<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Misc &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<atom:link href="https://mamoon.net/category/opinion/misc/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://mamoon.net</link>
	<description>mamoon.net</description>
	<lastBuildDate>Sat, 12 Sep 2026 12:44:44 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>

<image>
	<url>https://mamoon.net/wp-content/uploads/2026/05/Logo-Mamoon-Vai-150x150.png</url>
	<title>Misc &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<link>https://mamoon.net</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>পদবীর যাচ্ছেতাই ব্যবহার</title>
		<link>https://mamoon.net/writings/676</link>
					<comments>https://mamoon.net/writings/676#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 05 Sep 2026 02:15:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Essays & Columns]]></category>
		<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Writings]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=676</guid>

					<description><![CDATA[কথায় বলে, ‘চেনা বামুনের পৈতা লাগে না’। স্বনামে খ্যাত মানুষের পরিচিতি লাগে না। নিজ মেধা বা কাজের গুণেই মানুষ সমাজে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং নিজ পেশায়ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। কেবল...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কথায় বলে, ‘চেনা বামুনের পৈতা লাগে না’। স্বনামে খ্যাত মানুষের পরিচিতি লাগে না। নিজ মেধা বা কাজের গুণেই মানুষ সমাজে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং নিজ পেশায়ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। কেবল ডিগ্রি, বেশভূষা বা প্রসার-প্রতিপত্তির জন্য মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি হয় না। ইদানিং ভূয়া পৈতা লাগিয়ে বামুন সাজার যেরকম প্রতিযোগিতা চলছে, তা দেখে আমি শঙ্কিত।</p>
<p>ডাক্তার বা চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পদবী। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবেই এই ডিগ্রি দুটো অর্জন করতে হয়। এখন আমাদের সমাজে যত্রতত্র এ দুটি ডিগ্রির ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাক্তার পদবীর অপব্যবহার যদিও খুব সীমিত, তবে কম্পিউটার মেকানিক, মোটর মেকানিক, রাজমিস্ত্রি, কন্ট্রাক্টর থেকে শুরু করে গলির মোড়ের মোটর মেকানিকও এখন ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করছেন। যে কেউ চাইলেই যেন নিজের নামের আগে এ ধরনের পদবী লাগাতে পারেন। </p>
<p>বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়িার্স ইন্সটিটিউট স্বীকৃত দেশি/বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমমানের ডিগ্রি থাকলেই কেবল তারা নিজের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী পদবী ব্যবহার করতে পারবেন। এর বাইরে কোনও ‘ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার’ ডিগ্রিধারীরাও নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। তাঁরা নিজেদের নামের আগে ‘ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার’ পদবী ব্যবহার করতে পারবেন। ঠিক তেমনি, ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবী লিখতে পারবেন না। ভুয়া পদবী ব্যবহার করা অন্যায় এবং দন্ডনীয় অপরাধ।</p>
<p>বলতে দ্বিধা নেই, আমি বেশ কিছু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এবং ও কন্ট্রাক্টর বা ঠিকাদারদের জানি, যারা ব্যবহারিক কাজ অনেক বিএসসি প্রকৌশলীর চেয়েও ভালো বোঝেন। তার মানে এই নয়, তাঁরা ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার শুরু করবেন। নির্মাণ খাতে কর্মরত অনেক কন্ট্রাক্টরকে আমি দেখেছি, যারা কেবল নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার বলে পরিচয় দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ভিজিটিং কার্ডে নিজের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখে তা সবাইকে বিলি করে বেড়াচ্ছে। এছাড়া কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং কিংবা সফ্টওয়্যার ডিজাইনের উপর সার্টিফিকেশন কোর্স করেও অনেকে নিজেকে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলে দাবি করছেন। এসব দেখলে অনেক সময় নিজেকে প্রকৌশলী পরিচয় দিতে দ্বিধা হয়। </p>
<p>অনেকে অসদুপায়ে জাল মুক্তিযুদ্ধ সনদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করছেন। নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও নিচ্ছেন। সম্প্রতি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়ে সরকারি সুবিধা গ্রহণের নামে অর্থ আত্মসাতের দায়ে ছয় শিক্ষকসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্যদিকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে প্রশাসনের শীর্য পর্যায়ে কর্মরত পাঁচজন সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গেও প্রতারণা করতে বাঁধছে না কারও।</p>
<p>দেশজুড়ে আরেকটি পদবীর যথেচ্ছা ব্যবহার চলছে, তা হল ‘অধ্যাপক’। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে দাখিল মাদরাসার শিক্ষকরাও নিজেদের অধ্যাপক বা প্রফেসর বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ভাবি, আহা! অধ্যাপক যে কত মর্যাদাপূর্ণ পদবী সেটা যদি তারা জানতেন? যাঁরা সত্যিকারের অধ্যাপক হয়েছেন, তারাই জানেন এই পদবী কত কষ্টের ফসল।</p>
<p>অনেক সময় শিক্ষককে এলাকার মানুষ সম্মান করে প্রফেসর বলে ডাকে। প্রফেসর বা অধ্যাপক ডাকতে ডাকতে অনেক সময় ওই শিক্ষকের নাম পর্যন্ত ভুলে যান এলাকাবাসী। মানুষের ভক্তির সুযোগ নিয়ে কিছু শিক্ষক নিজেদের অধ্যাপক ভাবতে শুরু করেন এবং সুবিধা আদায়ের জন্য এই পদবী ব্যবহার করেন। এজন্যই হয়তো কোচিং সেন্টারের পোস্টারে দেখা যায় অধ্যাপকের ছড়াছড়ি। এটা অপরাধ।</p>
<p>কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদমর্যাদা শুরু হয় প্রথমে প্রভাষক হিসাবে, তারপর সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সর্বশেষে অধ্যাপক। অধ্যাপক হওয়ার জন্য একজন শিক্ষককে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি উৎকৃষ্ট মানের জার্নালে তাঁর নিজস্ব গবেষণালব্ধ বহুসংখ্যক প্রকাশনা থাকতে হয়। এ ধরনের প্রকাশনার কাজ খুবই কষ্টসাধ্য এবং এ জন্য প্রচুর আত্মত্যাগও করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানি, যেখানে কমপক্ষে শতাধিক গবেষণামূলক প্রকাশনা না থাকলে পুরোপুরি অধ্যাপক হওয়ার কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু যখন দেখি, একজন শিক্ষক যার ক্লাসে পড়াশোনার বাইরে কোনো গবেষণা নেই, প্রকাশনা নেই, অথচ তিনি নিজেকে অধ্যাপক হিসেবে জাহির করছেন, তখন বিস্মিত হই, লজ্জিত হই। শুধু কি তাই? ইদানিং দেখছি, কেউ সহকারী অধ্যাপক (অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর) পদে পদোন্নতি পেলেই ‘সহকারী’ শব্দটি বাদ দিয়ে নিজেকে অধ্যাপক হিসেবে জাহির করতে থাকেন। নিয়ম অনুযায়ী একজন সহযোগী অধ্যাপকও সেই পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। </p>
<p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের অধ্যাপক ছিলেন জগদ্বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী সত্যেন বসু। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে বোসন কণার অবিস্কার করে তিনি সাড়া জাগিয়েছিলেন বিশ্বে। তাঁর আবিস্কৃত বিষয়বন্তুর উপর গবেষণা করে এ পর্যন্ত দশজন বিজ্ঞানী পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। একবার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপকের পদ খালি হলে সত্যেন বসু ওই পদের জন্য দরখাস্ত করলেন। কিন্তু ডক্টরেট ডিগ্রি না থাকায় সত্যেন বোসের মতো জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীকেও নিয়ম ভেঙ্গে প্রফেসর পদে পদোন্নতি দেয়া হল না। তখন সত্যেন বসুর গুরু স্বয়ং আইনস্টাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করে বললেন, ‘তোমরা কি পদার্থবিজ্ঞানে সত্যেনের চেয়ে যোগ্যতর কাউকে পাবে?’ এভাবে সত্যেন বসু প্রফেসরের পদ লাভ করেন। </p>
<p>দুঃখজনক হলেও সত্য, উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ডিগ্রি নিয়ে চলছে বাণিজ্য। সামান্য অর্থ ব্যয় করলে অনলাইনে মিলে যায় এমবিএ, মাস্টার্স এমনকি পিএইচডি’র মতো ডিগ্রি। নিজের গবেষণাও অর্থের বিনিময়ে লিখিয়ে নেওয়া যায়। এই ধরনের ভুয়া সনদ পকেটে পুরে অনেকে হয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপক, গবেষক কিংবা জ্ঞানী বুদ্ধিজীবী। যারা এসব করছেন তাঁরা আসলে ঠকাচ্ছেন নিজেকে, প্রতারণা করছেন নিজের সঙ্গে। এ ধরনের জ্ঞানপাপী মানুষ আমাদের সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। </p>
<p>এ ধরনের অন্যায় কাজ ও প্রতারণা বন্ধ করার জন্য আমাদেরও কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। যাঁরা নিয়ম বর্হিভূত এবং ভুয়া পদবী ব্যবহার করছেন, তাঁরা যে সমাজে গ্রহণযোগ্য নন, সে কথা তাদের জানিয়ে দিতে হবে। সামাজিক অনুষ্ঠানে যাতে এই পদবী তাঁরা ব্যবহার করতে না পারেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গণমাধ্যম কর্মীদেরও পত্রপত্রিকায় এই ধরনের মানুষদের নামের আগে ভুয়া পদবী লেখা বন্ধ করতে হবে। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/writings/676/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/669</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/669#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 03 Sep 2026 03:21:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=669</guid>

