<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Memoir &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<atom:link href="https://mamoon.net/category/opinion/memoir/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://mamoon.net</link>
	<description>mamoon.net</description>
	<lastBuildDate>Sun, 13 Sep 2026 02:28:23 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>

<image>
	<url>https://mamoon.net/wp-content/uploads/2026/05/Logo-Mamoon-Vai-150x150.png</url>
	<title>Memoir &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<link>https://mamoon.net</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>আমার শৈশবের খেলাঘর পাবনার স্মৃতিকথা</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/887</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/887#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 13 Sep 2026 02:25:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Memoir]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=887</guid>

					<description><![CDATA[সেদিন ফেসবুক বন্ধু হাবিব হাসানের টাইমলাইনে পাবনার সিপিএ ক্লাব ও ইফার ছবি দেখে চমকে উঠেছিলাম। মনে হল, যেনো ফিরে গিয়েছি আমার শৈশবের বেলাভূমি প্রিয় পাবনা শহরে। ভাবছিলাম, কোথায় গেলো আমার...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সেদিন ফেসবুক বন্ধু হাবিব হাসানের টাইমলাইনে পাবনার সিপিএ ক্লাব ও ইফার ছবি দেখে চমকে উঠেছিলাম। মনে হল, যেনো ফিরে গিয়েছি আমার শৈশবের বেলাভূমি প্রিয় পাবনা শহরে। ভাবছিলাম, কোথায় গেলো আমার ছোট্টবেলার সাথীরা? কেমন আছে সবাই?</p>
<p>জনাব হাবিবের কাছ থেকে জানতে পারলাম তিনিই হচ্ছেন পাবনার গান ও নাচ শিক্ষার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস ইফা’র (IFA) বর্তমান প্রিন্সিপাল। ইফার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিতব্য স্মরণিকার জন্য আমার একটি লেখা চাইলেন।  আর সেই সুবাদেই আজকের এই লেখা।</p>
<p>শৈশবের স্মৃতি সব মানুষের জন্যই বোধহয় মাধুর্যময়। তাই পাবনার ফেলে আসা দিনগুলো এখনো বড্ড স্মৃতিময়। মনে পড়ে পদ্মা নদীর তীরে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পাড়ি দেয়া, পাবনা সদরের অদূরে পাকসী এবং নাটোরে দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ী এলাকায় দলে বেধে পিকনিকে মেতে ওঠা, এবং আরো কতো কি!</p>
<p>আমাদের ছিল নয় ভাই ও দুই বোনের বিশাল সংসার। আমি হলাম পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। বাবা জেলা প্রশাসনে চাকরী করতেন বলে ৩/৪ বছর পরপর তাঁকে বদলী করা হত এক জেলা হতে অন্য জেলায়। ১৯৬১ সালের প্রথম দিকে বাবা পাবনায় বদলী হলে কালাচাঁন্দ পাড়ায় একটি একতলা বাসায় আমরা গিয়ে উঠি। কিছুদিন পর ওই বাসা ছেড়ে আমরা দিলালপুরে ভবানী শাহের চারতলার পশ্চিম পাশের ‘হরিনাথ ভবন’নামের একটি দোতলা বাসায় চলে আসি।</p>
<p>আমার পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন এবং সৃজনশীল কাজের মধ্যে একটা সুন্দর ভারসাম্য ছিল। বাবা-মা খুব ধার্মিক ছিলেন। কিন্তু কোনো সৃজনশীল কাজে বাধা দিতেন না। ফলে ক্বারী করে কুরআন তেলোয়াত থেকে শুরু ছবি আঁকা, গান, কবিতা, অভিনয়, সাংবাদিকতা ও খেলাধূলা, বলতে গেলে সবকিছুরই চর্চা হতো আমাদের বাড়ীতে।</p>
<p>আমাদের পাড়ায় (দিলাল পুর) ছিল সরকার অনুমোদিত ক্লাব, যার নাম হল ‘চিলড্রেন ফিজিক্যাল এন্ড কালচারাল এসোসিয়েশন (সিপিসিএ), যাতে প্রায় একশ’ জন ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সদস্য ছিল। এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠা এবং কর্মকান্ডের সাথে আমার পুরো পরিবারই সম্পৃক্ত ছিল। জনাব আব্দুল আওয়াল ছিলেন এই ক্লাবের সভাপতি। আর আমার সেজদা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব বদিউল আলম ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।</p>
<p>আমার শৈশবের খেলাঘর ছিল এই সিপিসিএ ক্লাব। আমার আরো তিন অগ্রজ সহোদর মো. আলম, আহমদ উল্লাহ ও শহীদ উল্লাহ ক্লাবের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতেন। আমার ভাই আহমদ উল্লাহ খুব ভালো ছবি আঁকতেন এবং মাটির ভাস্কর্যও তৈরী করতে পারতেন। তৎকালীন দৈনিক অবসার্ভার পত্রিকায় বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি এঁকে তিনি সুনাম কুড়িয়েছিলেন।  এছাড়া তিনি উঁচুমানের অভিনয়ের সাথে কৌতুক পরিবেশন করতে পারতেন। পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কৌতুক অভিনয় করে তিনি একাধিকবার প্রসংশিত হন।</p>
