষত ভারতের সাথে পানি সহযোগিতা সুদৃঢ় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। </p>
<p>১৯৯৫ সালে বিশ্বব্যাংকের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা সুস্পষ্ট আশংকা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘এই শতাব্দীতে যুদ্ধ হয়েছে তেল নিয়ে, আগামীতে যুদ্ধ হবে পানি নিয়ে।’ ইতিমধ্যে সেই আশংকা ফলতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী সুপেয় পনির অভাব, পানির উৎস এবং আন্তর্জাতিক নদীর পানি বন্টন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ বিশ্বশান্তিকে বিঘ্নিত করছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি নিয়ে ভারত-চীনের মধ্যে চলছে ঠান্ডা লড়াই। চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই নদী মরে যাচ্ছে বলে ভারত যে অভিযোগ তুলেছে তা অস্বীকার করছে চীন। </p>
<p>মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার নদীর পানি বন্টন নিয়ে চলছে বিরোধ। ইসরাইলের স্বাদু পানির সরবরাহ আসে জর্দান নদী থেকে। তুরস্কের তাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পানির ওপর নির্ভর করে সিরিয়া ও ইরাকের কৃষি। তুরস্ক এই দুটো নদীতে বেশ কিছু বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা সিরিয়া ও ইরাককে রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে মিশর, সুদান ও ইথিওপিয়ার কৃষিখাতকে বাঁচিয়ে রেখেছে নীলনদের পানি। উজানের দেশ সুদান কিংবা ইথিওপিয়া, পানির প্রবাহে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে চরম খাদ্য সঙ্কটে পড়বে মিসর। সম্প্রতি রুয়ান্ডার গণহত্যা, সুদানের দারফুরের যুদ্ধের সাথে পানি নিয়ে বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। </p>
<p>সার্ক অঞ্চলে পানি নিয়ে সম্ভাব্য বিরোধের ফ্লাস পয়েন্ট হলো বাংলাদেশ। ফারাক্কা ব্যারেজ, তিস্তা নদীর পানি বন্টন, টিপাইমুখ বাঁধ ইত্যাদি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার সম্পর্কে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ১৯৭২ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে তিস্তা পানি বন্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু জলপাইগুঁড়ি, দার্জিলিং, পশ্চিম দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ জেলায় সেচ সুবিধা দেয়ার জন্য তিস্তা নদীর উজানে গজলডোবায় ব্যারেজ নির্মাণ করেছে ভারত। গোটা তিস্তা এখন শুকিয়ে ধূ ধূ মরুতে রূপ নিয়েছে। ফলে অর্থহীন হয়ে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প। লালমনিরহাটসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের ৩০টির মতো নদী এখন মৃতপ্রায়। </p>
<p>তিস্তা চুক্তি কখন কার্যকর হবে সেই আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জনগণ। উল্লেখ্য, ১৯৯৬-এর ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ৩০ বছর মেয়াদী ঐতিহাসিক গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। চুক্তির পর বিগত বছরে বাংলাদেশ তার পানির ন্যায্য অংশ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের পানি দিবসকে মাথায় রেখে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বন্টন চুক্তিগুলো পরখ করে দেখার এখনই উপযুক্ত সময়।</p>
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বল্গাহীন দূষণ, নদীর গতি পরিবর্তন, পনি সম্পদ ব্যবস্থাপনার অসহযোগিতা এবং পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশে অগণিত নদী মরে গেছে অথবা মরে যাবার উপক্রম হয়েছে। এক সময় দেশে এক হাজারেরও বেশি নদী ছিল, তা এখন ৩০০-তে নেমে এসেছে। পানি সঙ্কট আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো দুই পরাশক্তিকেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ করেছে। চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে পানির সন্ধানে যৌথ গবেষণা চালানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এই দুটো দেশ। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা তাই একান্ত জরুরি। প্রয়োজনে এশিয়া অঞ্চলের সার্ক, আসিয়ান এবং বিমসটেক-এর সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/634/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মালালার জন্য প্রার্থনা</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/631</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/631#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 27 Aug 2026 03:24:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=631</guid>

