<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Science &amp; Environment &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<atom:link href="https://mamoon.net/category/opinion/science/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://mamoon.net</link>
	<description>mamoon.net</description>
	<lastBuildDate>Sat, 12 Sep 2026 12:46:05 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>

<image>
	<url>https://mamoon.net/wp-content/uploads/2026/05/Logo-Mamoon-Vai-150x150.png</url>
	<title>Science &amp; Environment &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<link>https://mamoon.net</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>এলিয়েনের খোঁজে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/567</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/567#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 16 Aug 2026 05:44:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=567</guid>

					<description><![CDATA[এই মহাবিশ্বে কি আমরা একা? নাকি বর্হিবিশ্বের অন্য কোথাও ছড়িয়ে আছে আমাদের মতো কিংবা আমাদের চেয়ে উন্নত অনেক সভ্যতা? আন্তঃনাক্ষত্রিক সভ্যতার মিলনমেলায় আমরা কি কখনো যোগ দিতে পারবো? সৃষ্টির আদি...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এই মহাবিশ্বে কি আমরা একা? নাকি বর্হিবিশ্বের অন্য কোথাও ছড়িয়ে আছে আমাদের মতো কিংবা আমাদের চেয়ে উন্নত অনেক সভ্যতা? আন্তঃনাক্ষত্রিক সভ্যতার মিলনমেলায় আমরা কি কখনো যোগ দিতে পারবো? সৃষ্টির আদি থেকে দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের মনে এ নিয়ে উৎসুক্যের শেষ নেই। উড়ন্ত সসারে (UFO) করে অন্য গ্রহ থেকে মানবাকৃতির প্রাণী আসার ঘটনা শোনেনি এমন লোকের সংখ্যা কম। একবার ছোটবেলায় রাতের আকাশে একটি ছোট্ট অনুজ্জ্বল বস্তুকে নীচ দিয়ে উড়ে যেতে দেখেছিলাম, যা উড়ন্ত সসার দেখার একটি দুর্লভ স্মৃতি হয়ে এখনো আমাকে নাড়া দেয়। অন্য জগত থেকে আগত অতিথিদের আমরা এলিয়েন বলে থাকি। আর এই এলিয়েনদের নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, পর্দা কাঁপানো চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিয়াল। </p>
<p>মঙ্গল গ্রহ থেকে ছিটকে আসা উল্কাপিন্ডের অভ্যন্তরে বিজ্ঞানীরা এককোষী প্রাণীর (Bacteria) ফসিলের সন্ধান পেয়েছেন। যদিও এই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। শনির উপগ্রহ ((Moon) টাইটানে পৃথিবীর মতো নদী, পাহাড় ও উপত্যকার চিহ্ন দেখা গেছে, ভূপৃষ্ঠে পাওয়া গেছে মিথেন (Methane) সমৃদ্ধ জলীয় পদার্থের সন্ধান। এ ছাড়া বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার বরফের আস্তরণের নিচে রক্ত-বর্ণ জলীয় সমুদ্রের খোঁজ পাওয়া গেছে। মহাশূন্যে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃৃত বিশ হাজার কোটি গ্যালাক্সির প্রতিটিতে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্রমালা। তাই কেবল পৃথিবী ছাড়া এই সব নক্ষত্ররাজির কোনো গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না তা কি হয়? </p>
<p>আইনস্টাইনের পর স্টিফেন হকিংকে এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলে মানা হয়। বিবিসি চ্যানেলের ডকুমেন্টারিতে একবার তিনিই যখন বললেন, মহাবিশ্বের কোথাও যে এলিয়েন রয়েছে এ নিয়ে তার কোন সন্দেহ নেই, তখন না শুনে কি পারা যায়? বিজ্ঞানী হকিং মনে করেন এলিয়েনরা পৃথিবীর অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ, তাই ওদের এড়িয়ে চলাটাই পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক। কারণ এলিয়েনরা পৃথিবীর খোঁজ পেলে তাদের চেয়ে অনুন্নত মানবজাতিকে সহজেই সেবাদাসে পরিণত করে আমাদের প্রিয় পৃথিবীকে জবর দখল করে নেবে। বিজ্ঞানী হকিংয়ের মতে, এলিয়েনের আগমনের ফলে মানবজাতির পরিণতি কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের পর আদিবাসী ইন্ডিয়ানদের যা হয়েছিল ঠিক সেরকম কিছু হতে পারে। কি ভয়ংকর কথা?</p>
<p>পানিকে জীবনের আধার হিসাবে ধরে নিয়ে এ পর্যন্ত আমাদের সৌরজগতের বাইরে ৪০০টির বেশি গ্র্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানকার তাপমাত্রা পানি কিংবা তরল গ্যাস উৎপত্তির জন্য খুবই উপযোগী। পৃথিবীর মতই নক্ষত্রকে পরিভ্রমণরত এইসব গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। এই ধরনের গ্রহমালাকে বলা হয় Goldilocks Planet. তবে এলিয়েনরা মানুষের মতো আলো ও পানির উপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প হিসেবে বিকিরণ, বিদ্যুৎ কিংবা অতিবেগুনী  (ultra-violet) তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। এ পর্যন্ত যে সব গ্রহের সন্ধান মিলেছে তাদের অধিকাংশই বৃহস্প তির মতো ঘন গ্যাসের বলয়ে আবৃত এবং আকারে পৃথিবীর চেয়ে শত সহস্র গুণ বড়। তবে আজকের প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাশূন্যের অদূরে পৃথিবীর সম আকারের জীবন সহায়ক গ্রহমালা খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে।</p>
<p>মহাশূন্যে কোথাও কেউ আছে কিনা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এই প্রশ্নেরœ উত্তর খোঁজার জন্য চলছে বিরামহীন প্রচেষ্টা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো রিসার্চ প্রজেক্টের পেছনে ব্যয় করছে কোটি কোটি ডলার। আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ড্রেক ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে সৌরজগতের বাইরের কোনো সভ্যতার সাথে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে SETI (Search for Extraterrestrial Intelligence) চালু করেন, যার নাম ছিল প্রজেক্ট ওজমা। এখন ১০টিরও বেশি দেশে সেটি অনুসন্ধান কাজ চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছুরিত কোনো সঙ্কেত ধরা পড়েনি। বিশাল মহাশূন্যে এই খোঁজার শুরু আর শেষ কোথায় সেটা নির্ণয় করাটাই হল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। </p>
<p>আমাদের পৃথিবী যে গ্যালাক্সির বাসিন্দা তার নাম হল মিল্কিওয়ে। অন্য হাজার কোটি গ্যালাক্সির কথা বাদই দিলাম শুধু মিল্কিওয়ে ছায়াপথেই রয়েছে ২০,০০০-৪০,০০০ কোটি নক্ষত্র। আবার এই নক্ষত্র পরিভ্রমণরত প্রাণের উপযোগী কোনো গ্রহ খুঁজে ফেরা অনেকটা পাগলামোই মনে হতে পারে। SETI’র রেডিও টেলিস্কোপে বিরাজমান সীমাহীন নিরবতা দেখে তাই অনেকে ভাবছেন আমরা ভুল জায়গায় ভুল সময়ে ভুল কিছু খুঁজছিনা তো? এলিয়েনের খোঁজে জ্যোতির্বিদদের সঙ্গে সঙ্গে ইদানিং মনোবিজ্ঞানীরাও এগিয়ে এসেছেন। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে আধ্যাত্মিক মাত্রায়, যেমন টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা উচিত।</p>
<p>আমরা জানি, আলোর গতিবেগ হচ্ছে সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। বিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী আলোর গতি সকল সময়ে সকল স্থানে, পর্যবেক্ষণ নির্বিশেষে একই রকম বা ধ্রুবক (Constant) এবং জগতের ভর-বিশিষ্ট কোন বস্তুই আলোর গতির চেয়ে দ্রুত চলতে পারবে না। মহাজাগতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখানেই হল যত সমস্যা। সাধারণত কোন বস্তু থেকে বিচ্ছুরিত আলো আমাদের চোখে এসে পড়লেই তা আমরা দেখতে পাই। </p>
<p>কোনো বস্তু থেকে বিচ্ছুরিত আলো আমাদের চোখে এসে পড়লে তবেই বস্তুটিকে আমরা দেখতে পাই। আমাদের কাছাকাছি কোন বস্তুকে যখন আমরা দেখি, আলোর অস্বাভাবিক দ্রুত গতির জন্য সময়ের যে হেরফের হয় তা বোঝা যায় না। কিন্তু অতি দূরের কোনো বস্তুর জন্য ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ পৃথিবী থেকে ১০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত একটি উন্নত এলিয়েন সভ্যতার কথাই ধরা যাক। এক আলোকবর্ষ দূরত্বের মানে হল সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে চললে এক বছরে যে দূরত্ব পাড়ি দেয়া যাবে তার সমান। এর কারণ হল পৃথিবী থেকে বিচ্ছুরিত আলোকরশ্মি আমাদের কথিত ওই সভ্যতার গ্রাহক যন্ত্রে পৌছতে সময় লাগবে ১০০০ বছর ! </p>
<p>মনে করুণ ওই এলিয়েনরা উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে পৃথিবীতে কি ঘটছে তা পরিস্কার দেখতে পাবে। কিন্তু কি দেখবে তারা? অবাক করা কথা হল, ওরা ২০২০ সালের পৃথিবীর বদলে দেখবে ১০০০ বছর আগের অর্থাৎ ১০২০ সালের পৃথিবী। দেখবে বাগদাদে বসে আব্বাসীয়রা শাসন করছে মুসলিম সাম্রাজ্য আর অন্যদিকে রয়েছে ক্ষমতাধর খ্রিষ্টান বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের বদলে তারা দেখবে আরব বিজ্ঞানী ইব্নে আল-হাইথামকে। মিসরের পিরামিড হয়ত ওদের চোখে পড়বে কিন্তু কোনো রেডিও টেলিস্কোপ কিংবা রকেট তারা দেখেবে না। কারণ মার্কনী বেতার আবিস্কার করেছেন মাত্র ১৮৯৫ সালে। এক্ষেত্রে কোন সংকেত না পাঠানোই হয়ত এলিয়েন সভ্যতা যুক্তিযুক্ত মনে করবে কারণ তারা ভাবছে সঙ্কেত সনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি ১০২০ সালে আমাদের ছিল না। </p>
<p>আজকের অর্থাৎ ২০২০ সালের উন্নত পৃথিবীর কথা এলিয়েনরা জানতে পারবে আমাদের সময়ের ৩০২০ সালে। আর তারা যদি সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা বার্তা পাঠায় সেটা আমরা পাবো ৪০২০ সালে! এলিয়েন সভ্যতা যত দূরে হবে এই অপেক্ষা হবে তত বেশি। আমাদের রেডিও প্রযুক্তির বয়স মাত্র ১০০ বছরের চেয়ে কিছু বেশি। সেই হিসাবে এখন পর্যন্ত ৫০ আলোকবর্ষ দূরের কোনো সভ্যতার পক্ষেই পৃথিবী থেকে পাঠানো বেতার সঙ্কেত পেয়ে আবার উত্তর পাঠানো সম্ভব। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ৫০ আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যেকার প্রায় সব নক্ষত্রই নীরিক্ষা করে প্রাণের উপযোগী কোনো নক্ষত্র খুঁজে পাননি।</p>
<p>বিজ্ঞানী আলবার্ট হ্যারিসনের মতে, আমরা যে সংকেত পাঠাচ্ছি তা হয়তো এলিয়েনদের কাছে পৌছতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই শুধু রেডিও সঙ্কেত না পঠিয়ে অন্য মাধ্যমের কথাও ভাবা হচ্ছে। রেডিও সঙ্কেত হচ্ছে তড়িৎ-চুম্বক তরঙ্গ যা ক্ষুদ্র কনিকা/তরঙ্গ ফোটনের (photon) মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করে। যদিও গ্যালাক্সিতে ভাসমান গ্যাস ও ধুলোর বলয় ভেদ করার ক্ষমতা ফোটন রাখে, তবে এখন ফোটনের বদলে নিউট্রিনো (neutrino) কনিকার রশ্মি দিয়ে বার্তা প্রেরণের কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। মহাশূন্যে ভাসমান গ্যাসীয় ও ধূলিকণার অস্বচ্ছ স্তর ভেদ করে যাবার ক্ষমতা ফোটনের চেয়ে নিউট্রিনোর অনেক বেশি, তাই নিউট্রিনো চোখ দিয়ে দেখলে হয়ত বুদ্ধিমান প্রাণী খুঁজে পাওয়ার কাজ কিছুটা সহজ হবে। </p>
<p>উল্লেখ্য আমাদের আশেপাশের অসংখ্য টিভি ও বেতার চ্যানেল, মোবাইল ফোন ও রাডার থেকে সৃষ্ট বেতার তরঙ্গ অনুসন্ধানে বিঘ্ন সৃষ্টি করে থাকে। তাই চাঁদে একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে যোগাযোগের মাধ্যম যেটাই হোক না কেন, আলোর ধ্রুব গতির ফলে বার্তা চালাচালিতে যে সময়ক্ষেপণ হবে তাতে এলিয়েন সভ্যতা ও পৃথিবীর মানুষ, কেউ কারো নাগাল পাবে না বলেই মনে হচ্ছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/567/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং ও আমাদের শিক্ষাঙ্গন</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/558</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/558#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 15 Aug 2026 04:19:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=558</guid>

					<description><![CDATA[বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পরিমাপ করার জন্য জরিপ চালিয়ে প্রতি বছরই র‌্যাংকিং বা মেধাক্রম তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিছু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, খ্যাতিমান পত্রিকা ও ম্যাগাজিন...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পরিমাপ করার জন্য জরিপ চালিয়ে প্রতি বছরই র‌্যাংকিং বা মেধাক্রম তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিছু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, খ্যাতিমান পত্রিকা ও ম্যাগাজিন এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এর মধ্যে QS এবং The Times Higher Education World University Rankings অন্যতম। </p>
<p>ছঝ র‌্যাংকিং-এর কথাই ধরা যাক। প্রায় ২,০০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই-বাছাই করে বিশ্বের শীর্ষ চারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা তৈরি করেছে Quacquarelli Symonds (QS) নামের এই প্রতিষ্ঠান। যে সব সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূূল্যায়ন করা হয়েছে তা হল &#8211; একাডেমিক সমাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদীক্ষার মানের সুনাম, চাকরিদাতা সংস্থার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা প্রাজুয়েটদের গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামো, শিক্ষকদের একাডেমিক প্রকাশনার সংখ্যা, শিক্ষকরা ছাত্রদের পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছেন কিনা সেজন্য ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, আর আন্তর্জাতিক সুনাম পরিমাপের জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও ছাত্র সংখ্যা ইত্যাদি। </p>
