<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Society &amp; Nation &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<atom:link href="https://mamoon.net/category/opinion/society-nation/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://mamoon.net</link>
	<description>mamoon.net</description>
	<lastBuildDate>Sun, 13 Sep 2026 10:53:51 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>

<image>
	<url>https://mamoon.net/wp-content/uploads/2026/05/Logo-Mamoon-Vai-150x150.png</url>
	<title>Society &amp; Nation &#8211; ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<link>https://mamoon.net</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ভালোবাসার অন্য নাম মেজবান</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/898</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/898#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 13 Sep 2026 10:53:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=898</guid>

					<description><![CDATA[সিডনির ফেয়ারফিল্ড শো গ্রাউন্ডে আগামী ৯ নভেম্বর, রোববার আবারও বসছে সিডনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির প্রাণের আয়োজন—চট্টগ্রাম উৎসব। প্রবাসে থেকেও চট্টগ্রামের মানুষ যেন একদিনের জন্য ফিরে যান তাদের মাটি, গন্ধ আর...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সিডনির ফেয়ারফিল্ড শো গ্রাউন্ডে আগামী ৯ নভেম্বর, রোববার আবারও বসছে সিডনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির প্রাণের আয়োজন—চট্টগ্রাম উৎসব। প্রবাসে থেকেও চট্টগ্রামের মানুষ যেন একদিনের জন্য ফিরে যান তাদের মাটি, গন্ধ আর স্মৃতির শহরে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এইবারের উৎসবের এক বিশেষ আকর্ষণ—চট্টগ্রামের মেজবান রান্নার সেলিব্রিটি রন্ধনশিল্পী বাবুর্চি হাজী আবুল হোসেন। যিনি এখন পর্যন্ত সহস্রাধিক মেজবানি রান্না করেছেন, যা এক অনন্য ইতিহাস! আয়োজকদের আন্তরিক আমন্ত্রণে তিনি এবার পাড়ি দিচ্ছেন প্রশান্ত মহাসাগরের ওপার থেকে, ঠিক চট্টগ্রামের রঙ, ঘ্রাণ আর স্বাদের বার্তা নিয়ে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>খোদ শো গ্রাউন্ডের কিচেনেই হবে আসল মেজবানি রান্না। সেই ঐতিহ্যবাহী মেজবানি চাল, ঝরঝরে মাংস আর মসলার মায়া—আবুল বাবুর্চির হাতের জাদুতে সেই খাবারের স্বাদ হবে অমৃত, আর তার সুবাসে যেন কিছুক্ষণের জন্য সিডনি হয়ে উঠবে চট্টগ্রাম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এবারের আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—বাংলা সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী, চট্টগ্রামের গর্ব নকীব খান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সৃষ্টি, সুর আর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তিনি উপহার দিয়েছেন অগণিত কালজয়ী ও সুপারহিট গান, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে একই রকম অনুরণন তোলে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতে রক ধারার সঙ্গে মেলোডির অনন্য মিশেলে নকীব খান তৈরি করেছেন এক স্বতন্ত্র সুরভুবন, যা বাংলা গানের ইতিহাসে চিরকাল বিশেষ হয়ে থাকবে। এবার চট্টগ্রাম উৎসবের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি হবে এক স্মরণীয় মুহূর্ত, যেখানে নস্টালজিয়া আর সুরের জাদু মিলেমিশে যাবে একাকার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সিডনির মেজবান উৎসবের গল্পটা যেন এক টুকরো চট্টগ্রামকে তুলে এনেছে বিদেশের আকাশের নিচে। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে যখন প্রথমবার মেজবানের ধোঁয়া উঠেছিল সিডনির আকাশে, তখন আমরা ক’জন চাটগাঁইয়া মিলে শুরু করেছিলাম এই যাত্রা। সেই দলের একজন ছিলাম আমিও।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমার সিডনিতে পা রাখা ১৯৮৮ সালে। তখন শহরে বাংলাদেশিদের সংখ্যা গোনা যেত হাতে। চট্টগ্রামের কাউকে খুঁজে পাওয়া ছিল যেন মরুভূমিতে মরুদ্যান দেখা। ধীরে ধীরে দেখা মিলল কিছু চেনা মুখ, কয়েকজন চাটগাঁইয়া ভাই-বান্ধব। একবার পরিচয় হলেই যেন আপন হয়ে যেত সবাই। কথায় কথায় ভেসে আসত চাটগাঁইয়া আঞ্চলিক ভাষার সুর, যেটা নিয়ে অনেকেই খুনসুটি করত, কিন্তু আসলে সেটাই তো আমাদের টান—কর্ণফুলীর জলের মতো গভীর মায়ার টান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রথম মেজবান হয় ১৯৯৪ সালে, সিডনির শান্ত, মনোরম ডলস্ পয়েন্টে। কোনো বিশাল আয়োজন ছিল না—ডজনখানেক পরিবার আর কিছু তরুণ মিলে সাজানো এক নিখাদ আনন্দঘন দিন। সেই ছোট্ট আয়োজনই ধীরে ধীরে পরিণত হয় সিডনির অন্যতম জনপ্রিয় প্রবাসী উৎসবে। কখনো এক বছর, কখনো দুই বছর পরপর মেজবান অনুষ্ঠিত হতে থাকে, আর প্রতিবারই বেড়েছে মানুষের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ আর চট্টগ্রামের গর্ব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২০১৮ সালের মেজবান সেই ধারাবাহিকতার এক রেকর্ড সৃষ্টি করে—প্রায় তিন থেকে চার হাজার মানুষের মিলনমেলা! আর পরের বছর, ২০১৯-এ আয়োজনকে আরও ঐতিহ্যবাহী করতে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষভাবে আনা হয় বিখ্যাত বাবুর্চি হাজী আবুল হোসেনকে, যার হাতের রান্না চট্টগ্রামের গন্ধ আর স্বাদ এনে দিয়েছিল সিডনির বাতাসে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>“মেজবান” বা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উচ্চারণে “মেজ্জান”—এ শুধু একবেলা খাওয়ার আয়োজন নয়, এটি চট্টগ্রামের আতিথেয়তার প্রাণ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা থেকেই মেজবানের সূচনা। যেমন আকিকা, খৎনা, কিংবা কেউ মারা গেলে মৃত্যুর চতুর্থ দিনে “চাইদিন্নে” আর চল্লিশতম দিনে “চল্লিশার মেজবান”—এসব আয়োজনে চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে ধোঁয়া ওঠে গরুর মাংসের হাঁড়িতে। সামর্থ্যবান পরিবারগুলো প্রতিবছর প্রিয়জনের মৃত্যুবার্ষিকীতেও এই ঐতিহ্য রক্ষা করে। অনেক সময় আবার কোনো পীরের জন্মদিন বা ওফাত দিবসেও মেজবানের আয়োজন হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তবে সময়ের সাথে মেজবান ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে এখন পরিণত হয়েছে আনন্দ, বন্ধুত্ব আর সামাজিক বন্ধনের উৎসবে। এখন আর কোনো নির্দিষ্ট কারণ লাগে না। চট্টগ্রামের মানুষ অজুহাত পেলেই মেজবান সাজায়—বিয়ের আগের দিন গায়ে হলুদের সাথে, কোনো সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে, কিংবা শুধু আনন্দ ভাগ করে নিতেই আয়োজন করা হয় মেজবান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এই সংস্কৃতির সৌন্দর্য এখানেই—বিত্তশালী থেকে নিম্নবিত্ত, সবাই নিজের সাধ্য মতো মেজবানের আয়োজন করে। অনেকে আবার ধার-দেনা করেও পারিবারিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখেন। ধনীদের মধ্যে একপ্রকার মৃদু প্রতিযোগিতাও চলে, কার মেজবানে কত গরু জবাই হলো! সাম্প্রতিক সময়ে মহিষের মাংস দিয়েও মেজবানের রান্না হচ্ছে, আর সেটি ভোজনরসিকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মেজবান খেতে আমন্ত্রণ লাগে না। কেউ বলল, “ওমুকের বাড়িতে আজ মেজবান”—এইটুকুই যথেষ্ট। সবাই জানে, দরজা খোলা, হাঁড়ি ফুটছে, আর জায়গা আছে সবার জন্য। চট্টগ্রামে মেজবানের কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম নেই, সারাবছরই কোথাও না কোথাও মেজবান চলছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>খাওয়ার রীতিটাও আলাদা। মানুষ মাটিতে মুখোমুখি বসে একসাথে খায়, পাত্রে পাত্রে ভাগাভাগি করে নেয় সুখ আর তৃপ্তি। যদিও এখানে একটা শ্রেণিভেদও দেখা যায়—গণ্যমান্যদের জন্য থাকে টেবিল, আর সাধারণ মানুষ খায় মাটিতে বসে। এ নিয়েও চট্টগ্রামের লোকসংগীতে আছে রসিকতা আর কৌতুক, যা এই উৎসবকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মেজ্জান দিয়ে মেজ্জান দিয়ে ঐতারত (ওই বাসায় চলছে মেজবান)</p>
<p>গরীবুল্যাই মেইট্যা বছি (গরীবের জন্য মাটির বাটি)</p>
<p>ডঁর মাইনসুল্যাই বাসনত (বড়লোকদের জন্য বাসন)</p>
<p>কি সোন্দইয্যা বিছানত (কি সুন্দর বিছানায়)</p>
<p>মেজ্জান দিয়ে মেজ্জান দিয়ে ঐতারত।</p>
<p>সাদা ভাত এবং গরুর মাংসের বাহারী পরিবেশনায় গণভোজের নাম হলো মেজবান। তবে সাথে গরুর মাংসের হাঁড়-গোড় ও নেহারি (চট্টগ্রামের ভাষায় নলা) দিয়ে ডাল ও সবজির কয়েকটি পদও পরিবেশন করা হয় মেজবানে।</p>
<p>চট্টগ্রামবাসীর কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাবার বলতে যদি কিছু থাকে, তার শীর্ষে থাকবে মেজবানের খাবার। এই খাবারের প্রতি চাটগাঁইয়াদের টান যেন রক্তে মিশে আছে, যা অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে অনেক সময় বোঝা কঠিন। মজার ব্যাপার হলো—কেউ যদি মেজবানের নিমন্ত্রণ পান, তবে পাঁচতারা হোটেলের পার্টি, অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারের বিয়ে বা শত পদে সাজানো ভোজ—সবকিছুই তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এটাই চট্টগ্রামের সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য—যেখানে খাবার মানেই মিলন, আর মিলন মানেই মেজবান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর যেখানে যেখানে চট্টগ্রামের মানুষ আছে, সেখানেই চলছে মেজবানের ধোঁয়া ওঠা হাঁড়ি। বিশেষ মশলার মিশ্রণ আর প্রচুর কাঁচামরিচে তৈরি এই খাবারের স্বাদ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাইরেও। বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের মানুষও এখন মেজবানের মাংসের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রবাসেও এর জনপ্রিয়তা বিস্ময়কর। লন্ডন, দুবাই, কাতার, নিউ ইয়র্ক—সব জায়গার বাংলাদেশি রেস্তোরাঁগুলোতে ‘মেজবানি মাংস’ এখন নিয়মিত আকর্ষণ। আর সিডনির কথা আলাদা করে না বললেই নয়—সেখানে তো রয়েছে পুরোপুরি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে ঘিরে গড়া রেস্টুরেন্ট, যার নামই ‘মেজবানি’।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আজ সিডনির মেজবান শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটা এক সেতুবন্ধন—চট্টগ্রামের স্মৃতি, মাটির গন্ধ আর প্রবাসজীবনের মাঝেও না ভোলা এক টান। বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি আয়োজিত চট্টগ্রাম উৎসবের মেজবানে আপনাদের সাদর আমন্ত্রণ রইল।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/898/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আই যন খাই যন, বইন আর ভাইজান/ সিডনী শহরত চাটগাঁইয়্যা মেজ্জান</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/894</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/894#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 13 Sep 2026 10:44:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=894</guid>