<p>আওয়াল ভাই পাবনা ডিসি অফিসের একজন অফিস সহকারী ছিলেন। বাবাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করতেন। তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ। তিনি আমাদের খুব স্নেহ করতেন। আওয়াল ভাই ও আমার সেজদা এই ক্লাবকে দাঁড় করাতে বহু শ্রম দিয়েছেন। পাবনা শহরের অফিসারদের বাসায় গিয়ে তাঁদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদর সিপিএ ক্লাবের তাঁরা সদস্য বানাতেন। আমার সংগ্রহে থাকা ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তোলা একটি দুর্লভ ছবি এখানে শেয়ার করলাম। আশাকরি, এই ছবিতে অনেকেই তাঁদের শৈশব খুঁজে পাবেন।</p>
<p>আমার সেজদা বদিউল আলম ছিলেন পাবনার সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের একটি অত্যন্ত প্রিয় মুখ। আবৃত্তিকার ও গায়ক হিসাবেও তাঁর সুনাম ছিল।  এছাড়া তিনি ছিলেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নেপথ্য সঙ্গীতের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে মঞ্চে কাঠের ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক দিয়ে গানের বিষয়বস্তু ও ছবি এঁকে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। নীল নবঘনে আষাঢ় গগণে, খরবায়ু বয় বেগে, কোনো এক গাঁয়ের বধূ ইত্যাদি গানের সাথে তাঁদের মিউজ্যিকাল ড্রইং দর্শকদের মুগ্ধ করতো। আমাদের ক্লাবের ছেলে-মেয়েদের ভাল শিক্ষক দিয়ে গান, নাচ, আবৃত্তি ও কুরআন তেলোয়াত শেখানো হত। ফলে প্রতি বছর সিপিএ ক্লাব পাবনার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় ১ম স্থান অধিকার করতো।</p>
<p>সিপিসিএ ক্লাবের পাশেই ছিল ইফা। এখানে সঙ্গীত, বাদন, চিত্রকলা, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুকুমারবৃত্তি চর্চা করানো হত। ইফাতে আমার আপা রিজিয়া আক্তার ও সেজদা নজরুল সঙ্গীতের প্রথম সারির শিক্ষার্থী ছিলেন। অনিমা ভট্টাচার্য ও গোলাম সরওয়ারও ইফার ছাত্র ছিলেন। গোলাম সারওয়ার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। সেজদা ইফাতে মিউজিক্যাল ড্রইংও শেখাতেন ।</p>
<p>রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের নিয়মিত শিল্পী মহিউদ্দীন চৌধুরী শেখাতেন নজরুল সঙ্গীত। দেবু ভট্টাচার্য শেখাতেন তবলা ও ক্লাসিক্যাল নৃত্য। ওই সময় ইফার প্রিন্সিপাল ছিলেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের অর্থণীতির অধ্যাপক জনাব এস কিউ হোসেন।</p>
<p>আহামদ ফরিদ উদ্দীন সিএসপি তখন পাবনায় আতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে কর্মরত ছিলন।  তিনি হলেন দেশবরেণ্য নৃত্যকলা ব্যক্তিত্ব বুলবুল চৌধুরীর নাতি। তিনি ছিলেন ভীষন সাংস্কৃতিমনা একজন মানুষ। পাবনার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমরা তাঁকে পেতাম। পরবর্তীতে তিনি আবুধাবীর রাষ্ট্র্রদূত নিযুক্ত হন।</p>
<p>বনমালী ইন্সটিটিউিট ছিল তখনকার নাটক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রধান কেন্দ্র। আমার বয়স তখন ৪ বছর। আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলামের ‘লিচু চোর’ ও রবি ঠাকুরের ‘বীর পুরুষ’ কবিতা আবৃত্তি করে ভীষণ সুনাম অর্জন করেছিলাম। আমি স্টেজে উঠলেই নাকি দর্শকের মুহুর্মুহু করতালিতে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠতো।</p>
<p>আমাদের সময় প্রতি পাড়াতেই ছিল চিত্তবিনোদনের জন্য ক্লাব। এখানে শিশু ও কিশোরদের জন্য শুদ্ধধারার সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চর্চার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন এলাকায় সিপিসিএ ক্লাবের মত প্রতিষ্ঠান আর গড়ে উঠতে দেখিনা। এখন সেই ক্লাবের জায়গা নিয়ে নিয়েছে মোবাইল ফোন, আই প্যাড, ও অনলাইন গেম্স।</p>
<p>দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর দখল মুক্ত হয়ে আবার নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে আমাদের প্রানের সিপিসিএ ক্লাব। আর খুব সহসা পালিত হতে যাচ্ছে ইফার ৫৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ভাবতেই ভালো লাগছে, এই ঐতিহ্যবাহী দুটো প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার নিবিড় সখ্য ছিল। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইফার সব নতুন ও পুরাতন সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।  দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই দু’টি এতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের পুরোনো সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরী করার এই মহতী প্রচেষ্টার জন্য হাবিব হাসানকে জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।  আমি নিশ্চিত, জনাব  হাবিবের মত একজন নিবেদিতপ্রান সংগঠকের নেতৃত্বে ইফা ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব।</p>