<p>বিশ্বের ৩৩,০০০ হাজারেও বেশি শিক্ষাবিদ ও ১৬,০০০ চাকরিদাতা কোম্পানি ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে জরিপ চালিয়ে ২০২০ সালের মেধাক্রম তালিকা তৈরি করেছে QS। প্রতিটি জরিপেরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। তবে যে ধরনের সূচক ও সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে এ ধরনের জরিপ করা হয়, তার ফলাফল একেবারে উপেক্ষা করা যায় না।</p>
<p>২০২০ সালের QS র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছে বিখ্যাত এমআইটি এবং দ্বিতীয় স্থানে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম দশটি স্থানই পাঁচটি আমেরিকান এবং চারটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে। কর্নেল, ইয়েল এবং প্রিন্সটনের মতো খ্যাতিমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডিঙ্গিয়ে যুগ্নভাবে ১১তম স্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর। এদিকে চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় উঠে এসেছে ১৬ নম্বরে। অন্যদিকে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ২২, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২৯, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর ২৮ আর সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৬ নম্বরে রয়েছে। তবে অবাক করা কথা হল, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ শতকের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে। ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন ‘ইঞ্জিনিয়িারিং ইন্সটিউিট অব টেকনলজি, মুম্বাই’-এর অবস্থান হল ১৫২। QS র‌্যাংকিং-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বাংলাদেশের অন্যান্য শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান ৮০০-১০০০ এর মধ্যে। আর এশিয়ান ছঝ র‌্যাংকিং-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের অবস্থান যথাক্রমে ১৩৫ এবং ২০৭।</p>
<p>স্পেনের সরকারি গবেষণা সংস্থা CSIC বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২,০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং (ওয়েবোমেট্রিক্স র‌্যাংকিং অফ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস) বের করে থাকে। এই র‌্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশের র‌্যাকিং-এ শীর্ষে থাকা বুয়েটের অবস্থান হল ১৭৯৪, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯০৯, রাজশাহী ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে ২২৭৫ এবং ৩০৩৯, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২১০১ এবং চুয়েট ৩৭১৪। যে চারটি সূচক CSIC জরিপের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ওয়েবপেইজের সংখ্যা, বাইরের সাইট থেকে বিশ্বদ্যিালয়ের ওয়েবসাইটে কতটি লিংক এসেছে তার সংখ্যা, সাইটে সংরক্ষিত পিডিএফ ফাইলের সংখ্যা, গুগল স্কলারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কতগুলো গবেষণাপত্র আছে এবং সাইটেশন এসেছে ইত্যাদি। </p>
<p>কোনো জরিপই ত্রুটিহীন নয়। তবে বিভিন্ন জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি জরিপেই আমাদের জানা বিশ্বের সেরা বিশ্বদ্যিালয়গুলো বরাবর তালিকার প্রথম দিকে থাকছে। আবার সিঙ্গাপুরের দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান প্রথমে পিছিয়ে থাকলেও অনেক ধাপ পেরিয়ে প্রথম দিকে চলে আসছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বরাবরের মতো র‌্যাংকিং-এর তালিকার নিচের দিকেই থেকে যাচ্ছে। তাই শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় যে অনেক পিছিয়ে আছে সেটা বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয়। </p>
<p>আমাদের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের করতে হলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় নাটকীয় পরিবর্তন এনে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ দিতে হবে পর্যাপ্ত যোগ্য শিক্ষক। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে প্রতি দশজন ছাত্রের জন্য রয়েছে একজন শিক্ষক। অথচ আমাদের দেশে এই অনুপাত কয়েক গুণ বেশি। গবেষণা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণের অন্যতম সূচক। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় ‘Publish or Perish’ নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণায় মনোযাগী হতে অনেকটা বাধ্য করেছে। গবেষণার কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। তবে তরুণ ও মেধাবীদের কাছে শিকক্ষকতা পেশা আকষর্ণীয় করে তুলতে না পারলে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণার জন্য সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে গবেষণায় বিনিয়োগ করার জন্য বেসরকারি সেক্টরকে উৎসাহিত করতে হবে।</p>
<p>বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের রয়েছে একটি সোনালি অতীত। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯২১ থেকে ১৯৪৫ সালে পর্যন্ত অধ্যাপনা করেছেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী সত্যেন বসু। বোস-আইস্টাইন সমীকরণের (Bose–Einstein Statistics) সুবাদে আইনস্টাইনের সাথে চিরস্থায়ীভাবে জুড়ে রয়েছে তাঁর নাম। সত্যেন বসুর মতো একজন অসাধারণ বিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ছাত্রদের কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও রেডিয়েশনের জটিল তত্ত্ব ব্যাখ্যা করছেন, ভাবতে গেলে কেমন এক ধরনের নষ্টালজিয়া পেয়ে বসে। </p>
<p>এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতেই হয়। একবার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপকের পদ খালি হলে সত্যেন বসু ওই পদের জন্য দরখাস্ত করলেন। কিন্তু ডক্টরেট ডিগ্রি না থাকায় সত্যেন বোসের মতো জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীকেও নিয়ম ভেঙ্গে প্রফেসর পদে পদোন্নতি দেয়া হল না। তখন সত্যেন বসুর গুরু স্বয়ং আইনস্টাইন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করে বললেন, ‘তোমরা কি পদার্থবিজ্ঞানে সত্যেনের চেয়ে যোগ্য কাউকে পাবে?’ এভাবে তিনি প্রফেসরের পদ লাভ করেন। </p>
<p>এখন মেধাকে পাশ কাটিয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয় বলতে গেলে মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে। লাল নীল বিভিন্ন প্যানেলের অন্তরালে রাজনীতি আর বাড়তি আয়ের জন্য শিক্ষকরা নিজের ছাত্রদের ঠকিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন অধ্যাপনার দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। </p>
<p>প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সেই ঐতিহ্য আর নেই। সম্প্রতি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের পিএইচডি গবেষণা ৯৮ শতাংশ হুবহু নকল বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্র্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের থিসিসে ভুল তথ্য সংযোজন করার অভিযোগে তার পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে আমাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে হচ্ছে চরম অনিয়ম। পরীক্ষার ফলাফল ও গবেষণাকে প্রাধান্য না দিয়ে মেধা তলিকার নিচ থেকে টেনে এনে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল, প্রশ্নপত্র ফাঁস ইত্যাদির কারণে শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পেশাদারিত্ব এবং সততা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। বিশ্বমানের যে কোনো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অকল্পনীয়।</p>
<p>সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হল, ছাত্রসমাজের একটি বড় অংশ শিক্ষার চেয়ে রাজনীতিচর্চাকে মাত্রাধিক প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে ক্যাম্পাসে খুন, মারামারি, টেন্ডার বাণিজ্য ও ভোগ-দখলের ঘটনা ঘটছে অহরহ। </p>
<p>বিশ্বায়নের এই যুগে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর র‌্যাংকিং বাড়ানোর অন্য কোনো বিকল্প নেই। না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে পেছনেই পড়ে থাকবে। ইদানিং কোনো গবেষকের গবেষণার মান h-index, citation counts কিংবা journal impact factors এর মতো কিছু নির্ণায়ক দিয়ে পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের গবেষণার মান কতটুক, সেটা গুগলে একটি শব্দ টাইপ করেই নির্ধারণ করা সম্ভব। তাই অনলাইনের শক্তিকে এখন উপেক্ষা করার আর কোনো সুযোগ নেই। </p>
<p>আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার জন্য সবাইকে এখনই আটঘাট বেধে নামতে হবে। না হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একদিন কবি আল মাহমুদের ‘ডাকাতদের গ্রাম’ হয়ে বিশ্বের বুকে পরিচিতি পাবে। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/558/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/553</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/553#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Aug 2026 15:46:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=553</guid>

					<description><![CDATA[জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব বিশ্বের জন্য বর্তমান সময়ের সন্ত্রাসী ও জঙ্গী কর্মকাণ্ডের চেয়ে আরো বেশি হুমকি স্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট। পৃথিবীতে যে হারে জনসংখ্যা...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব বিশ্বের জন্য বর্তমান সময়ের সন্ত্রাসী ও জঙ্গী কর্মকাণ্ডের চেয়ে আরো বেশি হুমকি স্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট। পৃথিবীতে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিল্প কারখানা। শিল্প কারখানা থেকে নির্গত কার্বন অধিকহারে জলবায়ুতে মিশে যাবার কারণে বাড়ছে তাপমাত্রা। ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা না গেলে আগামী একুশ শতকের মধ্যে পরিস্থিতি অপরিবর্তনীয় দশায় চলে যাবে, যেখান থেকে আর ফেরার কোনো পথ থাকবে না। </p>
<p>শিল্পবিপ্লবের পরই মূলত বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়তে থাকে। ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো হচ্ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরোকার্বণ, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১৯৫০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শিল্পোন্নত দেশগুলোর কারণে পৃথিবীতে মোট কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ। তবে বিশ্বের প্রধান কার্বন দূষণকারীদের তুলনায় বাংলাদেশের নিঃসরণের পরিমাণ খুবই নগন্য যেমন মাত্র ০.১৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের জনপ্রতি কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমনের হার হচ্ছে মাত্র ০.৪ টন। </p>
<p>বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহের মাত্রার উত্তরোত্তর বৃদ্ধির ফলে সূর্য থেকে যে তাপ পৃথিবীতে আসে, তার কিছু আর ফিরে যেতে পারে না, যার কারণে পৃথিবী উষ্ণ হচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য একদিকে সমুদ্রের পানির যেমন তাপগত স্ফীতি ঘটছে তেমনি আবার গ্রিনল্যান্ড এবং এন্টার্কটিকার বরফ গলনের ফলে সমুদ্রস্তরের উচ্চতাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। বায়ুমন্ডলে যে কার্বন নিঃসরণ হয় তার এক তৃতীয়াংশ সমুদ্রের পানি শুষে নেয়। কিন্তু উষ্ণতা বেড়ে যাবার ফলে সমুদ্রের পানির কার্বন গ্যাস ধারণ করার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, ফলে যে সব কার্বন গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত ছিল তা আবারো বায়ুমন্ডলে ফিরে আসছে। বিজ্ঞানীদের মতে গ্রিনল্যান্ডের সব বরফ যদি গলে যায় তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬ মিটার বেড়ে যাবে। কি ভয়ানক কথা! আইপিসিসি’র নতুন জলবায়ু মডেলের হিসাব মতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০০৭ সালের হিসাবের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি হারে বেড়ে চলেছে। এইভাবে চললে এই শতকের শেষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সর্বোচ্চ ১ মিটার পর্যন্ত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। </p>