					<description><![CDATA[পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ার বাইরে ছিলাম, তাই বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির আয়োজিত বেশ কয়েকটি মেজবানে উপস্থিত থাকতে পারিনি। সেই সময়ের অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত চোখের আড়ালেই থেকে গেছে। সিডনিতে ফিরলাম ঠিক...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ার বাইরে ছিলাম, তাই বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির আয়োজিত বেশ কয়েকটি মেজবানে উপস্থিত থাকতে পারিনি। সেই সময়ের অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত চোখের আড়ালেই থেকে গেছে। সিডনিতে ফিরলাম ঠিক কোভিডের শুরুর দিকেই—সবকিছু তখন স্তব্ধ, মানুষ বিচ্ছিন্ন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এরপর সময়ের স্রোতে জীবন আবার ছন্দে ফিরতে শুরু করল। ঠিক সেই সময়েই খবর এলো চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৫-এর প্রস্তুতি সভা হচ্ছে, আর সেখানে আমারও ডাক পড়েছে। পুরনো স্মৃতি, চেনা মুখ, আর প্রিয় মেজবানের সুবাস যেন আবার ফিরিয়ে আনল সেই প্রথম দিনের আবেগ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>বাংলা টাউন ল্যাকেম্বার ড্রিম কি রিয়েলটির অফিসে বসেছে প্রস্তুতি সভা। দিনে যেখানে চলে বাড়ি-ঘর কেনাবেচার হিসাব, সন্ধ্যা নামতেই সেই অফিস রূপ নেয় এক টুকরো চট্টগ্রামে। হাসি, গল্প, পরিকল্পনার ভিড়ে জমে ওঠে চাটগাঁইয়্যাদের প্রাণের আড্ডা। কেউ চা হাতে স্বপ্ন আঁকে উৎসবের, কেউ স্মৃতির অ্যালবাম খুলে ফেলে—সব মিলিয়ে ড্রিম কি অফিস হয়ে ওঠে সত্যিকারের ‘ড্রিম কর্নার, যেখানে চট্টগ্রাম বেঁচে থাকে হৃদয়ের ঠিক মাঝখানে।</p>
<p>ওখানে বসে মুহূর্তের জন্য সময়টা যেন উল্টোদিকে বয়ে গেল। মন ছুটে গেল নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ের সেই দিনগুলোয় যখন প্রথমবার মেজবানীর ধোঁয়া উঠেছিল সিডনীর আকাশে। খুবই ভাগ্যবান আমি, সিডনীর বুকে গুটিকয়েক উৎসাহী উদ্যোক্তার হাত ধরে যখন মেজবানীর পথ চলা শুরু হয়েছিল, আমিও ছিলাম সেই প্রথম সারির সঙ্গীদের একজন। তখন ছিল না এত আয়োজন, ছিল শুধু টান, চট্টগ্রামের টান, মানুষে মানুষে মমতার টান। আজ এত বছর পরও সেই দিনের আবেগ ঠিক ততটাই তরতাজা, যেন সময় থমকে দাঁড়িয়ে আছে সেই প্রথম মিলনের মুহূর্তে।</p>
<p>অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হয়ে সিডনী শহরে আমার পা রাখা ১৯৮৮ সালে। তখন শহরে বাংলাদেশিদের সংখ্যা গোনা যেত হাতে। চট্টগ্রামের কাউকে খুঁজে পাওয়া ছিল যেন মরুভূমিতে মরুদ্যান দেখা। ধীরে ধীরে দেখা মিলল কিছু চেনা মুখ, কয়েকজন চাটগাঁইয়া ভাই-বান্ধব। একবার পরিচয় হলেই যেন আপন হয়ে যেত সবাই। কথায় কথায় ভেসে আসত চাটগাইয়া আঞ্চলিক ভাষার সুর, যেটা নিয়ে অনেকেই আমাদের খুনসুটি করত, কিন্তু আসলে সেটাই তো আমাদের টান, কর্ণফুলীর জলের মতো গভীর মায়ার টান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সিডনীর প্রথম মেজবান হয়েছিল ১৯৯৪ সালে, শান্ত আর মনোরম এক দুপুরে, ডলস্ পয়েন্টের সবুজে ঘেরা প্রান্তে। কোনো বিলাসী আয়োজন ছিল না, ছিল কেবল ঘরের মানুষদের উচ্ছ্বাস, হাসি, আর নিজের সংস্কৃতিকে কাছে রাখার এক আন্তরিক চেষ্টার আনন্দ। ডজনখানেক পরিবার আর কিছু তরুণ মিলে সেদিনের সেই মেজবান হয়ে উঠেছিল এক নিখাদ আনন্দঘন দিন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>যাঁরা সেই প্রথম আয়োজনের প্রাণ ছিলেন &#8211; হারুন-উর-রশীদ, সৈয়দ শাহ আলম, কামালুদ্দিন, রুহুল আহমদ, জসীম উদ্দিন, আনোয়ার, সবুর, সিকান্দার, টিপু এবং আরও অনেকে। তাঁদের সবার অবদানই ছিল অমূল্য। আজ তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তের পথে, যেমন হারুন ভাই, সবুর ভাই, আর জসীম ভাই। আবার কেউ কেউ স্থায়ীভাবে ফিরে গেছেন দেশে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হারুন ভাইয়ের কথা এখনো খুব মনে পড়ে। সারি হিলসের তাঁর বাসায় যাওয়া মানেই ছিল আতিথেয়তার উৎসব, বহু পদের রান্না, হাসিমুখে পরিবেশন, আর একধরনের নিখাঁদ আন্তরিকতা যা আজও মনে গেঁথে আছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>যাঁরা আমাদের মাঝে নেই, আল্লাহ তাঁদের জান্নাত নসীব করুন। আর যাঁদের নাম অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে গেছে, তাঁদের কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বহু বছরের স্মৃতি একসাথে সাজাতে গিয়ে কিছু নাম হয়তো মনের চোখ ফসকে গেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সেই ১৯৯৪ সালের ছোট্ট আয়োজনটাই ধীরে ধীরে পরিণত হয় সিডনীর অন্যতম জনপ্রিয় প্রবাসী উৎসবে। যার নাম মেজবান, আর যার প্রাণ চট্টগ্রামের মানুষ। কখনো এক বছর, কখনো দুই বছর পরপর মেজবান অনুষ্ঠিত হতে থাকে, আর প্রতিবারই বেড়েছে মানুষের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ, আর চট্টগ্রামের গর্ব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২০১৮ সালের মেজবান সেই ধারাবাহিকতার এক রেকর্ড সৃষ্টি করে। প্রায় তিন থেকে চার হাজার মানুষের মিলনমেলা! আর পরের বছর, ২০১৯-এ আয়োজনকে আরও ঐতিহ্যবাহী করতে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষভাবে আনা হয় বিখ্যাত বাবুর্চি হাজী আবুল হোসেনকে, যার হাতের রান্না চট্টগ্রামের গন্ধ আর স্বাদ এনে দিয়েছিল সিডনীর বাতাসে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আশার কথা হল, এখন মেজবান ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির হাল ধরেছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের উদ্যমী ও মেধাবী তরুণরা। তাদের হাত ধরে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সময়ের ছোঁয়া। মেজবানের মিটিং থেকে শুরু করে টিকিটিং—সবকিছুই তারা ডিজিটালভাবে সাজিয়ে তুলেছে। ফলে পুরো আয়োজন এখন আরও সংগঠিত, আধুনিক, আর অংশগ্রহণে সহজ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তাদের এই উদ্যোগ শুধু আয়োজনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়নি, বরং দেখিয়ে দিয়েছে, চট্টগ্রামের ঐতিহ্য এখন আগের মতোই জীবন্ত, শুধু রূপ বদলে আরও প্রাণবন্ত হয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আগামী ৯ নভেম্বর, সিডনির ফেয়ারফিল্ড শো গ্রাউন্ডে বসছে সিডনী বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির প্রাণের আয়োজন, চট্টগ্রাম উৎসব। এইবারের উৎসবের এক বিশেষ আকর্ষণ—চট্টগ্রামের মেজবান রান্নার সেলিব্রিটি বাবুর্চি হাজী আবুল হোসেন। যিনি এখন পর্যন্ত সহস্রাধিক মেজবানী রান্না করেছেন, যা এক অনন্য ইতিহাস! আয়োজকদের আন্তরিক আমন্ত্রণে তিনি আবার পাড়ি দিচ্ছেন প্রশান্ত মহাসাগরের ওপার থেকে, ঠিক চট্টগ্রামের রঙ, ঘ্রাণ, আর স্বাদের বার্তা নিয়ে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>খোদ শো গ্রাউন্ডের কিচেনেই হবে আসল মেজ্জানী রান্না। সেই ঐতিহ্যবাহী মেজ্জানী চাল, ঝরঝরে মাংস, আর মসলার মায়া। আবুল বার্চীর হাতের জাদুতে সেই খাবারের স্বাদ হবে অমৃত, আর তার সুবাসে যেন কিছুক্ষণের জন্য সিডনি হয়ে উঠবে চট্টগ্রাম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এবারের আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—বাংলা সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী, চট্টগ্রামের গর্ব নকীব খান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি উপহার দিয়েছেন অগণিত কালজয়ী ও সুপারহিট গান, যা আজও স্রোতোদের হৃদয়ে একই রকম অনুরণন তোলে। এবারের চট্টগ্রাম উৎসব-এর মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি হবে স্মরণীয় এক মুহূর্ত, যেখানে নষ্টালজিয়া আর সুরের জাদু মিলেমিশে যাবে একাকার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সিডনীর চট্টগ্রাম উৎসব শুধুমাত্র একটি উৎসব নয় &#8211; এটা এক সেতুবন্ধন। চট্টগ্রামের স্মৃতি, মাটির গন্ধ, আর প্রবাসজীবনের মাঝেও না ভোলা এক আবেগের নাম। মেজবান আসলে শুধু খাবারের আয়োজন নয়; এটি চট্টগ্রামের মানুষের গর্ব, শিকড়, আর আত্মপরিচয়ের প্রতিচ্ছবি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একদিন আমরা হয়তো থাকব না, কিন্তু বিশ্বাস আছে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে আগলে রাখবে। তাদের হাত ধরে চট্টগ্রামের মেজবান উৎসব আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে সিডনীর আকাশে, আর সেই সুবাস ছড়িয়ে দেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে।</p>
<p>৩১/১০/২০২৫</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/894/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হাসপাতাল চাই, তবে পরিবেশ বিপন্ন করে নয়</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/892</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/892#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 13 Sep 2026 04:09:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=892</guid>

					<description><![CDATA[আমি হাসপাতাল গড়ার বিপক্ষে নই। যে দেশে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচ জন ডাক্তার, প্রতি দু’হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি করে হাসপাতালের বেড, যৌক্তিকভাবে সেই দেশে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আমি হাসপাতাল গড়ার বিপক্ষে নই। যে দেশে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচ জন ডাক্তার, প্রতি দু’হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি করে হাসপাতালের বেড, যৌক্তিকভাবে সেই দেশে আরো হাসপাতাল নির্মাণ জরুরী। সম্প্রতি করোনকালের ভয়াবহতা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কতটা সঙ্কটের মুখে রয়েছে আমার স্বাস্থ্যখাত। দেশের বিত্তশালীরা সাধারণতঃ বিদেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু বিদেশ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় করোনা আক্রান্ত অনেক বিত্তশালী মানুষও হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড পেয়ে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।</p>
<p>চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য-সেবা বৃদ্ধির জন্য আমরা আরো হাসপাতাল চাই। কিন্তু প্রয়োজন আছে বলে সিআরবি’র প্রাকৃতিক পরিবশেকে বিপন্ন করে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে কেনো?</p>
<p>গাছ ও সবুজ বনাঞ্চল হচ্ছে প্রাকৃতিক শোধনাগার। মানব দেহের ফুসফুস রক্তে অক্সিজেন গ্রহন করে ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়। অন্যদিকে গাছ সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষন করে নিয়ে বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। সিআরবির সবুজে গিয়ে আমরা বিশুদ্ধ হাওয়ায় শ্বাস নিতে পারি বলেই সিআরবিকে বলা হয় চট্টগ্রাম শহরের ফুসফুস। সিআরবির গাছের সারি যুগ যুগ ধরে কালো ধুয়োগুলো শুষে নিয়ে প্রকৃতপক্ষে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।</p>
<p>উল্লেখ্য, প্রতিবছর আমাদের আশেপাশে যে পরিমাণ বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে সে পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে না।  গাছের অভাবে অক্সিজেন যদি দিন দিন এভাবে কমতে থাকে তাহলে একসময় কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অতিরিক্ত হারে বেড়ে গিয়ে মানব জাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।</p>