					<description><![CDATA[মালালা, তালেবান ঘাতকের ছোড়া গুলি তোমার মাথার খুলি বিদীর্ণ করে গেছে। ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটের নির্জনতার শুয়ে আছো তুমি। জীবন মৃত্যুর অস্বাভাবিক নিরবতা ঘিরে আছে তোমাকে। কিন্তু তুমি হয়তো জানো না,...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মালালা, তালেবান ঘাতকের ছোড়া গুলি তোমার মাথার খুলি বিদীর্ণ করে গেছে। ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটের নির্জনতার শুয়ে আছো তুমি। জীবন মৃত্যুর অস্বাভাবিক নিরবতা ঘিরে আছে তোমাকে। কিন্তু তুমি হয়তো জানো না, তোমার নিথর দেহ থেকে উৎসারিত শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দহীন ধ্বনি হাসপাতালের চার দেয়াল ভেদ করে ছুঁয়ে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে আমার মতো অগণন মানুষের হৃদয়। সবাই উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছে, কখন ফিরে আসবে তুমি।</p>
<p>তোমার নেই পেন্টাগনের মতো দুর্ভেদ্য কোনো কমান্ড সেন্টার; যেখানে বসে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত ড্রোন কিংবা স্টিল্থ বোমারু হেলিকপ্টার দিয়ে ঘায়েল করতে পারো শত্রুপক্ষকে। তোমার হাতে নেই কোনো গ্রেনেড কিংবা রকেট লঞ্চার, তবুও তোমাকে ওদের মতো ভয় কিসের? তোমার হাতে ছিল শুধু একটি কলম। বাবার কিনে দেয়া অতি সাধারণ একটি কলম হাতে নিয়ে তুমি লিখছিলে ব্লগ, ফিরে পেতে বন্ধ হয়ে যাওয়া তোমার প্রিয় স্কুল, ফিরে পেতে তোমার নিলীন অধিকার। </p>
<p>বর্বরতা আর অসভ্যতার বিরুদ্ধে তুমি মাথা তুলে দাঁড়াতে চেয়েছিলে। এই কি ছিল তোমার অপরাধ? তোমার লেখনীর তীব্রতা তালেবানদের দুর্গে যেরকম কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছিল, তা দেখে নিশ্চিত হলাম, ‘অসির চেয়ে কলমই বেশি শক্তিধর।’ ভেবে অবাক হই, মালালার মতো একটি কিশোরীকে হত্যা করতে উদ্যত এই কাপুরুষের দল কিভাবে নিজেদের সেই মুজাহিদিন কিংবা গাজীর উত্তরসূরী বলে দাবি করে, যারা পরাভূত করেছিল প্রবল পরাক্রমশালী সোভিয়েত রাশিয়ার আগ্রাসী বাহিনীকে। </p>
<p>ওদের কাছে তোমার খুব বেশি কিছু একটা চাইবার ছিল না। তুমি আর দশটা কিশোরীর মতো চেয়েছিলে স্কুলে যেতে, চেয়েছিলে শিক্ষার দিপ্তীতে নিজেকে আলোকিত করতে। ওরা যেভাবে হাজারো মেয়েদের স্কুল বোমা দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছিল, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করছিল, বিবিসির উর্দু ব্লগে ডায়েরি লিখে সেই সিদ্ধান্তেরই উচ্চকিত প্রতিবাদ করেছিলে তুমি। মালালা, আমারও তোমার মতো একটি ফুটফুটে মেয়ে আছে। সেই ছোটবেলা থেকে ওকে আমি যখন হাত ধরে স্কুল বাসে তুলে দিতাম তখন মনে হতো একজন শিক্ষার্থীর জন্য এর চেয়ে নিরাপদ জায়গা আর কি হতে পারে? কিন্তু সেই স্কুল বাসই তোমার জন্য হলো কাল। তোমার পবিত্র রক্তে ভিজে গেল বাসের হরিৎ আসন, লুটিয়ে পড়লে তুমি মেঝেতে।</p>
<p>মালালা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভূ-স্বর্গ বলে খ্যাত পাহাড়ী ভূমি সোয়াতের মেয়ে তুমি। আরিয়ান, গ্রীক থেকে শুরু করে মোগল ও ব্রিটিশ সভ্যতার সুস্পষ্ট চিহ্ন বিদ্যমান এই পাখতুন ভূমিতে। এই সোয়াতে যেমন ছিলেন বায়জিদ আনসারী, সৈয়দ আলী পীরবাবার মতো দরবেশ, ফজলুর রহমান ফায়জন, সাইফুল মুলুক সিদ্দীকির মতো কবি; তেমনি এই সোয়াতের গর্বিত বুকেই জন্মেছে মালালাই আন্নার মতো অসম সাহসী নারী যোদ্ধা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আফগানদের মুক্তির লড়াইয়ে এই মহিয়সী নারী যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছিলেন। তোমার নাম রাখা হয়েছে কিংবদন্তি সেই মালালাই আন্নার নামে। তাই তোমার লড়াইয়ের সূচনা হলো কৈশোরে, এটাই তো স্বাভাবিক। তবে পার্থক্য হচ্ছে, তুমি লড়ছো নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, ধর্মান্ধতা ও কূপমণ্ডুকতা বিনাশের জন্য।</p>
<p>ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা তোমাকে হত্যা করতে এসেছিল ওরা কি জানে, ওদের ব্যাখ্যার সাথে মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের কতটুক সাদৃশতা আছে? ধর্মের ব্যাপারে ওদের ব্যাখ্যাই হলো শেষকথা, এ সত্য সবাইকে মানতে হবে, না হলে অবধারিত মৃত্যু। এই অধিকার তাদের দিল কে? শরিয়ত কি কেবল তালেবানরাই বোঝে? ‘একজন নিরপরাধ মানুষ হত্যা সমগ্র মানবতাকে হত্যা করার সমতুল্য।’ মালালাকে গুলি ছোঁড়ার সময় মহানবীর এই সাবধানবাণীর কথা ভেবে কি ঘাতকদের একটি বারের জন্যও হাত কাঁপলো না? </p>
<p>পবিত্র কুরআনে মহানবীকে (সা.) দেয়া আল্লাহর প্রথম নির্দেশ ছিল, ‘তুমি পড়ো তোমার প্রভুর নামে&#8230;’ (৯৬ : ১); অথচ ২০০৭ সালে তালেবানরা সোয়াত উপত্যকা দখলে নেয়ার পর বোমার আঘাতে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল প্রায় দুই শত মেয়েদের স্কুল। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করে জারি করেছিল ফতোয়া, নির্দেশ অমান্যকারীদের দিয়েছিল হত্যার হুমকি। বিশ্বের দেড় বিলিয়ন মুসলিম যে ধর্মের অনুসারী সেই ইসলাম কি এমন কথা বলে? নারীশিক্ষা ইসলামের জন্য হুমকিস্বরূপ, এমন ভাবাদর্শ তারা পেলো কোথায়?</p>