<p>পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাপী বৈরী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় কখনো বেশি শীত আবার কখনো কম। কখনো গরমের মাত্রা যেমন বাড়ছে তেমনি তুমুল বৃষ্টিতে ভাসিয়ে নিচ্ছে সব। রাশিয়াতে ভয়ংকার দাবদাহ, নাইজেরিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি ইউরোপও ব্যাপক বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকায় আঘাত হেনেছে হ্যারিকেন স্যান্ডি। আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্য প্রচন্ড খরায় আক্রান্ত হচ্ছে যা গত ১০০ বছরে কখনো দেখা যায়নি। গত বছরের গ্রীষ্ম ছিল ব্রিটেনের সবচেয়ে জলসিক্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে যাবার ফলে অর্থনীতি এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ, দারিদ্রতা এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগসমূহ যেমন ম্যালেরিয়া এবং কলেরার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ হল আনুমানিক ২০০০ বিলিয়ন ডলার! </p>
<p>দুঃখজনক হলেও সত্য, জলবায়ু দুষণে বাংলাদেশের অবদান নগন্য হলেও জলবায়ু বিপর্যয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। জার্মানীর গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ ‘ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স’ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশেকে ৯ নম্বরে রাখা হয়েছে। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে পুয়ের্টোরিকো, শ্রীলঙ্কা ও ডোমিনিকার মতো দেশ। </p>
<p>জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছে তা এখন সংক্ষেপে তুলে ধরছি:</p>
<p>.	আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তাপমাত্রা ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা গত ৫৪ বছরের নিবন্ধিত তাপমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট মতে তাপমাত্রা ২.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেড়ে গেলে বাংলাদেশের ২৯ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন হবে। বাংলাদেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বোরো ধানের চাষের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ফলনের উপর প্রভাব ফেলবে, ধান উৎপাদন হ্রাস পাবে।</p>
<p>.	বিজ্ঞানীরা আশংকা করছেন বিশ্ব উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাষ্পীভবনের হার বেড়ে গিয়ে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে; বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে। বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, সাইক্লোন এখন বাংলাদেশে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটছে। ২০০৭ সালের সিডর, আইলা (২০০৯), ভিয়ারু (২০১৩) আর সম্প্রতি কোমেনের মতো সাইক্লোন একে একে আঘাত হানছে বাংলাদেশে। </p>
<p>.	গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সাগরে নিম্নচাপ বেশি থাকার কারণে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরে নিম্নচাপ বাড়ার মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। আইপিসিসি উদ্ভাবিত জলবায়ু মডেল নির্দেশ করছে যে, বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০-১৫ শতাংশ অধিক বৃষ্টিপাত হবে এবং বৃষ্টিপাতের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাবে। গত তিন দশকের বৃষ্টিপাত নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বৃষ্টিপাত বছরে প্রায় ৩ মিলিমিটার হারে বৃদ্ধি পাবে। এটা নগর পরিকল্পনাবিদ এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জন্য দুঃসংবাদই বটে। কারণ আসছে বছরগুলোতে বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে শহরে জলবদ্ধতা আরো বেড়ে যাবার আশংকা রয়েছে। </p>
<p>.	বৈরী জলবায়ু পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্রে। বিশেষত শীত ও বর্ষা ঋতু তাদের বৈশিষ্ট হারাতে বসেছে। শীতকাল শুরু হচ্ছে দেরিতে আবার তার স্থিতিকালও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে অনাকাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি এখন সাধারণ ব্যাপার।</p>
<p>.	বন্যা, ঝড়ের প্রকোপ এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অসুখ-বিসুখ ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের দেশে। বিঘ্নিত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য।</p>
<p>.	গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় অবস্থিত বদ্বীপীয় ভূমি হিসেবে বাংলাদেশের একটি বিশাল এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে জলমগ্ন হবে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কি হারে বাড়ছে সে নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা থেকে নানারকম ফলাফল বেরিয়ে আসছে। যেমন আইপিসিসির মতে, ২১০০ সালের শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বেড়ে যাবে। আর তাই যদি হয়, বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ডের ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে এবং তাতে প্রায় ২ কোটি মানুষ বসতবাড়ি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।</p>
<p>.	ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর জন পেথিক বাংলাদেশে সুমদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এই শতকের শেষে প্রায় ৪ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি বলে দাবি করেছেন। তবে আমেরিকার রুটগার এনার্জি ইন্সিটিটিউটের বিজ্ঞানী রবার্ট কপ প্রতিবেশী দেশ ভারতের তথ্য-উপাত্ত গবেষণা করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার ছাড়িয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যা আইপসিসিরি ভবিষ্যদ্বাণীর অনুরূপ। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবদেনে বলা হয়, এই শতকের শেষে নয় বরং ২০৫০ সালের মধ্যেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। </p>
<p>.	বাংলাদেশের উপকূলে প্রতি বছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। গত ২০ বছরে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। সমুদ্রের পানি বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপাঞ্চলের মানুষ ঢাকায় আসতে বাধ্য হচ্ছে। </p>
<p>.	বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা সমুদ্র সমতল হতে মাত্র ১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের স্ফীতি সংক্রান্ত উপরের যে কোনো একটি ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হয় তার পরিণতি হতে পারে ভয়ংকার। তখন জলমগ্ন বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি মানুষের জন্য নতুন কোনো আবাসভূমি খুঁজতে হবে। রাজধানী ঢাকা শহর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ মিটার উঁচুতে অবস্থান করছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাজনিত কারণে ঢাকা শহরও আক্রান্ত হতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেছে। </p>
<p>.	ইউনেসকোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ৪৫ সেন্টিমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে সুন্দরবনের ৭৫% ডুবে যেতে পারে। ইতিমধ্যে সুন্দরবনের কিছু অংশ সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। সুন্দরবন সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনপদকে আগলে রাখার জন্য রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে। সুন্দরবন আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।</p>
<p>.	খাবারের পানির জন্য বাংলাদেশ ভূগর্র্ভস্থ ও নদীর পানির উপর নির্ভরশীল। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার জন্য নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির জলাধার লবণাক্ত করে ফেলছে লোনা পানি। ফলে খাবারের পানির ঘাটতি দেখা দেবে। বঙ্গোপসাগরের সাথে বাংলাদেশের রয়েছে ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলভাগ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে লোনাপানি উপকূলীয় এলাকার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কৃষিজমি, মিঠাপানির প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস করে ফেলবে। </p>
<p>.	জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা ব্যাপক হারে হ্রাস পাবে যা দারিদ্রতা বাড়িয়ে দেবে। বহু খরস্রোতা নদীই এখন সঙ্কীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে কৃষিকাজ ও চাষাবাদে। চাষাবাদের জমিও লবণাক্ত হয়ে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৬৫ সেন্টিমিটার সুমদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য দক্ষিণাঞ্চলে উর্বর উৎপাদনক্ষম জমি ৪০% শতাংশ হ্রাস পাবে। </p>
<p>.	জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বহু নদী ও খাল মরে যাবার ফলে দেশের জীববৈচিত্রও আজ হুমকির সম্মুখীন।</p>
<p>.	বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম হল বাংলাদেশ। যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনবসতি হল ১০৯০ জন। আর ঢাকা শহরের জনসংখ্যা এখন প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি। নিম্ন ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষিভিত্তিক আয় কমে যাবার ফলে শহরমুখী জনসংখ্যার চাপ বাড়তেই থাকবে। ফলে ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরতলীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হবে।</p>
<p>বাংলাদেশ বিশ্বের পুরো কার্বন দুষণের মাত্র ০.২ শতাংশের জন্য দায়ী। তাই অন্যান্য হেভিওয়েট দেশগুলো নিঃসরণ কমাবে সেই আশায় বসে না থেকে এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। বিকল্প জ্বালানী যেমন সৌর, বায়ুশক্তি এবং সহজলভ্য বায়োগ্যাসের কথা ভাবতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। গ্রহণ করতে হবে সমন্বিত জলবায়ু নীতি। কৃষি, শিল্প ও অবকাঠমোর মতো খাতগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য খাপ খাইয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে আগে থেকে সতর্কবার্তা পৌছে দিতে হবে। উদ্বাস্তুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে।</p>
<p>কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য জন্য গাছের কোনো বিকল্প নাই। গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহন করে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছেড়ে বৈশি^ক উষ্ণতা কমাতে সাহায্য করে। পৃথিবীর আনুমানিক ২৬% শতাংশ ভূখন্ড সবুজ আচ্ছাদন ও বনাঞ্চলে ঢাকা। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হলে পৃথিবীর ৪২ শতাংশ ভূমিতে সবুজ আচ্ছাদন গড়ে তুলতে হবে। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিশে^র বহু দেশ বৃক্ষরোপন অভিযান শুরু করেছে। </p>
<p>যেমন নিউজিল্যান্ড সরকার ১০০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছে। ফিলিপাইন নতুন একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী ১০টি গাছ না লাগালে তাকে ডিগ্রি দেয়া হবে না। সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন, দেশটি ২০০ কোটি গাছ লাগাবে। নরওয়েতে গাছ কাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে বনাঞ্চল উজাড় করে জনবসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশের বনভূমি কমতে কমতে এখন তিন ভাগের এক ভাগে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সহসা দেশব্যাপী গাছ লাগানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী হাতে নেয়া উচিত।</p>
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে দশ হাজার কোটি ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত অর্থের মাত্র এক দশমাংশ অর্থাৎ ১ হাজার কোটি ডলার দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশও এই অর্থের কিছু পেয়েছে। তবে জলবায়ু ফান্ডের টাকা যাতে সঠিক খাতে বরাদ্দ করা হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। </p>
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রুখতে বাংলাদেশ এককভাবে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারে না। এজন্য বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোর সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইদানিং পরিবেশ দূষণ করার জন্য উন্নতদেশগুলো যাতে অনুন্নত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যথার্থ ক্ষতিপুরণ দেয় তার জোরালো দাবি উঠেছে। শুধু তাই নয়, দাবি উঠেছে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য অভিবাসনের দ্বার খুলে দেয়ার। এমনকি যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি কার্বণ দূষণ করছে সেই সব দেশে বৈরী জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অভিপ্রয়াণ করার অধিকার আছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড ষ্টাডিস। তবে এজন্য বিশ্ব জনমতের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে যাতে ফেরানো যায় সেজন্য সচেষ্ট হতে হবে। </p>