<p>চুয়েটের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম শহরে প্রতিবছর ৯% হারে সবুজ বনাঞ্চল হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বল্প বৃষ্টিপাতেই পাহাড়ে ঢল নামে যা কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করে এবং বালি, মাটিতে নালা, নর্দমা, ডোবা, পুকুর ও খাল ভরাট ভরে দেয়। পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের হিসাব মতে, বাংলাদেশে বর্তমান বনভূমির পরিমান মাত্র ১১.২ শতাংশ।</p>
<p>বায়ুমন্ডলে কার্বন নিঃসরণ বৈশি^ক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে গাছ এবং বনাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাবকে প্রশমিত করতে পারে। একটি দশ বছর বয়সী গাছ বছরে বাতাস থেকে ২৫-৩০ কেজির কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে এবং দশটি এসির সমপরিমাণ তাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবে বছরের পর বছর, কার্বন শোষণের মাধ্যমে বায়ুর দূষণরোধ করে পরিবেশ ঠান্ডা রাখে। জাতিসংঘের বিশ্ব পরিবেশ সংস্থার তথ্য মতে, একটি বয়স্ক বৃক্ষ ১০ জন মানুষের বার্ষিক অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করতে পারে।</p>
<p>গাছ যত বুড়ো হয় তার কার্বণ ধারণ ক্ষমতা কিন্তু কমেনা। বরং মাটিরে নীচে ছড়িয়ে থাকা শেকড়ের মধ্যে কার্বণ ধারণ করে রাখে। সিআরবি এলাকাটিতে রয়েছে প্রায় শ’খানেক বড় বৃক্ষ। যার মধ্যে আছে শতবর্ষী গর্জন ও শিরীষ গাছ। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এক একরের সম পরিমান বনাঞ্চল বছরে ২.৫ টন কার্ব-ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। সেই হিসাবে কেবল সিআরবির বনাঞ্চল  বছরে প্রায় ছয় শত টন কার্বন শোষণ করতে সক্ষম।</p>
<p>পৃথিবীর বনাঞ্চল বছরে ১৬ হাজার কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষন করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বনাঞ্চল উজাড় করে দেয়ার ফলে প্রায় ৫০% কার্বন আবার বায়ুমন্ডলে ফিরে আসছে। ফলে বনাঞ্চলে সঞ্চিত থাকছে ৮ হাজার কোটি টন কার্বন। ২০১৯ সালে বায়ূমন্ডলে মোট ৩৬ হাজার টন কার্বন নির্গত হয়েছে। পৃথিবীর বনাঞ্চল এর কেবল এক পঞ্চমাংশ ধরে রাখতে সক্ষম। বাকি ২৮ হাজার জন কার্বন বায়ুমন্ডলে থেকেই যাচ্ছে।</p>
<p>তবে এটা ঠিক, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের সবচেয়ে বেশী আসছে চীন, আমেরিকা, ইউরোপ এবং ভারতের মতো দেশগুলো থেকে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের নিঃসরণের পরিমান খুবই নগন্য যেমন মাত্র ০.২১ শতাংশ। কিন্তু ভয়ংকর কথা হল, বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণের পরিমান প্রতি বছর ৪% হারে বেড়ে চলেছে। তাই এখন থেকে সচেতন না হলে নিশ্চিত বিপর্যয় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।</p>
<p>সিআরবিতে যে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট বেসরকারী হাসপাতালের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তাতে কি আম-জনতা চিকিৎসার সুযোগ পাবে? সমমানের বেসরকারী হাসপাতালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, প্রায় ৯০% মানুষই হাসপাতালের আকাশচুম্বি খরচ দিয়ে সেবা নিতে পারবেনা।</p>
<p>চট্টগ্রাম রেলওয়ের আরো বহু জায়গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চট্টগ্রাম শহরে। মানব সেবাই যদি মুখ্য হয়, তাহলে তেমন একটি রেলওয়ের জমিতে একটি সরকারী হাসপাতাল করা হচ্ছেনা কেনো? এছাড়া সিআরবিতে যে হাসপাতালটি রয়েছে সেটাকেও আধুনিকায়ন করা যেতে পারে। কিন্তু জনসেবার নামে যে স্বাস্থ্যবানিজ্যের পাঁয়তারা চলছে, তা দেখে সত্যিই কষ্ট হয়।</p>
<p>বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী চট্টগ্রামের রেলওয়ে ভবন একটি ঐতিহ্য ভবন এবং সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে স্বীকৃত। এছাড়া সিআরবিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা চট্টগ্রাম নগরের মাস্টারপ্ল্যানের লঙ্ঘন। একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কিভাবে সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিনা।</p>
<p>চট্টগ্রামে যারা বড় হয়েছেন তাদের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের স্মৃতিতে, ভালো লাগায় জুড়ে আছে সবুজ সিআরবি আর শীরিষ তলা। ডিসি হিলের পর এখানেই গড়ে উঠেছে সিআরবি কেন্দ্রিক একটি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নিতে, এক মুঠো নির্জনতা উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসেন নগর জীবনের ব্যস্ততার ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্থ মানুষ। অথচ ইতিহাস সমৃদ্ধ এমন একটি অনন্য এলাকাকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে একটি চক্র। তবে আশার কথা হল, সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে দল-মত এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে যে সচেতনা তৈরী হয়েছে, তাতে আগামীতে শহরের অবশিষ্ট পাহাড় ও সবুজ বনাঞ্চলগুলো রক্ষায় সবাই সোচ্চার হবে।</p>
<p>সিআরবি রক্ষার দাবীকে অনেকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন, হাসপাতালের বিরোধিতা করা মানে দেশনেত্রী শেখ হাসিনার বিরোধিতা করা। যা সত্যিই হাস্যকর এবং স্ববিরোধী। কারণ গত ৮ জুলাই জলবায়ূ পরিবর্তজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর এক আন্তর্জাতিক সন্মেলনে বিশ্বব্যাপী সবুজায়ন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পরিবেশ বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাদ দেয়ারও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই সবুজ বনানী ধ্বংস করে সিআরবিতে বেসরকারী হাসপাতাল হোক, এটা প্রধানমন্ত্রী কখনো চাইবেন না।   আমার বিশ্বাস, এ নিয়ে সরকার সহসা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। আর রক্ষা পাবে আমাদের প্রানের সিআরবি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/892/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/870</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/870#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 23:27:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=870</guid>

					<description><![CDATA[চট্টগ্রামের ফুসফুস বলে খ্যাত সিআরবি’র পর এবার চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণভরে শ্বাস নেয়ার আরেকটি প্রিয় জায়গা পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছে আর কেউ নয় সমুদ্র সৈকতের...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>চট্টগ্রামের ফুসফুস বলে খ্যাত সিআরবি’র পর এবার চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণভরে শ্বাস নেয়ার আরেকটি প্রিয় জায়গা পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছে আর কেউ নয় সমুদ্র সৈকতের রক্ষক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ৭ কিলোমিটার পরিসরের ১.৫ কিলোমিটার অংশ ২৫ বছরের জন্য বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দিতে যাচ্ছে সিডিএ। খুব সহসা ইজারা দেয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। এই দেড় কিলোমিটার অংশে টিকেট কাটা ছাড়া সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না।<br />
সমুদ্রসৈকত জনগণের সম্পদ। উন্নত বিশ্বের কোথাও সমুদ্র সৈকতে চলাচলের কোনো বাধানিষেধ নেই। আর সমুদ্র সৈকতকে অবকাশ ও বিনোদনের জন্য বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দিয়ে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার ক্ষুন্ন করার কোনো নাজির কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।<br />
অস্ট্রেলিয়ার কথাই ধরা যাক। সমুদ্র-বেষ্টিত অস্ট্রেলিয়ায় দর্শনীয় সমুদ্র সৈকতের সংখ্যা গুণে শেষ করা যাবেনা। এ দেশের সব সমুদ্র সৈকত এলাকাকে ক্রাউন ল্যান্ড বা সরকারী মালিকানাধীন জমি হিসাবে গণ্য করা হয়। এভাবে সমুদ্র সৈকতে সর্বসাধারণের অবাধ বিচরণ সংরক্ষিত করা হয়েছে যাতে মানুষ বিনোদনমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য সমুদ্র সৈকতকে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া সমুদ্র সৈকতের পাড়ে যাদের বাড়ী তাদের জমির সীমানা সমুদ্র সৈকতে গিয়ে শেষ হলেও কোনোভাবেই সৈকত এলাকায় সর্বসাধারণের প্রবেশ অবরুদ্ধ করতে পারবেনা। অস্ট্রেলিয়ার আইনে এটা নিষিদ্ধ।<br />
সমুদ্র সৈকতে মানুষের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত না করে সিডিএ পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের একাংশের ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যেখানে মানুষকে টিকিট করে ঢুকতে হবে। তার মানে যাদের টিকিট কাটার সামর্থ্য আছে কেবল তারাই সেখানে যেতে পারবে। এভাবে সর্বসাধারণের একটি বড় অংশকে বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে। চট্টগ্রামের মানুষের জন্য যেখানে আরও বেশি উন্মুক্ত এলাকা দরকার, সেখানে তা আরো সীমিত করার যৌক্তিকতা কতটুকু তা বোধগম্য নয়।<br />
সমপ্রতি পতেঙ্গা এলাকাকে সংস্কারের মাধ্যমে ঢেলে সাজিয়ে সিডিএ পর্যটনের যে ব্যাপক সুযোগ করে দিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রকল্পের আওতায় পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট, সীতাকুন্ড পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়ী বাঁধ, আউটার রিং রোড সহ নির্মিত হয়েছে সমুদ্র সৈকতে বসার জন্য রঙিন আসন, পরিবার পরিজন নিয়ে হাঁটার জন্য চওড়া রাস্তা ও রাস্তার দু’পাশে বাতি। নূতন করে সংস্কার করা পতেঙ্গা সৈকতে মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নিতে, এক মুঠো নির্জনতা উপভোগ করতে, একটু মানসিক প্রশান্তির এখানে ছুটে আসেন নগর জীবনের ব্যস্ততার ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত মানুষ। বন্ধের দিনে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আসা মনপিপাসু ও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে বোঝা যায় এই জায়গাটা মানুষের কত প্রিয়। সৈকতে বেশি যায় মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত মানুষ। তাদের অন্য কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য কম। কিন্তু অবসর কাটোনার এই জায়াটুকুতেও যদি টিকিট কেটে ঢুকতে হয় তাহলে সাধারণ জনগণ যাবে কোথায়?<br />
১৯৯৫ সালের চট্টগ্রাম মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নগরের কোথায় কি হবে তা নিয়ে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হয়। সিডিএ ড্যাপে পতেঙ্গা সৈকতকে পাবলিক ওপেন স্পেস বা সর্বজনের উন্মুক্ত পরিসর হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, এ ধরনের উন্মুক্ত এলাকা কোনো ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া যাবে না। তাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত আইনগতভাবে ইজারা দেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেনা। দুঃখজনক হল সিডিএ যদি আইন লংঘনের নজির স্থাপন করে তাহলে সাধারণ মানুষ কেন এই আইন মানবে?<br />