<p>আজ জীবন সায়াহেৃ এসে আওয়াল ভাই, ছেলেবেলার খেলার সাথী ও পাবনার সেই সোনালী দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। শুনেছি আওয়াল ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। আমার সহপাঠিদের অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন ওপারে। একদিন হয়তো আমারও ডাক আসবে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ইফা ও সিপিসিএ ক্লাব পাবনার শিশু কিশোরদের অন্তরে আলো ছড়াবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মন্তরে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/887/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চট্টগ্রাম কলেজের সেই হিরন্ময় দিনগুলো</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/660</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/660#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 01:28:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Memoir]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=660</guid>

					<description><![CDATA[ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ সার্ধশত বর্ষে পদার্পণ করেছে। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাস্টার দা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, শহীদ অধ্যাপক অবনীমোহন দত্তের মতো কিংবদন্তির পদচারণায় মুখরিত এই কলেজের...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ সার্ধশত বর্ষে পদার্পণ করেছে। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাস্টার দা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, শহীদ অধ্যাপক অবনীমোহন দত্তের মতো কিংবদন্তির পদচারণায় মুখরিত এই কলেজের আমিও একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ভেবে শিহরিত হই। কলেজের সেই সোনালি দিনগুলোর কথা লিখতে গিয়ে এত স্মৃতিকথা মনে ভীড় জমাচ্ছে যে কি লিখবো ভেবে পাচ্ছি না। </p>
<p>মনে পড়ছে চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসের প্রথম দিনটির কথা। কলেজে ভর্তি হবার জন্য লিখিত পরীক্ষায় বসেছি। বাংলা প্রশ্নপত্রে ‘পরীক্ষার সকাল’ এই ধরনের একটি বাংলা রচনা লিখতে বলা হয়েছিল। শিরোনামটা ঠিক মনে করতে পারছি না। তখন আমার লেখনীতে বাংলা সৃজনশীলতার বসন্ত এসে গেছে। কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে ছেয়ে গেছে ভাবনার আঙ্গিনা। বাড়ি থেকে পরীক্ষার্থীদের দুরু দুরু বক্ষে পরীক্ষা হলের দিকে যাত্রাকে শোকে মুহ্যমান, গোরস্থানগামী শব্দহীন শবযাত্রার সাথে তুলনা করে একটি বড় রচনা লিখে ফেলেছিলাম। পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় সময় স্যারেরা লেখাটির বেশ প্রশংসা করেছিলেন, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।</p>
<p>সি সেকশনে জায়গা পেলাম। ঘাটফরহাদবেগ খলিফা পট্টি এলাকা থেকে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করতাম। কখনো আব্দুস সাত্তার রোড ধরে গনি বেকারির সমুখ দিয়ে দিয়ে কলেজে যেতাম কিংবা সিরাজউদ্দৌলা রোড ধরেই কলেজে ঢুকতাম। কলেজে যাবার পথে সিরাজদ্দৌলা রোডের উপর চন্দনপুরা মসজিদের একটু আগে ছিল ‘নানা ভিলা’। হেঁটে যাবার সময় বাড়ির নাম কি করে ‘নানা’ হয় সে নিয়ে বন্ধুদের সাথে বহু ঠাট্টা মস্করা করতাম। কিন্তু এই বাড়ির একটি মেয়েই যে আমার জীবনসঙ্গীনী হবে তা ভাবিনি কখনো। হ্যাঁ, এই নানা ভিলাই হচ্ছে আমার শ্বশুরবাড়ি। নোয়াখালীতে খুব কাছের বন্ধুকে নানা বলা হয়। আমার শ্বশুর ও তাঁর একজন বন্ধু মিলে তৈরি করেন এই বাড়ি। তাঁদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বাড়ির নামকরণ করা হয় ‘নানা ভিলা’। </p>
<p>টুকটাক লেখালেখির সুবাদে চট্টগ্রাম কলেজে উঠতি কবি হিসাবে একটু নাম ধামও হয়েছিল। ওই সময় যারা কাব্যচর্চা করত তাদের পায়জামা, পাঞ্জাবী, পায়ে চপ্পল আর এলামেলো চুল নিয়ে ঘুরাফেরা করাই ছিল চূড়ান্ত ফ্যাশন। আমিও মাঝে মধ্যে সেরকম গেটআপ নিয়ে ভাব ধরতাম। কলেজের অডিটোরিয়ামে বাছাই করা কবিদের স্বরচিত কবিতা নিয়ে নিয়মিত কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান হত। অধীর আগ্রহে অপক্ষো করতাম কখন আমার ডাক আসবে, মঞ্চে গিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করবো। তেমন একটি কবিতার কথা এখনো মনে পড়ে, ‘তুমি ছিলে হৃদয় নীলে আমোঘ ব্যথার মতো, হঠাৎ কখন হারিয়ে গেলে বুকে আমার ক্ষত, সেই ব্যথারই দহন জ্বালায় জ্বলছি অহর্নিশ, আর দিও না তুমি আমায় ওমন ধরণ বিষ।’</p>