<p>ভিন্নমত পোষণ করলে প্রতিপক্ষকে বুলেটে ঝাঁঝরা করে দিতে হবে, এ কেমন শিক্ষা? ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) একবার জুমার খুতবায় নারীদের দেনমোহর নিয়ে কথা বলছিলেন। বিয়ের সময় ধার্যকৃত দেনমোহর যদি মহানবীর (সা.) স্ত্রী ও কন্যাদের ক্ষেত্রে যা ছিল তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই বাড়তি অর্থ জব্দ করে তিনি বায়তুল মালে জমা দেয়ার কথা বলেছিলেন। তখন নামাজে আগত একজন বৃদ্ধা সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে হজরত ওমরের (রা.) ফতোয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ইসলামি শারিয়ায় বিরল জ্ঞানের অধিকারী ওমর (রা.) ভিন্নমত পোষণের জন্য বৃদ্ধাকে ভৎর্সনা করা তো দূরে থাক বরং খুতবার মঞ্চ থেকে নেমে এসে বলেছিলেন, ‘ওমরের চেয়ে এই বৃদ্ধা নারীও অনেক বেশি জানে।’ অথচ তালেবানদের ফতোয়ার সাথে দ্বিমত পোষণ করলে কি কারো রক্ষা আছে?</p>
<p>কিশোরী মালালার উপর এই আক্রমণ ঘৃণিত এবং নিন্দনীয় কাজ। মুসলিম হিসাবে শর্তহীনভাবে আমাদের এর প্রতিবাদ করতে হবে। অনেকে মালালার ওপর আক্রমণের সাথে ড্রোন হামলা, ইরাক ও আফগানিস্তানে নিহত অসংখ্য মুসলিমদের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করছেন। শুধু তাই নয়, চিরাচরিত প্রথায় এতে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মুসলিমবিশ্বে আমেরিকার আগ্রাসন ও নিরপরাধ মানুষ হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এ নিয়ে আমিও প্রতিবাদী কলাম লিখেছি। কিন্তু মালালার ওপর বর্বর হামলার সাথে একে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। </p>
<p>ধর্মের অজুহাত দিয়ে এখন যেসব জঙ্গী কার্যকলাপ চলছে, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মুসলিম সমাজকে তার নিন্দা করতে হবে।  বেরেলভী, দেওবন্দী, ওয়াহাবী, আহলে-হাদিস কিংবা সালাফি, যে উপদলই হোক না কেন, সব মুসলিম মুফতিদের একযোগে ফতোয়ার মাধ্যম এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। যারা মনে করেন, শরিয়ত নারীদের শিক্ষা অনুমোদন করে না; হয় তারা অজ্ঞ, না হয় জেনে শুনে তারা ভুল করছেন। এতএব তাদের সেই চিন্তা-চেতনা সহসা পাল্টাতে হবে। না হলে ওদের সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র মুসলিম সমাজের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।</p>
<p>মালালা, তুমি আমার শত্রুর দেশের মেয়ে। তুমি কি জানো, একাত্তরে আমার দেশের কত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল পাক-বাহিনী? আমি নিজেও পকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে দু’হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার সেই দু’টি হাত তোমার জন্য প্রার্থনায় ঊর্ধ্বমুখী। আজ শুধু আমি নই, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের লক্ষ কোটি মানুষ সৃষ্টিকর্তার দরবারে দু’হাত তুলেছে তোমার জন্য। সবার শুধু একটি প্রার্থনা, তুমি কখন আসবে ফিরে, নারীশিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবারও ধরবে কলম, দিকে দিকে ছড়িয়ে দেবে আলোর জ্যোতির্ময় শিখা। মালালা, তোমাকে ছোড়া ঘাতকের কয়েকটি গুলি বদলে দিয়েছে গতানুগতিক পৃথিবী। বিশ্বের তাবৎ চৌদ্দ বছর বয়সী কিশোরী এখন মালালা। কত মালালাকে হত্যা করবে ওরা?</p>
<p>(২০১২ সালের অক্টেবরে ১৫ বছরের পাকিস্তানী তরুণী মালালা ইউসুফজাই গুলিবিদ্ধ হবার পর লেখা)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/631/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাক-স্বাধীনতার দু’মুখো মন্ত্র</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/628</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/628#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 26 Aug 2026 08:33:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=628</guid>

					<description><![CDATA[জাতিসংঘ মানবাধিকারের ঘোষণায় (Universal Declaration of Human Rights) বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা (Freedom of Speech or Expression) নিশ্চিত করা হয়েছে; যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ কর্তৃক স্বীকৃত। তবে এই অধিকার প্রয়োগের...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জাতিসংঘ মানবাধিকারের ঘোষণায় (Universal Declaration of Human Rights) বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা (Freedom of Speech or Expression) নিশ্চিত করা হয়েছে; যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ কর্তৃক স্বীকৃত। তবে এই অধিকার প্রয়োগের সময় দায়িত্ববোধ বা নৈতিকতাবোধ বিসর্জন না দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, লিঙ্গ, ইত্যাদি নিয়ে কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী যাতে ঘৃণার শিকার না হয় সেজন্য বিভিন্ন দেশে রয়েছে Hate Speech Law. অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সংবিধানে বাক-স্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। </p>
<p>বাক-স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো খুবই সোচ্চার। আমেরিকানরা তাদের সংবিধানের ‘প্রথম সংশোধনী’ (First Amendment) নিয়ে রীতিমতো অহংকার করে থাকে। নিজের মতামত ব্যক্ত করার যে উচ্চ মানদন্ড পশ্চিমা দেশে আছে তা অস্বীকার করলে সত্যের অপলাপ করা হবে। পশ্চিমা দেশগুলোতে যারা দীর্ঘদিন অভিবাসী হয়ে বসবাস করছেন তাদের অনেকেই এর সুফল পেয়েছেন। তাই ওইসব দেশে যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভয়ানক বিচ্যুতি এবং দ্বিমুখী আচরণ দেখি তখন হতাশ হই। এবার কয়েকটি ঘটনার দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক।</p>