					<description><![CDATA[বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হল ফুটবল। প্রায় ৪ বিলিয়ন মানুষ ফুটবল ভলোবাসে। আরবদের মধ্যেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ফুটবল। ২০১৮ সালে রাশিয়ার পর ২০২২ সালে আবার বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে মরুর দেশ...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হল ফুটবল। প্রায় ৪ বিলিয়ন মানুষ ফুটবল ভলোবাসে। আরবদের মধ্যেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ফুটবল। ২০১৮ সালে রাশিয়ার পর ২০২২ সালে আবার বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে মরুর দেশ কাতারে। </p>
<p>আরববিশ্বের সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক হিসাবে বিশ্বকে চমকে দেয়ার মতো সৃজনশীল নকশার ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে কাতার। কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বকাপের আয়োজনকে ষোলকলায় পূর্ণ করতে সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে তৈরি করছে অনিন্দ্য সুন্দর সব স্টেডিয়াম। </p>
<p>মোট ৩২টি দল ১২টি ভ্যেনু ৬৫টি ম্যাচ খেলবে। মূল দোহা শহরকে ঘিরে ৫০ কিলোমটিারের মধ্যেই নির্মিত হচ্ছে আটটি আধুনিক স্টেডিয়াম (ছবি দেখুন)। প্রায় ৩০ হাজার লোক দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে এই সেক্টরে। আরব ইতহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে এই স্টেডিয়ামের নকশা করা হয়েছে। আকর্ষণীয় ডিজাইনের স্টেডিয়াম, সুযোগ সুবিধা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য আগের সব বিশ্বকাপকে ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করেছে কাতার। </p>
<p>কয়েকটি স্টেডিয়াম ইতিমধ্যে চালু হলেও ২০২১ সালের মধ্যে সব স্টেডিয়ামের নির্মাণ সম্পন্ন হবে। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, স্টেডিয়ামগুলো একইসাথে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিরও সর্বোত্তম ব্যবহার করবে। সেগুলো হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, শূন্যভাগ কার্বন নিঃসরণকারী এবং পরিবেশবান্ধব। অধিকাংশ স্টেডিয়ামের অংশবিশেষ তৈরি হবে স্থানান্তরযোগ্যভাবে, যেন বিশ্বকাপ শেষে সেগুলো বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে স্থানান্তর করে আরো ২২টি স্টেডিয়াম তৈরি করা সম্ভব হয়। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে কাতারে যেসব স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে নিচে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিচ্ছি।</p>
<p>খালিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম: কাতারের অ্যাসপায়ার উদ্যানে অবস্থিত এই স্টেডিয়াম নির্মিত হয় ১৯৭৬ সালে। কাতারের সবচেয়ে পুরোনো স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে একটি এটি কাতারের ক্রীড়াজগতের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে এসেছে। এর নামকরণ করা হয়েছিল কাতারের সাবেক আমির খালিফা বিন হামাদ আল থানির নামানুসারে।</p>
<p>সম্প্রতি ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে এই স্টেডিয়ামকে বিশ্বকাপের জন্য সংস্কার করা হয়েছে। এটিই বিশ্বের প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফুটবল স্টেডিয়াম যেখানে খোলা আকাশের তলায়ও এয়ারকন্ডিশন কাজ করবে। বিশ্বকাপের পাঁচ বছর আগেই প্রস্তুত হয়ে গেছে স্টেডিয়ামটি। খেলা চলার সময়ে দর্শক এবং মাঠের খেলোয়াড় সবাই শক্তিশালী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন। ফলে তীব্র গরমের মৌসুমেও আরামে খেলতে পারবেন সবাই। ইতিমধ্যে খলিফা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এই আধুনিক ও নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা সাফল্যের সাথে প্রমাণ করেছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে খলিফা স্টেয়িামে বিশ্ব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখার সুযোগ হয়েছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এতই শক্তিশালী ছিল যে, এক পর্যায়ে গায়ে জ্যাকেট পরতে হয়েছিল। </p>
<p>৪০ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালেরও বেশ কিছু ম্যাচ আয়োজন করা হবে। খলিফা স্টেডিয়ামে ইতোপূর্বে গাল‌ফ কাপ, এএফসি এশিয়ান, ২০০৬ এশিয়ান গেমসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও অন্তর্জাতিক খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। স্টেডিয়ামটির সাথেই রয়েছে ২০০৬ সালে এশিয়া কাপের সময় নির্মিত বিশাল টর্চ বা অ্যাসপায়ার টাওয়ার, যা ১৫তম এশিয়ান গেমসে একটি বিশাল টর্চ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই টাওয়ারটি মুলত ৩০০ মিটার উঁচু একটি পাঁচতারা হোটেল যার ৪৭তম তলায় রয়েছে একটি ঘূর্ণায়মান রেস্তোঁরা। রাতের বেলোয় টর্চ টাওয়ার ও স্টেডিয়ামের দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। </p>
<p>আল জানুব স্টেডিয়াম (আল ওয়াকরাহ): কাতারের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওয়াকরাহ শহরে অবস্থিত স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। এখানেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাচের আয়োজন করা হবে। ইরাকি-আমেরিকান স্থপতি জাহা হাদিদের একটি নান্দনিক সৃষ্টি এই স্টেডিয়াম। আরব উপসাগরের বুকে ঢেউয়ের স্রোতে ভেসে চলার সময় স্থানীয় ‘দাউ’ নৌকার ফুলে ওঠা পালের আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই জাহা হাদিদ এই স্টেডিয়ামটির নকশা তৈরি করেছেন। স্টেডিয়ামটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটিতে ছাদ থাকবে, যা আবার প্রয়োজনে গুটিয়ে রাখা যাবে। </p>
<p>আল-বায়েত (আলখোর): কাতারের উত্তর পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় শহর আলখোরে নির্মিত হচ্ছে এই স্টেডিয়াম, যার দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৬০,০০০। বাইত শব্দটির অর্থ বাড়ি। আরবের বেদুইনরা মরুভূমিতে রাত্রি যাপনের জন্য যে ধরনের তাবু ব্যবহার করে ঠিক সেরকম নকশা করে তৈরি করা হয়েছে এই স্টেডিয়াম। এখানে একটি সেমি-ফাইনাল খেলা হবার কথা। </p>
<p>বিশ্বকাপ শেষ হবার পর ধারণ ক্ষমতা অর্ধেকের চেয়ে বেশি কমিয়ে আনা হবে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সত্যিকার তাঁবুর মতোই এর অংশবিশেষ স্থানান্তর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে। এর উপরের সারির আসনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হবে, যেগুলোকে স্থানান্তর করে উন্নয়নশীল আরব দেশগুলোতে নিয়ে সেখানকার স্টেডিয়ামে স্থাপন করা হবে। তখন এটি ৬০,০০০ আসনের পরিবর্তে ৩২,০০০ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামে রূপান্তরিত হবে।</p>
<p>আল রাইয়ান স্টেডিয়াম: কাতারের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আল-রাইয়ানে অবস্থিত আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামটি মূলত স্থানীয় অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব আল-রায়ান স্পোর্টস ক্লাবের স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের জায়গায় নতুন করে নির্মিত হচ্ছে এই বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামটি, যার ধারণ ক্ষমতা হবে ৪০ হাজার। এই স্টেডিয়ামটিও বর্তমানে নির্মাণাধীন আছে এবং ২০২১ সালে এটি উদ্বোধন করার পরিকল্পনা আছে।</p>
<p>স্টেডিয়ামটির বাইরের আবরণটি একটি সুবিশাল ত্রিমাত্রিক গোলাকার পর্দা হিসেবে কাজ করবে, যা বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন দৃশ্য প্রক্ষেপণ করবে। এর নকশা এবং প্রক্ষেপিত দৃশ্যাবলির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠবে পরিবারের গুরুত্ব, মরুভূমির সৌন্দর্য, স্থানীয় উদ্ভিদ এবং প্রাণীকুলের বৈচিত্র, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইত্যাদি। স্টেডিয়ামের বহির্ভাগের নকশার রং হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত দেশগুলোর পতাকার রংসমূহের সমষ্টি। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ফুটবল প্রিয় দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা হবে, তেমনি দেশগুলোর মধ্যকার বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সম্মানও স্বীকৃতি পাবে। বিশ্বকাপের পর প্রায় ২০ হাজার আসন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দান করে ধারণক্ষমতা কমিয়ে আনা হবে। </p>
<p>আল থুমামা স্টেডিয়াম: আরব টুপির আদলে তৈরি আল-থুমামা স্টেডিয়ামের নকশা কাতারের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় পরিচয়ের একটি নিদর্শন। এটি দেখতে বিশাল একটি টুপির মতো, যাকে স্থানীয় ভাষায় গাফিয়া বলা হয়। হাতে বোনা এ ধরনের টুপি কাতারসহ প্রায় সবগুলো উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রের পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাফিয়া নামক এ টুপিগুলো মাথায় পরিধান করা তিনটি বস্ত্রাংশের মূল ভিত্তি। এই টুপির উপরে পরা হয় এক টুকরো কাপড়, যাকে বলা হয় গুত্রা। তার উপরে থাকে কালো রংয়ের দড়ি সদৃশ আগাল, যা গাফিয়ার উপরে গুত্রাকে বেঁধে রাখে।</p>