<p>প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী নকীব খান ছিলেন আমার চট্টগ্রাম কলেজের সহপাঠী। আমার লেখা এবং নকীব খানের সুরে বেশ কিছু বিখ্যাত গানের সৃষ্টি হয়েছিল এই ক্যম্পাসেই। কলেজের অদূরে কাজেম আলী হাই স্কুলের নিচের তলাতে ছিল নকীবের বাসা। সোলসের বাদ্যযন্ত্রগুলো ওর বাড়িতেই থাকতো। দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকে প্রায় ওর বাসায় গিয়ে আড্ডা দিতাম। নতুন নতুন সুর করা গান শোনাতো নকীব। গানের কথায় একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সুর তৈরি করার বিরল প্রতিভা ছিল নকীবের। </p>
<p>নকীবের একটা ১৯৬৮ সালের ডাইরী ছিল। সব নতুন গান নকীব ওই ডাইরীতে তারিখসহ লিখে রাখতো। সত্যি বলতে কি, নকীবের অনুপ্রেরণাতেই গান লেখা শুরু করি। নকীবের সেই বিখ্যাত ডাইরীর থেকে আমার লেখা দু’টো বিখ্যাত গানের পান্ডুলিপির ছবি দিলাম।</p>
<p>কলেজের শ্রেণীকক্ষে বসেই লিখেছিলাম ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে (১৩ ফেব্রুয়ারি ’৭৭)’, ‘ওরে ছোট্ট বেলার সাথী’, ‘ভুলে গেছো তুমি (৩০ নভেম্বর ’৭৭)’ ‘আমার মনে হল (১২ জানুয়ারি ’৭৭)’-এর মতো গান। </p>
<p>আমার অধিকাংশ গানই চট্টগ্রাম কলেজের ২য় বর্ষে পড়াকালীন ১৯৭৭ সালে লেখা। কলেজের সায়েন্স গ্যালারিতে বসে লেখা কয়েকটি কিছু অসংলগ্ন পদ্য বন্ধু নকীব খানের সুরের দীপ্তিতে যে কালজয়ী গান হয়ে যাবে সে কখনো ভাবিনি। সত্যি বলতে কি, চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসের ব্যতিক্রমী ও স্বপ্নময় পরিবেশই ছিল আমার গীতিকবিতার অনুপ্রেরণা। </p>
<p>কলেজের মাসিক বেতন দেয়ার স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। মূল বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে বেতন দিতে হতো। অনেক সময় ঠেলাঠেলি করে লাইনে দাঁড়িয়ে কত তাড়াতাড়ি বেতন দেয়া যায় সে নিয়ে চলতো প্রতিযোগিতা। ভীড় এড়াবার জন্য অনেক সময় দুই ক্লাসের ফাঁকে দে ছুট বলে দৌড় দিয়ে বেতন দিয়ে আসতাম। কখনো কাছের কোনো বন্ধুকে আমার হয়ে বেতন দিয়ে দেয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করে টাকাটা হাতে ধরিয়ে দিতাম। </p>
<p>যতদূর মনে পড়ে, আমাদের সময় মানবিক বিভাগের বেতন ছিল ৮ টাকা আর বিজ্ঞানে বিভাগের বেতন একটু বেশি অর্থাৎ ৯ টাকা। একাউন্ট্যান্ট জনাব কামাল সাহেব বেতনের টাকা সংগ্রহ করতেন। বেশ কিছুদিন হল তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছি, তিনি চুক্তিভিত্তিক কাজ নিয়ে আবারো কলেজে ফিরেছেন। </p>
<p>কলেজ গ্যালারির ক্লাসগুলোর প্রতি আমাদের একটা বিশেষ আকর্ষণ ছিলো। কারণ ওই গ্যালারিতে বসেই করা হত যতসব দুষ্টুমি। কলেজ গ্যালারির ক্লাসগুলোর প্রতি আমাদের একটা বিশেষ আকর্ষণ ছিলো। কারণ ওই গ্যালারিতে বসেই করা হত যতসব দুষ্টুমি। বিশেষ করে বাংলা ক্লাসের শিক্ষককে উদ্ভট প্রশ্ন করে আমরা বিব্রত করার চেষ্টা করতাম। আমাদের প্রশ্ন শুনে ক্লাসের সবাই উদ্বেলিত হত আনন্দে আর প্রশ্নকারী বন্ধু খেতো স্যার কিংবা ম্যাডামের ঝারি-ঝুরি ও বকা। সেই মজার দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো হেসে খুন হই। </p>
<p>একবার অঙ্কের ম্যাডাম একবার ক্লাসে জিজ্ঞাস করেছিলেন, Infinity মানে কি? উত্তর পেয়েছিলেন, ‘ম্যাডাম, ডান্ডা বাই আন্ডা’। বন্ধু ইকবাল হোসেনকে underground modified stem এর উদাহরণ দিতে বলেছিলেন এক ম্যাডাম। সে সরল মনে উনার সামনে হাত গোল করে বলেছিল, ‘গোল আলু, ম্যাডাম’। ইকবালের উত্তর সঠিক হওয়া সত্ত্বেও উনি ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন। তবে দয়াপরবশ হয়ে ৮ নম্বর দিয়ে পাশ করিয়ে দিয়েছিলেন। আরেকজন বিখ্যাত ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন যার নাম ছিল সাধন চন্দ্র পাল, যিনি কেউ দুষ্টুমি করলে শাস্তিস্বরূপ বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখতেন।</p>
<p>কলেজের ছাত্রীরা এখন সাদা এপ্রন পরে ক্লাসে আসে। তবে মেয়েদের জন্য এই এপ্রন চালু হবার পেছনের ইতিহাস হয়তো অনেকেই জানে না। সেই গল্পই এখন বলছি। গ্যালারির ক্লাসে আমাদের কিছু দুষ্ট বন্ধু শেষের বেঞ্চ থেকে মার্বেল গড়িয়ে দিতো। সেই মার্বেল গ্যালারি পেছন থেকে টক-টক শব্দ করে গড়িয়ে এসে সামনের সারি ছাত্রীদের কাছে এসে থেমে যেতো। সিরাজুল ইসলাম স্যার সি সেকশানে অজৈব রসায়ন পড়াতেন। কেমিস্ট্রি গ্যালারির একটি ঘটনা। যথারীতি পেছনের সারি থেকে মার্বেল গড়িয়ে পড়ছে। স্যার বেশ কয়েকবার আড় চোখে তাকিয়ে দেখে হঠাৎ করে পড়ানো বন্ধ করে দিলেন। </p>