<p>২০০৯ সালে মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশীদ বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সমুদ্রের প্রায় ৫ মিটার নিচে একটি ক্যাবিনেট মিটিংয়ের আয়োজন করে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সূচিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের সুন্দরবন। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এই সুন্দরবনের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। সুন্দরবনকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো যেতে পারে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/553/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চন্দ্র বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/550</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/550#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Aug 2026 15:19:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=550</guid>

					<description><![CDATA[২০১৯ সালের জুলাই মাসেই পূর্ণ হল মানুষের চন্দ্র বিজয়ের ৫০ বছর। অ্যাপোলো-১১ নামের মার্কিন মহাকাশযানে চেপে নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>২০১৯ সালের জুলাই মাসেই পূর্ণ হল মানুষের চন্দ্র বিজয়ের ৫০ বছর। অ্যাপোলো-১১ নামের মার্কিন মহাকাশযানে চেপে নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ঘটেছিল এই অভূতপূর্ব ঘটনা। </p>
<p>তখন ছিল না আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন কিংবা অসংখ্য স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল। বেতারে কান পেতে কিংবা জাতীয় টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে উন্মুখ অপেক্ষায় ছিল সবাই, কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, কখন চাঁদে পা রাখবেন নীল আর্মস্ট্রং! লুনার মডিউল ঈগল থেকে মই বেয়ে চাঁদের বুকে যখন নীল আর্মস্ট্রং পা রাখলেন, সেকি উচ্ছ্বাস চারদিকে! অবশেষে কল্পলোকের চাঁদের মাটি স্পর্শ করল মর্ত্যের মানুষ। </p>
<p>চাঁদে পা রেখে অভিভূত নীল আর্মস্ট্রং উচ্চারণ করলেন সেই কিংবদন্তি উদ্ধৃতি, ‘একজন মানুষের এই ছোট পদক্ষেপ মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা’। এই প্রথম কোনো ইস্যুতে সমগ্র মানবজাতিকে এককাট্টা হয়ে উল্লাসে মেতে উঠতে দেখলো বিশ্ব। তাই এ বিজয়কে আমেরিকার একক বিজয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। মানব ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায়ের যখন সূচনা হচ্ছিল, তখন আমি প্রাইমারীতে পড়ি। এই মহাকাশ যাত্রার খুটিনাটি বুঝার মতো বয়স যদিও ছিল না, তবে সাদাকালো টিভির পর্দায় নীল আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদের মাটিতে পা রাখার দৃশ্যটি স্মৃতিতে এখনো অম্লান। </p>
<p>উনিশ শতকের শুরু থেকে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রাধান্য পেয়েছ চাঁদ। চাঁদ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার আদিপুরুষ হলেন ইতালিয়ান বিজ্ঞানী গ্যালিলিও। ১৬০৯ সালে নিজের উদ্ভাবিত টেলিস্কোপ দিয়ে তিনি প্রথম চাঁদের পৃষ্ঠতল দেখতে পান। তবে মহাকাশ ও চাঁদ নিয়ে গবষেণায় আমেরিকার চেয়ে রাশিয়া ছিল বেশি এগিয়ে। মহাকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মানুষ পাঠানোর কৃতিত্ব সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের। চাঁদে প্রথম অভিযানও শুরু করে রাশিয়া। ১৯৫৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি লুনা-২ কৃত্রিম উপগ্রহ চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে। লুনা-২ হচ্ছে চাঁদে অবতরণকারী মনুষ্যনির্মিত প্রথম বস্তু। এরপর থেকেই বলতে গেলে চাঁদে মানুষ পাঠাতে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে রাশিয়া ও আমেরিকা। তবে এই প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয় আমেরিকা।</p>
<p>১৯৬১ সালের ২৫ মে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ষাট দশক শেষ হবার আগেই যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে মানুষ পাঠাবে বলে ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট যখন চন্দ্রাভিযানের কথা বললেন, তখন মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল সেটা ছিল একবারে অসম্ভব। চাঁদে পাড়ি দেয়ার জন্য বিশেষ কম্পিউটার, রকেট এবং অন্যান্য কি কি লাগতে পারে সেটাও ছিল মানুষের অজানা। ১৯৬১ সালের মে থেকে ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ের মধ্যে হাজারো সমস্যার সমাধান করে সেই অসাধ্য সাধন করেছে নাসা। এই অভিযান সফল করতে অ্যাপোলো মিশন প্রজেক্টে পারমাণবিক বোমা বানানোর চেয় তিন গুণ বেশি মানুষ কাজ করেছিল। </p>
<p>১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে অ্যাপোলো-১১ রকেটে চেপে নীল আর্মস্ট্রংদের যাত্রা শুরু হয়। মিশন অধিনায়ক আর্মস্ট্রংয়ের সহযাত্রী ছিলেন মাইকেল কলিন্স ও এডউইন অলড্রিন। যাত্রা শুরু হবার বার মিনিটের মধ্যে রকেট পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে যায় এবং শুরু হয় চাঁদের অভিমুখে মহাযাত্রা। তিন দিনের মাথায় ১৯ জুলাই অ্যাপোলো-১১ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে। চন্দ্রযানের প্রথম অংশ কমান্ড মডিউল চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে থাকে আর অপর অংশ লুনার মডিউল ২০ জুলাই চাঁদে অবতরণ করে। নভোচারীরা চাঁদের বুকে ছিলেন প্রায় সাড়ে একুশ ঘন্টা। ২৪ জুলাই চন্দ্র বিজয়ীরা ফিরে আসেন পৃথিবীতে। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় মানুষের প্রথম চন্দ্র অভিযান।</p>
<p>নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে নামার প্রায় ১৯ মিনিট পর তাঁর সহযাত্রী বাজ অলড্রিনও নেমে আসেন। নভোচারীরা চাঁদের বুকে তোলেন অসংখ্য ছবি, ব্যাগে পুরে নিয়ে নেন প্রায় ২২ কেজির মতো চাঁদের মাটি ও শিলা। মজার কথা হল, নভোচারীর বিখ্যাত বুটের যে ছবি আমরা দেখি সেটা কিন্তু আর্মস্টংয়ের চাঁদের বুকে রাখা প্রথম পদচিহ্ন নয়। এটা আর্মস্ট্রংয়ের ক্যামেরায় তোলা বাজ অলড্রিনের বুটের চিহ্ন। শুধু তাই নয়, চাঁদের বুকে নীল আর্মস্ট্রংয়ের সমুখ থেকে তোলা কোনো ছবি নেই। যে ছবিটা আমরা দেখি সেটা অলড্রিনের। অবশ্য আর্মস্ট্রংয়ের পেছন দিকে তোলা কয়েকটি ছবি রয়েছে।</p>
<p>অ্যাপালো-১১ যাত্রা করার তিন দিন আগেই চাঁদে অনুসন্ধান চালানোর জন্য সোভিয়েত রাশিয়া পাঠিয়েছিল মানুষবিহীন রোবটযান লুনা-১৫। আমেরিকার আগে চাঁদের মাটির নমুনা পৃথিবীতে এনে বিশ্বকে চমক দিতে চেয়েছিল আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া। মার্কিন নভোচারীরা যখন চাঁদের মাটিতে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন, তখন লুনা-১৫ চাঁদের চতুর্দিক প্রদক্ষিণ করছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বহু চেষ্টা করেও লুনা-১৫-কে চাঁদে নামাতে পারেননি। </p>
<p>চাঁদের বুকে নভোচারীরা রেখে আসেন কিছু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, আমেরিকার পতাকা, পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের মানচিত্র এবং একটি ক্ষুদ্র সিলিকন মেসেজ ডিস্ক, যার মধ্যে রেকর্ড করা আছে পৃথিবীর ৭৩টি দেশের প্রধানসহ আমেরিকার কয়েকজন প্রেসিডেন্টের বাণী। দেড় ইঞ্চি ব্যাসের এই ডিস্ক এমন টেকসই করে তৈরি করা হয়েছে যে তা হাজার বছরেরও বেশি সময় চাঁদের বুকে টিকে থাকবে। </p>
<p>চাঁদে ভ্রমণকারী নভোচারীদের অনেকেই চাঁদে এলিয়েন বা বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব থাকার দাবি করছেন বলে জানা যায়। এর মধ্য বাজ অলড্রিন এবং অ্যাপোলো-১৪ তে চেপে চাঁদে যাওয়া নভোচারী এডগার মিশেল অন্যতম। বাজ অলড্রিন চাঁদের পৃষ্ঠে অ্যাপোলো-১১ নভোযানকে ঘিরে বেশ কিছু রহস্যময় আলোর বস্তুকে ঘুরতে দেখেন বলে দাবি করেন। যদিও এর পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, চাঁদের বুকে রেখে আসা স্মারকচিহ্নগুলো একদিন উন্নততর কোনো সভ্যতার এলিয়েনদের চোখে পড়বে। তখন পৃথিবীর মানচিত্র দেখে তারা মানবজাতির সাথে যোগাযোগ করতে সচেষ্ট হবে।</p>
<p>চাঁদ যে গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, ঠিক সেই গতিতে নিজের অক্ষের উপর ঘুরে বলে চাঁদের একটি পিঠই পৃথিবী থেকে আমরা দেখতে পাই, যা চাঁদের ভূপৃষ্ঠের ৫৯ শতাংশ। আমাদের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে যাওয়া বাকি ৪১% অংশকে ডার্ক সাইড বলা হয়। মহাকাশ গবেষণায় প্রথমে কিছুটা অমনোযাগী থাকলেও, পৃথিবীর অন্য এক পরাশক্তি চীন আর পিছিয়ে থাকতে চায়নি। এ বছরের শুরুতে ৩ জানুয়ারি চাঁদের যে অংশটি পৃথিবী থেকে দেখা যায় না, সেই দিকে মনুষ্যবিহীন রোবটযান চ্যাঙ-ই ৪ নামিয়েছে চীন। চন্দ্রপৃষ্ঠে একটি জীবমন্ডল স্থাপন করে ওই চন্দ্রযানটি সেখানে একটি চারা গাছ রোপন করে। এছাড়া ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে চীন। অন্যদিকে জাপান চাঁদের মেরুতে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে।</p>
<p>অপয়া অ্যাপোলো-১৩ বাদ দিয়ে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত মোট ৬ বার এপোলো মিশনের মাধ্যমে চাঁদের বুকে মানুষের পা পড়ে। কিন্তু সেই থেকে নাসা আর কোনো চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেনি। কিন্তু চীনের চাঁদে মানুষ পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে আমেরিকা ও নাসা। ষাট দশকের মতো একুশ শতকেও সবার আগে চাঁদে মানুষ পাঠাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে আমেরিকা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আবারো চাঁদে নভোচারী পাঠাবে বলে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন। </p>
<p>দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর আমেরিকা ও রাশিয়ার মিত্রদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শেষ হলেও সংঘাতে ভরা পৃথিবীতে দিকে দিকে এখন চলছে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা। পরাশক্তিগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেতে আছে প্রক্সি যুদ্ধে। তবে আমেরিকার আবারো চাঁদে মানুষ পাঠানোর সংকল্প দেখে মনে হচ্ছে ষাট দশকের মতো মহাকাশকেন্দ্রিক প্রতিযাগিতা আবার জমে উঠেবে। উন্নত দেশগুলোর বহু কোম্পানি চাঁদে খনি অভিযান চালিয়ে সোনা, প্ল্যাটিনামের মতো দুর্লভ ধাতু আরোহন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। </p>
<p>অ্যাপোলো-১১-এর চাঁদে অবতরণ বিশ শতকের সবচেয়ে সেরা অর্জন। দ্রুতগতির কম্পিউটার, মাইক্রোচিপ তৈরির মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ওই সময়। অ্যাপোলো মিশন একতাবদ্ধ করেছিলে সমগ্র মানবজাতিকে। তাই মহাকাশ গবেষণায় সুস্থ প্রতিযোগিতা বিশ্বের জন্যকল্যাণ বয়ে আনতে পারে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/550/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যমজ পৃথিবীর সন্ধানে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/546</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/546#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Aug 2026 08:52:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=546</guid>

					<description><![CDATA[মহাবিশ্বে নিজেদের একা ভাবতে চায় না মানুষ। ত্রিজগতের কোথাও না কোথাও আমাদের মতো কিংবা আমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী রয়েছে এমন ধারণা পোষণ করেন বহু জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষক। ভেবে দেখুন,...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহাবিশ্বে নিজেদের একা ভাবতে চায় না মানুষ। ত্রিজগতের কোথাও না কোথাও আমাদের মতো কিংবা আমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী রয়েছে এমন ধারণা পোষণ করেন বহু জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষক। </p>
<p>ভেবে দেখুন, আমরা সূর্যের যে দিকে আছি, তার ঠিক উল্টো দিকে রয়েছে আমাদের পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহ। বায়ুমন্ডল, সমুদ্র পরিবেষ্টিত এই গ্রহে বসবাস করছে আমাদের মতোই কোনো মনুষ্য প্রজাতি। আমাদের মতো তারাও প্রতিদিন দেখছে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, চাঁদ আর তারকারাজি। পৃথিবীর মতো সূর্য থেকে একই দূরত্বে থাকলেও সূর্যের ঠিক উল্টোদিকে থাকায় এই গ্রহটিকে কখনোই আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব হয় না। যেমন আমাদের দেখা হয় না চাঁদের অন্য পিঠ। অবিকল পৃথিবীর মতো হওয়ায় এই রহস্যময় গ্রহটিকে বলা হয় যমজ পৃথিবী। </p>
<p>যমজ পৃথিবী নিয়ে মানুষের উৎসুক্যের সীমা নেই। আধুনিক দূরবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে যেমন বিজ্ঞানীরা চষে বেড়াচ্ছেন মহাকাশ, চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষণা; ঠিক তেমনি যমজ পৃথিবীর ধারণা নিয়ে রচিত হচ্ছে কল্প-বিজ্ঞান উপন্যাস, কার্টুন, টেলিভিশন সিরিজ ও হলিউড চলচ্চিত্র। বাংলাদেশে কল্প-বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার পথিকৃৎ আনোয়ার হোসেনের গল্পেও যমজ পৃথিবীর কথা রয়েছে। </p>