<p>রাজধানী দোহা থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে স্টেডিয়ামটি। এর ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ৪০,০০০ এবং এতে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত একাধিক ম্যাচের আয়োজন করা হবে। </p>
<p>কাতার ফাউন্ডেশন স্টেডিয়াম: রাজধানী দোহার অদূরে ১৪ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে নামী-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রের জন্য যে আলাদা শহর গড়ে তোলা হয়েছে সেটির নাম এডুকেশন সিটি। এই শহরে স্কুল, কলেজ থেকে শুরু রয়েছে এখানে পাঁচটি বিখ্যাত আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই শহরটির মাঝখানে নির্মিত হয়েছে ৪০,০০০ হাজার ধারণ ক্ষমতা বিশিষ্ট এই স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটির জটিল জ্যামিতিক নকশা একই সাথে ঐতিহাসিক ইসলামিক স্থাপত্য এবং আধুনিত প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয়। এর বহির্ভাগে থাকবে ত্রিভুজ এবং হীরকাকৃতির জটিল জ্যামিতিক নকশা, যার রং সূর্যের স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হবে।</p>
<p>‘মরুভূমির হীরক” নামের এই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ সহ কোয়ার্টার ফাইন্যাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ শেষে এর ২০ হাজার আসন অনুদান হিসেবে পাঠানো হবে অনুন্নত দেশে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য।</p>
<p>বিশ্বকাপের পর ৪০ হাজার ধারণ ক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি অন্য বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে—এমনভাবেই এটি তৈরি করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের পর তা হতে পারে শপিংমল, কমিউনিটি হল, অডিটোরিয়াম বা মাল্টিপ্লেক্স। আবার প্রয়োজনে ছোট ছোট ভেন্যুতেও ভেঙে একসঙ্গে অনেক খেলার আসরও বসতে পারবে! আবার কোনো ফুটবল ম্যাচ থাকলে স্বরূপে ফিরবে এই স্টেডিয়াম। </p>
<p>লুুসাইল স্টেডিয়াম: লুসাইল স্টেডিয়াম হবে কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। এর অবস্থান হবে রাজধানী দোহা থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে নবনির্মিত লুসাইল সিটিতে, ধারণ ক্ষমতা হবে প্রায় ৮০ হাজার। এই স্টেডিয়ামেই ২০২২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী এবং সমাপনী খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।</p>
<p>বৃত্তাকার স্টেডিয়ামটির চারপাশে কৃত্রিম জলাধার থাকবে। জলাধারের বাইরে অবস্থিত ছয়টি পার্কিং এরিয়ার সাথে স্টেডিয়ামটি সেতু দ্বারা সংযুক্ত থাকবে। এর গোলাকার ছাদের অংশবিশেষ সম্পূর্ণ ঢেকে এটিকে ইনডোর স্টেডিয়ামে পরিণত করা অথবা সম্পূর্ণ খুলে উন্মুক্ত আকাশের দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে। </p>
<p>রাস আবুদ স্টেডিয়াম: অবর‌্য উপসাগরের তীরে নির্মিত বিশ্বের প্রথম স্থানান্তরযোগ্য স্টেডিয়াম। বিশ্বে এমন প্রযুক্তি আর কোনো স্টেডিয়ামে নেই। শিপিং কন্টেইনারের অংশ দিয়ে তৈরি প্রত্যেকটি ব্লক ও প্রত্যেক আসন স্থানান্তরযোগ্য। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/669/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রক্ত দিন, সুস্থ থাকুন</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/663</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/663#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 02 Sep 2026 03:19:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=663</guid>

					<description><![CDATA[অনেকে বলেন, রক্তের সম্পর্কই নাকি সবচেয়ে বড় সম্পর্ক; বংশের ধারাবাহিকতায় যাদের রক্ত আমরা শিরায় বহন করছি তারাই হলেন সত্যিকারের আপনজন। বংশপরম্পরায় কি শুধু আপন-পর নির্ধারণের মাপকাঠি হতে পারে? হাসপাতালের ব্লাড...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অনেকে বলেন, রক্তের সম্পর্কই নাকি সবচেয়ে বড় সম্পর্ক; বংশের ধারাবাহিকতায় যাদের রক্ত আমরা শিরায় বহন করছি তারাই হলেন সত্যিকারের আপনজন। বংশপরম্পরায় কি শুধু আপন-পর নির্ধারণের মাপকাঠি হতে পারে? হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে অজানা, অচেনা মানুষের দেয়া রক্ত শিরায় ধারণ করে আমরা নতুন জীবন পাচ্ছি, সুস্থ হয়ে উঠছি। এভাবে নিজের অজান্তে সম্পূর্ণ অচেনা, ভিন্জাতির মানুষের সাথে আমাদের প্রতিনিয়ত নতুন রক্তের সম্পর্কের সূচনা হচ্ছে। যারা এই অমূল্য রক্ত দান করছেন তারা কি আমাদের আপনজন হতে পারেন না?</p>
<p>যে কোনো দুর্ঘটনায় শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে সেই রক্তশূন্যতা পূরণের জন্য বাড়তি রক্তের প্রয়োজন হয়। আবহমান কাল ধরে আমাদের দেহের জন্য রক্তদান ও গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলে আসছে। বিশ্বে এমন অনেকেই আছেন যারা মানবতার সেবায় নিয়মিত রক্তদান করছেন। জীবন রক্ষাকারী এই দানের স্বীকৃতি দেয়া এবং পাশাপাশি সবাইকে রক্তদানে উৎসাহিত করার জন্য প্রতি বছরের ১৪ জুন পালিত হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। রক্তের এ, বি এবং ও গ্রুপের আবিস্কারক বিজ্ঞানী কার্র ল্যান্ডেস্টেইনারের জন্মদিনে ২০০৪ সাল থেকে সারা বিশ্বে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।</p>
<p>জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রতি বছর চৌদ্দ কোটি ইউনিটেরও বেশি রক্ত স্বেচ্ছায় দান করা হয়। এর প্রায় ৬০% সংগৃহীত হয় উন্নত দেশ থেকে, যেখানে বাস করে বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ২০% মানুষ। রক্তের প্রয়োজন হলে আমরা সাধারণত পরিবারের সদস্য এবং বন্ধু-বান্ধবদের রক্তদানের উপর নির্ভর করি। অনেক সময় পরিবারের আপন মানুষটিও রক্ত দিতে আগ্রহী হয় না ফলে রক্তের জন্য বাইরে রক্তদাতা খুঁজতে হয়। প্রায় সব দেশেই কিছু পেশাদার রক্তদাতা রয়েছেন যারা অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত রক্তদান করে থাকেন। </p>
<p>রক্তদানের ব্যাপারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পিছিয়ে থাকার কারণ হচ্ছে রক্তদান সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং ভীতি। আমি নিজেও প্রথমবার রক্তদান করার সময় দ্বিধান্বিত ছিলাম। ভাবছিলাম, শরীর থেকে রক্ত হারিয়ে ফেললে কোনো গুরুতর সমস্যা হবে না তো? একটি সূত্রমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে রক্তের চাহিদা প্রায় তিন লাখ ব্যাগ। এর মধ্যে যোগান রয়েছে মাত্র দুই লাখ ব্যাগের। রক্তদান কেবল অন্যের জীবনই বাঁচায় না, রক্তাদাতা নিজেও এ থেকে অনেক উপকৃত হন। নিয়িমত রক্তদানের যে উপকারিতা সেটা সম্পর্কে সবাই সচেতন হলে রক্তের অভাবে মানুষ মারা যেতো না।</p>
<p>নিয়মিত রক্তদানকারীর রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কম হয়; জটিল ও দুরারোগ্য রোগ-ব্যাধি থেকে তারা প্রায়ই মুক্ত থাকেন। ডাক্তারী মতে একজন সুস্থ মানুষ তিন থেকে চার মাস অন্তর রক্তদান করতে পারে। এতে কোনো শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।</p>
<p>একজন মানুষের শরীরে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত রয়েছে। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে শরীর নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয় এবং শরীর খুব তাড়াতাড়ি সেই ঘাটতি পূরণ করে নেয়। নিয়মিত রক্তদান দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, জেনেটিক ডিসর্ডার সম্পর্কিত জটিল রোগ প্রতিরোধে এবং শরীরের বাড়তি ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। রক্তদান একটি মহৎ কাজ, বাঁচাতে পারে জীবন। একজন মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারার মতো মানসিক তৃপ্তি কি আর কোনো কাজে পাওয়া যায়?</p>
<p>নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য রক্তাদাতার কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। রক্তদান করতে হলে রক্তদাতার বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে; ওজন হতে হবে কমপক্ষে ৫০ কেজি। তাকে মোটামুটি শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে। রক্তাদাতা যদি বিগত ছয় মাসের মধ্যে কোনো ম্যালেরিয়াপ্রবণ দেশে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে তিনি রক্ত দিতে পারবেন না। তবে যারা রক্তাচাপজনিত রোগে ভুগছেন রক্তদানের সময় তাদের উচ্চ চাপ ১০০-১৬০ এবং নিম্নচাপ ৬০ থেকে ১০০ পয়েন্টের মধ্যে থাকতে হবে; শরীরের তাপমাত্রা থাকতে হবে ৩৭.৫ সেন্টিগ্রেডের নিচে। </p>
<p>যেসব ডায়াবেটিক রোগী মুখে ঔষধ খাচ্ছেন কিন্তু ইনসুলিন নিচ্ছেন না তারাই কেবল রক্তদান করতে পারবেন। মহিলাদের মধ্যে গর্ভবতী নন এবং যাদের মাসিক চলছে না তারাও এই মহৎ কাজে শামিল হতে পারবেন। এছাড়া রক্তদানের আগে প্রতিটি রক্তদাতাকে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কিছু ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়। রক্তাদাতাকে অকপটে সঠিক উত্তর দিতে হবে নাহলে যিনি রক্ত গ্রহণ করবেন তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। </p>
<p>রক্তদান করার সময় মনে রাখতে হবে, যে রক্ত আপনি দিচ্ছেন সেটা যাতে বিশুদ্ধ হয় এবং অন্যের কাজে লাগে। তাই রক্তদান করার আগের দিন ভালো করে ঘুমিয়ে নিন এবং ধূমপানের অভ্যাস থাকলে কমপক্ষে দু’ঘণ্টা আগে ধুমপান বন্ধ করুন। সেন্টারে যাবার সময় কাতারী আইডি কার্ড, হেল্থ কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স সাথে করে নিয়ে যেতে ভুলবেন না। </p>