<p>সেদিন ক্লাসের একজন বান্ধবী টি-শার্ট পড়ে এসেছিলো। তাতে বন্ধুরা খুব উচ্ছ্বসিত ছিল বলে মার্বেল গড়িয়ে দেয়ার মাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল। স্যার হয়ত কারণটা বুঝতে পেরেছিলেন। স্যার তখন ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন, ‘আপনারা এমন কোনো পোশাক পরবেন না, যা দেখে এই অল্প বয়সের যুবকদের মতিভ্রম হয়, লেখাপড়া ব্যাহত হয়। আমরা চাই না তারা ক্ষতিগ্রস্ত হোক।’ পুরো ক্লাসে পিন-পতন নীরবতা। মার্বেল বন্ধুগণ নির্বাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো। এই ঘটনার সপ্তাহখানেক পর নোটিশ বোর্ডে একটা বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ল। প্রত্যেক ছাত্রীকে কলেজে বাধ্যতামূলক সাদা রঙের এপ্রন পড়ে আসতে হবে। যা পরবর্তীতে সব কলেজে প্রচলন হয়। এরপর বন্ধুরা সাময়িক মার্বেল ছোঁড়া বন্ধ রাখলেন। </p>
<p>কলেজের প্রধান ফটক থেকে এখন বিদায় নিয়েছে আইয়ুব খান (AK)। গেইটটি নির্মিত হয় আনুমানিক ১৯৬৯ সালে যখন আইয়ুব খান ছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। জানা যায়, তাঁকে খুশি করার জন্যই নাকি প্রেসিডেন্টর নামের অদ্যাক্ষর কলেজ গেইটের ডিজাইনে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ নিয়ে অনেকে দ্বিমত পোষণ করে থাকেন। </p>
<p>যেমন আমাদের ডাকসাইটে ইংরেজি শিক্ষক রঞ্জিত চক্রবর্তীর মুখে শুনেছিলাম গেইটে ব্যবহৃত অক্ষর দুটোর মানে হচ্ছে acquire knowledge. জানি না কোনটা সঠিক। নাম যাই হোক না কেন, আগের গেইটটি যে দৃষ্টিনন্দন ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আইয়ুব খানের নাম মনে পড়লে বুকের মধ্যে যেমন একটা কাঁটা বিধতো তেমনি আবার আজ গেইটটি ভেঙ্গে ফেলার কথা শুনে নষ্টালজিক ভাবনায় ডুবে যাচ্ছি।</p>
<p>আমার দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে কম সময় কাটিয়েছি চট্টগ্রাম কলেজে, যা কিনা দু’বছরেরও কম। অথচ এখন জীবনের পড়ন্ত বেলায় দাঁড়িয়ে হিসাব কষে দেখি, সবকিছু ছাপিয়ে ৭৭-এ লেখা কয়েকটি গানের গীতিকার হিসাবেই সবাই আমাকে মনে রেখেছে। </p>
<p>স্মৃতির মিউজিয়ামে সযত্নে তুলে রাখা চট্টগ্রাম কলেজের আনন্দ-বেদনার কথা-মালা এখনো আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। ইচ্ছে করে সবার অগোচরে ফিরে যেতে সেই দিনগুলোতে। আর বন্ধুদের সাথে নিয়ে আড্ডার ঘুড়ি হয়ে নীলিমায় ভাসতে। এখনো চোখ বুজলে দেখতে পাই স্মৃতির তারাগুলো হৃদয়ের ধূসর আকাশে কেমন করে জ্বলে আর নেভে। রবি ঠাকুর যথার্থই বলেছেন, ‘রাতের সব তারাই আছে, দিনের আলোর গভীরে।’</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/660/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ভিয়েতনামে কয়েকদিনের কোটিপতি</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/memoir/653</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/memoir/653#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 31 Aug 2026 09:03:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Memoir]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=653</guid>

					<description><![CDATA[মুক্তির স্বাদ পেতে চার দশকেরও বেশি যুদ্ধ করেছে ভিয়েতনামের লড়াকু মানুষ। পরাশক্তি আমেরিকার সাথে দীর্ঘ ১১ বছর লড়াই করে বিজয়ী হয়েছে। জেনে হতবাক হয়েছি, ভিয়েতনাম যুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে প্রায়...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মুক্তির স্বাদ পেতে চার দশকেরও বেশি যুদ্ধ করেছে ভিয়েতনামের লড়াকু মানুষ। পরাশক্তি আমেরিকার সাথে দীর্ঘ ১১ বছর লড়াই করে বিজয়ী হয়েছে। জেনে হতবাক হয়েছি, ভিয়েতনাম যুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি বোমা বর্ষিত হয়েছে, যা মাথাপিছু ৫০০ কিলোগ্রাম।</p>
<p>১৯৭৫ সালে সাইগনের (হো চি মিন সিটি) আমেরিকান দূতাবাসের ছাদে উঠে হেলিকপ্টারে করে পরাজিত আমেরিকানদের পলায়নের দৃশ্য আমার স্মৃতিতে এখনো ভাস্বর হয়ে আছে। এই লড়াকু জাতিকে কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা ছিল বহুদিনের। সেই সূত্রেই ভিয়েতনামে যাওয়া।</p>
<p>হ্যানয়ে পা দেওয়ার পর প্রথম শ্রদ্ধা জানাতে যাই ভিয়েতনামের জাতীয় বীর ও বিপ্লবী নেতা হো চি মিন-এর সমাধিসৌধে। সমাধিসৌধের অভ্যন্তরে একটি বিশাল কক্ষের আলো-আঁধারিতে এক ছোট্ট বিছানায় রাখা আছে হো চি মিনের নশ্বর দেহ। বিনম্র ভালোবাসায় নতজানু হয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন সবাই। দেশ ও জাতির জন্য কি না করেছেন এই মহান নেতা! কারাগারে বসেও তাঁর হৃদয়জুড়ে ছিল কেবল মাতৃভূমি। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লিখেছিলেন কবিতা:</p>
<p>আমি ভাবি আমার মাতৃভূমির কথা<br />
আমি উড়ে যাই দূর বহুদূর আমার স্বপ্নের ভেতরে।<br />
আমি স্বপ্ন দেখি পথ হারিয়ে<br />
আটক হয়েছি বেদনার জালে।<br />
এখানে শেষ হয়ে এল একটি বছর<br />
কি অপরাধ ছিল আমার?<br />
অশ্রুসজল লিখছি আমি<br />
আরো একটি জেলের কবিতা।</p>