<p>জুন ২০১১: প্যারিসের লা পার্ল ক্যাফেতে এক ইহুদি দম্পতিকে কটুক্তি করার জন্য ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা (Legion of Honour) প্রাপ্ত প্রখ্যাত বৃটিশ ফ্যাশন ডিজাইনার জন গালিয়ানোকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এজন্য গালিয়ানোকে দেয়া লিজিয়ন অফ অনার সম্মাননাও প্রত্যাহার করে নেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা তাকে বাঁচাতে পারেনি।</p>
<p>এপ্রিল ২০১২: মার্কিন নাগরিক তারেক মেহান্না আফগানিস্তান ও ইরাকে হাজারো মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনা করেছিলেন। আমেরিকার প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু আদালত আল-কায়দাকে সাহায্য করার অজুহাতে দোষী সাব্যস্ত করে তারেককে ১৭.৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। স্যাম বেসিলের চলচ্চিত্রটি বিশ্বজুড়ে আমেরিকার নিরাপত্তা যেভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে, সেই তুলনায় তারেকের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা মার্কিন নিরাপত্তাকে কতটা হুমকির মুখে ফেলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।</p>
<p>সেপ্টেম্বর ২০১২: ব্রিটেনের রাজবধূ কেইটের সমুদ্র সৈকতে বিশ্রামরত নগ্ন ছবি ছাপিয়েছে ফ্রান্সের একটি পত্রিকা। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্সের বিচার বিভাগ। নগ্ন ছবি প্রকাশের দায়ে ক্লোজার নামক পত্রিকার প্রচার ও প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়েছে। বাক-স্বাধীনতাকে বুটের নিচে দলে দিয়ে ফটোগ্রাফারকে খুঁজতে পত্রিকা অফিসে হানা দিয়েছে ফ্রান্স পুলিশ।</p>
<p>সেপ্টেম্বর ২৪ ২০১২: চলচ্চিত্র এবং কার্টুনের পর এবার এসেছে মুসলিম বিদ্বেষী বিজ্ঞাপনী পোস্টার। পামেলা গেল্লার নামের একজন ব্লগার (Atlasshrugs2000.typepad.com) নিউইয়র্কের পাতাল রেলের ১০টি স্টেশনে চরম মুসলিমবিদ্বেষী একটি পোস্টার দিয়েছে। পোস্টারে লেখা রয়েছে: In any war between the civilized man and the savage, support the civilized man. Support Israel. Defeat Jihad.  নিউইয়র্ক ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এই বিজ্ঞাপনটি টাঙ্গানোর অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালেও আমেরিকার সংবিধানে বর্ণিত বাক-স্বধীনতার আওতায় এই বিজ্ঞাপন দেয়া যেতে পারে বলে রায় দিয়েছে মার্কিন আদালত।</p>
<p> হল্যান্ডের চরম ডানপন্থী রাজনীতিক এবং সাংসদ গার্ট ওয়াইল্ডার্স নির্বাচনী প্রচারণা ও বক্তৃতায় মুসলিম অভিবাসন বন্ধ করা, কুরআন পড়া এবং মসজিদ নির্মাণ নিষিদ্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানান। মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আদালতের মুখোমুখি করা হলেও বেকসুর খালাস পেয়ে যান তিনি। বিচারকের রায় অনুযায়ী গার্টের মন্তব্য মুসলিমদের কাছে আপমানজনক এবং কুরুচিপূর্ণ বলে মনে হলেও তা বিধিসম্মত রাজনৈতিক বিতর্কের সীমানা অতিক্রম করেনি।</p>
<p>বাক-স্বাধীনতার মূলমন্ত্র বলে খ্যাত যে উক্তিটি মুক্তচিন্তার প্রবক্তাদের মুখে প্রায়ই শোনা যায় তা হলো, I disapprove of what you say, but I will defend to the death your right to say it.  কিন্তু দেখা গেছে, ইসরাইলের সমালোচনার প্রশ্ন উঠলেই বাক-স্বাধীনতার বিশুদ্ধ মন্ত্রটি গোল পাকিয়ে যায়। বিশ্বের প্রতিটি জাতি, গোষ্ঠীর প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। তবে প্রশ্ন জাগে, বাক-স্বাধীনতার নামে একটি সম্প্রদায় কেন সবাইকে ডিঙ্গিয়ে বিশেষ আনুকূল্য পাবে? </p>
<p>অক্টোবর ২ ২০০৮: অস্ট্রেলিয়ান ঐতিহাসিক ড. ফ্রেডরিক টোবেনকে ইউরোপে ইহুদি গণহত্যা বা হলোকস্ট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার অপরাধে লন্ডনে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দুই দফায় ১০ মাস জেল খাটেন। অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় সব পশ্চিমা দেশে জার্মান নাৎসীদের হাতে কথিত ইহুদি নিধন অস্বীকার বা সন্দেহ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। তবে মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য যতই কুরুচিপূর্ণ হোক না কেন, তা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না।</p>
<p>জুন ২০১০: আমেরিকার অন্যতম খ্যাতনামা জার্নালিস্ট এবং লেখক হেলেন থমাস একটি সাক্ষাৎকারে ইসরাইলকে অধিকৃত প্যালেস্টাইন থেকে সরে যাবার কথা বলার এক মাসের মাথায় চাকরি হারান। তার দীর্ঘ ৫৭ বছরের সাংবাদিক জীবনকে কলঙ্কিত করা হয়। শুধু তাই নয়, ওয়াইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় তার নামে প্রচলিত বিশেষ ‘মিডিয়া এওয়ার্ড’ বাতিল করে দেয়। এই প্রসঙ্গে হেলেন দুঃখ করে বলেন, The leaders of Wayne State University have made a mockery of the First Amendment and disgraced their understanding of its inherent freedom of speech and the press.</p>