<p>রক্ত কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা যায় না। একজন মানুষই কেবল অন্যকে রক্ত দিতে পারে। ৪৫০ মিলিলিটারের এক ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে পারে একটি জীবন, ফিরিয়ে আনতে পারে একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ। চিকিৎসা বিষয়ক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জীবদ্দশায় আমাদের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের রক্তের প্রয়োজন হয়। আর একবার রক্তদান কমপক্ষে তিনটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। </p>
<p>পৃথিবীতে অনেক মহৎ কাজ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদান। আসুন, হামাদ হাসপাতালের রক্তভান্ডারে রক্তদান করি, নিজে সুস্থ থাকি এবং জীবন বাঁচাই। কাতারের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে সংহতি এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য এর চেয়ে উত্তম কোনো পথ আর আছে কি? </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/663/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অন্তর্জালে লাশের ছবি কেন?</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/651</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/651#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 31 Aug 2026 08:56:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=651</guid>

					<description><![CDATA[সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে এখন সাংবাদিকতা, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহ মুঠোফানের মাধ্যমে অন্তর্জলে প্রচার করে বহু সাধারণ মানুষও...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে এখন সাংবাদিকতা, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহ মুঠোফানের মাধ্যমে অন্তর্জলে প্রচার করে বহু সাধারণ মানুষও দৈবক্রমে সেলিব্রেটি হয়ে যাচ্ছেন। অজস্র লাইক পাওয়া কিংবা পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আশায় অনেকে মিথ্যাকে সত্যের সূক্ষ্ম প্রলেপ মেখে প্রচার করছেন। ফটোশপের কারসাজি দিয়ে কেউ কেউ ছবি বিকৃতি করতেও পিছপা হচ্ছেন না। ফটোশপের কেরামতির গুণে কোনটা আসল আর কোনটা নকল, তা যাচাই করা ইদানিং পাঠকদের পক্ষে অনেকটা অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। </p>
<p>সংবাদ কিভাবে লিখতে হয় এবং পরিবেশন করতে হয় সে কথা না হয় বাদই দিলাম, নিউজ পোর্টাল কিংবা অন্তর্জালের প্রযুক্তিগত বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা নাই এমন যে কেউ এখন নিউজ পোর্টাল খুলে বসছেন। নিউজ পোর্টালে দেয়া বিজ্ঞাপন থেকে কিছু আয় হবে, সেই স্বপ্নই হয়তো তারা দেখছেন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকায় ছাপানো আমার একটি কলাম এ রকম একটি অনলাইন পোর্টালে আপলোড করা হয়। বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম, লেখার শেষে সূত্রের উল্লেখ তো ছিলই না, উল্টো কলামের শিরোনাম বদলে দিয়ে শুরুতে লেখা হয়েছে কাতার প্রতিনিধি। শুধু তাই নয়, যে শিরোনামটা দেয়া হয়েছে তাও শুদ্ধ নয়। আমি কখন যে তাদের সংবাদ প্রতিনিধি হলাম জানি না। এ নিয়ে আমাকে বাংলাদেশের সেই পত্রিকার সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। তাদের ধারণা, পত্রিকায় ছাপা হবার পর লেখাটি আমি আবার ওই নিউজ পোর্টালে পাঠিয়েছি। পত্রিকা চালানোর ন্যূনতম জ্ঞান যাদের নেই, তারাই এখন হয়ে গেছেন সাংবাদিক ও সম্পাদক।</p>
<p>ইদানিং পত্র-পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় যে হারে মৃতব্যক্তির ছবি দেয়া হচ্ছে, তা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই ছবিগুলো যারা দিচ্ছেন তারা আর কেউ নন, ওই ব্যক্তিরই খুব কাছের মানুষ। সেদিন আমার পরিচিত একজন তাঁর বন্ধুর সুস্থতা কামনা করে ফেসবুকে দোয়া চেয়েছেন, সঙ্গে মুখে পাইপ ও যন্ত্রপাতি লাগানো বিছানায় অচেতন বন্ধুটির ছবিটিও জুড়ে দিয়েছেন। নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাইয়া, উনি তো গতকাল মারা গেছেন।’ দেখে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছিল আমার। আরেকটি পোস্টে বিছানায় শায়িত নিজের বাবার সদ্য মৃত ছবি দিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন আরেকজন। মৃতব্যক্তিকে চেনার জন্য তাঁর অন্য যেকোনা ছবি কি দেয়া যেতো না? এটা মৃত বা অসুস্থজনের প্রতি অশ্রদ্ধাজ্ঞাপকও বটে। মানুষ কতটুকু কাণ্ডজ্ঞানহীন হলে এমন করতে পারে, জানি না। </p>
<p>মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষের শেষ মুহূর্তগুলো খুবই ব্যক্তিগত, যা সবার সাথে শেয়ার করা খুবই অন্যায় এবং অমানবিক বলে আমি মনে করি। পৃথিবী থেকে শেষ বিদায় নেওয়ার সময় কে কি অবস্থায় থাকবে সেটা কারো জানা নেই। আমরা কখনো কি এলামেলো চুলে অপ্রস্তুত অবস্থায় ঘর থেকে বের হই অথবা কারো সাথে দেখা করি? এক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য। </p>
<p>অনেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিংবা সংঘর্ষে খুন হয়েছে এমন রক্তমাখা বিকৃত লাশের ছবি দিচ্ছেন অন্তর্জালে। এ ধরনের কাজ করার আগে আমাদের ভাবতে হবে, এই ছবি দেয়া কি সত্যিই খুব জরুরি? এটা কি কারো উপকারে আসবে? একবার ভেবে দেখুন, এ ধরনের পোস্ট মানসিক বিকাশ হয়নি এমন কোমলমতি শিশুদের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে। আমাদের আশে পাশে এমন অনেক মানুষ আছেন আছেন যারা মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন কিংবা মানসিক রোগে ভুগছেন। এই ধরনের ছবি তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। </p>
<p>মরদেহের ছবি এভাবে দেয়া হলে মৃত্যু, রক্তপাত ইত্যাদি বিষয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে, এমন আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এ জন্যই হয়ত এখন রাস্তায় মৃত মানুষের লাশ কিংবা দুর্ঘটনায় আহত মানুষের আর্তনাদ পথচারীদের বিচলিত করে না। সবাই পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চান। অথচ ইলেট্রনিক যুগের আগে আর্ত মানুষের সেবায় কে এগিয়ে যাবে, সে নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা। </p>
<p>দেশ-বিদেশের মানসম্পন্ন গণমাধ্যমের পাতায় এ ধরনের ছবি দেওয়া হয় না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন জনস্বার্থ ও বিপন্ন মানবতার কথা বিবেচনা করে অনেক সময় এ ধরনের ছবি ছাপানো যেতে পারে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নাপাম বোমার প্রলয়ংকরী আগুন থেকে পলায়নপর ক্রন্দনরত কিছু শিশুর ছবি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সাহায্য করে। আশির দশকের মাঝামাঝি আফ্রিকার দুর্ভিক্ষের ছবি বিশ্ব মানবতাকে জাগিয়ে তোলে। সঙ্গীতশিল্পী বব জেলডফ ১৯৮৫ সালের ১৩ জুলাই লন্ডনের উইম্বলী স্টেডিয়ামে আয়োজন করেন বিখ্যাত ‘লাইভ এইড’ কনসার্ট। এই কনসার্টের মাধ্যমে তিনি আফ্রিকার দুর্ভিক্ষের জন্য প্রায় ২১ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেন। এছাড়া ২০১৬ সালে তুরস্কের পশ্চিম উপকূলে ভেসে উঠা সিরিয়ার শরণার্থী শিশু আইলানের পড়ে থাকা নিথর দেহের ছবি ইউরাপের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে কেবল জার্মানী প্রায় ছয় লক্ষ সিরিয়ান শরণার্থী গ্রহণ করে।</p>
<p>ইদানিং রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বহু ছবি গণমাধ্যমে বা সোস্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে পুড়ে যাওয়া ক্ষত-বিক্ষত লাশের ছবি ও ভিডিও বেশি বেশি শেয়ার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সহানুভূতির বদলে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অনেকে বিশ্বের অন্য জায়গায় ঘটে যাওয়া সহিংসতার ছবিও মায়ানমারের বলে চালিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটতে পারেন। </p>
<p>একজন মৃত মানুষ কিংবা হাসাতালে শয্যাশায়ী মানুষের ছবি ছাপানোর আগে তাঁদের পরিবার থেকে অনুমতি নেয়া আবশ্যক। বিশিষ্ট সংঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর হঠাৎ করে ফেসবুকের পাতায় হাসপাতালের হিমাগারে রাখা তাঁর মুখমন্ডলের ছবি দেখে চমকে উঠেছি। খুব কষ্ট হয়েছে দেখে। ছবিটি ফেসবুকের পাতা থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য প্রয়াত বাচ্চুর পরিবার থেকে অনুরোধ করা হয়। সমস্যা হল, কোনো কিছু ভাইরাল হয়ে গেলে অন্তর্জালের পৃথিবী থেকে সেগুলো আর কখনো ফিরিয়ে আনা যায় না। মৃতব্যক্তির প্রিয়জনদের জন্য এটা খুবই কষ্টের। সময়-অসময়ে কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে উঠা মৃতব্যক্তির ছবি প্রিয়জনদের হৃদয়ে বেদনার হুল ফোটাবে। অর্ন্তগত রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে না কোনোদিন। হারানোর ব্যথা জিইয়ে থাকবে বাকিটা জীবন।</p>
<p>মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার লক্ষ্যে বেশ কিছু আর্ন্তজাতিক চুক্তি রয়েছে। কিন্তু ফেসবুক, হেয়্যাটসঅ্যাপ কিংবা টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ এখনো বেশ শিথিল। এই সুযোগ নিচ্ছেন অনেকে। ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদকর্মীসহ সবার কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে, ত্বরিত জনপ্রিয়তার প্রলোভন সামলে নিয়ে একটু ভেবেচিন্তে সংবাদ পরিবেশন করুন। </p>