<p>হ্যানয়ের নৈ বাই এয়ারপোর্টে নামার আগে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। কমিউনিস্ট দেশ, না জানি কি হয়! তবে বিমানবন্দরের এরাইভ্যাল লাউঞ্জে পা দিতেই মনটা হালকা হয়ে গেল। খুবই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চারদিক, কিছু দূর পর পর নরম গদির বসার জায়গা, সারি সারি রকমারি খাবারের দোকান। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দরের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। ওয়াশরুমে গিয়ে রীতিমত হোঁচট খেলাম। বিমানবন্দরে এমন ঝকঝকে, পরিচ্ছন্ন টয়লেট কখন দেখেছি মনে পড়ে না। হাত ধোয়ার বেসিন সংলগ্ন দেয়ালটি কংক্রিটের বদলে স্বচ্ছ কাঁচ দিয়ে তৈরি। টয়লেটে ঢুকলেই দৃষ্টির সীমানায় ভেসে ওঠে হ্যানয় শহরের ১৮০ ডিগ্রি মনোরম দৃশ্য।</p>
<p>ভিসা ফরম আর দুই কপি ছবি নিয়ে অভিবাসনে গেলাম। খুব বেশি ভিড় নেই। ফরম জমা দিতে গিয়ে দেখি, আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি আনা হয়নি। শুনেছি, ইমিগ্রেশানে ছবি তোলার মূল্য প্রতি কপি ৫ ডলার এবং তাতে অনেক সময়ও লেগে যেতে পারে। ফরম জমা নিয়ে আমাদের বসতে বলা হল। একটু পরেই যাক আসল। তবে ছবি তোলার কোনো কথা না তুলেই ভিসা দিয়ে দিল তারা। বিমানবন্দর হচ্ছে একটি দেশের প্রবেশদ্বার। বিমানবন্দরের প্রথম অভিজ্ঞতা একজন যাত্রীকে ওই দেশ সম্পর্কে একটা চট্জলদি ধারণা দিয়ে দেয়। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে মনে হচ্ছিল, আসছে দিনগুলো খুব একটা মন্দ কাটবে না।</p>
<p>এয়ারপোর্টে নেমে মোবাইল ফোনের জন্য একটা স্থানীয় সিম কিনে নিলাম। লাগেজ নিয়ে বাইরে বেরুতেই হোয়াট্সঅ্যাপে হোটেল থেকে টেক্সট এলো, তোমাদের গাড়ি হাজির। হোটেলের পাঠানো গাড়িতে উঠে ট্যাক্সিচালকের সাথে গুগল ট্রান্সলেট দিয়ে আলাপ জুড়ে দিলাম আমরা সবাই। মুচকি হেসে বিনয়ের সঙ্গে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন তিনি। ৩০ মিনিটের মধ্যে হ্যানয়ের ‘বাদিন’ এলাকায় ভাড়া করা সার্ভিস্ড অ্যাপার্টমেন্টে চলে এলাম। ট্যাক্সি বিদায় দেওয়ার আগে চালক আমার মোবাইল ফোনে মুখ রেখে ভিয়েতনামীজ ভাষায় কি জানি বললেন। পরক্ষণেই মোবাইল ফোনের পর্দায় গুগল ট্রান্সলেটরে ভেসে উঠলো -Welcome to Hanoi (হ্যানয়ে স্বগতম)!</p>
<p>তাৎক্ষণিক মিলিয়নিয়ার হতে চাইলে ভিয়েতনাম আসুন। এ দেশের মুদ্রার নাম ডং। এক আমেরিকান ডলারে প্রায় ২২ হাজার ৭০০ ডং পাওয়া যায়। মাত্র ৫০ ডলার ভাঙালেই হয়ে যাবেন মিলিয়নিয়ায়। ভিয়েতনামে জিনিসপত্রের দামও খুব বেশি নয়। তবে হাজার, লক্ষ ডং দিয়ে বিল দিতে গিয়ে প্রথমে বেশ ভড়কে গিয়েছিলাম। যেমন এককাপ কাপুচিনর দাম ৭৫ হাজার ডং, একটি পাউরুটি ৪০ হাজার ডং ইত্যাদি। তবে ভিয়েতনামের দিনগুলো একজন মিলিওনিয়ার হিসাবে কাটবে ভেবে বেশ পুলকিত হচ্ছিলাম।</p>
<p>হ্যানয়ে থাকার জন্য হোটেলের বদলে একটা সার্ভিসড অ্যাপর্টমেন্টে বেছে নিয়েছিলাম। সত্যি বলতে কি, অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরটা খুব কাজে দিয়েছিল। অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি, বিশেষ পোশাকে সজ্জিত হোটেলের প্রথাগত বয়-বেয়ারার বদলে রয়েছে একঝাঁক স্মার্ট তরুণ-তরুণী। সবাই সুশিক্ষিত, অনেকে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাও শেষ করেনি। সবাই ইংরেজিতে দক্ষ। আর সেবা দেয়ার জন্য তাদের হাতে রয়েছে মুঠোফোন। কোনো কিছুর জন্য রিসিপশনে ফোন করার দরকার নেই। হোয়াট্সঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব হাজির। টিপস নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। আচার-ব্যবহারে বিনয়ী, পারলে ওরা আকাশের তারা আপনার হাতের মুঠো এনে দেবে। বিশ্বের বড় বড় হোটলে ওয়াই-ফাই সংযোগ একটা সমস্যা। কিন্তু হ্যানয়ের অ্যাপার্টমেন্টে বেগবান নেটের গতি মুগ্ধ করলো আমাদের। হ্যানয়ে রাস্তার ধারে ঝুপড়ি দোকানেও রয়েছে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ।</p>
<p>পরদিন আগে থেকে বুকিং করে রাখা ডে ট্যুরে বেরুলাম। নির্ধারিত সময়ের ঠিক পাঁচ মিনিট আগে গাড়ির নাম্বার সহ খুদে বার্তা আসল, আমাদের নিতে ট্যুর গাইড হোটেল লবিতে অপেক্ষা করছে। ভিয়েতনামে যতদিন ছিলাম, কোথাও সময়ের ব্যাত্যয় হতে দেখিনি। নির্ধারিত সময়ের আগে চলছে ওরা। হ্যানয় শহর ছেড়ে প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে গিয়েছি। রাস্তার দু’পাশে অবারিত সবুজ ফসলের ক্ষেত, সারি সারি কলা গাছ, মেঠো পথ, মনে হচ্ছিল এ যেন সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ। দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার সব দেশেই বরফ-চা এবং কফি খুবই জনপ্রিয়। গ্রামের একটি দোকানে স্থানীয় মানুষদের সাথে বসে বরফ-চা খেলাম। দোকানে টেবিলের পাশে থাকে বিশেষ ধরনের হুক্কা, চায়ের সঙ্গে সবাই হুক্কায় সুখটান দিচ্ছেন।</p>