<p>আমেরিকায় যে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে তার সাথে মার্কিন সরকারের কোনো যোগাযোগ নেই, সে কথা বার বার বলা হচ্ছে সর্বোচ্চ মহল থেকে। এমন কি পাকিস্তানের মিডিয়াতেও এ নিয়ে হাজার ডলার খরচ করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে মার্কিন সরকার। কিন্তু গুয়ান্তানামোর কারাগারে ধারাবাহিকভাবে মার্কিন সেনাবাহিনী কর্তৃক কুরআন অবমাননা করার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেন্টাগনের কাছে থাকার পরও কমান্ডার-ইন-চিফ হিসাবে প্রেসিডেন্ট ওবামা কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন কেন জানি না। যতদূর জানি, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা যারা ভঙ্গ করেন তাদের শাস্তি দেয়ার সময় বাক-স্বাধীনতা বাধা হয়ে দাঁড়াবার কথা নয়। দুর্ভাগ্যবশত ৯/১১-এর পর, ‘প্যাট্রিওটিক এক্টের’ মাধ্যমে আমেরিকায় বাক-স্বাধীনতার গলা চেপে ধরা হয়েছে। ৯/১১ কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করলে তা যতই যুক্তিযুক্ত কিংবা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পন্ন হোক না কেন, মার্কিন মিডিয়া ও সরকার তাকে চক্রান্তকারী ও দেশের শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করতে বিলম্ব করছে না, যা সত্যি আশংকাজনক।</p>
<p> মুসলিম কিংবা ইসলামের কুৎসা রটনা করলে বাক-স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয় না এমন একটা ডকট্রিন আজকের বিশ্বে চালু হয়ে গেছে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে, ডেনিশ আর্টিস্ট কুর্ট ওয়েস্টারগার্ড, স্যাম ব্যাসিলের মতো গোঁড়া ধর্মান্ধরা পাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নাইট উপাধিতে পুরস্কৃত হচ্ছেন সালমান রুশদীর মতো লেখকরা। অন্যদিকে জার্মান কবি গুন্টার গ্রাস যখন ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরাইলকে পারমাণবিক সাবমেরিন সরবারাহ করার সমালোচনা করেন তখন তার বাক-রুদ্ধ করে দেয়ার কথা উঠছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবার জন্য নিজেদের অজান্তে মুসলিমরাই অগ্রগন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।</p>
<p>যেমন ‘ইনোসেন্স অফ্ মুসলিম’ নামের একটি ইসলামবিদ্বেষী ভিডিও ২০১২ সালে জুলাই মাসে ইউটিউবে ছাড়া হয়েছিল, যা অধিকাংশ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। ভিডিওটি আপলোড করার দু’মাসের মধ্যে মাত্র ত্রিশটির মতো হিট হয়। কিন্তু আরবি ডাবিংসহ দুই মিনিটের একটি দৃশ্য মিসরের ইসলামপন্থী টিভি স্টেশন আল-নাস সম্প্রচার করলে মধ্যপ্রাচ্যে তোলপাড় শুরু হয়। নিউইয়র্কের পাতাল রেলে পামেলা গেল্লারের দেয়া ইসলামবিরোধী পোস্টারের সংখ্যা হল মাত্র ১০টি। অন্যদিকে পাতাল রেলের মোট বিজ্ঞাপনী পোস্টারের সংখ্যা হল ১১,০০০! হাতেগোনা কয়েকটি পোস্টার নিয়ে যদি মুসলিমরা আবারো বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তাহলে পামেলা গেল্লারের মতো ইতরেরা বিশ্বব্যাপী আবারো প্রচারণা পাবে।</p>
<p> হজরত মুসা (আ.) কিংবা ঈসাকে (আ.) নিয়ে একজন মুসলিম কোনো কটুক্তি করবে এমনটি ভাবাই যায় না। কারণ তাঁদের আমরা নবী হিসাবে মানি। কিন্তু মহানবীর (সা.) ক্ষেত্রে একই ধরনের আচরণ ইহুদি কিংবা খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে আমরা আশা করতে পারি না। কারণ তারা মুহাম্মদকে (সা.) নবী হিসাবে স্বীকার করে না। ইসলাম ও মহানবীকে (সা.) নিয়ে কুৎসা রটনা যে চলতেই থাকবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ আমরা যাই করি না কেন, দেশের প্রচলিত নিয়ম মেনে করতে হবে এবং প্রতিবাদের ভাষা কি হবে সে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একচক্ষু আদালতে গিয়ে মুসলিমরা এখন সুবিচার পাচ্ছেন না, একথা ঠিক। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, শুধু মুসলিম কেন, আদালতে খ্রিষ্টানরাও মামলা ঠুকে The Last Temptation of the Christ  চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করতে পারেনি। তাই কোনোভাবেই সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। তাতে মুসলিমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি, কলঙ্কিত হবে মহানবীর (সা.) ভাবমূর্তি। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/628/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/563</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/563#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 15 Aug 2026 04:26:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=563</guid>