<p> </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/651/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কখন নিশ্চিত হবেন আপনি একজন সাংবাদিক</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/645</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/645#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 30 Aug 2026 02:24:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=645</guid>

					<description><![CDATA[সাংবাদিকতা একটি অনন্য পেশা। এই পেশায় দৈনিক কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। দিনরাত্রির যেকোনো সময় খবর সংগ্রহের জন্য একজন সাংবাদিককে ছুটে যেতে হয় দূর থেকে দূরান্তে। এই পেশা শুরু করার...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সাংবাদিকতা একটি অনন্য পেশা। এই পেশায় দৈনিক কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। দিনরাত্রির যেকোনো সময় খবর সংগ্রহের জন্য একজন সাংবাদিককে ছুটে যেতে হয় দূর থেকে দূরান্তে। এই পেশা শুরু করার এবং পেশা থেকে অবসর নেওয়ার যেন নেই কোনো সময়সীমা। যতদিন হাত চলবে, মগজ কাজ করবে ততদিন চলবে কলম। </p>
<p>সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক পেশা। তবে এই পেশাতে রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানের মতো দেশে যুদ্ধের খবর দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন প্রচুর সাংবাদিক। ইরাক যুদ্ধের সময় খোদ আমেরিকা আল-জাজিরার সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করেছিল। সাংবাদিকের মিথ্যা অভিযোগে কারাবরণ, অর্থদন্ড ও জরিমানা, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হওয়াটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ডাল-ভাতের মতো ব্যাপার। আমাদের দেশেও বহু সাংবাদিক নিখোঁজ কিংবা খুন হচ্ছেন। সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের কথা আমাদের কারো অজানা নয়। </p>
<p>একজন সাংবাদিকের অপর নাম হলো কলমসৈনকি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংবাদিকের হাতের কলম আগ্নেয়াস্ত্রের মতো ঝল্সে উঠেছিল। যুদ্ধকালীন কলমসৈনিকদের লেখার দুর্বার শক্তি, পাক-হানাদারদের বুকে ত্রাসের সঞ্চার করেছিল। মুজিবনগরের সরকার, জনতা ও যোদ্ধাদের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা, বিশ্ব জনমত গঠন করার জন্য অকুতোভয়ী সাংবাদিকরা বীরের ভূমিকা পালন করেছিলেন। </p>
<p>আগে সাংবাদিকতা বলতে প্রিন্ট মিডিয়াকেই বোঝাতো। এরপর এলো রেডিও, টেলিভিশন। আর এখন অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যম। তবে ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যম এখন সবকিছুকেই যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমের সৌজন্যে একটি ক্লিকের মাধ্যমে খবর কিংবা বার্তা লক্ষ মানুষের কাছে পৌছে যাচ্ছে নিমিষে। মিসরের আরব বসন্ত নামে খ্যাত তাহররর স্কোয়ারের গণ-জাগরণ সামাজিক মাধ্যমের জন্যই ঘটেছিল। </p>
<p>কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনের ফেসটাইমে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারো জনতা রাস্তায় নেমে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিয়েছিল। তুরস্কের সামরিক বাহিনী টেলিভিশনে অভ্যুত্থানের ঘোষণা দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলল। ভাবল, তাদের অভ্যুত্থান সফল হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ঠিক তার উল্টো। এইভাবে ডিজিটাল যুগের একটি ছোট্ট মুঠোফোনের কাছে পরাজিত হয়েছে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী মাধ্যম টেলিভিশন। তবে সামাজিক মাধ্যমের কালো দিকটাও কিন্তু খুব ভয়ংকর। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণা করা হচ্ছে; লোভের ফাঁদ তৈরি করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা, প্রসার ঘটছে পর্নোগ্রাফির। অনলাইন মিডিয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী এবং জঙ্গী সংগঠন তাদের উগ্র ভাবধারা প্রচার করছে, সংগ্রহ করছে আত্মঘাতী বোমারু। </p>
<p>বস্তুনিষ্ঠ এবং সাহসী সাংবাদিককে সবাই সমীহ করে চলে। সঠিক তথ্য ও বিশ্লেষণের জন্য সরকারি মাধ্যম কিংবা নেতাদের চেয়ে সৎ সাংবাদিকের ওপরই মানুষ বেশি নির্ভর করে। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে পাঠকের আস্থা অর্জন করে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব সাংবাদিকের নিজের ওপরই বর্তায়। </p>
<p>কোনো অনুষ্ঠান কিংবা ঘটনার খবর তৈরি করার সময় সাংবাদিককে অকুস্থলে উপস্থিত থাকাটা খুবই জরুরি। সংবাদিক নিজেই যদি সংবাদের প্রথম সূত্র হন, তাহলে তথ্য বিকৃতির সুযোগ থাকে না। তবে এখন দেখছি অনেক সাংবাদিক ঘরে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট তৈরি করেন। যেন তাঁর হাতে রয়েছে ক্রিস্টাল বল, যাতে তিনি সবই দেখতে পান। </p>
<p>পেশাদারিত্ব অর্জনের জন্য একজন সাংবাদিককে চলমান ঘটনাপ্রবাহ, রাজনীত, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে হালনাগাদ রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিত দেশ-বিদেশের সংবাদপত্র পড়া, টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেলগুলো দেখা, অন্তর্জালে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখা আবশ্যক। ধরুন, আপনি জ্বালানী তেলের বাজার নিয়ে একটি রিপোর্ট লিখছেন। এজন্য শুধু তেল উৎপাদনকারী দেশের তালিকা তৈরি না করে সাথে অর্থনীতি, বিশ্ব রাজনীতি এবং তেল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কিত কিছু বিশ্লেষণ জুড়ে দিলে লেখাটি সমৃদ্ধ হবে। </p>
<p>সাংবাদিক হওয়ার জন্য সাংবাদিকতা বিষয়ে ডিগ্রি নেয়াটা জরুরি নয়। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয়েছে খুব বেশি দিনের কথা নয়। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াও নিজের প্রজ্ঞা ও মেধার জোরো বহু বাঘা বাঘা সাংবাদিক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মিডিয়া ভুবন। </p>
<p>একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় অলঙ্কার হচ্ছে নৈতিকতা ও সততা। তবে নৈতিকতার পথ মসৃণ নয়। এতে রয়েছে প্রতিবন্ধকতা এবং ঝুঁকি। আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথাই বলি। প্রকৌশল পেশার পাশাপাশি আমি অস্ট্রেলিয়ার স্পেশাল ব্রডকাস্টিং সার্ভিস বা এসবিএস-এর রেডিও জার্নালিস্ট/ব্রডকাস্টার হিসাকে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর কাজ করেছি। বিবিসি’র আদলে এসবিএস রেডিওতে ৭২টি ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। আমি বাংলা অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলাম। </p>
<p>একবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একটি কথিকা রচনা করি। যাতে কবিতা ও দেশাত্মবোধক গানও ছিল। অনুষ্ঠান প্রচারিত হওয়ার কিছুদিন পর একজন শ্রোতা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অভিযোগ পত্র লিখেন, যাতে তিনি নালিশ করেন, ওই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বেশ কয়েকটি গান বাজানো হয়নি। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ওই শ্রোতার নির্ধারিত কিছু গান ছাড়া আর কোনো দেশাত্মবোধক গান বাজানো যাবে না এমন কথা আগে কখনো শুনিনি। কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, অনুষ্ঠান নয় আমিই হলাম তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু। তাই বিষয়টি তাঁরা আমলে নেননি। এরকম বহুবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ আসতো, আমাকে চাকরিচ্যুত করবে বলে হুমকিও দেয়া হতো। </p>
<p>ভুুয়া খবর বা ‘ফেইক নিউজ’ এখন মিডিয়া জগতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। কোনটা আসল আর কোনটা নকল খবর, তা যাচাই করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সবাই। ভুয়া খবরের খপ্পরে পড়ে শুদ্ধ ধারার সাংবাদিকতা চলে যাচ্ছে নির্বাসনে। গত বছর কাতারের সরকারি সংবাদমাধ্যমে ভুয়া খবর ঢুকিয়ে দিয়ে কাতারকে রীতিমতো যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। </p>
<p>অনেকে উৎসাহী হয়ে তোষামোদী করার জন্য কিংবা কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ভুয়া খবর ছড়ান। আবার অনেকে মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আয় করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে লাইকের ঝড় বইয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবরের জন্ম দেন। এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে যারা ভিত্তিহীন খবর ছড়ান তারা আর যাই হন, সাংবাদিক হতে পারেন না।</p>
<p>একজন প্রকৃত সাংবাদিক বিশেষ সুবিধা আদায়ের জন্য সংবাদকে বিকৃত করবেন না, সংবাদে নিজস্ব মতামত জুড়ে দেবেন না, অযথা জনস্বার্থবিরোধী এবং উস্কানীমূলক খবর দিয়ে হাঙ্গামা সৃষ্টি করবেন না। একজন প্রকৃত সাংবাদিক অনুসন্ধানী রিপোর্টে দুই পক্ষের মতামত দেয়ার সুযোগ দেবেন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল করলে সেটা সংশোধন করে দুঃখ প্রকাশ করবেন।</p>