<p>আমাদের ট্যুর গাইডের নাম সিন। ইংরেজিতে পারদর্শী। অনর্গল কথা বলে যাচ্ছিল। নিজের দেশের কথা বলতে গিয়ে সিন-এর চোখে মুখে দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধের ফুটে উঠছিলো। আমাদের ট্যুর শেষ হওয়ার কথা বিকেল সাড়ে পাঁচটায়, কিন্তু সিন আমাদের সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ঘোরাল। পথে গাড়ি থামিয়ে কেনাকাটার মতো আমাদের ছোটখাট আবদার অকুন্ঠচিত্তে পূরণ করার চেষ্টা করছিল। সিনের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম সবাই।।</p>
<p>হ্যানয়ের রাস্তাজুড়ে শুধু মোটরবাইক। সিগন্যাল ছাড়লেই মনে হয় নর-নারী, জোয়ান-বুড়ো সবাই যেন মোটরবাইকের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তবে চালকদের মধ্যে মারমুখী ভাব নেই। ভিয়েতনামে প্রতি তিনজনের রয়েছে একটি করে মোটর বাইক। চীনসহ দক্ষি-পশ্চিম এশিয়ার দেশে এই দৃশ্য খুব চোখে পড়ে। হ্যানয়ে ট্রাফিক জ্যাম না থাকার হয়তো এটাও একটা কারণ।</p>
<p>ভিয়েতনাম যুদ্ধের নিদর্শন নিয়ে হ্যানয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি যাদুঘর। তবে যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বেশি রয়েছে ভিয়েতনামের দক্ষিণে হো চি মিন সিটিতে। হ্যানয়ে আছে হোয়া লো প্রিজন। পায়ে লোহার বেড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হত যুদ্ধবন্দিদের। যা দেখলে গা শিঁউরে ওঠে। আরো আছে মুন্ডচ্ছেদনের জন্য গিলোটিন। সামরিক যাদুঘরের উন্মুক্ত উঠোনে দেখলাম যুদ্ধে ব্যবহৃত কামান ও অস্ত্রশস্ত্র। এছাড়া আমেরিকার বি-৫২ বোমারু বিমানের ভগ্নাবশেষ। বি-৫২ বিমানকে আমেরিকানরা বলত ফ্লাইং ফোট্রেস বা ‘উড়ন্ত দুর্গ’। এই ধরনের কয়েকটা বিমান ধ্বংস হবার পর আমেরিকানদের মনোবলে চিড় ধরে।</p>
<p>আমেরিকানদের ঝেটিয়ে বিদায় করলেও ডং-এর পাশাপাশি আমেরিকান ডলারই রাজত্ব করছে ভিয়েতনামে। ছোটখাটো দোকান ছাড়া প্রায় সবখানেই ডলারেই বিল দেয়া যায়। পর্যটক ফেরি করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন দেখলাম আমেরিকার ফোর্ড কোম্পানির ১০ সিটের ভ্যান। ডলারের মতো ভিয়েতনামের রাস্তাও ফোর্ড কোম্পানির গাড়ির দখলে!</p>
<p>আমাদের ভিয়েতনাম সফরের হাইলাইট হচ্ছে হা-লং বে’র বোট ক্রুজ। নৌকার মধ্যে দুইরাত, তিন দিন কাটাবো ভাবতেই রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম। হ্যানয় থেকে হা-লং বে’তে গাড়িতে যেতে প্রায় তিন ঘন্টা লাগে। প্রায় দুই হাজার ছোট ছোট দ্বীপের সমাহার হচ্ছে এই হা-লং বে। হা-লং বে’তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাথুরে পাহাড়গুচ্ছ। হ্যা-লংয়ের অর্থ হল ভূমিতে নেমে আসা ড্রাগন। পুরাকালে এই এলাকার মানুষকে দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই নাকি স্বর্গ থেকে ঈশ্বর পাঠিয়েছিলেন পাঠিয়েছিলেন ড্রাগন পরিবার। ড্রাগন পরিবারের দেহের টুকরো বিভিন্ন আকৃতির পাহাড় হয়ে ছড়ানো রয়েছে হা-লং বে’তে। পানি সরে গেলেই জেগে উঠবে ড্রাগন।</p>
<p>আমাদের বোটের নাম এলিসা ক্রুজ, চারতলা বোট। রয়েছে টয়লেটসহ অত্যাধুনিক কক্ষ। দুটি চেয়ার ও টেবিল সহ ছোট্ট একটি বারান্দা। পাহাড়ের গা ঘেঁষে চলছিল আমাদের তরী। যতদূর চোখ যায় দেখছি, সমুদ্রের নীলাভ জলরাশির মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের সারি। তরীতে কর্মকাণ্ডের শেষ নেই। খুব ভোরে চারতলার ছাদে তাই-চি ক্লাস দিয়ে শুরু হয় দিন। তার পর রান্না ক্লাস, মাছ ধরা ও ছোটো নৌকা নিয়ে কাইকিং, মুক্তো চাষের খামারে যাওয়া ইত্যাদি আরো কত কিছু! দুপুরে বোটে রান্না হল সুস্বাদু ভিয়েতনামি খাবার।</p>
<p>ডাইনিং রুমে আমাদের জন্য একটি টেবিল নির্ধারিত ছিল। বুফে মেনুতে ভেজিটারিয়ান খাবার থাকলেও হালাল খাবারের আরজি ছিল বলে আমাদের জন্য আলাদা করে খাবার রান্না করে টেবিলে দেওয়া হচ্ছিল। শেফ নিজে এসে আমরা কি চাই, তা জেনে নিচ্ছিলেন বারবার। নুডল সুপটাও সব্জি স্টক দিয়ে রান্না করা হল। ক্রুজের ব্যস্থাপক ও শেফ শুধু আমাদের টেবিলে এসে তদারকি করছিলেন সব ঠিক আছে কিনা। তাদের বিনয় এবং যে কোনো মূল্যে অতিথিদের খুশি রাখার প্রচেষ্টা দেখে বিস্মিত হয়েছি। </p>
<p>ক্রুজের ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে শেফসহ সব কর্মচারীরা সব ধরনের কাজ করছে। শেফ কেবল রান্না করেই ক্ষান্ত হননি। রান্না শেষে সবার সঙ্গে অন্যান্য কাজও করছেন। সব সময় হাসি লেগে আছে সবার মুখে। কোনো ক্লেশের চিহ্ন নেই কোথাও। মনে হলো নিজের পারিবারিক ব্যবসা চালাচ্ছে। জাহাজ ছেড়ে আসার সময় মনে হল, পর্যটকরা আবার যাতে ভিয়েতনাম ফিরে আসেন, সেটা নিশ্চিত করেই যেন সবাইকে বিদায় দিচ্ছে।</p>