সিডিএ বলছে, সৈকতের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের পর্যাপ্ত তহবিল নেই বলেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। সৈকতের একটি অংশ থেকে অর্জিত আয় থেকে বাকীটুকু রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। সাধারণত বড় কোনো প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা কিভাবে করা হবে, আর এ জন্য বাৎসরিক কত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে সেজন্য প্রকল্পের শুরুতেই একটি বিজনের প্ল্যান তৈরী করা হয়। পতেঙ্গা সসৈকত সংস্কার কাজ শুরু করার আগে এ নিয়ে কি সিডিএ কোনো পরিকল্পনা করেছে? না হলে প্রকল্প শেষ করার কয়েক বছরের মধ্যেই কেনো অর্থের টান পড়বে?<br />
সর্বসাধারণের প্রবেশযোগ্য একটি স্থানকে বাণিজ্যকভাবে ইজরার দেয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, ও আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন ছিল। আমাদের দেশের কর্তৃপক্ষগুলো এ বিষয়ে উদাসীন। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন।<br />
পতেঙ্গা সৈকতে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত রেখে পর্যটকদের জন্য কিছু সেবামূলক বা বিনোদনমূলক ব্যবস্থার মাধমে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আয় করা যেতে পারে। যেমন সৈকত এলাকায় ক্যাফে, চট-জলদি খাবার, চলযান, শিশুদের জন্য খেলাধূলার ব্যবস্থা, শৌচাগার ইত্যাদি নির্মাণ করে তা পরিচালনার জন্য দেয়া যেতে পারে। এভাবে সহজেই মুনাফা উঠিয়ে আনা যায়। এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থাগুলো সিডিএ খতিয়ে দেখতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই সৈকতের একটি অংশ বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।<br />
সিআরবি’র মত সাধারণ মানুষকে এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদে মুখর হতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণ ও স্বার্থের বিপক্ষে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নেয়া ঠিক হবে না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/870/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসন রুখতে হবে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/657</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/657#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 01:13:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=657</guid>

					<description><![CDATA[পশ্চিমবঙ্গের একজন বাঙালি বন্ধু সেদিন কথা প্রসঙ্গে বললেন, বাংলাদেশের বাঙালিদের জন্যই পৃথিবীর বুকে বাংলাভাষা এখনো টিকে আছে। পশ্চিম বাংলার বাঙালিরা বাঙালিয়ানা ঝেড়ে মুছে ফেলতে নিজেরাই কিভাবে উঠে পড়ে লেগেছেন সে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পশ্চিমবঙ্গের একজন বাঙালি বন্ধু সেদিন কথা প্রসঙ্গে বললেন, বাংলাদেশের বাঙালিদের জন্যই পৃথিবীর বুকে বাংলাভাষা এখনো টিকে আছে। পশ্চিম বাংলার বাঙালিরা বাঙালিয়ানা ঝেড়ে মুছে ফেলতে নিজেরাই কিভাবে উঠে পড়ে লেগেছেন সে নিয়ে তার কষ্টের কথাও বললেন। হিন্দি ও ইংরেজির দাপটে কলকাতায় বাংলাভাষা ক্ষত-বিক্ষত। বলিউড সঙ্গীত/চলচ্চিত্র, রবীন্দ্র সঙ্গীত ও সত্যজিতকে সরিয়ে দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। কলকাতার বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ডে এখন দেখা যায় কেবল হিন্দি ও ইংরেজি। বাঙালিরা আসলে হিন্দির কাছে ভীষণ রকমের হীনম্মন্যতায় ভুগছে, বললেন আমার বন্ধুটি। </p>
<p>বন্ধুটির আক্ষেপ, পাকিস্তান আমলে আমার ছেলেবেলাকার কথা মনে করিয়ে দিল, যখন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা উর্দু ও পাঞ্জাবী সংস্কৃতির কাছে অনেকটা একই ধরনের হীনম্মন্যতায় ভুগছিলেন। উর্দু বাজারে কিভাবে সাফল্য পাওয়া যায় সেটাই ছিল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের শিল্পী, অভিনেতা ও কবি সাহিত্যিকদের প্রধান লক্ষ্য। খ্যাতিমান বাঙালি সুরকার আলাউদ্দিন আলী ও রবিন ঘোষ, অভিনয় শিল্পী রহমান, শবনম, সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা পশ্চিম পাকিস্তানের ললিউডেই পাড়ি জমিয়েছিলেন। </p>
<p>সাহিত্য অঙ্গনে জাতীয় কবি ইকবালকে নিয়েই ছিল মাতামাতি। মহান একুশের রক্তাক্ত সিঁড়ি বেয়ে যদি আমরা স্বাধীনতা না পেতাম, তাহলে শামসুর রহমান হয়তো লিখতেন না ‘স্বাধীনতা তুমি’র মতো কালজয়ী কবিতা আর জাতীয় কবির আসনে আমরা পেতাম না কবি নজরুলকে। আমাদের কবি সাহিত্যিকদের অনেকে হয়তো উর্দুতেই কাব্য রচনা করতেন। অভিনেতা মোহম্মদ আলী ও ওয়াহিদ মুরাদদের দাপটে আজকের নায়করাজ রাজ্জাক হয়তো একজন আঞ্চলিক অভিনেতা হিসাবেই পড়ে থাকতেন। আমি অন্য ভাষার সাহিত্য ও কবি সাহিত্যিকদের শ্রদ্ধা করি। রুমি, হাফিজ, গালিব, বাহাদুর শাহ জাফরের গজল আমার খুবই প্রিয়। আমি খলিল জীব্রান ও নাজিম হিকমতের কবিতাও পড়ি। কিন্তু কোনো কিছুই আমাদের আব্বাস উদ্দীন, আব্দুল আলীম, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুনদের বাদ দিয়ে নয়। </p>
<p>উর্দু ভাষা আমাদের শত্রু ছিল না, এটি হল একটি অঞ্চলের ভাষা। কিন্তু আমাদের উপর তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের উর্দু চাপিয়ে দেয়াটা ছিল চরম অন্যায়। ১৯৪৮ সালের ২৩ মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে ঘোষণা দিলে সমগ্র হল নো নো ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। জিন্নাহর ধারণা ছিল যেসব মুসলিম পাকিস্তান চায় তাদের সবার ভাষা হল উর্দু। অথচ জিন্নাহ নিজেই ভালো করে উর্দুতে কথা বলতে পারতেন না এবং লিখতেও পারতেন না। জিন্নাহর মাতৃভাষা ছিল গুজরাটি। </p>
<p>খাজা নাজিমুদ্দিনের মতো পূর্ব পাকিস্তানের যেসব নেতা জিন্নাহের কাছাকাছি ছিলেন তারা উর্দুতেই কথা বলতেন। বাঙালি জনগণের সত্যিকারের চাওয়া পাওয়ার সাথে ছিল না তাদের কোনো সম্পর্ক। খাজা নাজিমুদ্দীন ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে পল্টন ময়দানের এক জনসভায় ‘উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে’ ঘোষণা দিলে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদের ঝড়। অবশেষে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতিদানের দাবিতে একুশে ফেব্রুয়ারিতে কিছু অকুতোভয় যুবক রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে না দিলে আমাদের মুখের ভাষা হয়তো উর্দু হতো। আর ভাষার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতো আমাদের জাতিসত্ত্বা। </p>
<p>বাংলা পৃথিবীর মধ্যে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা। ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বের সর্বত্র এখন শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশ, সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারের নাম। একুশ সৃষ্টি করেছে স্বতন্ত্র একটি দেশ, সংস্কৃতি ও জীবনবোধ। তাই একুশ হচ্ছে আমাদের অহংকার। আমাদের নতুন প্রজন্ম যাতে এই অহংকারে উজ্জীবিত হয়, নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি উদাসীন হয়ে না পড়ে সেজন্য আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। এই প্রতিযোগিতার যুগে টিকে থাকার জন্য ইংরেজি কিংবা অন্য ভাষা জানারও দরকার আছে। কিন্তু আমাদের সন্তানদের স্পষ্ট করে বলে দিতে হবে আগে বাংলা, তারপর অন্য কিছু। </p>
<p>বাংলাভাষার জন্য বায়ান্নতে আমরা জীবন দিলাম, উর্দুকে ঝেটিয়ে বিদায় করলাম। কিন্তু আজ হিন্দি ও বলিউডের প্রভাবে আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি হুমকির মুখে। ঘরে ঘরে যেরকম হিন্দির আগ্রাসন চলছে, তা অত্যন্ত ভীতিকর। ভাষা নিয়ে ছেলেবেলাকার সেই হীনম্মন্যতা যেন আবার ফিরে এসেছে। আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে যাচ্ছে। লাহোরের বদলে আমরা এখন বোম্বের কাছেই মাথা নত করছি। পোশাকে, ফ্যাশনে, কথা বলার সময় শব্দচয়নেও দেখা যাচ্ছে ইংরেজি ও হিন্দি প্রীতি। নতুন প্রজন্মের কথাবার্তার মধ্যে দু’একটি হিন্দি শব্দ না থাকলেই যেন নয়। বিয়ে-শাদী, পারিবারিক অনুষ্ঠানে ‘হলুদ বাটো মেন্দি বাটোর’র বদলে এখন শোনা যায় ওড়নার পেছনে কি আছে, শাবা শাবা ইত্যাদি বলিউডী গান। এছাড়া রেডিওর উপস্থাপক ও তরুণ শিল্পীদের কন্ঠে শোনা যায় বাংলিশ ভাষার প্রয়োগ। শুধু বাইরের দোষ দিয়ে কি হবে? আমরাই তো লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাথায় করে নিয়ে আসছি ভারতীয় শিল্পীদের। </p>
<p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপমহাদেশের জনপ্রিয় একটি ভাষা শিক্ষার কোর্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হতেই পারে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জনাব আরেফিন সিদ্দিকি ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের হিন্দি ভাষা শেখা উচিত বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মেনে নেয়া মুশকিল। ভারতের ২৮টি প্রদেশের মধ্যে মাত্র ৯টি প্রাদেশিক সরকারি ভাষা হল হিন্দি। আমাদের সীমান্ত জুড়ে ভারতের যেসব প্রদেশ রয়েছে তাদের ভাষাও হিন্দি নয়। উর্দুর আধিপত্য মেনে নেইনি বলেই আমরা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করেছি। এখন ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কেন হিন্দি শিখতে হবে সেটা বোধগম্য হল না। </p>
<p>প্রবাসে বাংলা নাটক ও ধারাবাহিক দেখা হল আমার মতো অনেকেরই একমাত্র বিনোদন। কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দি সিরিয়ালের জন্য যে ধরনের উন্মাদনার কথা শুনি, তা আমাকে বিস্মিত করে। উৎসুক্য মেটাতে আমি কয়েকটি হিন্দি সিরিয়ালের বেশ কিছু পর্ব দেখার পর বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বাংলাদেশের নাটকের মান ওইসব সিরিয়ালের চেয়ে হাজারো গুণ ভালো। কিন্তু এরপরও হিন্দি অনুষ্ঠানের দিকে কেন আমাদের নতুন প্রজন্ম ও গৃহিনীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন, ওদের অনুকরণ করছেন, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। আমি মনে করি আমাদের টিভি ও অন্যান্য বিনোদন মাধ্যমকে এ নিয়ে ভাবতে হবে, না হলে আমাদের মায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি একদিন হারিয়ে যাবে। </p>
<p>সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, ‘কে কবে মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে বড় হতে পেরেছে?’ নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি যাতে উদাসীন হয়ে না পড়ে সেজন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই স্লোগানে উজ্জীবিত করতে হবে। জগতে টিকে থাকার জন্য ইংরেজি কিংবা অন্য ভাষারও দরকার আছে। কিন্তু আমাদের সন্তানদের স্পষ্ট করে বলে দিতে হবে আগে বাংলা, তারপর অন্য কিছু। আমরা অনেকেই ভাবি বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা হয় না। কিন্তু দেখা গেছে আইনস্টাইন, মাদাম কুরীর মতো কিংবদন্তি বিজ্ঞানীদের প্রায় সব গবেষণা নিবন্ধ ছিল তাদের মাতৃভাষায় লেখা। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব¡ বিষয়ক প্রবন্ধটি প্রথম ইরেজিতে অনুবাদ করেন জগদ্বিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন বসু ও তাঁর সহপাঠী বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা। পরে তারা এটি বাংলাতেও অনুবাদ করেন। </p>