<p>এখন পেশাদারিত্বের এতই অভাব যে অন্তর্জালে কোনো আকর্ষণীয় সংবাদ পেলে ন্যূনতম সত্যতা বা সূত্র যাচাই না করে ঝড়ের বেগে ছাপিয়ে দিচ্ছেন অনেক সংবাদকর্মী। কিছুদিন আগে ‘কাতারে বসবাসরত হাজার হাজার বিদেশি নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছেন’ ‘বিদেশিরা চাইলেই নাগরিক হতে পারবেন’ ইত্যাদি শিরানোমের চটকদার খবরে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল বহু সংবাদ পোর্টাল। অথচ খবরটির মধ্যে ছিল না কোনো সত্যতা। সংবাদমাধ্যম, পোর্টালের সাথে জড়িত অনেকের এই বেহাল অবস্থা দেখে ভীষণ কষ্ট হয়। সংবাদের শিরোনাম কি আর তার নিচে কাট এন্ড পেস্ট করে কি বসানো হচ্ছে সেটা দেখারও যেন হুশ নেই সাংবাদিক বন্ধুদের।</p>
<p>একজন সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা অনেক। সাংবাদিকের একটি কলমের খোঁচায় বদলে যেতে পারে পৃথিবী, নেমে আসতে পারে ভয়ংকর বিপর্যয়। সাংবাদিকের একটি রিপোর্ট কাউকে রাতারাতি যেমন বানিয়ে দিতে পারে সেলিব্রেটি, তেমনি তাঁকে নিক্ষেপ করতে পারে কলঙ্ক আর অমর্যাদার আস্তাকুঁড়ে। অন্যদিকে একটি ভালো রিপোর্ট করে একজন সাংবাদিক নিজেও হয়ে যেতে পারেন সেলিব্রেটি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তাই কলমের ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখাটা আবশ্যক। কারণ কলমের অপব্যবহার সবার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। </p>
<p>একজন ভালো সাংবাদিক হতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকাটা খুবই জরুরি। কিন্তু আত্মবিশ্বাস যাতে দম্ভে রূপ না নেয় সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। বাংলা ভাষার অন্যতম কবি, সাংবাদিক রফিক আজাদ হয়তো তাই বলেছেন, </p>
<p>‘হে কলম, উদ্ধত হয়ো না, নত হও, নত হতে শেখো’<br />
 </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/645/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সুখের সন্ধানে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/641</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/641#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 02:58:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=641</guid>

					<description><![CDATA[আমরা সবাই সুখের অন্বেষণে ছুটছি। কিন্তু সুখটা আসলেই কি? কিভাবে সুখকে হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়? এইসব প্রশ্নের উত্তর কি আমাদের জানা আছে? একজন দিনমজুর থেকে শুরু করে বিত্তশালী, সুখী হবার...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আমরা সবাই সুখের অন্বেষণে ছুটছি। কিন্তু সুখটা আসলেই কি? কিভাবে সুখকে হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়? এইসব প্রশ্নের উত্তর কি আমাদের জানা আছে? একজন দিনমজুর থেকে শুরু করে বিত্তশালী, সুখী হবার জন্য সবার প্রচেষ্টার যে অন্ত নেই। কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে’র তাঁর একটি গানে যথার্থই বলেছেন, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়, কেউ সুখী হয় কেউ হয় না।’</p>
<p>সুখকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য কিছু সূচক নির্ধারণ করে প্রতি বছর বেশ কিছু জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে একটি হল ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান (The Organization for Economic Co-operation and Development (OECD) পরিচালিত ‘বেটার লাইফ ইনডেক্স’ জরিপ। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে করা ২০১৭ সালে এই জরিপের তথ্যানুযায়ী সবচেয়ে সুখী দেশ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মাথাপিছু আয়, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান ইত্যাদি বিবেচনা করে সুখের মানদন্ড স্থির করা হয়েছে এই জরিপে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া উন্নত দেশগুলোর মধ্যে বেশ এগিয়ে আছে; তুলনামূলকভাবে বেকারত্বের হারও কম। </p>
<p>জাতিসংঘ প্রতিবছর World Happiness Report নামের একটি জরিপ চালায়। প্রতিটি দেশের দুই থেকে তিন হাজার নাগরিককে তারা তাদের জীবনধারা নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা এই প্রশ্ন করা হয়। ২০১৮ সালের World Happiness Report -মতে সবচেয়ে সুখী দেশ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে ফিনল্যান্ড। সুখী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের স্থান হচ্ছে ১২৪তম। এই রিপার্টে পাকিস্তান আমাদের উপরে স্থান পেলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্থান ১৩৩তম। অবশ্য লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স পরিচালিত World Happiness Survey নামের একটি জরিপে ২০০৫ সালে একবার বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। </p>
<p>এবার অন্য একটি জরিপের কথা ধরা যাক। যুক্তরাজ্যের নিউ ইকনমিক্স ফাউন্ডেশন ২০০৬ সাল থেকে ‘হ্যাপি প্ল্যানেট ইনডেক্স’ প্রকাশ করে আসছে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত তালিকায় সুখী দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬১ দেশের মধ্যে ৮ম। প্রথম স্থানে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, আমেরিকার স্থান ১০৯তম!</p>
<p>এদিকে ২০১০ সালে ভুটানের সাধারণ মানুষের ওপর চালানো একটি জরিপে বলা হয়েছে, সেখানকার ৪১ শতাংশ মানুষ সুখী। ‘গড় জাতীয় সুখ’-এর মানদন্ডে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে ভুটান। এই ফলাফল দেখে জরিপ বিশেষজ্ঞদের আক্কেলগুড়ুম হবার দশা। ভুটান পৃথিবীর একটি অন্যতম দরিদ্র দেশ। অথচ ওই দেশের মাটিতে বসত গেড়েছে সুখ। জরিপে জানা যায়, ভুটানের মানুষের কাছে অপার্থিব এবং আধ্যাত্মিক সুখ অনেক বেশি গুরুত্ব পায়। মোটামুটিভাবে বিভিন্ন জরিপে ব্যবহৃত সুখের সূচকগুলো প্রায় একইরকম হলেও জরিপ থেকে বেরিয়ে আসছে অদ্ভুত ফলাফল, যা দেখে হিসাব মেলানো সত্যিই মুশকিল। </p>
<p>‘বেটার লাইফ ইনডেক্স’ জরিপে অস্ট্রেলিয়ার নাম এসেছে সবার শীর্ষে। এই জরিপের ফলাফল দেখে অনুন্নত দেশের অনেকেই হয়তো সুখের সন্ধানে তালিকার শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর দিকে ছুটবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ কি আসলেই সুখী? সুখ হলো আপেক্ষিক। দরিদ্রতম দেশের একটি হলেও বাংলাদেশের মানুষ অল্প আয়ে যেরকম তুষ্ট থাকেন, বড় আকারের ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়েও উন্নত দেশের অনেকে তেমন তৃপ্ত নন। </p>
<p>বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো নিরাপত্তা। বাড়ি থেকে বেরুবার পর নিরাপদে ঘরে ফিরবেন এমন নিশ্চয়তা চান সবাই। কিন্তু তাই বলে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেই যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যাবে এমন গ্যারান্টিও দেয়া যায় না। সেখানেও ক্রাইম হচ্ছে, তবে আইন প্রয়োগকারী বহিনীর দক্ষতার জন্য তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি আট মিনিটে একটি করে গাড়ি চুরি হয়, আর প্রতি দেড় মিনিটে গাড়ির ভেতর থেকে কোনো না কোনো মূল্যবান সামগ্রী চুরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রতি মিনিটেই একটি বাড়িতে চুরি হচ্ছে। আমার গাড়িও একবার চোরের কবলে পড়েছিল। এছাড়া এলার্ম সিস্টেম থাকার পরও তা উপড়ে ফেলে দিয়ে ঘরে চোর ঢুকছে। এছাড়া রাত গভীর হলে সিডনি শহরে ট্রেন স্টেশনগুলো খুব একটা নিরাপদ নয়। </p>
<p>বিভিন্ন জরিপের ফলাফল থেকে যে সত্যটি বেরিয়ে এসেছে তা হলো, টাকা দিয়ে আর যাই কেনা যাক না কেন, সুখ কেনা যায় না। আর উন্নত দেশ হলেই সেই দেশের নাগরিকরা বেশি সুখী হবেন, এ কথাও সঠিক নয়। উন্নত দেশের নাগরিকদের সুখী কিংবা অসুখী হবার কারণ অনুন্নত দেশের মানুষদের চেয়ে ভিন্নতর। যা সোজাসুজি তুলনা করা যায় না। টাকার মানের জন্য নাগরিকদের আয় বাংলাদেশের মানুষের চেয়ে অনেক বেশি হলেও জীবনযাত্রার মান উঁচু হওয়ায় ওই সব দেশে দৈনন্দিন জীবনের খরচও অনেক বেশি। ফলে বছরের শেষে অনেকের হাতে খুব একটা সঞ্চয় থাকে না।</p>
<p>অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার সুযোগ খুবই কম। তাই আয়ের একটা বড় অংশ ট্যাক্স হিসাবে চলে যায় সরকারি তহবিলে। উন্নত দেশের সামর্থ্যবান প্রায় সবারই একটি ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি রয়েছে যা আবার ঋণের জন্য ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেয়া। তাই প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ঋত পরিশোধের জন্য ব্যাংকে ঢালতে হয়। জীবিকা নির্বাহের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী দু’জনকেই কাজ করতে হয়। আমাদের দেশের মতো কাজের মানুষ রাখার সাধ্য খুব কম লোকেরই থাকে যে বসে থেকে আয়েশ করবেন। ঘর ও বাইরের সব কাজ তাই নিজেকেই করতে হয়। চাপের মধ্যে জীবন যাপন করতে গিয়ে পরিবারের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে যা মানুষকে ধীরে ধীরে অসুখী করে তুলতে পারে। </p>
<p>সত্যিকার অর্থে প্রগাঢ় পারিবারিক বন্ধন, সুস্বাস্থ্য, সুন্দর কর্মক্ষেত্র ইত্যাদি মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পারিবারিক জীবনে ভাঙ্গন, একাকিত্ব, প্রিয়জনের কাছ হতে বিচ্ছিন্ন হবার ভয় মানুষকে খুব সহজেই অসুখী করতে পারে। সুখ নিয়ে সবসময় হা-হুতাশ করলে সুখী হওয়া যায় না। নিজের চেয়ে অসচ্ছল কিংবা বিপদগ্রস্ত কারো দিকে তাকালে নিজের সুখটা বড় হয়ে চোখে পড়ে, নিজেকে তখন সহজেই সুখী মনে হয়।</p>