					<description><![CDATA[জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকবেলার জন্য বিশ্বের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে প্রতিবছর জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করে জাতিসংঘ। যা কনফারেন্স অফ দ্য পার্টি বা সংক্ষেপে কপ নামে পরিচিত। ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিনে বসেছিল প্রথম...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকবেলার জন্য বিশ্বের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে প্রতিবছর জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করে জাতিসংঘ। যা কনফারেন্স অফ দ্য পার্টি বা সংক্ষেপে কপ নামে পরিচিত। ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিনে বসেছিল প্রথম জলবায়ু সম্মেলনের আসর। এ পর্যন্ত ইউরোপের শহরগুলো সর্বোচ্চ ১৩ বার জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সে তুলনায় উত্তর আমেরিকায় হয়েছে মাত্র দু’বার, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নয়াদিল্লিতে ২০০২ সালে একবার। ২০১২ সালে আরব অঞ্চলের দেশ কাতারের রাজধানী দোহা শহরে হয় কপ-১৮। ২০১৯ সালের কপ ২৫ হয়েছে আবারো ইউরোপের শহর মাদ্রিদে। </p>
<p>প্রতিবছর জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সব কপই সমান গুরুত্ব পায় না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১৯৯৭ সালে ‘কিয়োটো প্রটোকল’ নামে সর্বপ্রথম একটি চুক্তি হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বের শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো বাধ্যতামূলক করা হয়। কিয়োটো প্রটোকলের বাধ্যবাধকতা শেষ হবার পর ২০১৫ সালে প্যারিস কপ-২১ সম্মেলনে আরেকটি চুক্তি হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব দেশকে ‘ন্যাশনাল ক্লাইমট অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করার কথা। এ জন্যই প্যারিস সম্মেলনের বেশ গুরুত্ব ছিল। </p>
<p>প্যারিস চুক্তিতে দেশগুলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পযুগের (১৮৫০-১৯০০) চেয়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখতে সম্মত হয়। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কমিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়। তবে আলোচনার টেবিলে যতই ঐক্যমত হোক না কেন প্যারিস সম্মেলনের পর বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এজন্য ২০১৯ সালের মাদ্রিদের কপ-২৫ সম্মেলনে যেসব দেশ এখনো প্যারিস চুক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শেষ করতে পারেনি, তাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হয়।</p>
<p>এ নিয়ে প্রতি শুক্রবার স্কুলে না গিয়ে সুইডিশ সংসদের সামনে বসে আন্দোলন শুরু করে সুইডিশ শিক্ষার্থী গ্রেটা টুনব্যার্গ৷ তাঁর এই আন্দোলন সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মেলন চলার সময় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এরপরও মাদ্রিদ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আন্তরিক হয়ে উদ্যোগ নিতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতেও উন্নত দেশগুলো ছাড় দিতে চায়নি। ফলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি যা কিনা ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবার কথা, অর্থের অভাবে সফলতার মুখ দেখছে না। </p>
<p>মাদ্রিদ সম্মেলনে কার্বন মার্কেট নিয়ে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। উন্নত দেশগুলো চীন এবং ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে ফাঁকিবাজি প্রকল্প গ্রহণ করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছে। এদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো অভিযোগ করেছে, উন্নত দেশগুলো কার্বন বাজার চালুর পথ বন্ধ করে বিশ্বকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। </p>
<p>তবে ট্রাম্প প্রশাসনের প্যারিস চুক্তি ত্যাগ ছিল জলবায়ু সমঝোতার জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা। পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি যে দায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণিত সত্যকে বিশ্বাস করতে চাইছেন না। উন্নত বিশ্ব প্রতিবছর উন্নয়নশীল বিশ্বকে ১০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করার কথা, তাতে আমেরিকা শরিক হবে না এবং প্যারিস চুক্তির আওতায় ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ ফান্ডেও কোনো অর্থ দেবে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বিশে^র অন্যতম কার্বন নিঃসরণকারী দেশ। </p>
<p>বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্যমতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হচ্ছে চীন (৯.৮ গিগাটন)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আমেরিকা (৫.৩ গিগাটন) আর এর পরই রয়েছে ভারত (২.৫ গিগাটন)। সর্বোপরি শিল্পোন্নত ১০টি দেশ বিশ্বের কার্বন নিঃসরণের ৬৭.৬ ভাগই নিজেরা নিঃসরণ করে। তবে জনপ্রতি কার্বন নিঃসরণের চিত্রটা পুরোপুরি উল্টো। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট দেশ কাতার (৫০ টন)। চীন শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যেও নেই। </p>