<p>আচার্য প্রফুল্ল রায়, জগদীশ চন্দ্র বসু ও সত্যেন বসুর মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীরা মনেপ্রাণে চেয়েছেন দেশের মানুষ বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করুক। বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রসারের জন্য সত্যেন বসু ‘বিজ্ঞান পরিচয়’ নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করতেন। তিনি বলতেন, ‘যাঁরা বলেন বাংলাভাষায় বিজ্ঞান হয় না, তাঁরা হয় বাংলা জানেন না, নয় বিজ্ঞান বোঝেন না।’</p>
<p>বাংলাভাষাকে বিশ্বের দরবারে ধরে রাখার জন্য আমরা যারা প্রবাসে থাকি তাদেরও কিছু দায়বদ্ধতা আছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, কোনো ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানীর দেখা পেলে আমরা অনেকইে উর্দু বা হিন্দিতে বুলি আওড়াতে শুরু করি। ভুল কি শুদ্ধ হচ্ছে সেটাও ঠিকমত খেয়াল করি না। অথচ এর উল্টো অর্থাৎ একজন ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানী বাঙালির সাথে দেখা হলে নিজ ভাষা ছাড়া বাংলা তো দূরের কথা, ইংরেজিও বলে না। বিশেষ করে পাকিস্তানীদের মুখোমুখি হলে প্রথম কথাই হল, ‘কেয়া হাল হ্যায়?’ আমরা হিন্দি বা উর্দু জানি কিনা সেটার ধার ওরা ধারে না, যা আমার কাছে ভীষণ বিরক্তিকর মনে হয়। তাই আমি হিন্দি জানলেও ইংরেজিতে উত্তর দেই। </p>
<p>মধ্যপ্রাচ্যে এসে দেখলাম পরিস্থিতি আরও খারাপ। মধ্যপ্রাচ্যের অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্যে ভারতীয়দের দাপট অনস্বীকার্য। কিন্তু অবাক হই যখন দেখি, যেসব বাঙালি ইংরেজিতে কথা বলতে সক্ষম তারাও ভারতীয় সহকর্মীদের সাথে অফিসে ও বাইরে দেদার হিন্দ/উর্দুতে কথা বলছেন। কাতারের দোহা শহরের একটি বাংলাদেশী রেস্তরায় একদিন চা খেতে বসেছি। দেখলাম দু’জন মানুষ বাংলায় কথা বলতে বলতে আমার পাশের টেবিলে এসে বসলেন এবং বাঙালি হোটেল বয়কে হিন্দিতে খাবারের অর্ডার দিলেন। হোটেল বয় আমার সাথেও হিন্দি বলতে শুরু করলো। এভাবে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বাঙলা ভাষাকে অবজ্ঞা করাটা সত্যিই পীড়াদায়ক। ভারতীয় ও পাকিস্তানীরা যেখানে নিজের ভাষায় কথা বলতে এতটুকু দ্বিধা করে না, সেখানে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের সবচেয়ে মিষ্টি ভাষা হিসাবে বাংলা স্বীকৃতি পাবার পর, বাংলা ভাষায় কথা বলতে আমাদের লজ্জা পেতে হবে কেন? </p>
<p>একবার আবুধাবী থেকে ইতেহাদের ঢাকা ফ্লাইটে উঠে বসেছি। ককপিট থেকে ঘোষণায় বলা হল বিমানের যাত্রীসেবক/সেবিকারা হিন্দি, আরবি, ইংরেজি ও অন্যান্য বেশ ক’টি ভাষায় পারদর্শী। যাত্রীদের শতকরা ৯৯ ভাগ বাঙালি হলেও ওই ঘোষণায় বাঙলা ভাষার কোনো উল্লেখ ছিল না। একটু পরেই আমার পাশে বসা যাত্রীটি আমার সাথে হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করলেন। কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম তিনি বাঙালি। তাকে বিনয়ের সাথে হিন্দিতে কথা বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমার চেহারা দেখতে নাকি তার ভারতীয় সহকর্মীদের মত, তাই তিনি হিন্দিতে কথা বলেছেন। দুঃখ পেলাম। মাতৃভাষা ছেড়ে অন্য ভাষার সাথে আমরা খুব সহজেই আপোষ করতে পারি বলেই হ তো ঢাকাগামী ইতেহাদ ফ্লাইটে বাঙলা জানা সেবক দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি বিমান কর্তৃপক্ষ। </p>
<p>অমাদের দেশের আয়োজকরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভারত থেকে নিয়ে আসছেন সঙ্গীতশিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রী। অথচ স্বদেশের সেরা শিল্পীদের জন্য দশ ভাগের একভাগও ব্যয় করতে চান না। একবার ঢাকা ফেরার পথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আচম্কা দেখা মিলল সঙ্গীতশিল্পী বন্ধু কুমার বিশ্বজিতের সাথে। বিমানে অনেক কথাই হল, যার মধ্যে ছিল ঢাকায় শাহরুখ খানের একটি কনসার্টের কথা। বাংলাদেশী শিল্পীদের প্রতি আয়োজকদের অবজ্ঞার কথা বললো বিশ্বজিত। ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বজিতের গান করার কথা ছিল। কিন্তু কনসার্টের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রীর ব্যবস্থা না করায় শেষ মুহূর্তে গান না করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন বিশ্বজিত। </p>
<p>আজকের গ্লোবালাইজেশানের যুগে জিডিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে চলছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। আমাদের ভাষাভিত্তিক আলাদা জাতিসত্ত্বা রক্ষা করতে হলে হীনম্মন্যতা ঝেড়ে ফেলে এই অদৃশ্য ডিজিটাল শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। এই লড়াইয়ে একুশের সংগ্রামী চেতনা হতে পারে আমাদের পথপ্রদর্শক। </p>
<p> </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/657/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বদেশের সংঘাত উত্তাপ ছড়ায় প্রবাসের মাটিতে</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/society-nation/625</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/society-nation/625#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 26 Aug 2026 08:24:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=625</guid>

					<description><![CDATA[বহুজাতিক অভিবাসীদের শহর হলো সিডনি। এই শহরের কোনো কোনো এলাকায় একটি বিশেষ জাতিভিত্তিক জনগোষ্ঠির সংখ্যাধিক্য লক্ষ্য করা যায়। সিডনির উত্তর-দক্ষিণ এলাকায় মূলত মুসলিম আরব অস্ট্রেলিয়ানদের বসবাস। যেমন ব্যাঙ্কসটাউন, অবার্ন এলাকায়...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বহুজাতিক অভিবাসীদের শহর হলো সিডনি। এই শহরের কোনো কোনো এলাকায় একটি বিশেষ জাতিভিত্তিক জনগোষ্ঠির সংখ্যাধিক্য লক্ষ্য করা যায়। সিডনির উত্তর-দক্ষিণ এলাকায় মূলত মুসলিম আরব অস্ট্রেলিয়ানদের বসবাস। যেমন ব্যাঙ্কসটাউন, অবার্ন এলাকায় তুর্কি ও সিরিয়ান কমিউনিটি, ল্যাকেম্বায় লেবানিজ কমিউনিটি ইত্যাদি। মসজিদকে ঘিরেই বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম জনবসতি গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে লিভারপুল এলাকায় থাকেন ভিয়েতনামীজরা এবং সিডনি ডাউন-টাউন অর্থাৎ হে-মার্কেট এলাকায় রয়েছে চায়না টাউন। </p>
<p>বাঙালিরা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও ল্যাকেস্বা, মিন্টো, হিলস্ডেল, ব্ল্যাকটাউন, রুটিহিল সন্নিহিত এলাকায় অধিকাংশ বাঙালি বসত গেড়েছেন। অনেক অস্ট্রেলিয়ান এটা ভালো চোখে দেখেন না এবং এসব এলাকাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে Ghetto বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। তাদের মতে, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরবরা নিজেদের কমিউনিটি ছেড়ে বাইরে আসতে চান না, অস্ট্রেলিয়ার মূল ধারার সংস্কৃতি ও জীবনধারার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে তারা আগ্রহী নন। এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে যখন একজন অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ায় আসেন, তখন নতুন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য স্বাভাবিক কারণেই পরিচিত কোনো বন্ধুর কাছাকাছি কিংবা এমন কোনো এলাকায় থাকতে চান যেখানে দেশী মানুষের দেখা মিলবে। </p>
<p>সিরিয়ায় হাজারো নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু নিয়ে সিরিয়া বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের উদ্বেগ হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সিরিয়ায় আলাভি শিয়া ও সুন্নী মুলিমদের মধ্যে যে লড়াই চলছে; সেই সংঘাত, বিদ্বেষ ও ঘৃণার উত্তাপ সিডনি শহরেরও টেনে আনার কোনো কারণ দেখি না। যা পুরো মুসলিম কমিউনিটির ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করছে। </p>
<p>সিডনির আরব বংশোদ্ভূত শিয়া ও সুন্নী কমিউনিটির মানুষ একে অন্যের বাসায় অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে টেলিফোনে ম্যাসেজ দেয়া, এমনকি হত্যারও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে পুলিশের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট এসেছে। দুঃখজনক হলো, আরব মুসলিমদের এ ধরনের মারমুখী এবং বুনো আচরণের জন্য সিডনির পুরো মুসলিম কমিউনিটিকে দুর্নামের ভাগী হতে হচ্ছে। </p>
<p>শুধু কি তাই? বহু অস্ট্রেলিয়ান আরব গৃহযুদ্ধে অংশ নিতে সিরিয়া পাড়ি দিয়েছেন। সিডনির আরব এলাকার রাস্তায় হাতাহাতি, বাড়িতে ফায়ারবম্ব নিক্ষেপ, এমনকি প্রতিপক্ষকে অপহরণের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনাও ঘটেছে। সিডনির পাঞ্চবাওল এলাকার একজন শিয়া মুসলিম ফেসবুকে প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষে মন্তব্য করার আধঘন্টার মধ্যে নিজ বাড়িতেই আক্রান্ত হন। বাড়ির দরোজার সামনেই সুন্নী প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা তার পায়ে গুলি করে দু দু’বার। </p>
<p>আরব অস্ট্রেলিয়ানদের এ ধরনের সহিংস আচরণ মূলধারার শ্বেতকায় অস্ট্রেলিয়ানদের মুসলিম কমিউনিটির বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমরা নিয়মিত বর্ণ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, এটা সত্য। ৯/১১ এর পর এর মাত্রাও বেড়েছে অনেক। তবে আমি মনে করি, এজন্য কেবল একতরফাভাবে অন্যদের উপর দোষ না চাপিয়ে নিজেদের কথাও একটু ভাবা উচিত। আজ বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের যে ইমেজ সঙ্কট চলছে তার জন্য মুসলিমরাও কি দায়ী নয়? সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিয়ে সিডনির বিভিন্ন আরব মহল্লায় যা ঘটেছে সেটার দায় কি মুসলিম কমিউনিটি এড়াতে পারে? রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ দেশ। নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনের সন্ধানেই অধিকাংশ অধিবাসী এই দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। নিজ নিজ দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতিগত কলহ এখানে টেনে আনাটা কারো জন্যই শুভকর হবে না। </p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/society-nation/625/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সড়ক উঁচু করে জলাবদ্ধতার নিরসন হবে না</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/524</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/524#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 09 Aug 2026 07:15:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=524</guid>

					<description><![CDATA[বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই চট্টগ্রাম নগরীর জনগণ জলবন্দী হবার আতঙ্কে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেই জলাবদ্ধতা এখানকার মতো দীর্ঘস্থায়ী হয়...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই চট্টগ্রাম নগরীর জনগণ জলবন্দী হবার আতঙ্কে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেই জলাবদ্ধতা এখানকার মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম নগরীর সমস্যা হচ্ছে অল্প বৃষ্টিপাতেই জলমগ্ন হয়ে যায় শহর। দিনের পর দিন পানিতে ডুবে থাকে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা। </p>