<p>পৃথিবী সূর্যের খুব কাছাকাছি না আবার সূর্য থেকে খুব বেশি দূরেও না। সূর্য থেকে পৃথিবী আজ যে দূরত্বে রয়েছে, তার চেয়ে কাছে থাকলে সূর্যের প্রখর উত্তাপে ভূপৃষ্ঠের সব পানি যেমন শুকিয়ে যেতো, ঠিক তেমনি কক্ষপথ থেকে একটু দূরে সরে থাকলে ঠান্ডায় পৃথিবী হয়তো বরফেই ঢেকে থাকত। তাই যেসব গ্রহ তাদের নক্ষত্র বা সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীর মতো একই দূরত্বে রয়েছে, পরিমিত তাপমাত্রার কারণে সেই গ্রহগুলোর পিঠে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে। পানি হচ্ছে জীবনের মূল আধার। তাই পানি থাকলে সেসব জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। নক্ষত্রকে ঘিরে প্রাণের উপযোগী যে বিশেষ এলাকা, তা জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘গোল্ডিলক জোন’ নামে পরিচিত। এই এলাকায় ভাসমান জীবন ধারণের উপযোগী গ্রহকে বলা হয় গোল্ডিলক প্ল্যানেট। </p>
<p>২০০৯ সালে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা (নাসা) কেপলার নামের একটি টেলিস্কোপ মহাশূন্যে উৎক্ষেপন করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী কেপলারের নামে রাখা এই টেলিস্কোপের কাজ হচ্ছে সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য গ্রহ খুঁজে বের করা এবং সেই গ্রহটি পৃথিবীর মতো কিনা তা বিশ্লেষণ করা। নক্ষত্র থেকে বিচ্ছুরিত তীব্র আলোয় ঢেকে পড়া বহু হাজার কোটি গুণ নিষ্প্রভ গ্রহ সনাক্ত করা সহজ কথা নয়। যা অনেকটা মিলিয়ন ভোল্টের সার্চ লাইটের আলোতে ২০ কিলোমিটার দূরে আকাশে ভাসমান জোনাকি পোকা সনাক্ত করার মতো। কেপলার টেলিস্কোপ এই দুঃসাহসিক কাজই করে চলেছে। </p>
<p>কেপলার আবিষ্কৃত গ্রহগুলোর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করে। যেমন গ্রহটি কত দিন পর পর তার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় কত বড়, গ্রহটি তার সূর্য থেকে আসা রশ্মিকে কি পরিমাণ ঢেকে দিচ্ছে, গ্রহটি গোল্ডিলক জোনের মধ্যে আছে কিনা ইত্যাদি। এখন কোনো গ্রহ যদি তার সূর্যকে এক বছর বা তার কাছাকাছি সময়ে একবার প্রদক্ষিণ করে তাহলে সেই গ্রহটি পৃথিবীর মতো হওয়ার সম্ভবনা খুব বেশি।</p>
<p>আকাশে তোলার পর কেপলার টেলিস্কোপ আমাদের ছায়াপথ ‘মিল্কি ওয়ে’তে প্রাণ থাকার উপযোগী কোনো গ্রহ আছে কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য সিগনাস নক্ষত্রপুঞ্জের নক্ষত্ররাজি নিরীক্ষা করতে থাকে। ২০০৯ সাল থেকে প্রায় দেড় লক্ষ নক্ষত্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার পর আজ পর্যন্ত ৪,৬০০টি ভিন গ্রহের সন্ধান পেয়েছে কেপলার। তার মধ্যে সূর্যের মতো অন্য কোনো নক্ষত্রের চারদিকে ঘুর্ণায়মান পঞ্চাশটিরও বেশি পৃথিবী সাদৃশ গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কয়েকটি গ্রহের বৈশিষ্ট এখন তুলে ধরছি।</p>
<p>২০১১ সালের ডিসেম্বরে পৃথিবী থেকে ৬০০ আলোকবর্ষ দূরে কেপলার-২২বি নামক গ্রহের হদিস মেলে। উল্লেখ্য, এক আলোকবর্ষ ৯৪৪ হাজার কোটি কিলোমিটারের সমতুল্য! পৃথিবীর বিভিন্ন বৈশিষ্টের সাথে এর মিল রয়েছে। কেপলার-২২বি সূর্যের মতোই একটি নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে চলেছে। সেই নক্ষত্রকে এক পাক দিতে গ্রহটির সময় লাগছে ২৯০ দিন। পৃথিবীর সময় লাগছে ৩৬৫ দিন। কেপলার-২২বি তার সূর্য থেকে অনেকটা আমাদের পৃথিবীর মতোই দূরত্বে রয়েছে। </p>
<p>এই গ্রহটির বায়ুমন্ডলের আনুমানিক তাপমাত্রা হল ২২ ডিগি সেলসিয়াস। যা পৃথিবীর তাপমাত্রার কাছাকাছি। আয়তনে গ্রহটি পৃথিবীর চেয়ে ২.৪ গুণ বড়। পৃথিবীর সাথে এতটা মিল থাকায় বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, কেপলার-২২বি গ্রহে শুধু পানি বা বায়ুমন্ডলই নয় সেই সাথে প্রাণের বিকাশেরও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবিস্কারে উদ্দীপ্ত হয়ে অনেক বিজ্ঞানী এটিকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এই গ্রহটি কঠিন গ্যাসীয় না তরল সে নিয়ে বিজ্ঞানীর এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। এছাড়া মনুষ্য বসবাসের জন্য এই গ্রহে সাগর, মাছ, বিভিন্ন ধরনের পশু, পক্ষী এবং গাছপালা আছে কিনা সেই ব্যাপারে বিশদ জানা এখনো বাকি। </p>
<p>২০১৫ সালের জানুয়ারিতে জীবনধারণের উপযোগী আরো দু’টি গ্রহের সন্ধান দেয় কেপলার। প্রথম গ্রহটির নাম কেপলার-৪৩৮বি, দ্বিতীয় গ্রহটি হচ্ছে কেপলার-৪৩২বি। কেপলার-৪৩৮বি পৃথিবী থেকে ৪৭০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং নিজের নক্ষত্রকে প্রতি ৩৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করছে। গ্রহটি আকারে পৃথিবীর চেয়ে ১২ শতাংশ বড়। অন্যদিকে পৃথিবী থেকে কেপলার-৪৩২বি গ্রহের দূরত্ব হল ১,১০০ আলোকবর্ষ। নিজের নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ১১২ দিন। এটি আকারে পৃথিবীর চেয়ে ৩০ গুণ বড়। দুইটি গ্রহই পাথুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওখানে মানুষ বসবাস করতে পারবে কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। </p>
<p>২০১৫ সালের জুলাই মাসে পৃথিবীর চেয়ে পাঁচ গুণ বড় কেপলার-৪৫২বি নামের আরেকটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া যায়। পৃৃথিবী থেকে প্রায় ১৪০০ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই গ্রহটি পাথুরে এবং ঘন বায়ুমন্ডল পরিবেষ্টিত। এতে রয়েছে প্রচুর পানি এবং আগ্নেয়গিরি। এই গ্রহটি নিজের কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় নেয় ৩৮৪ দিন যা পৃথিবীর তুলনায় মাত্র ১৯ দিন বেশি। আর যে সূর্য বা নক্ষত্রকে পরিভ্রমণ করছে সেটা আমাদের সূর্যের তুলনায় ১০% বড় এবং ২০% বেশি উজ্জ্বল। </p>
<p>উপরের যে সব গ্রহের কথা বললাম, তার সব কটাই আমাদের সৌরজগতের ত্রিসীমানার মধ্যে নেই। আলোর গতিতে না চললে বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে আমাদের সৌরমন্ডলের বাইরে ভেসে বেড়ানো এসব গ্রহের কাছে ধারেই যাওয়া যাবে না। কিন্তু ২০১৬ সালে জার্মান বিজ্ঞান সাময়িকীর একটি খবর মহাকাশ গবেষকদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়, পৃথিবী থেকে মাত্র ৪.২৪ আলোকবর্ষ দূরে প্রক্সিমা সেন্টরি নামের নক্ষত্রকে ঘুরপাক খাওয়া একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার মানে আলোর ২০ শতাংশ গতিতে ছুটে চললে পৃথিবী থেকে ওই গ্রহে যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ বছর। বিজ্ঞানীদের বিশ^াস, আগামীতে এই গতি সম্পন্ন মাহকাশযান মানুষ তৈরি করতে সমর্থ হবে। এছাড়া আমাদের সৌরমন্ডলের কাছে ধারেই ৪.৩ আলোবকবর্ষ দূরে রয়েছে আলফা সেন্টরি এ এবং বি নামের দুটো নক্ষত্র। এই দুটো তারকার গোল্ডিলক জোনে আবাসযোগ্য গ্রহ থাকার সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ। তাই এই গ্রহ সম্পর্কে আরো জানতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সবাই।</p>
<p>কেপলার উৎক্ষেপনের আগে ১৯৯০ সালে মহাশূন্যে পাঠানো হয় দূরবিক্ষণ যন্ত্র হাবল টেলিস্কোপ। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের আয়ত্তে থেকে ৬০০ মাইল উপর থেকে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছিল হাবল টেলিস্কোপ। অন্যদিকে কেপলার টেলিস্কোপ ঘুরছে সূর্যের চারদিক, নজর রাখছে আমাদের সৌরজগত ছাড়িয়ে বহুদূরে মিল্কিওয়ে ছায়াপথের নক্ষত্রপুঞ্জে। </p>
<p>কেপলার মিশনের আগে পৃথিবী সাদৃশ গ্রহ কিংবা যমজ পৃথিবীর অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের জ্ঞান ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু কেপলার টেলিস্কোপ হাজারো গ্রহের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। কেপলার মিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, কেবল মিল্কিওয়ে ছায়াপথেই বাসযোগ্য গ্রহের সংখ্যা পৃথিবীর জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। জ্যোতির্বিদদের মতে, সৌরজগতের বাইরে গড়ে দুটি তারার মধ্যে অন্তত একটিতে পৃথিবীর মতো গ্রহ থাকতে পারে। এই মহাবিশ্বে ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির সংখ্যা যদি আনুমানিক ১০০ কোটিরও বেশি হয়, তাহলে মহাবিশ্বে যমজ পৃথিবীর সংখ্যা যে কত হতে পারে তা কল্পনা করাও কঠিন। </p>
<p>মানুষ থেমে নেই, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে দুর্বার গতিতে। কেপলার মিশনের সাফল্য এই ব্রহ্মান্ডে যে আমরা একা নই, সেই বিশ্বাসকে আরো জোরালো করেছে। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/546/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রকৌশল শিক্ষায় অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/542</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/542#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Aug 2026 08:39:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=542</guid>

					<description><![CDATA[ডিজিটাল যুগে বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশের প্রকৌশলীরা আর দেশে বসে নেই। অন্তর্জালের মাধ্যমে চাকরি নিয়ে অনেকে ছুটে চলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। দক্ষতার সাথে কাজ করে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডিজিটাল যুগে বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশের প্রকৌশলীরা আর দেশে বসে নেই। অন্তর্জালের মাধ্যমে চাকরি নিয়ে অনেকে ছুটে চলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। দক্ষতার সাথে কাজ করে সাফল্য অর্জন করছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। এছাড়া আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরাও অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশে^র নামকরা বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। তবে এজন্য আমাদের অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হচ্ছে। </p>
<p>আমাদের দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেয়া ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতার অভাব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ারদের বিদেশে কর্মসংস্থানের বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বের খ্যাতিমান সংস্থা থেকে অ্যাক্রেডিটেশন (Accreditation) অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কারিগরী শিক্ষার অ্যাক্রেডিটেশনের-এর জন্য যেমন রয়েছে BAETE (Board of Accreditation for Engineering and Technical Education); তেমনি অ্যাক্রেডিটেশনের-এর জন্য বিশ্বের দু’টি খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান হল আমেরিকার ABET (Incorporated as the Accreditation Board for Engineering and Technology, Inc.,) এবং জাপানের JABEE (Japan Accreditation Board for Engineering Education).</p>
<p>ব্যবহারিক বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ট্যাকনোলজিতে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ABET। গত সাত দশক ধরে বিশ্বব্যাপী উন্নত শিক্ষার মান প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ABET। এটা মূলতঃ আমেরিকার প্রতিষ্ঠান হলেও বিশ্বের ২৯টি দেশের প্রায় সাতশ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ABET-এর সনদভুক্ত। এবেট-এর সনদপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রাজুয়েটদের ব্রিটেন এবং আমেরিকার মতো দেশের ভালো ভালো বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বিশেষ বেগ পেতে হয় না। তারা সহজেই অনেক বিষয়ের ক্রেডিট ট্রান্সফারও করতে পারে।</p>
<p>অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার রয়েছে বিভিন্ন ধাপ। একটি নির্দিষ্ট ফি দিয়ে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হয় যা সম্পন্ন করতে শুরু থেকে শেষ পর্যস্ত প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। কোনো প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশন পাবার জন্য দরখাস্ত করলে ABET-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আসে। অতঃপর প্রতিষ্ঠানটির সিলেবাস, পাঠ্যপুস্তক, লাইব্রেরি, ক্লাসরুমে শিক্ষাদান পদ্ধতি ইত্যাদি যাচাই করে তবেই অ্যাক্রেডিটেশন পাবে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিক্ষার্থী এবং গ্রাজুয়েটদের মান নির্ভর করে শিক্ষকরা কি শিখাচ্ছেন এবং কিভাবে শিক্ষাদান করছেন তার উপর। শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং শিক্ষাদান পদ্ধতির উপর তাই এবেট খুব জোর দেয়। শিক্ষকরা এবেটের নির্ধারিত মান বহাল রাখছেন কিনা সেজন্য তাদের নিয়মিত স্ব-মূল্যায়নের রিপোর্ট জমা দিতে হয়।</p>