<p>স্বদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য বিশ্বের এক নম্বর কার্বন দূষণকারী দেশ চীন, বরাবরই কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার বিরোধিতা করেছে। কিন্তু চরম পরিবেশ দূষণের শিকার হয়ে কিভাবে দেশকে দূষণমুক্ত করা যায় সে নিয়ে চীন এখন হাপিত্যেশ করছে। </p>
<p>চীন গত জুনে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বণ নিঃসরণ ২০ শতাংশ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে এবং ২০২০ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার কথাও বলছে। জলবায়ু ফ্রন্টে আরেকটি বড় অগ্রগতি হচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম কার্বণ দূষণকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩০ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। </p>
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার ভয়াবহ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে স্ফীত হচ্ছে সাগরের জলরাশি। কার্বন নিঃসরণের মাত্রা অতীতের চেয়ে ২০১৫-২০১৯ সময়সীমায় ২০ ভাগ হারে বেড়েছে। ১৯৯৩ সাল থেকে যেখানে সাগরের জলসীমার উচ্চতা বেড়েছে গড়ে ৩.২ মিলিমিটার, সেখানে ২০১৫-২০১৯ সময়সীমায় বেড়েছে ৫ মিলিমিটারের উপর। </p>
<p>বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা না গেলে আগামী একুশ শতকের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানবজাতির জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে। পরিবেশ দূষণ এখন যে হারে চলছে তাতে একুশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নাসার ইন্সটিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেমস হেনসেন। </p>
<p>তবে উন্নত দেশেগুলোতে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে যে ক্ষতি হবে তা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে তারা হয়তো পুষিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু দুঃখজনক হল, জলবায়ু পরিবর্তনের ফ্রন্টলাইনে থাকা বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশগুলো ন্যূনতম কার্বন নিঃসরণ করেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে।</p>
<p>গত ২৫ বছর ধরে কার্বন দূষণকারী দেশগুলোর মধ্যে আপোস-আলোচনা চলছে কিভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানো যায়। কিন্তু এখনো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতা চুক্তিতে বিশ্ব একমত হতে পারেনি। চীন, আমেরিকা, ভারতের মতো দেশগুলো যদি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার বিষয়ে ঐক্যমতে না আসে তাহলে জলবায়ু সম্মেলন কখনোই ফলপ্রসূ হবে না। </p>
<p>কার্বন নিঃসরণ কমাতে হলে জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কিনা করছে তার উপর নজরদারী করা দরকার। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আসছে কিনা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তার উপরও নজর রাখতে হবে। </p>
<p>এবার ২০২০ সালের জলবায়ু সম্মেলন বসেবে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে গ্ল্যাসগোতে বিশ্বনেতারা ঐকমত্যে পৌঁছবেন এমন আশাবাদ সবার। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/563/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রিল থেকে রিয়েল: থালাপতি বিজয়ের জয়ের গল্প</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/214</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/214#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 24 Jul 2026 01:06:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Global Affairs]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=214</guid>

					<description><![CDATA[বলিউডের হিন্দি সিনেমা দেখা ছেড়েছি এক যুগেরও বেশি সময় আগে। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে থাকার সময়ই দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। কেরালার সহকর্মীদের হাত ধরে মালায়ালাম সিনেমার সঙ্গে পরিচয়।...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বলিউডের হিন্দি সিনেমা দেখা ছেড়েছি এক যুগেরও বেশি সময় আগে। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে থাকার সময়ই দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। কেরালার সহকর্মীদের হাত ধরে মালায়ালাম সিনেমার সঙ্গে পরিচয়। বিশেষ করে দুই কিংবদন্তি মালায়ালাম তারকা মাম্মুটি ও মোহনলালের কাজ। অভিনব গল্প, সংযত অথচ শক্তিশালী অভিনয়, এবং বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা, সব মিলিয়ে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।</p>
<p>সেখান থেকে ধীরে ধীরে তেলেগু সিনেমার মেগাস্টার চিরঞ্জীবি এবং দক্ষিণ ভারতের আইকন রজনীকান্তের প্রতিও আকর্ষণ জন্মায়। একটি বিষয় স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে &#8211; এই তারকারা বয়স লুকানোর চেষ্টা করেন না। বরং বয়সের স্বাভাবিকতাকেই তাঁরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধারণ করেন।</p>