<p>চট্টগ্রাম শহরে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৮০০ মিলিমিটারের মধ্যে ওঠানাম করে। এই ধরনের বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত এবং কার্যকর নিষ্কাষণব্যবস্থা। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রামে নেই ভূগর্ভস্থ পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা বা স্টর্মওয়াটার ড্রেইনেজ সিস্টেম, নেই বাড়ি-ঘরের টয়লেট থেকে নির্গত ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য সুয়ারেজ সিস্টেম। বৃষ্টি এবং ময়লা পানি নিষ্কাষণের জন্য ড্রেন, নদী-নালা, খাল-বিলের মতো উন্মুক্ত ড্রেইনেজ ব্যবস্থার ওপর পুরোপরি নির্ভর করতে হয়। কিছু কিছু বাড়ি বা স্থাপনায় সেপ্টিক ট্যাংক থাকলেও ময়লা পানি সরাসরি ড্রেন, খাল হয়ে সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ড্রেন, নদী-নালা, খাল-বিলের সীমিত ধারণ ক্ষমতার কারণে মাত্র ১০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।</p>
<p>চট্টগ্রাম ওয়াসা পাইপ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করে থাকে। বৈজ্ঞানিক জরিপে দেখা গেছে, বিভিন্ন কারণে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কে সাধারণত ৫-১০% লিকেজ থাকে এবং বড় শহরে এটা ৩৫% পর্যন্ত হতে পারে। বর্জ্য, মলমূত্র ও ময়লা পানি নদী-নালা, খাল এবং ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করছে। পাইপ নেটওয়ার্কের লিকেজের কারণে তাই সুপেয় পানিও দূষিত হতে পারে। এটা পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি। </p>
<p>মাছ এবং জলজ প্রাণী পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করেই বেঁচে থাকে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ লিটারে ৫ মিলিগ্রামের নিচে নেমে গেলে জলজ প্রাণী হুমকির মুখে পড়ে। অক্সিজেনের পরিমাণ ১-২ মিলিগ্রামের নিচে নেমে গলে মাছ আর বাঁচতে পারে না। চট্টগ্রামের বড় বড় খালে পানি স্থবির হয়ে আছে, নেই কোনো প্রবাহ। দূষণের জন্য পানি রং কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, চাক্তাই ও মহেশ খালের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা শূন্যে নেমে এসেছে। এদিকে কর্ণফুলী নদীর পানির দূষণও চরম আকার ধারণ করেছে। সহসা ব্যবস্থা না নিলে চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণ, সুপেয় পানির উৎস কর্ণফুলী মৃত নদীতে পারিণত হবে।</p>
<p>জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ত্বরিত ও স্বল্পমেয়াদী প্রচেষ্টা হিসাবে রাস্তা-ঘাট উঁচু করা হচ্ছে। ফলে কিছুদনের জন্য রাস্তায় পানি না উঠলেও রাস্তার দু’পাশের দোকান-পাট ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। শহরের সড়কগুলো উঁচু করার কোনো প্রযুক্তিগত ভিত্তি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি। রাস্তা উঁচু করলে কি জলাবব্ধতার অবসান হবে? রাস্তার উচ্চতা বাড়ালে আশেপাশের এলাকায় কি প্রভাব পড়তে পারে সে নিয়ে কি যথাযথ অনুসন্ধান করা হয়েছে? শুধু কি তাই? নতুন বাড়ি-ঘরের ভিত্তিও রাস্তার সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমান্বয়ে উঁচু করে তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে হয়তো দু’এক বছর রাস্তায় পানি উঠবে না। কিন্তু পরবর্তীতে রাস্তা আবারও উঁচু করতে হবে। এভাবে বার বার রাস্তা উঁচু করা হলে পুরো শহরটা ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যানের মতো আকাশে নির্মাণ করতে হবে। রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধি সমাধানের বদলে সমস্যাকে আরো ঘনীভূত করছে। </p>
<p>রোড ডিজাইনের নিয়মানুযায়ী রাস্তার উচ্চতা সাধারণতঃ দুপাশের জমি থেকে নিম্নস্তরে নির্ধারণ করা হয় যাতে বৃষ্টির পানি রাস্তায় নির্গমন করতে পারে। আর যথাযত ফ্লাড মডেলিংয়ের মাধ্যমে বন্যার পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি এলাকার বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনার প্লিন্থ লেভেল নির্দিষ্ট করে দেন। কিন্তু এখানে হচ্ছে ঠিক তার উল্টো।</p>
<p>আগ্রাবাদ এবং ডবলমুরিং এলাকায় শেখমুজিব এবং পোর্ট কানেক্টিং সড়কের সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড। এই সড়কের আশেপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট ও বাড়ি-ঘর। সম্প্রতি এই রাস্তাকে উঁচু করা হচ্ছে। ওই এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, নতুন নির্মিত ফুটপাতের সমতল থেকে রাস্তা সংলগ্ন স্থাপনাগুলো এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত নিচে পড়ে গেছে। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই সেগুলো জলমগ্ন হবে এবং রাস্তার দু’পাশের সব স্থাপনার নীচতলা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা ছাড়া মানুষের আর কোনো গত্যন্তর থাকবে না। দীর্ঘদীন ধরে চলা সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য দোকান-পাটের বেচাকেনা এবং পুরো এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় জনগণ ও ব্যসায়ীরা যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন সেই কথা কি কেউ ভেবেছেন?</p>
<p>চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সম্প্রতি ৫,৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় খাল খনন, নতুন খাল নির্মাণ, রিটেইনিং দেয়াল নির্মাণসহ অন্যান্য বেশ কিছু কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হবার কথা। এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে আমরা যাই করি না কেন, সমস্যার শেকড়ে না গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলে জলাবদ্ধতা থেকে কখনো মুক্তি পাওয়া যাবে না। শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা উঁচুকরণের যে কাজ চলছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন কাজ বাহ্যিক দৃষ্টিতে সুফল দিচ্ছে মনে হলেও পরবর্তীতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/524/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সিআরবি : হাসপাতাল চাই তবে পরিবেশ বিপন্ন করে নয়</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/439</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/439#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 05 Aug 2026 15:01:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=439</guid>

					<description><![CDATA[আমি হাসপাতাল গড়ার বিপক্ষে নই। যে দেশে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচজন ডাক্তার, প্রতি দু’হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি করে হাসপাতালের বেড, যৌক্তিকভাবে সেই দেশে আরো...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আমি হাসপাতাল গড়ার বিপক্ষে নই। যে দেশে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচজন ডাক্তার, প্রতি দু’হাজার মানুষের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি করে হাসপাতালের বেড, যৌক্তিকভাবে সেই দেশে আরো হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি। সম্প্রতি করোনাকালের ভয়াবহতা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কতটা সঙ্কটের মুখে রয়েছে আমার স্বাস্থ্যখাত। দেশের বিত্তশালীরা সাধারণত বিদেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় করোনা আক্রান্ত অনেক বিত্তশালী মানুষও হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড পেয়ে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। </p>
<p>চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির জন্য আমরা আরো হাসপাতাল চাই। কিন্তু প্রয়োজন আছে বলেই সিআরবি’র প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপন্ন করে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে কেন? </p>
<p>গাছ ও সবুজ বনাঞ্চল হচ্ছে প্রাকৃতিক শোধনাগার। মানবদেহের ফুসফুস রক্তে অক্সিজেন গ্রহণ করে ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়। অন্যদিকে গাছ সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নিয়ে বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। সিআরবির সবুজে গিয়ে আমরা বিশুদ্ধ হাওয়ায় শ্বাস নিতে পারি বলেই সিআরবিকে বলা হয় চট্টগ্রাম শহরের ফুসফুস। সিআরবির গাছের সারি যুগ যুগ ধরে কালো ধোঁয়াগুলো শুষে নিয়ে প্রকৃতপক্ষে বৈশ্বিক উষ্ণায়নসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় নিরবে কাজ করে যাচ্ছে। </p>
<p>উল্লেখ্য, প্রতিবছর আমাদের আশেপাশে যে পরিমাণ বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে সে পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে না। গাছের অভাবে অক্সিজেন যদি দিন দিন এভাবে কমতে থাকে তাহলে একসময় কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অতিরিক্ত হারে বেড়ে গিয়ে মানবজাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।</p>
<p>চুয়েটের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম শহরে প্রতিবছর ৯% হারে সবুজ বনাঞ্চল হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বল্প বৃষ্টিপাতেই পাহাড়ে ঢল নামে যা কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করে এবং বালি, মাটিতে নালা, নর্দমা, ডোবা, পুকুর ও খাল ভরাট ভরে দেয়। পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের হিসাব মতে, বাংলাদেশে বর্তমান বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১১.২ কণাংশ। </p>
<p>বায়ুমন্ডলে কার্বন নিঃসরণ বৈশি^ক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে গাছ এবং বনাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাবকে প্রশমিত করতে পারে। একটি দশ বছর বয়সী গাছ বছরে বাতাস থেকে ২৫-৩০ কেজির কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে এবং দশটি এসির সমপরিমাণ তাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবে বছরের পর বছর, কার্বন শোষণের মাধ্যমে বায়ুর দূষণরোধ করে পরিবেশ ঠান্ডা রাখে। জাতিসংঘের বিশ্ব পরিবেশ সংস্থার তথ্যমতে, একটি বয়স্ক বৃক্ষ ১০ জন মানুষের বার্ষিক অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। </p>
<p>গাছ যত বুড়ো হয় তার কার্বণ ধারণ ক্ষমতা কিন্তু কমে না। বরং মাটির নিচে ছড়িয়ে থাকা শেকড়ের মধ্যে কার্বণ ধারণ করে রাখে। সিআরবি এলাকাটিতে রয়েছে প্রায় শ’খানেক বড় বৃক্ষ। যার মধ্যে আছে শতবর্ষী গর্জন ও শিরীষ গাছ। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এক একরের সম পরিমাণ বনাঞ্চল বছরে ২.৫ টন কার্ব-ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। সেই হিসাবে কেবল সিআরবির বনাঞ্চল বছরে প্রায় ছয় শত টন কার্বন শোষণ করতে সক্ষম।</p>
<p>পৃথিবীর বনাঞ্চল বছরে ১৬ হাজার কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বনাঞ্চল উজাড় করে দেয়ার ফলে প্রায় ৫০% কার্বন আবার বায়ুমন্ডলে ফিরে আসছে। ফলে বনাঞ্চলে সঞ্চিত থাকছে ৮ হাজার কোটি টন কার্বন। ২০১৯ সালে বায়ুমন্ডলে মোট ৩৬ হাজার টন কার্বন নির্গত হয়েছে। পৃথিবীর বনাঞ্চল এর কেবল এক পঞ্চমাংশ ধরে রাখতে সক্ষম। বাকি ২৮ হাজার জন কার্বন বায়ুমন্ডলে থেকেই যাচ্ছে। </p>