<p>যদিও অ্যাক্রেডিটেশন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া এবং এজন্য বিভিন্ন ফি বাবদ অর্থ ব্যয়ও করতে হয়, তবে অর্থ দিয়ে এর মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশন পেলে মনে করা হয় ওই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক এবং গ্রাজুয়েটদের মান একটি বিশেষ উচ্চতা অর্জন করেছে যা বিশ্বের অন্যান্য খাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা নিয়ে কারো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে না। অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠানটির সাথে জড়িত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সর্বোপরি সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। </p>
<p>যেমন অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া ছাত্রদের নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ডিগ্রির উপর আস্থা বাড়ায়। নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং ডিগ্রি আন্তর্জাতিক মানদন্ডে স্বীকৃত; এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত পরিতৃপ্তিকর অনুভূতি। বাংলাদেশের অনেক ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন। বিদেশের ভালো বিশ্বদ্যিালয়ে ভর্তি এবং প্রয়োজনে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সময় অ্যাক্রেডিটেশন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিশেষ সুবিধা পায়। ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পারলে কোর্সের ফি বাবদ অনেক টাকার সাশ্রয় হয়। অন্যদিকে অ্যাক্রেডিটেশনপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালগুলো ভালো ছাত্র আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়।</p>
<p>বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা বহু গ্রাজুয়েট চাকরি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। অ্যাক্রেডিটেশনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নতমানের শিক্ষা প্রদান করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা গ্রাজুয়েট হচ্ছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর বিশ্বব্যাপী চাকরিদাতারা আস্থা রাখেন এবং চাকরির ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেন। </p>
<p>বাংলাদেশে রয়েছে Bangladesh Professional Engineers Registration Board (BPERB)। ২০১১ সালে একটি স্বয়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে এই বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ড বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় কাজ করার জন্য Professional Engineer (PEng.) সার্টিফিকেশন দিয়ে থাকে। একজন পেশাদার প্রকৌশলীকে তার কারিগরী জ্ঞান এবং দক্ষতা নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করতে হয় যাকে বলা হয় Continuing Professional Development (CPD). উদাহরণস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ায় চাটার্ড প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং (CPENG.) সর্টিফিকেশন বহাল রাখার জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর ঈচউ চৎড়ভরষব হালনাগাদ করতে হয়, না হলে সার্টিফিকেট বাতিল হয়ে যায়। বাংলাদেশেও এ ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত যাতে প্রকৌশলীরা নিজের পেশাগত যোগ্যতা সমুন্নত রাখার জন্য সতর্ক থাকেন। উন্নত বিশ্বের অন্যান্য পেশাদার সংগঠনের মতো CPD Development-এর জন্য BPERB’র কিছু সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম থাকা দরকার।</p>
<p>বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রেডিটেশন না থাকায় প্রকৌশলীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। প্রবাসে চাকরিতে দরখাস্ত করলে চাকরিতাদা কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের ডিগ্রি ও শিক্ষার মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। </p>
<p>আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য উন্নত দেশের প্রকৌশলীদের পেশাদার সংগঠনগুলোর সাথে সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়নো অত্যন্ত জরুরি। ইঞ্জিনিয়ার্স অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, হংকং, আয়ারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, আমেরিকাসহ বেশ কিছু দেশের সাথে পারস্পরিক স্বীকৃতিমূলক চুক্তি করেছে ফলে ওইসব দেশের প্রকৌশলীরা ইঞ্জিনিয়ার্স অস্ট্রেলিয়ার সমমানের সদস্যপদ পায়। এজন্য কোনো বিশেষ পরীক্ষা দেয়া কিংবা ডিগি অ্যাসেসম্যান্ট করাতে হয় না। আইইবি এ নিয়ে ভাবতে পারে। বাংলাদেশ এখন International Engineering Alliance (IEA) এবং International Professional Engineers Agreement (IntPE) এর প্রভিশনাল সদস্যপদ পেয়েছে। পূর্ণ সদস্যপদ পেলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা অনেক এগিয়ে যাবে। </p>
<p>আশার কথা হল, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আগামী জুন ২০২০ থেকে বাংলাদেশ ওয়াশিংটন অ্যাকোর্ডের পূর্ণ স্বাক্ষরকারীর মর্যাদা পাচ্ছে। তার মানে জুন’২০ থেকে আমাদের প্রকৌশলীদের degree assessment এর জন্য অন্য কোনো দেশের দ্বারস্থ হতে হবে না, ঢাকার আইইবি’তেই তা করা হবে। ওয়াশিংটন অ্যাকোর্ডে স্বাক্ষরকারী অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার মতো দেশগুলো এখন আইইবি’র assessment গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। যেমন ইঞ্জিনিয়ার্স অস্ট্রেলিয়ার সদস্য হবার জন্য Competency Demonstration Report (CDR) লিখে বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের ব্যাচেলর ডিগ্রির মূল্যায়ন করতে হবে না। সরাসরি সদস্য হতে পারবেন। এই অর্জন হাজারো বাংলাদেশী প্রকৌশলীর উচ্চশিক্ষা, অভিবাসনসহ স্বপ্ন পূরণের দুয়ার খুলে দেবে। উল্লেখ্য, আইইবি অস্ট্রেলিয়া চ্যাপ্টারের নেতৃত্ব এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টার জন্যই বলতে গেলে এটা সম্ভব হয়েছে। সাথে কেন্দ্রীয় আইইবি প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী সবুরের অকুন্ঠ সহযোগিতা তো ছিলই। এই সফলতার জন্য যেসব প্রকৌশলী কাজ করেছেন তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।</p>
<p>এই স্বীকৃতি পাবার পর আইইবি এবং বিএইটিএ-এর দায়িত্ব আরো অনেক বেড়ে গেল। অ্যাক্রিডেটশনের সুনাম যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিএইটিএ’র অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে যাতে অ্যাক্রিডিটেশনের মান সমুন্নত থাকে। এছাড়া বিএইটিএ যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করে অনুমোদন দিচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখতে হবে। আগামীতে আইবি এবং বিএইটিএ-কে ওয়াশিংটন অ্যাকোর্ড অনুসরণ করা হচ্ছে সে বিষয়েও কঠোর হতে হবে, না হলে অডিটে ধরা পড়ার আশংকা রয়েছে।</p>
<p>শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র‌্যাংকিং অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সংযুক্ত। বিশ্ব র‌্যাংকিং-এ জায়গা করে নিতে গেলে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাক্রেডিটেশন নেয়া আবশ্যক। যদিও অ্যাক্রেডিটেশন একটি বেশ কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া; কিন্তু আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য এর কোনা বিকল্প নেই।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/542/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে হাতে রয়েছে মাত্র ১২ বছর</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/539</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/539#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 Aug 2026 09:34:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=539</guid>

					<description><![CDATA[জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার পরিষদের (আইপিসিসি) একটি বিশেষ রিপোর্টে দেয়া হয়েছে কঠিন সতর্কবার্তা—পৃথিবীকে আবাসযোগ্য রাখতে হলে আমাদের হাতে রয়েছে মাত্র ১২ বছর। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে বলা...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার পরিষদের (আইপিসিসি) একটি বিশেষ রিপোর্টে দেয়া হয়েছে কঠিন সতর্কবার্তা—পৃথিবীকে আবাসযোগ্য রাখতে হলে আমাদের হাতে রয়েছে মাত্র ১২ বছর। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী এক যুগের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে রাখা না গেলে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হব আমরা। পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী বৈরী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অর্থনীতি এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে কৃষির উৎপাদনশীলতা ব্যাপক হারে হ্রাস পাচ্ছে, বেড়ে গেছে দারিদ্রতা ও মানুষের দুর্ভোগ। </p>
<p>বৈশি^ক তাপমাত্রা আর মাত্র ০.৫ ডিগ্রি বেড়ে গেলেই বিশ^জুড়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাপামাত্রার এই সামান্য হেরফেরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’সহ সমুদ্রের কোরাল প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং আর্কটিক অঞ্চলে বরফের গলন বহু গুণ বেড়ে যাবে। সুপেয় পানি লভ্যতা ৫০% শতাংশ কমে যাবে। বিশ্বজুড়ে বনাঞ্চলের দাবানল বেড়ে গিয়ে তাপ-জনিত মৃত্যুর সংখ্য বেড়ে যাবে। কৃষিখাতে শস্য ও ফসলের পরাগায়ণে সহায়ক পোকা-মাকড়ের আবাস ৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে, যা কৃষিখাতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমশ যাচ্ছে কমে এবং বেড়ে যাচ্ছে অম্লত্ব। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ২ ডিগ্রি হলে, সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ ৩০ লক্ষ টন কমে যাবে। </p>
<p>জলবায়ু সংক্রান্ত আইপিসিসি’র এই রিপোর্টে আসন্ন বিপর্যয় উপশমের লক্ষ্যে ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের প্যারিস চুক্তিতে বৈশি^ক তামপাত্রা ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। পৃথিবীর অন্যতম কার্বন দূষণকারী দেশ আমেরিকায় ক্ষমতায় এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো জলবায়ুবিদ্বেষী প্রেসিডেন্ট। যিনি ঘরোয়া রাজনীতিতে ফায়দার জন্য বিশ্ব মানবতার ভবিষ্যতকে জলাঞ্জলি দিতে এতটুকু কুন্ঠিত নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে ধাপ্পাবাজি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে তিনি সরে এসেছেন। আমেরিকার পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো ধরনের পরিভাষা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করেছেন। আমেরিকার সাম্প্রতিক বিধ্বংসী হ্যারিকেন, কেপ টাউনের খরা, আর্কটিক বনাঞ্চলের তীব্র দাবানল ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনেরই ঈঙ্গিত বহন করে। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘুম ভাঙ্গছে না। </p>
<p>জীবাশ্ম জ্বালানী দ্বারা সৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাস, বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত এবং প্রমাণিত। অথচ সেই জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার যে শুধু বেড়েই চলেছে তা নয়, জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবসায়ীরা দেশে দেশে রাজিনীতিতে প্রভাব খাটাচ্ছে। নিজেদের পছন্দের রাজনীতিকরা যাতে ক্ষমতায় আসে সেজন্য প্রচুর অর্থ ঢালছে। এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট উগ্র ডানপন্থি জায়ার নলসোনারো ট্রাম্পের মতো প্যারিস জলবায়ূু চুক্তি থেকে থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া আমাজনের ঘনবর্ষন বনাঞ্চল কৃষি ও খনি কাজের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে তাঁর অন্যতম এজেন্ডা। তাই সঙ্গত কারণেই ব্রাজিলে জায়ারের বিজয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চরম উচ্ছ্বসিত করেছে। এদিকে ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জলবায়ু সম্মেলনের মতো ছাঁইপাশের জন্য তাঁদের কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই বলে মন্তব্য করেছেন। </p>
<p>জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রডের মধ্যে রাখতে হলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কমিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্যে নিয়ে আসতে হবে। তার মানে আগামী দু’এক বছরের মধ্যে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে নবায়নযোগ্য বা সবুজশক্তি চালিত কেন্দ্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ ব্যাপারে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ব্রিটেন। ব্রিটেন ১৯৯০ সাল থেকে আজ অবধি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ৪০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। বিশে^র সবচেয়ে বড় কয়লা রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছরে অস্ট্রেলিয়ার কয়লা রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮ কোটি টন। অস্ট্রেলিয়া যদিও ২০৫০ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক সকল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বিশ^ব্যাপী ১৩৯০টি নতুন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। </p>