<p>একজন বিত্তশালী শিল্পপতির কথাই ধরা যাক; যার গাড়ি, বাড়ি, সম্পদের প্রাচুর্য, বলতে গেলে সব কিছুই রয়েছে। আপতঃদৃষ্টিতে মনে হতে পারে ওই শিল্পপতির চেয়ে সুখী আর কে আছে! কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, যাদের রয়েছে সম্পদের পাহাড়, তাদের সম্পদ রক্ষার দুঃশ্চিন্তারও নেই শেষ। রাতে এক মুঠো নিশ্চিন্ত ঘুমের জন্য আঁকুপাকু করে তাদের মন। কিন্তু জীবনের কাছে প্রত্যাশা কম থাকে বলে একজন সাধারণ মানুষ দরিদ্র হলেও জীবনের ছোটখাট পাওয়ার মধ্যে তৃপ্তি খুঁজে পান, চলার পথের ক্ষুদ্র অর্জনগুলোকেও অনেক বেশি তারা কদর করেন। সারাদিন হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে একজন রিক্সাচালক যখন তার বস্তিঘরে ঘুমুতে যান তখন কাল কি হবে সে নিয়ে তার তেমন কোনো ভাবনা থাকে না। কারণ বেঁচে থাকাটাই হলো তার জন্য বিশাল বোনাস। তাই বাংলাদেশ ও ভুটানের মানুষ উন্নত অনেক দেশের নাগরিকদের চেয়ে বেশি সুখী, জরিপে পাওয়া এ ধরনের তথ্য সঠিক বলেই মনে হয়।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/641/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মায়ের কথা</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/619</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/619#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 14:47:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=619</guid>

					<description><![CDATA[একজন প্রবাসীর মন স্বদেশে ফেলে আসা প্রিয়জনদের ভাবনায় উৎকন্ঠিত থাকে সারাক্ষণ। দূর পরবাসে বিশেষ করে গভীর রাতে তাই টেলিফোন এলে এক অজানা আশংকায় বুকটা কেঁপে ওঠে। ভাবি, দুর্ভাগা টলিফোনটা দেশ...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>একজন প্রবাসীর মন স্বদেশে ফেলে আসা প্রিয়জনদের ভাবনায় উৎকন্ঠিত থাকে সারাক্ষণ। দূর পরবাসে বিশেষ করে গভীর রাতে তাই টেলিফোন এলে এক অজানা আশংকায় বুকটা কেঁপে ওঠে। ভাবি, দুর্ভাগা টলিফোনটা দেশ থেকে না জানি কি দুঃসংবাদ বয়ে আনলো! ২০০০ সালের কথা। দিনটি ছিল শনিবার। আমি তখন সিডনি শহরে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাড়িতে কয়েকজন বন্ধু এসেছে রাতে আড্ডা দিতে। রাত সাড়ে এগারোটা হবে, হঠাৎ করে টেলিফোনটা বেজে উঠলো। শোবার ঘরে গিয়ে ফোনটা আমিই ধরলাম। কয়েক মুহূর্ত নিরবতার পর ওপাশ থেকে কান্নাডোবা কন্ঠে সেজদা বললেন, ‘মা আর আমাদের মাঝে নেই। মাকে এখন তাঁর শেষ ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’</p>
<p>যে দুঃস্বপ্নের কথা আমি কখনোই ভাবতে চাইনি আজ তা সত্যি হল। দেহটা কেমন যেন অবশ হয়ে এলো। টেলিফোনের রিসিভারটা হাতে নিয়েই মাটিতে বসে পড়লাম। অতিথিদের সবাই ব্যাপারটা দ্রুত জেনে গেল। ব্যথিত মন নিয়ে পরিচিত মানুষগুলো একে একে বাড়ি ফিরে গেল। ঘরের পরিচিত চার দেয়ালের মধ্যে নিজেকে মনে হচ্ছিল একা, ভীষণ একা। এই একাকিত্বের মুখোমুখি দাঁড়াবার মতো শক্তি যেন আমার নেই। মা দূরে থাকলেও যতদিন বেঁচে ছিলেন নিজকে কখনো একা মনে হয়নি। </p>
<p>জানতাম, মায়ের নির্ভেজাল মমতার আশ্রয়ে ঠাঁই আমার হবেই। আজ তাঁর চলে যাওয়াটা তাই কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। এলোমেলো ভাবনায় পাথর হয়ে গিয়েছিলাম। মৃত্যুর ছ’মাস আগে মায়ের সাথে আমার শেষ দেখা। সেবার বিদায় নেবার সময় হঠাৎ করে মা বললেন, ‘তোর সাথে মনে হয় আর দেখা হবে না।’ মায়ের কথাই যে সত্যি হল। মায়ের জীবন সায়াহ্নের দিনগুলিতে কাছে থাকতে না পারার কষ্টে বুকটা টনটন করছিল। প্রার্থনা করছিলাম, আল্লাহ মাকে যেন জান্নাতবাসী করেন আর আমার মতো দুর্ভাগা কপাল যেন কোনো সন্তানের না হয়। </p>
<p>কক্সবাজারের অদূরে মুহুরীপাড়া গ্রামের একটি রক্ষণশীল পরিবারে আমার মায়ের জন্ম। ধর্মের প্রতি গভীর অনুরাগ থাকলেও শিক্ষার প্রতি আমার নানা ছিলেন আপোষহীন। যে কোনো মূল্যে সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য তিনি ছিলেন অবিচল। লেখাপড়া করেননি বলে বড় মামাকে ঘর থেকে বের করে দেন আমার নানা। পাড়ার মাতব্বর, অন্যান্যদের আপত্তি এবং অবর্ণনীয় সমালোচনা উপেক্ষা করে তিনি ছোট মামার সাথে আমার মাকে স্কুলে পাঠাতেন। ওই সময় মা ছিলেন স্কুলের একমাত্র ছাত্রী। মামার কাছে শুনেছি, স্কুলে যাবার পথে মাকে বিভিন্ন রকমের টিটকারীর সম্মুখীন হতে হতো। ওই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীর পর কোনো ক্লাস না থাকায় মায়ের আর পড়া হয়নি। </p>
<p>বাবা, নয় ভাই ও দুই বোনসহ মায়ের ছিল তেরোজনের বিশাল সংসার। আমাদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে শাসন, বাজার ও সংসারের যাবতীয় দিকগুলো মাকেই সামলাতে হতো। শুধু তাই নয়, এগারোজন সন্তানের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ভুলোমনা বাবাকেও তাঁর দেখে রাখতে হতো। শিক্ষার প্রতি মায়ের আপোষহীনতার কারণেই আমরা সবাই লেখাপড়া করতে পেরেছি। আমার মা কোনো জমিদারের আদরের দুলালী ছিলেন না কিংবা তাঁর হাতে ছিল না কোনো আলাদিনের চেরাগ। আমাদের মানুষ করতে মা সারাটা জীবন সংগ্রামই করে গেছেন। বাবার টানাপোড়েনের মতো বড় সংসার তিনি কিভাবে একহাতে চালিয়েছেন সে কথা ভাবলে খেই হারিয়ে ফেলি। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে এমন একজন মহিয়সী মা পেয়েছি। যতদূর জানি, বাবার সংসারে মা যখন পা রাখেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সংসারের কিই বা বুঝতো ১৪ বছরের একজন উচ্ছ্বল কিশোরী? অথচ কৈশরের সেই সময় থেকে মা আমাদের শুধু দিয়েই গেছেন, বিনিময়ে চাননি কিছু। </p>
<p>মা ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। সংসারের হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনীর পরও সময় বের করে শাক-সবজির বাগান করতেন। ঘরের উঠোনে ছিল ছোট্ট একটি মুরগীর খামার, সাথে ছিল দুটি রাজহাঁস। সেলাই কাজেরও তিনি ছিলেন দক্ষ শিল্পী। রংবেরংয়ের কাঁথা ও শীতের সোয়েটারও বুনতেন। মা উর্দু ও ফারসি জানতেন। ‘বেহেশতি জেওর’ উর্দু কিতাব থেকে ধর্মীয় অনুশাসন ও ঘটনাবলী আমাদের পড়ে শোনাতেন। ধর্মীয় পরিবেশে বড় করলেও শিল্প ও সাহিত্যচর্চায় মা আমাদের বরাবর উৎসাহ দিতেন। </p>
<p>বাড়ির সবচেয়ে ছোট সন্তান হিসাবে আমি মায়ের কাছে একটু বাড়তি আদর ও ছাড় পেতাম। মা চাইতেন আমি যেন তাঁর কাছেই থাকি। কিন্তু তা হয়নি। মায়ের স্নেহের দেয়াল ডিঙিয়ে আমিই চলে গেলাম সেই সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়। মনে পড়ে, ছোটবেলায় এটা ওটা নিয়ে মাকে যখন খুবই বিরক্ত করতাম তখন মা বলতেন, ‘এখন মা ছাড়া তোদের চলে না, কিন্তু যখন বড় হবি তখন তোরা সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি। নিজেদের সংসার নিয়েই থাকবি সদা ব্যস্ত।’ আমি তখন মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম, ‘দেখো মা, আমি কিন্তু তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না।’ আমি কথা রাখিনি। </p>
<p>পড়াশোনার জন্য সেই স্কুলজীবন থেকেই মাকে ছেড়ে চাটগাঁ গিয়েছিলাম, তারপর প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে তেপান্তরে। মায়ের বুক খালি করে সন্তানদের দূরে চলে যাওয়াটা যে কত কষ্টের, সেটা নিজের সন্তানের কথা ভেবে এখন কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারি। অথচ একে একে এতগুলো সন্তানের চলে যাওয়াটা মা কিভাবে সয়েছিলেন জানি না। মাকে ছেড়ে চলে গেলেও সন্তানের জন্য মায়ের মন থাকে সদা ব্যাকুল। বিয়ের পর আমার নতুন স্ত্রীকে একটি কথাই মা বলেছিলেন, ‘আমার ছেলেটোকে দেখে রেখো। আমার কাছে ছিল না বলে পছন্দের অনেক কিছুই ওকে খাওয়াতে পারিনি।’ আমার স্ত্রীকে মা দেশীয় পিঠা ও আমার পছন্দের খাবারের রান্না শিখিয়ে দিয়েছিলেন। হায়রে মায়ের মন !</p>
<p>মা ছিলেন স্বাবলম্বী এবং অনেক বাস্তববাদী। একাকিত্বের ব্যাপারে কখনো অনুযোগ করতেন না। মা কখনো নিজে কিছু যেচে চাইতেন না। মাকে বলতে শুনেছি, ‘মা কি চায় তা সন্তানদের বুঝে নিতে হবে। হাত পেতে আমি কিছু নিতে রাজি নই।’ মা কারো ওপর নির্ভর না করে নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করতেন। তিনি সন্তানদের ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চাননি, তাই একাকিত্ব বরণ করেও বাবার ভিটেতে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছেন। </p>
<p>দৃঢ় ব্যক্তিত্বের আধিকারিণী হলেও মায়ের ভেতরটা ছিল তুলোর মতো নরম। অন্যান্য সবার মতো একটু সেবা ও আদর-যত্নের জন্য মাকেও কখনো ব্যাকুল হতে দেখেছি। একবার রিক্সায় চড়ে বাজারে যাবার সময় জীপের ধাক্কায় রাস্তায় পড়ে গিয়ে মায়ের পাজরের তিনটি হাঁড় ভেঙ্গে যায়। সেবার শয্যাশায়ী মায়ের পাশে থেকে সেবা করার অল্প সুযোগ আমার হয়েছিল। যে সাহসী মা আমার আত্মবিশ্বাসে আবিচল থেকে এতবড় সংসার চালিয়েছেন, সেই মাকে অসহায় শিশুর মতো আমাকে আঁকড়ে ধরে ঘুমুতো দেখেছি।</p>
<p>ইদানিং মা দিবস এলে আমার মনের গহীনে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে। মা বেঁচে থাকতে নিঃশব্দে পার হয়ে গেছে কত মা দিবস, মাকে টেলিফোন করা হয়নি। প্রবাস থেকে দেশে গিয়ে ঘরের দরজায় কড়া নেড়ে কখনো চমকে দিতে পারিনি মাকে। কখনো জিজ্ঞাসা করা হয়নি, মা তুমি কেমন আছো? শূন্য ঘরে কেমন কাটছে তোমার দিন? তোমার কি কিছু খেতে ইচ্ছে করে? কিংবা ইচ্ছে করে দূরে কোথাও ঘুরে আসতে? কিন্তু আমার সময় কোথায় সময় নষ্ট করবার? ক্যারিয়ার ও প্রতিষ্ঠার নেশায় বুদ হয়ে ক্রুজ মিসাইলের মতো আমি ছুটে গেছি এক শহর থেকে অন্য শহরে। পুরোনো মডেলের সিডান ছুড়ে ফেলে নতুন ফোর-হুইল নিয়ে চষে বেড়িয়েছি সিডনির রাজপথ। অথচ আমার মা, তীব্র নিঃসঙ্গতা বুকে নিয়ে তখন সন্তানের অপেক্ষায় গুনেছেন কষ্টের প্রহর। </p>