<p>রজনীকান্তকে ধরুন। সত্তরের কোঠায় পা রেখেও সাধারণ সাদা পাঞ্জাবি, মাথার টাক আর স্বাভাবিক চেহারাতেই জনসমক্ষে হাজির হন। মোহনলালও সিক্স-প্যাকের মোহে না পড়ে নিজের স্বাভাবিক শরীরী গঠনেই স্বচ্ছন্দ। এই সরলতা এবং বাস্তবতাই তাঁদের আলাদা করে তোলে। ফলে দর্শক তাঁদের শুধু পর্দার চরিত্র হিসেবে নয়, নিজের মানুষ হিসেবে গ্রহণ করে। ভালোবাসে অন্তর থেকে।</p>
<p>অথচ বলিউডের অনেক সুপারস্টার যেখানে ষাট পেরিয়েও পর্দায় ২৫ বছরের তরুণ সাজার চেষ্টা করেন, সেখানে বাস্তবতা অনেক সময়ই হারিয়ে যায়। এমনকি বস্তির গল্পেও নায়ক-নায়িকার চেহারা ও শারীরিক গঠন দেখে মনে হয় যেন তারা কোনো আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মডেল, যা গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।</p>
<p>এই বাস্তবতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী প্রজন্মে উঠে আসেন তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়। যাকে ঘিরেই আজকের এই আলোচনা।</p>
<p>মাত্র দুই বছরের মধ্যে নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)’ গঠন করে ১০৮টি আসনে জয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, কীভাবে সম্ভব হলো এই সাফল্য?</p>
<p>দক্ষিণ ভারতে অভিনেতাদের রাজনীতিতে আসার ইতিহাস নতুন নয়। তামিল সুপারস্টার কমল হাসান এখন রাজ্যসভার সদস্য, চিরঞ্জীবি অন্ধ্র প্রদেশে মন্ত্রিত্ব করেছেন। তবে বিজয়ের আগে সবচেয়ে সফল উদাহরণ নিঃসন্দেহে এনটি রামা রাও। যিনি তিন দফায় অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তবে থালাপতি বিজয়ের সাফল্য বোঝার জন্য তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটি গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>তামিলনাড়ুর রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে মূলত দুটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ: ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এই দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। মজার বিষয়, এআইএডিএমকের প্রতিষ্ঠাতাও মূলত ডিএমকে থেকেই বেরিয়ে আসা একজন নেতা। ফলে সাধারণ মানুষের চোখে এই দুই দলের মধ্যে তেমন কোনো মৌলিক পার্থক্য তৈরি হয়নি। এর আগে ১৯৫২ থেকে ১৯৬৭ পর্যন্ত টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস।ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়েছিল। তারা খুঁজছিল বিকল্প।</p>
<p>এই শূন্যস্থানটাই কাজে লাগান বিজয়। এবারের নির্বাচনে প্রায় রেকর্ড ৮৬ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা পরিবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষারই ইঙ্গিত।</p>
<p>ক্ষমতাসীন দুই দল যেখানে জোট গড়ে মাঠে নামে, সেখানে বিজয় এককভাবে লড়ে ১০৮টি আসনে জয় পান। যেহেতু বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হয়েছেন, তাই তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। এককভাবে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ফলে এই ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে হলে তাঁর আরও ১১টি আসন প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এখন শুরু হয়েছে জোট-সমীকরণের হিসাব। কংগ্রেস ইতিমধ্যে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্য দলগুলোও আগ্রহী। তবে চাবিকাঠি এখনো বিজয়ের হাতেই। শেষ পর্যন্ত কাদের সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁরই।</p>
<p>টিভিকে আপাতদৃষ্টিতে নতুন দল হলেও বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা কিন্তু নতুন নয়। ২০০৯ সালে তিনি ‘Vijay Makkal Iyakkam’ (Vijay&#8217;s People Movement) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণমূলক নানা কাজ, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, স্কলারশিপ প্রদান, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী জনভিত্তি। এই কাজগুলোই আজ তাঁর রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি।</p>
<p>বিজয়ের সাফল্য একটি বিষয় পরিষ্কার করে, রাজনীতিতে শর্টকাট বলে কিছু নেই। বিজয়ের দুই দশকের নীরব প্রস্তুতি তারই প্রমাণ। একইভাবে পাকিস্তানে ইমরান খানও প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় পৌঁছেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকা, নীরবে কাজ করে যাওয়া, এই ধারাবাহিকতাই একসময় বড় শক্তিতে রূপ নেয়।</p>
<p>আমাদের দেশেও তরুণদের একটি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অনেক আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জনসম্পৃক্ততার পথ বেছে নেওয়ার বদলে তারা দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার আশায় একটি পুরোনো দলের সঙ্গে জোট করে বসে। ফলে হারিয়ে যায় তাদের স্বকীয়তা, দুর্বল হয়ে পড়ে জনসংযোগ। অথচ দক্ষিণ এশিয়ারই আরেক দেশ নেপালে তরুণদের পছন্দের দল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে।</p>
<p>প্রশ্নটা তাই থেকেই যায় &#8211; আমরা কি এই শিক্ষা নিতে প্রস্তুত?</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/214/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