<p>ভিয়েতনামে উবারের মতো রয়েছে GRAB. মোবাইলে ডাক দিলে চট্ করে চলে আসে। ভাড়াও সহনীয়। তবে কিছু প্রাইভেট ট্যাক্সি রয়েছে যেগুলো থেকে দূরে থাকাই ভালো। হ্যানয়ের ‘ওল্ড কোয়ার্টার’ এলাকায় শপিং শেষে দিনের ব্যস্ত সময়ে GRAB পেতে সময় নিচ্ছিল। তাই ভাবলাম প্রাইভেট ট্যাক্সি নিয়েই হোটেলে ফিরে যাই। ট্যাক্সিতে উঠে দেখি মিটার শুরুই হল এক লক্ষ ডং দিয়ে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে ড্রাইভার বলল, হোটেলে যাবার পথটা এখন ওয়ানওয়ে, তিনি আর যাবেন না। বাকি পথটুকু আমাদের হেঁটেই যেতে হবে। বুঝতে পারলাম রাম ধরা খেয়েছি। </p>
<p>তর্ক করে ফায়দা হল না। ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়ানো যাচ্ছিল না। ভাড়া দেখে চক্ষু চড়কগাছ! এটুকু পথ, দিতে হবে ৪ লাখ ডং। অথচ গ্রাব কিংবা ট্যাক্সি নিলে ভাড়া হতো বড়জোর ৭৫ হাজার ডং। ভিয়েতনামে দেখে শুনে ট্যাক্সিতে উঠা উচিত। নির্ভরযোগ্য ট্যাক্সিক্যাব চেনার উপায় একটু গুগল করলেই জানা যায়। তবে এ ঘটনায় আমি খুব একটা বিচলিত হইনি। হ্যানয়ে আসার পর একটা ঘোরের মধ্যে দিন কাটছিল। সবকিছু এতটা নিখুঁত, অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। অবশ্য ৪ লাখ ডং ট্যাক্সি ভাড়া দিয়ে শূন্য থেকে যেন মর্ত্যে নেমে এলাম, ভিয়েতনামিরাও মানুষ!</p>
<p> ভিয়েতনাম থেকে বিদায় নেবার সময় সমাগত। ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ করা দিনগুলো এক টুকরো মিষ্টি স্বপ্নের মতো কেমন করে মতো দ্রুত শেষ হয়ে গেল বুঝতে পারিনি। উৎসবের আমেজ নিয়ে ঘুরে-ফিরে দেখার মতো অনেক কিছুুই রয়েছে রংবেরঙের বর্ণিল এই হ্যানয় শহরে। আমার পরিবারের সবার মুখে বেদনার লঘু ছায়া। ইশ, আরো ক’টা দিন যদি থাকা যেতো?</p>
<p>লাগেজ গুছাতে গিয়ে ভাবছিলাম, বাংলাদেশটা কেন এমন হয় না? কাপ্তাই লেক, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সিলেটের চা বাগান, রানি ভবানী, রাতারগুল, ময়নামতি, মহাস্থানগড়, কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ অনেক দর্শনীয় স্থান তো রয়েছে বাংলাদেশে। যদিও এইসব আকর্ষণীয় স্থানে এখন দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে অনেক। কিন্তু নিরাপত্তা, স্যানিটেশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিদেশি পর্যটকবান্ধব পরিবেশ এখনো তৈরি করতে পারিনি আমরা।</p>
<p>কিছুুদিন আগেও হ্যানয়ের রাস্তা ততটা নিরাপদ ছিল না। কিন্তু পাল্টে গেছে সেই দিন। আমি রাত দশটার দিকে কেনাকাটা করার জন্য হোটেল থেকে বাইরে যেতে চাচ্ছিলাম। আমার ইতস্তত ভাব দেখে নিরাপত্তাকর্মী বললেন, ‘ভয় নেই, তুমি যে কোনো সময় রাস্তায় বেরুতে পারবে।’ ভিয়েতনামের একজন নাগরিক আমার মতো বিদেশি পর্যটককে নিরাপত্তার এমন গ্যারান্টি দিচ্ছে। বুঝতে বাকি রইল না, কেন এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে হাজারো লাখ পর্যটক। </p>
<p>বাংলাদেশের সেরা আকর্ষণ কক্সবাজারের কথাই ধরা যাক। গাড়ি নিয়ে যাবার পথে বিশ্রামের জন্য লোহাগড়ায় রয়েছে বড় একটি রেস্তোরাঁ। রেস্তেরাঁর ওয়াশরুমের করুণ দশা দেখলে বিদেশি কেন অনেক দেশীয় পর্যটকও দ্বিতীয়বার পা দিতে চাইবে না। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ দেশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। অথচ হ্যানয় শহর থেকে ভিয়েতনামের গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত যেখানেই গিয়েছি রাস্তা-ঘাট আর টয়লেটের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা চমকপ্রদ এবং অনুকরণীয়।</p>
<p>ভিয়েতনাম যুদ্ধে কেবল নাপাম বোমাই ফেলা হয়েছিল প্রায় ৪ লাখ টন। আঠাল অগ্নিদাহ্য কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি এই বোমার আঘাতে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম আর নিরীহ মানুষ। এছাড়া আকাশ থেকে অরেঞ্জ কেমিক্যাল ছড়ানোর ফলে উজাড় হয়ে গিয়েছিল ভিয়েতনামের বনাঞ্চল আর খেত-খামার। এর প্রভাবে জন্ম নিয়েছিল লাখ লাখ বিকলাঙ্গ শিশু, ত্রিশ লাখেরও বেশি মানুষ ভুগছে লিউকোমিয়া, ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে। কিন্তু এর পরও ছাইভস্ম থেকে দাঁড়িয়ে গেছে ভিয়েতনাম।</p>
<p>আমি হতাশ নই। আমার বিশ্বাস, এমন একদিন আসবে যেদিন আমার মতো কেউ বাংলাদেশ ঘুরে গিয়ে ফেসবুক কিংবা সোস্যাল মিডিয়ার পাতায় বারবার ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করবে। আর বাংলাদেশ ভ্রমণে আসা বিদেশি পর্যটকদের স্বদেশী কোনো ট্যুর গাইড দেশ ও জাতির কথা বলতে গিয়ে চোখে মুখে খাঁটি দেশপ্রেমের দীপ্ত অহংকার নিয়ে বলবে, ‘ইনহাস্ত ওয়াতানম’ এই তো আমার জন্মভূমি।</p>
<p>(ভিয়েতনামে পারিবারিক ভ্রমণ নিয়ে লেখা)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/memoir/653/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