<p>তবে এটা ঠিক, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের সবচেয়ে বেশি আসছে চীন, আমেরিকা, ইউরোপ এবং ভারতের মতো দেশগুলো থেকে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের নিঃসরণের পরিমাণ খুবই নগন্য যেমন মাত্র ০.২১ কণাংশ। কিন্তু ভয়ংকর কথা হলো, বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ প্রতি বছর ৪% হারে বেড়ে চলেছে। তাই এখন থেকে সচেতন না হলে নিশ্চিত বিপর্যয় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। </p>
<p>সিআরবিতে যে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তাতে কি আম-জনতা চিকিৎসার সুযোগ পাবে? সমমানের বেসরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, প্রায় ৯০% মানুষই হাসপাতালের আকাশচুম্বি খরচ দিয়ে সেবা নিতে পারবে না। </p>
<p>চট্টগ্রাম রেলওয়ের আরো বহু জায়গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চট্টগ্রাম শহরে। মানবসেবাই যদি মুখ্য হয় তাহলে তেমন একটি রেলওয়ের জমিতে একটি সরকারি হাসপাতাল করা হচ্ছে না কেন? এছাড়া সিআরবিতে যে হাসপাতালটি রয়েছে সেটাকেও আধুনিকায়ন করা যেতে পারে। কিন্তু জনসেবার নামে যে স্বাস্থ্যবাণিজ্যের পাঁয়তারা চলছে, তা দেখে সত্যিই কষ্ট হয়।  </p>
<p>বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী চট্টগ্রামের রেলওয়ে ভবন একটি ঐতিহ্য ভবন এবং সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে স্বীকৃত। এছাড়া সিআরবিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা চট্টগ্রাম নগরের মাস্টারপ্ল্যানের লঙ্ঘন। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কিভাবে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানি না। </p>
<p>চট্টগ্রামে যারা বড় হয়েছেন তাদের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের স্মৃতিতে, ভালোলাগায় জুড়ে আছে সবুজ সিআরবি আর শীরিষ তলা। ডিসি হিলের পর এখানেই গড়ে উঠেছে সিআরবি কেন্দ্রিক একটি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নিতে, এক মুঠো নির্জনতা উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসেন নগরজীবনের ব্যস্ততার ক্লান্ত, অবসাদগ্রস্ত মানুষ। অথচ ইতিহাস সমৃদ্ধ এমন একটি অনন্য এলাকাকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে একটি চক্র। তবে আশার কথা হল, সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে দল-মত এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে যে সচেতনা তৈরি হয়েছে, তাতে আগামীতে শহরের অবশিষ্ট পাহাড় ও সবুজ বনাঞ্চলগুলো রক্ষায় সবাই সোচ্চার হবে।</p>
<p>সিআরবি রক্ষার দাবিকে অনেকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন, হাসপাতালের বিরোধিতা করা মানে দেশনেত্রী শেখ হাসিনার বিরোধিতা করা। যা সত্যিই হাস্যকর এবং স্ববিরোধী। কারণ গত ৮ জুলাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী সবুজায়ন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পরিবেশ বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাদ দেয়ারও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই সবুজ বনানী ধ্বংস করে সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল হোক, এটা প্রধানমন্ত্রী কখনো চাইবেন না।  আমার বিশ্বাস, এ নিয়ে সরকার সহসা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। আর রক্ষা পাবে আমাদের প্রাণের সিআরবি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/439/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিজয়ের চেতনা ও আজকের প্রজন্ম</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/413</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/413#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 02 Aug 2026 06:38:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=413</guid>

					<description><![CDATA[একাত্তরের ডিসেম্বরে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল লাল-সবুজ পতাকার দেশ বাংলাদেশ। তবে এ কথা মানতেই হবে, স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পরও মুক্তির ফসল আমরা মানুষের ঘরে তুলে দিতে পারিনি। বিশেষ করে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>একাত্তরের ডিসেম্বরে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল লাল-সবুজ পতাকার দেশ বাংলাদেশ। তবে এ কথা মানতেই হবে, স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পরও মুক্তির ফসল আমরা মানুষের ঘরে তুলে দিতে পারিনি। বিশেষ করে যে তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতা দেখেনি তাদের আমরা শোনাতে পারিনি স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, স্বাধীনতার শুদ্ধ চেতনায় আলোকিত করতে পারছি না তাদের ভেতরটা। এই ব্যর্থতা আমাদের সবার। </p>
<p>পাকিস্তানের আধিপত্য থেকে আমাদের মুক্তি কেবল নয় মাসের যুদ্ধেই অর্জিত হয়নি। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভাগের পর থেকে নানা ধাপ পেরিয়ে আমরা লাভ করেছি আমাদের হাজার বছরের প্রত্যাশিত স্বাধীনতা। নতুন প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে, আজকের এই স্বাধীনতা যদি না আসতো, তাহলে আমাদের মুখের ভাষা হয়তো হতো র্উদু, জাতীয় কবির আসনে কবি নজরুলের বদলে আসীন হতো ইকবাল; লাল সবুজের জার্সি পরা এক ঝাঁক ক্রিকেটারদের দেখা যেতো না বিশ্বকাপ ক্রিকেট মঞ্চে। শুধু কি তাই? আজ এক কোটির মতো বাংলাদেশী নাগরিক প্রবাস থেকে দেশে পাঠাচ্ছেন মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা, যা আমাদের অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রেখেছে। দশ হাজারেরও বেশি সামরিক বাহিনীর সদস্য জাতিসংঘের শান্তি মিশনে কাজ করে দেশের সুনাম কুড়াচ্ছেন। দেশ স্বাধীন না হলে শান্তি মিশন তো দূরে থাক, ভাগ্যের সন্ধানে বাঙালিদের এই হারে প্রবাস যাওয়া কখনোই সম্ভব হতো না।</p>
<p>বাংলাদেশ তৎকালীন পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল হলেও শাসনক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে। ফলে বাঙালিরা চরম জাতিগত বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়। উর্দুভাষী পাঞ্জাবী অফিসাররা সেনাবাহিনী ও প্রশাসন যন্ত্রের শীর্ষে আসীন হয়ে বাংলাদেশকে একটি উপনিবেশের মতো শাসন করে যাচ্ছিল। ওদের মুখে হরহামেশা শোনা যেতো, ‘বাঙালিরা কেবল একটি ভাষাই বোঝে, আর তা হল লাঠির ভাষা।’ আমাদের বলা হতো পাঞ্জাবী ও বাঙালি হলো ভাই ভাই। অথচ বাঙালির সাথে তথাকথিত ভাইদের মনিব-ভৃত্যের মতো আচরণ সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ বেনিয়াদেরও হার মানিয়ে দিয়েছিল। </p>
<p>তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে বরারবই। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শতকরা ৭০% আসতো বাংলাদেশ সোনালি আঁশ পাট ও চা রপ্তানি করে। অথচ দেশের বাজেটের মোটা অংশ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্যই ব্যয় করা হতো। পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশনের রিপোর্টে দেখা যায়, ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এই দুই দশকে পুরো বাজেটের মাত্র ২৮.৩ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের মোট এগারোটি টেক্সটাইল কারখানার মধ্যে নয়টি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৭১ সালে কারখানার মোট সংখ্যা বেড়ে ১৭৬টি হলেও তার মধ্যে মাত্র ২৬টি ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচারকৃত সম্পদের পরিমাণ ছিল আজকের হিসাবে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।</p>
<p>স্বতস্ত্র দেশ হিসাবে পাকিস্তানের যাত্রার শুরুতেই ছিল গলদ। পার্লামেন্ট, সরকারি মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অফিস ইত্যাদি সবকিছুই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক। কেন্দ্রীয় সরকারের রাজধানী সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের শহর ঢাকার বদলে করা হলো করাচি। ফলে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর চাকরিতে সুযোগ সুবিধা পেতো উর্দুভাষী পশ্চিম পাকিস্তানীরা। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যেও অবাঙালি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা নিরঙ্কুশ প্রাধান্য বিস্তার করে নিয়েছিল।</p>
<p>সরকারি প্রশাসনে বাঙালিদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস প্রতিষ্ঠার পর যে সব অফিসার মূলতঃ দেশ শাসন করছিলেন তাদের সবাই ছিলেন অবাঙালি। পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি ৭৪১ জন সিনিয়র সিএসপি অফিসারদের মধ্যে মাত্র ৫১ জন ছিলেন বাঙালি। তবে বাঙালি কোনো অফিসার সচিব পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের ২১ জন সচিবের মধ্যে মাত্র তিনজন ছিলেন বাঙালি। অন্যদিকে পকিস্তানের সরকারি মন্ত্রনালয়ের বাঙালি কর্মচারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ কণাংশ।</p>
<p>সেনাবাহিনীতেও বাঙালিদের প্রনিধিতিত্ব ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অধিকাংশ বাঙালিকে সামরিক বাহিনীর টেকনিক্যাল এবং প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার সময় পাকিস্তান সেনাবহিনীর ৩৫ জন সিনিয়র জেনারেলের মধ্যে কেবল একজন ছিলেন বাঙালি। অন্যান্য অফিসার পদে মাত্র ৫% ছিলেন বাঙালি। এর কারণ হিসাবে বলা হতো, পাঠান কিংবা পাঞ্জাবীদের মতো সেনাবাহিনীতে কাজ করার মতো শৌর্য-বীর্য নাকি বাঙালিদের নেই। জাতি হিসাবে আমাদের জন্য এটা ছিল অত্যন্ত অপমানজনক। এছাড়া পূর্ব পাকিস্তান থেকে খাজা নাজিমুদ্দীন, মোহাম্মদ আলী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো যেসব রাজনীতিবিদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তাদের কোনো না কোনো অজুহাতে খুব কম সময়ের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। </p>
<p>একাত্তরের পঁচিশে মার্চ থেকে ডিসেম্বরে বিজয়ের আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ২৬৭ দিনে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালায় তা ইতিহাসের ঘৃণিত হত্যাকাণ্ডগুলির মধ্যে অন্যতম। বাঙালি নারীদের ওপর চালানো হয়েছিল যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ। যা কেবল চীনের নানজিংয়ে জাপানী বাহিনীর নৃশংসতার সাথেই তুলনা করা চলে। তাই আমরা যারা খুব কাছ থেকে পাকিস্তানী শাসকদের বৈষম্য দেখেছি, স্বাধীনতা দেখেছি, মুক্তির জন্য লড়াই করেছি, দেখেছি পঁচিশে মার্চের ভয়াল রাতের নৃশংসতা, তাদের কাছে স্বাধীনতার কোনো বিকল্প ছিল না।</p>
<p>তবে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শোষন ও বর্ণবাদী নিপীড়নের কাছে হার মানেনি বাঙালি জাতি, রুখে দাঁড়িয়েছিল সবাই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। অবশেষে দীর্ঘদিনের প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে। ভাষার দাবিতে রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দেয় কিছু অকুতোভয় তরুণ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধমেই যে বাঙালি চেতনার জাগরণ ঘটে, তা বেগবান হয়ে ১৯৬৬ সালে স্বায়ত্বশাসনের ৬ দফা কর্মসূচীতে রূপ নেয়। এই কর্মসূচীই দেশের আপামর জনতার মধ্যে জাগরণ ঘটিয়ে স্বাধীনতাকে অনিবার্য করে তোলে। লক্ষ্যণীয়, বায়ান্ন থেকে একাত্তরের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণ প্রজন্ম এবং ছাত্রসমাজ। তাই দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনের নেতৃত্ব আজকের প্রজন্মকেই দিতে হবে।</p>