<p>সংসারের কর্তা হিসেবে আমার সংসারের সবার আশ্রয়স্থল হলাম আমি। কিন্তু কখনো এমন সময় আসে যখন অবসাদ আর ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়ি, মনে হয় ব্যস্ত জীবনের ভার যেন আর বইতে পারছি না। তখন ছেলেবেলাকার মতো মায়ের বুকের উমে সিক্ত হতে ভীষণ ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে, মায়ের কোলে মাথা রেখে চোখ বুজে সবকিছু ভুলে থাকতে। ইচ্ছে করে, তপ্ত-কপালে মায়ের স্নেহমাখা হাতের একটুখানি পরশ পেতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সম্বিত ফিরে পাই, বুঝতে পারি এ যে আর হবার নয়। ‘মায়ের চেয়ে বড় কিছু নাই যে দুনিয়ায়, মায়ের নাম মুখে নিলে শান্তি পাওয়া যায়&#8230;।’ গানটির কথার সাথে ভিন্নমত পোষণ করবে এমন সাধ্য আছে কার? মায়ের জায়গাটা আসলে এমন, সে শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/619/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হাতের লেখা চিঠির হচ্ছে ইতি</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/616</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/616#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 24 Aug 2026 04:11:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Misc]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=616</guid>

					<description><![CDATA[সেদিন দেশে থেকে বড় ভাইয়ার চিঠি পেলাম, সাথে কিছু ছবিও। চিঠি পড়া শেষ করে মনে করতে চেষ্টা করলাম, শেষবারের মতো কখন কলম দিয়ে চিঠি লিখেছি। বিস্মিত হলাম! গত এত দশকে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সেদিন দেশে থেকে বড় ভাইয়ার চিঠি পেলাম, সাথে কিছু ছবিও। চিঠি পড়া শেষ করে মনে করতে চেষ্টা করলাম, শেষবারের মতো কখন কলম দিয়ে চিঠি লিখেছি। বিস্মিত হলাম! গত এত দশকে কাউকে চিঠি লেখা হয়নি। ভাইয়ার চিঠির উত্তর আর দেয়া হল না, কারণ টেলিফোন করেই চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে আলাপ সেরে নিয়েছি। এই হল যান্ত্রিকতায় ভরা একুশ শতকের জীবন। কম্পিউটার এবং মুঠোফোনের যুগে হাতের লেখা চিঠির প্রয়োজন যেন ফুরিয়ে গেছে চিরতরে। শুনেছি মায়ের চিঠি পেয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাঁতরে পাড়ি দিয়েছিলেন তরঙ্গ-বিক্ষুদ্ধ হুগলী নদী। তবে মায়ের এসএমএস কিংবা ইমেইল পেলে তিনি ঝড়ের মধ্যে সাঁতার কেটে নদী পাড়ি দেয়ার মতো আবেগে উদ্বেলিত হতেন কিনা বলা মুশকিল। </p>
<p>আমার ছেলেবেলার কথাই ধরা যাক। তখন ছিল নিবের কলম (ফাউন্টেন পেন), কালির দোয়াত আর ব্লটিং পেপারের যুগ। ফাউন্টেন পেন হাতে এলে প্রথম কাজ ছিল ধারাল নিবটা একটু ভোতা করে নেয়া যাতে খাতার পাতায় আটকে না যায়। স্কুলজীবনে পরীক্ষার সময় হাত থেকে কলম পড়ে গিয়ে নিব ভোতা হয়ে যাওয়া কিংবা খাতার উপর কালির দোয়াত উল্টে পড়ে যাবার মতো ঘটনাও ঘটেছে ক’বার। ফাউন্টেন পেনের অভিজাত মার্কা হল পার্কার, সেফার, ওয়াটারম্যান ইত্যাদি। মনে পড়ে, ভাইয়ার পুরোনো পার্কার পেন দিয়ে লেখার জন্য কেমন তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতাম।</p>
<p>নিবের কলমের পর আসলো বলপয়েন্ট কলমের যুগ। বলপয়েন্টের কলম বাজারে চালু হলেও শিশুদের পেন্সিল কিংবা ফাউন্টেন পেন দিয়ে হাতের লেখা অনুশীলন করতে উৎসাহিত করা হতো, কারণ বল পয়েন্টে লিখলে নাকি হাতের লেখা খারাপ হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তবে কলেজে পা রাখার পর থেকে বল পয়েন্ট ছাড়া ফাউন্টেন পেন ব্যবহার করেছি বলে মনে পড়ে না। কোথায় গেল নিবের কলম আর ব্লটিং পেপারের হাসিকান্না মাখা স্মৃতিময় সেই দিনগুলি? ইদানিং কবি সাহিত্যিক ও কলামিস্টরা আর হাতে লেখালেখি করেন না। হাতের লেখা পান্ডুলিপির বড্ড আকাল পড়েছে এখন। </p>
<p>আশি দশকের মাঝামাঝি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ পাড়ি দেই। ওই সময় আমার কম্পিউটার ল্যাবে ছিল কেবল ডেস্ক পিসি, যার হার্ডডিস্কের ধারণ ক্ষমতা ছিল ২৫০ মেগাবাইট! যদিও এখন শুনলে হাসি পাবারই কথা কিন্তু সেই যুগে এটা ছিল বিশাল ব্যাপার। আর এখন ৩২ গিগেরও USB Falsh Drive বাজারে পাওয়া যাচ্ছে! </p>
<p>ইমেইলের নামই শুনিনি তখন। ইমেইল ৭০ দশকের মাঝামাঝি আবিষ্কার হলেও, পুরোদমে অনলাইন সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয় ৯০ দশকের শুরুতে। তাই হাতের লেখা চিঠি এবং পোস্টকার্ডই ছিল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। মনে পড়ে, সপ্তাহের একটি বিশেষ দিনে আমরা সবাই দেশ থেকে চিঠি এলো কিনা সেই আশায় অধীর আগ্রহে ডর্মেটরির পোস্টবক্সের সামনে হা করে দাঁড়িয়ে থাকতাম। কোনো চিঠি না পেলে বিষন্ন হয়ে রুমে ফিরতাম। ইদানিং হাতের লেখার যে ধরনের আকাল পড়েছে তাতে মনে হয়, কিছুদিনের মধ্যে হাতে লেখা চিঠি ডাইনোসরের মতো মিউজিয়ামেই জায়গা করে নেবে।</p>
<p>হাতের লেখা যাতে সুন্দর হয় সেজন্য ছাটেবেলায় প্রচুর সাধ্যসাধনা করতে হতো। কারণ লেখা সুন্দর যার পরীক্ষার খাতায় বাড়তি নম্বর তার। কিন্তু আজকের অনলাইনের যুগে হাতের লেখা কেমন হল তাতে কি আসে যায়? ইদানিং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হচ্ছে মাল্টিপল চয়েসভিত্তিক, তাই হাতে লেখার তেমন সুযোগ নেই; উত্তরপত্রে একটি করে টিক চিহ্ন দিলেই হলো। মনে হচ্ছে কিছুদিন পর পরীক্ষার হলে থাকবে সারি সারি কম্পিউটার টার্মিনাল, যা দেখতে অনেকটা কল সেন্টারের মতোই মনে হবে। কোনো পরীক্ষকের আর প্রয়োজন হবে না। তখন হয়তো নতুন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে, যেমন পরীক্ষার্থীরা সিস্টেম ক্রাশ হবার দাবি করে আরো সময় চাইবে কিংবা কোনো দুষ্টু ভাইরাস তার উত্তর ডিলিট করে দিয়েছে এমন দাবি করে পুনঃপরীক্ষারও আবেদন জানাবে। </p>
<p>কম্পিউটারে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফন্ট দিয়ে যতই মেইল লেখা হোক না কেন, হাতের লেখা চিঠির সাথে তার কি তুলনা হয়? চিঠিতে হৃদয়ের আবেগ, ভালোবাসা ও কষ্টের অনুভূতি কলমের কালির হয়ে কাগজের পাতায় যেভাবে ঝরে পড়ে, কম্পিউটারে তা হয় না। ইমেইলে লম্বা চিঠি লেখা যায় বটে তবে হৃদয়ের সব রং উজাড় করে দিয়ে রচনা করা যায় না অনুরাগের মাস্টার পিস। হাতের লেখা চিঠিতে সত্য লুকোনো যায় না। চিঠিতে ইচ্ছে করে কেউ মিথ্যে লিখে কাউকে ঠকাতে চায় না, তাই চিঠির পঙক্তিমালায় বুকের সত্যটাই কথা বলে। </p>
<p>চিঠি রয়েছে হরেক রকমের যেমন বৈষয়িক চিঠি, পারিবারিক চিঠি, বন্ধুর কাছে বন্ধুর লেখা চিঠি, রয়েছে প্রেমের চিঠি ইত্যাদি। নীলখামে ভরা প্রথম প্রেমের চিঠি, লুকিয়ে সেই চিঠি পড়া, গোপনে উত্তর লেখা আর প্রতিউত্তরের জন্য প্রতিক্ষা ইত্যাদি ভালোবাসায় মানবিক মাত্রা যোগ করে যা ডিজিটাল প্রেমের চিঠিতে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই তো ভালোবাসার মানুষের লেখা চিঠি হারিয়ে গেলে এত কষ্টের, পুড়িয়ে ফেলা এত জ্বালার মতো যন্ত্রণার। </p>
<p>দেবদাস ছায়াছবিতে পার্বতীর লেখা চিঠি পোড়ানোর দৃশ্য পাঠকদের মনে থাকার কথা। ইমেইলে লেখা প্রেমপত্র ডিলিট করার পর কি বুকের মধ্যে এমন রক্তক্ষরণ হবে? স্কুলে পড়তে প্রথমবার যখন মাকে ছেড়ে থাকতে হল, মায়ের হাতের লেখা চিঠি সবার অগোচরে বার বার পড়তাম। মায়ের চিঠিখানা কখনো পকেটে নিয়ে ঘুরতাম, মনে হতো যেন মা সাথেই আছেন। </p>
<p>গল্প, উপন্যাস ও চলচ্চিত্রেও এই চিঠি একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। অনেক সময় নায়ক কিংবা নায়িকার লেখা একটি চিঠি নাটকীয়ভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে কাহিনীর মোড়। রবি ঠাকুরের ছোটগল্প ‘রবিবারে’ বিভার কাছে লেখা অভিকের চিঠি এবং শেষের কবিতায় অমিতের কাছে বন্যার লেখা কাব্য-পত্র হচ্ছে গল্পের প্রাণ। অসাধারণ চিঠির কারণেই আমি বারবার পড়েছি রবি ঠাকুরের এই লেখা দুটো। </p>
<p>চলচ্চিত্রেও চিঠির প্রভাব লক্ষণীয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া আলোচিত হলিউড মুভি হচ্ছে ‘ডিয়ার জন’। জন নামের একজন আমেরিকান সৈনিকের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তার প্রেমিকার মধ্যে চিঠির আদান প্রদানই ছিল এই ছবির প্রধান বিষয়বস্তু যা ছুঁয়েছে র্দশকদের হৃদয়-মন। আর গানে? জগন্ময় মিত্রের গাওয়া চিঠি (১ এবং ২), গানের জগতে কিংবদন্তী হয়ে আছে, ‘যত লিখে যাই তবু না ফুরায়, চিঠিতো হয় না শেষ&#8230;’। এছাড়া আমাদের আধুনিক ও লোক সঙ্গীতের অনেক জনপ্রিয় গান এই চিঠি নিয়েই আবর্তিত, চিঠি দিও প্রতিদিন, আমি কেমন করে পত্র লিখিরে বন্ধু&#8230;</p>
<p>ফোন করে, ইমেইল কিংবা টেক্সট ম্যাসেজ পঠিয়ে খুব সহজেই চিঠির কাজ সারা যায় বলে কলম দিয়ে চিঠি লেখা এখন আর হয় না বললেই চলে। তরুণ সমাজ মুঠোফোনে টেক্সট করে, অন্তর্জালে চ্যাট কিংবা ব্লগে আড্ডা দিয়ে যেমন সময় কাটায় তেমনি আমরা প্রায় সবাই স্কাইপ ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বন্ধুবান্ধব ও দেশবিদেশে ছড়িয়ে থাকা আপনজনদের সাথে যোগাযোগ রাখি। সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা যদিও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ হয়েছে তেমনি সুখ-দুঃখের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো যান্ত্রিকতার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। </p>
<p>ব্রিটেনে ৭ থেকে ১৪ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে নেয়া এক জরিপে দেখা গেছে, এই বয়সের ছেলেমেয়েদের ১০ ভাগ কোনোদিন হাতে চিঠি লেখেনি অথচ এদের ৫০ ভাগই জরিপ নেয়ার সপ্তাহ খানেক আগে কাউকে ইমেইল পাঠিয়েছে। সুপ্রিয় পাঠক, সম্প্রতি ক’খানা চিঠি লিখেছেন তা একবার ভেবে দেখবেন কি?</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/616/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