<p>বিশ^ব্যাপী যে হারে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তা দেখে মনে হচ্ছে আমরা ৩-৪ ডিগ্রি বৈশ্বিক তাপমাত্রার দিকে দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে হার মানলে চলবে না। যে করেই হোক, বিশ্বকে কয়লাভিত্তিক জ্বালানী থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দিকে নিয়ে যেতে হবে। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণায় এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে আজ বাস্তব সত্য, অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার যেন সে কথাই বলে দিচ্ছে। আশা করছি, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণে রাজনীতিকরা এখন জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাকে প্রাধান্য দেবেন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/539/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সংশয়ের আবর্তে ব্ল্যাকহোল</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/535</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/535#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 Aug 2026 09:27:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=535</guid>

					<description><![CDATA[মহাকাশবিজ্ঞানের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘ব্ল্যাকহোল’ বা ‘কৃষ্ণবিবর’। এ যেন এক অদৃশ্য কৃষ্ণকায় দানব যা গিলে খায় সবকিছু। ব্ল্যাকহোলের মধ্যাকর্ষণ বল এতই বেশি যে, কোন বস্তু এই গহ্বরে পড়লে আর...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহাকাশবিজ্ঞানের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘ব্ল্যাকহোল’ বা ‘কৃষ্ণবিবর’। এ যেন এক অদৃশ্য কৃষ্ণকায় দানব যা গিলে খায় সবকিছু। ব্ল্যাকহোলের মধ্যাকর্ষণ বল এতই বেশি যে, কোন বস্তু এই গহ্বরে পড়লে আর কখনোই ফিরে আসে না। এমনিক আলোও এর মধ্যে চিরতের হারিয়ে যায়, বেরিয়ে আসতে পারে না।  </p>
<p>আধুনিক ব্ল্যাকহোল তত্ত্বের জনক হলেন সুপারস্টার পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্টিফেন হকিং একবার অনলাইনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দাবি করলেন, ব্ল্যাকহোলকে ঘিরে থাকা ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামে কথিত সমীনা বা প্রাচীরের কোনো অস্তিত্ব নেই। যা ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ছুড়ে দেয়। ব্ল্যাকহোল নিয়ে ব্ল্যাকহোলের জনকের মুখের কথা কি ফেলনা হতে পারে? স্টিফেন হুকিংয়ের মন্তব্য নিয়ে আলোচনা করার আগে ব্ল্যাকহোলটা আসলেই কি সেটা জেনে নেয়া যাক।</p>
<p>কোনো নক্ষত্র যখন সমস্ত জ্বালানী পুড়িয়ে নিঃশেষ করে জীবনকালের প্রান্তসীমায় আসে, তখন সেটি নিজস্ব মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে সঙ্কুচিত হতে হতে অসামান্য ঘনত্বের একটি ক্ষুদ্র তারায় পরিণত হয়। এই ধরনের তারাকে বলা হয় ‘হোয়াইট ডর্ফ’ (শ্বেতবামন)। তবে সব তারাই জ্বালানী নিঃশেষ হলে শ্বেতবামনে রুপ নেয় না। এর একটি সীমাও বেঁধে দিয়েছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর। তাঁর তত্ত্ব মতে, যে সমস্ত তারার ভর সূর্যের চেয়ে ১.১৪ গুণের বেশি, সেগুলো সঙ্কুচিত হয়ে শ্বেতবামনের চেয়ে আরো ঘন ‘নিউট্রন” তারায় পরিণত হয়। </p>
<p>বিজ্ঞানীরা নিউট্রন তারার ঘনত্বের হিসাবও করেছেন। এক চামচ নিউট্রন তারার পদার্থের ওজন হবে প্রায় এক বিলিয়ন টন! তবে কি ধরনের নক্ষত্র নিউট্রন তারায় পরিণত হবে তারও একটা সীমা আছে। যেমন যেসব নক্ষত্রের ভর সূর্যের চেয়ে ১.১৪ থেকে ৩ গুণ বেশি, সেগুলোই কেবল নিউট্রন তারায় রূপান্তরিত হয়। এর চেয়ে বেশি ভরের তারা জ্বালানী নিঃশেষ করে সঙ্কুচিত হতে থাকে। এক সময় অভিকর্ষের চাপে সবকিছু ছোট্ট একটি জায়গায় কেন্দ্রিভূত হয়, যার ঘনত্ব হয়ে যায় অসীম। ওটাই হল সিঙ্গুলারিটি। এখানে পদার্থবিদ্যার সব নিয়ম-কানুন ভেঙ্গে পড়ে। এই সিংগুলারিটিকে কেন্দ্রে রেখে গোলকের মতো একটা জায়গা তৈরি হয়। যার সীমানার নাম ইভেন্ট হরাইজন। ওই সীমানার মধ্যে কোনও কিছ্ ুপড়লে রক্ষা নেই। এমন কি আলো গিয়ে পড়লেও ফিরে আসতে পারে না। ওই ইভেন্ট হরাইজনে ঘেরা সিঙ্গুলারিটিই হলো ব্ল্যাকহোল।</p>
<p>ব্ল্যাকহোলের মধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রকে ঘিরে আছে এক অদৃশ্য প্রাচীর যার নাম হলো ইভেন্ট হরাইজন (ঘটনা দিগন্ত)। এই সীমানা পার হলে আর ফেরার পথ নেই। স্টিফেন হকিং তাঁর প্রবন্ধে ‘অ্যাপারেন্ট হরাইজন’ নামের একটি সীমানার প্রস্তাব করেছেন যা অস্থায়ীভাবে পদার্থ ও শক্তি আটকে রাখলেও তা ছেড়ে দেয়। ইভেন্ট হরাইজনের অনুপস্থিতি ব্ল্যাকহোল বলে যে কিছু নেই সে ইঙ্গিতই দেয়। স্টিফেন হকিংয়ের এই পর্যবেক্ষণ আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ত্বকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ধ্রুপদ পদার্থ বিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী ‘ঘটনা দিগন্ত’ থেকে কোনো কিছুু বেরিয়ে আসতে পারে না। তার মানে ব্ল্যাকহোলের মধ্যে বস্তু, তথ্য, আলো সবকিছু হারিয়ে যায়। কিন্তু কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলছে ঠিক তার বিপরীত। অর্থাৎ মহাবিশ্ব থেকে কোনো কিছু হারিয়ে যেতে পারে না। স্টিফেন হকিংয়ের মতে এই সাংঘর্ষিক অবস্থার ব্যাখ্যা দিতে হলে মধ্যাকর্ষণ শক্তির সাথে অন্যান্য মৌলিক শক্তিগুলোকে একীভূত করে একটি সমন্বিত তত্ত্বের (ইউনিফাইড গ্রান্ড থিউরি) প্রয়োজন। </p>
<p>বিজ্ঞানী হকিংয়ের পর সম্প্রতি আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী প্রফেসর লরা মারসিনি হফটনের অনলাইনে পোস্ট করা একটি প্রবন্ধ পড়ে বিজ্ঞানীরা নড়ে চড়ে বসেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ব্ল্যাকহোল বলে কিছু থাকতে পারে না। তিনি অংক কষে এটা প্রমাণ করতে পারবেন। তার দাবি সত্য হলে মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যাবে বদলে, সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। জ্বালানী ফুরিয়ে গেলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটি নক্ষত্র কিভাবে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয় সে কথা আগেই বলেছি। তবে প্রফেসর হফটনের মতে, একটি নক্ষত্রের মৃত্যু প্রক্রিয়ার সময় ওই নক্ষত্র ভর হারাতে শুরু করবে। ফলে এক সময় নক্ষত্রটিতে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হবার মতো পর্যাপ্ত ভর অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে কোনো নক্ষত্র ব্ল্যাকহোলে রূপান্তরিত হবার আগেই স্ফীত হয়ে বিস্ফোরিত হবে। তাই আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল ব্ল্যাকহোল সৃষ্টির ফলে সিঙ্গুলারিটি পয়েন্ট (অদ্বৈত বিন্দু) কিংবা ইভেন্ট হরাইজনের মতো তেমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না। </p>
<p>প্রফেসর হফটনের গবেষণা ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বকে যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তাতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির বহুল প্রচারিত তত্ব ‘বিগ ব্যাং’ থিউরিই নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্ব বলে, প্রায় ১৫০০ কোটি বছর আগে এক মহা-বিস্ফোরণের মাধ্যমে অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং অসীম ঘনত্বের অবস্থা থেকেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এই অবস্থাকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি পয়েন্ট (অদ্বৈত বিন্দু)। যার ঘনত্ব অসীম। অর্থাৎ এ বিন্দু জায়গার মধ্যে জমা আছে প্রচন্ড পরিমাণ পদার্থ। অদ্বৈত বিন্দুতে প্রচলিত বিজ্ঞানের সব সূত্র ভেঙ্গে পড়ে। তবে সিঙ্গুলারিটি বা অনন্য বিন্দুরই যদি অস্তিত্ব না তাহলে প্রশ্নের মুখে পড়বে বিগ ব্যাংক তত্ত্ব। </p>
<p>বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রকৃতি জগতের চারটি বল দুর্বল নিউক্লিয়, সবল নিউক্লিয়, মধ্যাকর্ষণ ও তুড়িচ্চুুম্বকীয় বল একসাথে মিশে ছিল বিগ ব্যাং-এর প্রথমাবস্থায়। এতএব চারটি বলকে সমন্বিত করা কোনো গ্রান্ড ইউনিফাইড থিউরিই কেবল ব্ল্যাকহোল নিয়ে যে ধাঁধার সৃষ্টি হয়েছে তার সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে ক্লাসিক তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম তত্ত্বে¡র মধ্যেকার বিরোধের ফয়সালা করতে পারে। আইনস্টাইন প্রকৃতি জগতের বলগুলোকে একীভূত করতে তার শেষ জীবনে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন, কিন্তু সফল হতে পারেননি। তবে প্রফেসর আব্দুস সালাম এবং আরো দু’জন বিজ্ঞানী মিলে তড়িচ্চুম্বকীয় এবং দুর্বল নিউক্লিয় বলকে একীভূত করতে সমর্থ হন। এজন্য তারা ১৯৭৯ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান। কিন্তু চারটি বলকে সমন্বয় করার তত্ত্ব বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। তাই যতদিন ব্ল্যাকহোল আছে কি নেই সেটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে না, ততদিন তাবৎ বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের কাছে ব্ল্যাকহোল বিস্ময়কর রহস্য হয়েই থাকবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/535/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জিপিএস ডাটা কি দিতে পারে ভূমিকম্পের আগাম সংকেত</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/532</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/532#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 10 Aug 2026 03:52:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=532</guid>

					<description><![CDATA[২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল নেপালে এক সর্বনাশা ভূমিকম্পে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বেশ কিছু এলাকা ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের তীব্রতা হিরোশিমায় আঘাত হানা আনবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী। নেপালের...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল নেপালে এক সর্বনাশা ভূমিকম্পে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বেশ কিছু এলাকা ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের তীব্রতা হিরোশিমায় আঘাত হানা আনবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী। নেপালের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল গোরখা এলাকা না হয়ে যদি কাঠমান্ডু হতো, তাহলে নেপালের রাজধানী শহর হিরোশিমার মতো হয়তো ধূলোয় মিশে যেতো। নেপালের ভূমিকম্পের আঁচ বাংলাদেশের মানুষও পেয়েছে। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পের তীব্রতার মাত্রা ছিল ৪-৫, ফলে আমরা নিশ্চিত ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাই।</p>
<p>ভূমিকম্প কেন হয়? এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসুকের শেষ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে ভূপৃষ্ঠের প্রতিটি স্তর কয়েকটি প্লেটে বিভক্ত যাকে টেকটোনিক প্লেট বলা হয়। ভূগর্ভস্থ এই বিশাল প্লেটগুলো এক জায়গায় স্থির থাকে না, খুব মন্থর গতিতে স্থান পরিবর্তন করে। আমাদের মহাদেশ ও সাগরগুলো এই প্লেটের উপরই অবস্থান করছে। সঞ্চারণশীল এমন দু’টি টেকটোনিক প্লেট যখন এক অপরের সাথে ধাক্কা খায় তখন বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। ফলে মাটির তলদেশ কেঁপে ওঠে আর আমরা ভূকম্পন অনুভব করি। হিমালয়ের নিচে একটি ফল্ট লাইন বরাবর রয়েছে ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেট। ভারতীয় প্লেট বছরে ৪৫ মিলিমিটার করে স্থান পরিবর্তন করে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এই দু’টি প্লেটের ঘর্ষণের ফলেই সৃষ্টি হয় নেপালের সাম্প্রতিক ভূমিকম্প। ভূতত্ত্ববিদদের মতে এই দু’টি প্লেটের পিছলে যাবার কারণেই বহুকাল আগে সৃষ্টি হয়েছিল আজকের এই হিমালয় পর্বতমালা। </p>
<p>ভারতীয় ও মধ্য এশীয় টেকটোনিক প্লেটের লাইনে অবস্থিত বাংলাদেশও ভূমিকম্প থেকে ঝুঁকিমুক্ত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিশেষ করে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ ইত্যাদি শহর ভূমিকম্পের জন্য খুব ঝূঁকিপূর্ণ। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামের মতো প্রধান শহরগুলো মাঝারি ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকা শহরে যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে দালানকোঠা ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে, তাতে একটি মাঝারি আকারের ভূমিকম্পও ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি করতে পারে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ১৯১৭ সালে সিলেট অঞ্চলে রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৬। আর ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে সংঘটিত ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছিল ২৩ জন মানুষ।  </p>
<p>মধ্যপ্রাচ্য ও গাল্ফ অঞ্চলের দেশগুলোতে এ পর্যন্ত বড় ধরনের ভূমিকম্প না হলেও আগামীতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হবার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ভূতত্ত্ববিদদের দেয়া তথ্যানুযায়ী গাল্ফ অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠের নিচে সঞ্চানরণশীল এরাবিয়ান প্লেট বছরে ৩৭ মিলিমিটার হারে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে পিছলে ঢুকে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে এই দু’টি প্লেটের মধ্যে রেষারেষির কারণে গাল্ফ অঞ্চলে একটি বড় আকারের ভূমিকম্প হতে পারে, যা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। </p>
<p>আরব উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প সক্রিয় দেশ হচ্ছে ইরান, যার ৯০ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে ইরানে যেসব ভূমিকম্প হয় তার আঁচ গাল্ফ অঞ্চলের দেশগুলোতেও আঘাত হানে। গত এক শতকে ছোট বড় বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ইরানে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলের ৯ তারিখ রিখটার স্কেলে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প হয় ইরানে যার উৎস্থল ছিল কাতার থেকে ৩৮০ কিলোমটির দূরে অবস্থিত বন্দর নগরী বুশেহর। এর প্রভাবে কাতার, আরব, আমিরাতসহ আশেপাশের দেশগুলোতে ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে একই মাসের ১৯ তারিখ ইরানে রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। অ্যারাবিয়ান এবং ইন্ডিয়ান প্লেটের সাথে ইউরেশীয় প্লেটের ঘর্ষণের ফলেই এই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। গাল্ফ অঞ্চলের বিভিন্ন শহর যেমন রিয়াদ, দোহা, মানামা, আবুধাবি, মাসকটসহ দিল্লি ও পাকিস্তানেও ওইদিন ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। </p>
<p>সাইক্লোন, ঘুর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখন কোথায় আঘাত হানবে সেটা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জানা যায় এবং এর গতিপথও নির্ণয় করা যায়। ফলে দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য জনসাধারণকে আগে থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া যায়। ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা কোনো রকমের পূর্বাভাস ছাড়াই আর্বিভূত হয়। </p>
<p>তবে বড় মাপের কোনো ভূমিকম্পের আগে ওই এলাকায় সাধারণতঃ ছোটখাটো কম্পন হয়ে থাকে যা বিজ্ঞানের ভাষায় ফোর-শক বলা হয়। এই ধরনের কম্পন সম্ভাব্য ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিলেও ভূমিকম্প কখন এবং ঠিক কোথায় হবে তা বলে দেয় না। এছাড়া ছোটখাটো ভূকম্পন হলেই য়ে ভূমিকম্প হবে তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই ভূমিকম্প নিয়ে সব দেশের পূর্বপ্রস্তুতি থাকা জরুরি। দেশের নাগরিকদেরও এ সময়ে কি করণীয় সে নিয়ে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। </p>
<p>দালান ও স্থাপনা নির্মাণের সময় ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়-ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়। জাপান হচ্ছে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাপান ভূকম্পনের দেশ। জাপানে প্রতি বছর প্রায় ২০০০ ভূকম্পন হয়। তবে জাপানের ভবনগুলোতে উপযুক্ত ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা থাকায় বড় মাত্রার ভূমিকম্পেও ক্ষয়-ক্ষতি হয় সামান্য। যেমন জাপানে ২০১১ সালের প্রলয়ংকরী টোহুকো ভূমিকম্পে ১৮,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়। অবাক করা কথা হল, রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে নিহত মানুষের অধিকাংশই প্রাণ হারিয়েছিলেন ভূমিকম্প নয় বরং সুনামির কারণে। </p>
<p>আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাপানে ভূমিকম্পের অল্প সময় আগে মানুষকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। যেমন ২০১১ সালের টোহুকো ভূমিকম্পের মাত্র ১ মিনিট আগে টোকিওর মানুষ সতর্কবাণী পায়। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য এত কম সময় কি যথেষ্ট? বিজ্ঞানের এই উন্নয়নের যুগেও ভূমিকম্পের উৎস, সঠিক দিন-ক্ষণ হিসাব করে পূর্বাভাস দেয়ার কোনো পন্থা এখনো আবৃস্কিত হয়নি। তবে আশার কথা হল, গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএনএসএস) ব্যবহার করে ভূমিকম্প ও সুনামির সঠিত পূর্বাভাস দেয়া যাবে বলে দাবি করেছেন জাপানের একজন বিজ্ঞানী, জাপান আর্থকোয়েক সায়েন্স এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির এডভাইজার সুঞ্জি মুরাই। ভুপৃষ্ঠর গভীরে টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চারণের ফলে ভূত্বকের উচ্চতার পরিবর্তন হয়। জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির উচ্চতার সুক্ষ্ম পরিবর্তন সনাক্ত করে ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাস দেয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানী মুরাই। </p>
<p>২০১১ সালের জাপানের ভূমিকম্পের তথ্য উপাত্ত পরীক্ষা করে তিনি তার নতুন গবেষণালব্ধ ফলাফলের সত্যতা প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। টোহুকো ভূমিকম্পের উৎসস্থলের আশেপাশের কন্ট্রোল স্টেশনের ডাটা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের আগে বিভিন্ন সময়ে ভূত্বকের উচ্চতার লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটছে। তবে ঘটনার মাত্র তিনদিন আগে ভূত্বকের উচ্চতার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যা ড. মুরাইয়ের মতে ভূকম্পনের সঠিক আগাম সংকেত দিতে পারে। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীর মতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালন এবং ভূ-চ্যুতিও সনাক্ত করা সম্ভব। নিত্যদিনের জিএনএসসের ডাটা বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের আঘাত হানার যদি দুই তিন দিন আগে যদি সংকেত পাওয়া যায় তাহলে লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/532/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ঈশ্বর কণার নেপথ্যে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/529</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/529#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 10 Aug 2026 03:46:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Science & Environment]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=529</guid>

					<description><![CDATA[ঈশ্বর কণা (God Paritcle) নামে খ্যাত ‘হিগ্স বোসন’ কণার অস্তিত্বের খোঁজে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে চলছিল রীতিমতো প্রতিযোগিতা। ২০১২ সালে সার্নের ল্যাবরেটরিতে এই অধরা কণার সন্ধান পাওয়ার পর চারদিকে হৈ চৈ...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ঈশ্বর কণা (God Paritcle) নামে খ্যাত ‘হিগ্স বোসন’ কণার অস্তিত্বের খোঁজে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে চলছিল রীতিমতো প্রতিযোগিতা। ২০১২ সালে সার্নের ল্যাবরেটরিতে এই অধরা কণার সন্ধান পাওয়ার পর চারদিকে হৈ চৈ পড়ে যায়। সংবাদমাধ্যমের খবর পড়ে মনে হলো, ঈশ্বর কণার সাথে এই বুঝি ঈশ্বরেরও সন্ধান পাওয়া গেল। আস্তিক কিংবা নাস্তিক প্রায় সবাইকে এই বিষয়ে কৌতূহলী হতে দেখা গেছে। যে কণা নিয়ে এত হৈ হুল্লোড়, সেই কণার উৎপত্তি কিভাবে সে কথাই প্রথম বলছি। </p>
<p>কোনো পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশের নাম হল পরমাণু বা এটম। পরমাণুকে ভাঙলে পাওয়া যায় ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এক সময় ভাবা হতো এগুলোকে হয়তো আর ভাঙা যাবে না, এরাই হল পদার্থের মৌল কণিকা। কিন্তু সেই ধারণা এখন পাল্টে গেছে। প্রোটোন, নিউট্রনদের ভাঙতে ভাঙতে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন আরো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণিকা। পরীক্ষালব্ধ সব মৌল কণিকাকে বিজ্ঞানীরা দু’টি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন, তা হলো—বোসন (Bosons) এবং ফার্মিয়ন (Fermions) কণা। বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের নামে যাদের নাম তারা হল ‘বোসন কণা’। যেমন ফোটন (Photons), মিসট্রন ইত্যাদি। অন্যদিকে ফার্মিয়ন নামটি এসছে ইটালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মিয়নের নাম থেকে। ফার্মিয়ন কণার তালিকায় রয়েছে মিউয়ন, টাউ, কোয়ার্ক এবং নিউট্রিনো।</p>
<p>বোসন কণার বৈশিষ্ট হল এদের আকৃতিগত কোনো ভর নেই, এরা শক্তি বয়ে নেয়ার কাজ করে। তাই এদের বার্তাবহ কণিকাও (Messenger Particles) বলা হয়ে থাকে। যেমন ফোটন। বিজ্ঞানীরা শক্তিকে ভরে রূপান্তরিত করেই বোসন কণার হিসেব করে থাকেন। ১৯৬৪ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পিটার হিগ্স একটি মৌলিক কণার অস্তিত্ব ধারণা করতে পেরেছিলেন যা বস্তুর ভর তৈরিতে সাহায্য করে। হিগ্স কণা নামে পরিচিত সেই কণার কোনো প্রমাণ বিজ্ঞানীরা তখন দিতে পারেননি। এছাড়া মহাবিশ্বের শুরু কিভাবে তার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব ‘স্ট্যান্ডার্ড মডেলেও’ যে সব কণার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে কেবল এই হিগ্স কণাই এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ প্রায় অর্ধ শতাব্দি পর সার্নের পরীক্ষায় সেই রহস্যময় ‘হিগ্স’ কণাকেই খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা, যা এখন ‘ঈশ্বর কণা’ নামে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।</p>
<p>সার্ন গবেষণাগারের লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে (Large Hadron Collider) আলোর বেগে ধাবমান বিপরীতমুখী প্রোটন কণার মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে মহাবিস্ফোরণের (Big Bang) ঠিক অব্যবহিত পরের তুল্য অকল্পনীয় পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা হয়। আর তা থেকেই দেখা মিলেছে হিগ্স কণিকা, যার ভর ১৩৩টি প্রোটন কণার মতো। উল্লেখ্য, এই কণা আবার ‘বোসন’ গ্রুপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। </p>
<p>স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অনাবিষ্কৃত কণাটির গুরুত্ব সাধারণ মানুষকে বোঝাবার জন্য ১৯৯৩ সালে একটি বই লেখেন পদার্থবিদ্যায় নোবেলপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী লিও ম্যাক্স ল্যাডারম্যান। তবে বইটির নাম নিয়ে প্রকাশকের সাথে ল্যাডারম্যানের ঘটে বিপত্তি। </p>
<p>ল্যাডারম্যান বইয়ের নাম ‘হিগ্স বোসন’ দিতে চাইলে প্রকাশক বললেন, এই নামে বই বিক্রি হবে না, অন্য কোনো পাঠকপ্রিয় নামের কথা ভাবুন। একপর্যায়ে ল্যাডারম্যান হতাশ হয়ে বললেন, গডড্যামন পার্টিকেল (Goddamn Particle) রাখলে কেমন হয়? শেষ মুহূর্তে প্রকাশক নামটাকে একটু ছেটে দিয়ে শিরোনাম দিলেন, The God Particle. নাস্তিক বিজ্ঞানীর বইয়ের শিরোনামে হাজির হয়েছেন স্বয়ং ঈশ্বর! বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো বিক্রি হতে লাগল বই, নিমিষেই উঠে এলো বেস্টসেলারের তালিকার শীর্ষে। শুধু সস্তা জনপ্রিয়তাই নয়, এই নামকরণের পেছনে গবেষণায় সরকারি অনুদান পেতে আমেরিকার খ্রিষ্টান মৌলবাদী সিনেটরদের সমর্থন পাওয়া যাবে এমন একটা ধারণাও নাকি কাজ করছিল। এই হচ্ছে বইটি নামকরণের নেপথ্য কাহিনী। </p>
<p>বাজারে কাটতি বাড়ানোর জন্য ধর্মীয় অনূভূতির এ ধরনের ব্যবহার একজন বিজ্ঞানীর সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ধর্মের নাম ভেঙ্গে যারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করেন তাদের আমরা ধর্মব্যবসায়ী বলি। কিন্তু ল্যাডারম্যানের মতো এমন একজন নাস্তিক বিজ্ঞানী যখন প্রকাশক রাজি হয়নি এই অজুহাতে ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যবহার করেন তখন বিস্মিত হই বৈকি। ল্যাডারম্যানের বইয়ের জন্য অনেক উৎসাহী ধর্মবিশ্বাসীরা বলতে শুরু করেছেন, অবশেষে খোদার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে বিজ্ঞানীরা।</p>
<p>হিগ্স কণা মহাবিশ্বের সৃষ্টির রহস্য ব্যাখ্যায় অত্যন্ত গরুত্বপূর্ণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মোদ্দাকথা হল, হিগ্স-বোসন কণা আবিস্কারের সাথে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই কেন জানি মনে হয়, বিভ্রান্তিমূলক নামকরণের কারণে মূল বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে মিডিয়ায় যে উটকো বিতর্কের ঝড় উঠলো, তাতে বিজ্ঞানের এমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিস্কার কিছুটা হলেও কি খাটো হয়ে গেল না?</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/529/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