<p>এক অপার সম্ভাবনার দেশ হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের স্বদেশের অর্জন খাটো করে দেখার মতো নয়। গত কুড়ি বছরে বাংলাদেশে মানবকল্যাণ ও সমৃদ্ধির প্রতিটি সূচকের যে ধরনের উন্নতি হয়েছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের ক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বের নব্য সুপারপাওয়ার ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন কেবল উনিশ শতকের শেষের দিকে জাপানের মেইজী সম্রাটের সময়কার অগ্রগতির সাথেই তুলনা করা চলে। দারিদ্রতা কমে গেছে। ২০০৪ সালে যেখানে বাংলাদেশের ৪৫ শতাংশ বেশি মানুষ ছিল দরিদ্রসীমার নিচে, তা এখন কমে ২৬ কণাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়িয়ে গেছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। </p>
<p>বায়ান্ন থেকে একাত্তরের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণ প্রজন্ম এবং ছাত্রসমাজ। মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম এখন বিগতপ্রায়। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং যে বাংলাদেশে তারা বাস করতে চায় তা অর্জনের জন্য আন্দোলনের নেতৃত্ব আজকের প্রজন্মকেই দিতে হবে এবং দেশের মানুষকে সাথে করে খুঁজে বের করতে হবে উত্তরণের পথ। তবে এজন্য আজকের প্রজন্মকে বিজয়ের প্রকুত চেতনা বুকে ধারণ করতে হবে।</p>
<p>একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ জীবন বাজি রেখে, কেউবা জীবন দিয়ে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। ইদানিং দেখছি ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশপ্রেমের মহড়া দিতে চাচ্ছে অনেকে। একবার ১৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ বিজয় দিবসে ফেসবুক প্রোফাইলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ছবি আপলোড করার অনুরোধ জানিয়ে ইনবক্সে একটি বার্তা পাচ্ছিলাম বার বার। উদ্দেশ্য, ফেসবুকে প্রোফাইলে বিশ্ব রেকর্ড করা। এভাবে নাকি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের নাম এবং স্বদেশের প্রতি বাঙালিদের ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হবে। বার্তাটি পড়তে গিয়ে ভীষণ হোঁচট খেলাম। যারা এই বার্তাটি পাঠাচ্ছিলেন তারা কি পাঠাবার আগে লেখাটি একবার ভালো করে পড়েও দেখেননি? বিশ্বের দরবারে দেশের নাম উজ্জ্বল করার কথা বলা হচ্ছে অথচ সেই বার্তার প্রতি বাক্যে দেখলাম বানান ভুল, বাক্য গঠনে ত্রুটি, ইংরেজি বাংলা ব্যবহারসহ মধ্যম পুরুষের সর্বনামের বিভিন্ন রূপের অবাধ সংমিশ্রন।</p>
<p>১৯৫২ সালে ভাষার জন্য রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েই শুরু হয়েছিল আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা অর্জনের পথচলা। আজ সেই বাংলা ভাষার ঘাড় মটকিয়ে দেশপ্রেম প্রদর্শনের যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে তা শঙ্কিত করছে। ফেসবুকে বিশ্ব রেকর্ড করে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায় না। সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হতে হলে, বিজয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে হলে আমাদের সবার জীবনে প্রাণের ভাষা বাংলা শুদ্ধভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে জানতে হবে। তবেই জাতীয় উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/413/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্মৃতিতে একাত্তর ৩</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/317</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/317#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 01 Aug 2026 14:32:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Society & Nation]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=317</guid>

					<description><![CDATA[চূড়ান্ত বিজয়ের মাসখানেক আগে চাটগাঁ শহর ছেড়ে আমি কক্সবাজারে মা-বাবার কাছে চলে যাই। এসে দেখি কক্সবাজার বিমানবন্দর ভারতীয় বোমারু বিমানের ঘাঁয়ে অচল। পাকিস্তানী বাহিনী যাতে অপারেশনের জন্য বিমানবন্দর ব্যবহার করতে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>চূড়ান্ত বিজয়ের মাসখানেক আগে চাটগাঁ শহর ছেড়ে আমি কক্সবাজারে মা-বাবার কাছে চলে যাই। এসে দেখি কক্সবাজার বিমানবন্দর ভারতীয় বোমারু বিমানের ঘাঁয়ে অচল। পাকিস্তানী বাহিনী যাতে অপারেশনের জন্য বিমানবন্দর ব্যবহার করতে না পারে এজন্য রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনী বোমা বর্ষণ করতো। আমাদের বাড়ির পেছনের উঠোনে মাঠি খুঁড়ে এল আকারের বড় ট্রেঞ্চ তৈরি করলাম সবাই মিলে। গভীর রাতে বোমারু বিমানের শব্দে যখন ঘুম ভেঙ্গে যেতো তখন সবাই দৌড়ে গিয় ট্রেঞ্চে ঢুকে পড়তাম। আমাদের বাড়ি বিমানবন্দরের এত কাছে ছিল যে বোমারু বিমান থেকে ফেলা বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর বিদ্যুত ঝলকের মতো বিস্ফোরণের আলো চোখে এসে পড়ত। একদিন ট্রেঞ্চের পাশেই দেখলাম মোচড়ানো কাঁচা লোহার একটি টুকরো পড়ে আছে। বাবা উল্টে পাল্টে দেখে বললেন, এটা বোমা থেকে ছিট্কে আসা টুকরো। তিনি দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সময় জাপানী বোমা বর্ষণের পর একই ধরনের স্পিøন্টারের টুকরো দেখেছেন। এরপর চওড়া কাঠের ফলক দিয়ে আমাদের ট্রেঞ্চ ঢেকে দেয়া হল।</p>
<p>নভেম্বরের শেষের দিকে ভারতীয় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রান্ত বঙ্গোপসাগরে নৌ অবরোধ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরে পাকিস্তানী নৌবাহিনীর যে কয়টা যুদ্ধজাহাজ ছিল তার সব ক’টাই আটকা পড়ে যায়। ডিসেম্বরের ৪ তারিখ ভারতের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস রাজপুতের আঘাতে ৯৩ জন নাবিকসহ পাকিস্তানের একমাত্র সাবমেরিন পিএনএস গাজী বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায়। ভারতের বিশাখাপত্তম পোতাশ্রয়ের অদূরেই এই ঘটনাটি ঘটে। এটা ছিল একাত্তরের নৌযুদ্ধের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। তবে গাজী সাবমেরিনের ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি এখনো রহস্য দিয়ে ঘেরা। কারণ পাকিস্তানের তদন্তে বলা হয়, অভ্যন্তরে কোনো বিস্ফোরণ কিংবা সমুদ্রে সাবমেরিনের পাতানো কোনো মাইনের দুর্ঘটনামূলক বিস্ফোরণের জন্যই সাবমেরিন গাজী ডুবে যায়। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, ১৯৬৩ সালে আমেরিকা থেকে ভাড়া করা এই সাবমেরিন হারাবার পর পাকিস্তানী নৌবাহিনী আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এছাড়া পাকিস্তানী নৌবাহিনীর সব বাঙালি অফিসার পক্ষত্যাগ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে পাকিস্তানী ডেস্ট্রয়ার পিএসএস সিলেটসহ সব গানবোট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ফলে পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানী নৌবাহিনীর আর কোনো অস্তিত্বই থাকে না।</p>
<p>মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে পাকিস্তানী বাহিনী পূর্ব রণাঙ্গনে যখন পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে তখন নিশ্চিত পরাজয় ঠেকানোর জন্য মরিয়া হয়ে আমেরিকার দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। পশ্চিমা বিশ্ব এবং রাশিয়ার নের্তৃত্বে সোস্যালিস্ট ব্লকের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই তখন তুঙ্গে। এই ঠান্ডা লড়াইয়ের সমীকরণে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমা বিশ্বের মিত্র আর ভারত ছিল বিপক্ষ শক্তি রাশিয়ার।</p>
<p>পাকিস্তানের ডাকে সাড়া দিয়ে একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট নিক্সন আমেরিকার ৭ম নৌবহর গালফ অফ টনকিন থেকে বঙ্গোসাগরের দিকে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই বহরে ছিল পারমাণবিক শক্তি চালিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস এন্টারপ্রাণজ, যা ৭০টি বোমারু বিমান বহন করার সক্ষমতা রাখত। এছাড়া আরো ছিল বেশ ক’টি গাইডেড মিসাইল ক্রুজার এবং ডেস্ট্রয়ার। প্রায় একই সাথে আমেরিকার অন্যতম মিত্রদেশ ব্রিটেনের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ঈগল ভারতের পশ্চিম উপকূলের সমুদ্রসীমার দিকে এগুতে থাকে। এভাবে ব্রিটিশ নৌবাহিনী ভারতের পশ্চিম উপকূল এবং ৭ম নৌবহর বঙ্গোপসাগর দিয়ে পূর্ব উপকূল নিয়ন্ত্রণ করার প্ররিকল্পনা করে।</p>
<p>ওরা ভেবেছিল এতে ভারত ভীত হয়ে পিছু হটবে। কারণ দুই পরাশক্তির বিশাল নৌশক্তির বিরুদ্ধে লড়বার জন্য ভারতের ছিল আইএনএস বিক্রান্ত, যা কেবল ২০টি হালকা যুদ্ধবিমান বহন করছিল। এছাড়া এও শোনা যায়, পূর্ব পাকিস্তানে কোনঠাসা হয়ে থাকা প্রায় এক লক্ষ পাকিস্তানী সেনাদের কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করারও পায়তারা করছিল ৭ম নৌবহর। ১৯৭০ সালে ভারত রাশিয়ার সাথে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তিমতে ভারত কোনো বহিঃশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হলে রাশিয়া ভারতের পক্ষ হয়ে লড়বে। ঠিক এক বছর পরই এই প্রতিরক্ষা চুক্তি যে ভারতের ত্রাতা হিসাবে আবির্ভূত হবে তা হয়তো ভারতও আশা করেনি। এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করার জন্য ভারত মিত্রদেশ রাশিয়ার সাহায্য চায় এবং দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার অনুরোধ জানায়।</p>
<p>ভারতের অনুরোধে সাড়া দিয়ে রাশিয়া আমেরিকা ও ব্রিটেনের সম্ভাব্য দ্বিমুখী আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য ১৩ ডিসেম্বর ভøাদিভোস্টক থেকে আনবিক ক্ষমতা সম্পন্ন নৌবহর পাঠায়। কিন্তু রাশিয়ার মিসাইলের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারের কম হওয়ায় দূর থেকে তারা আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজকে নিশানা নিতে পারছিল না। তাই রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজগুলো চরম ঝুঁকি নিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটেনের নৌবহরকে বেশ কাছ থেকেই ঘিরে ফেলে। পুরো কাজটা রাশিয়া এমন কৌশলে এবং নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে যে পানিতে ভেসে উঠা রাশিয়ার সাবমেরিন দেখে যখন আমেরিকা ও ব্রিটেন বিষয়টি জানতে পারে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তারা বুঝতে পারে, ভারতের সমুদ্র সীমানায় যেতে হলে এখন রাশিয়ার একগাদা পারমাণবিক অস্ত্র সম্ভারে সজ্জিত ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিন ডিঙ্গিয়ে যেতে হবে। এভাবে রাশিয়া পাকিস্তানের মিত্রবাহিনীর পুরো পরিকল্পনাকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ব্যর্থ করে দেয়। ঘটনা বেগতিক দেখে অবশেষে ব্রিটিশ নৌবহর মাদাগাস্কারের দিকে উল্টো যাত্রা শুরু করে এবং আমেরিকার নৌবহর বঙ্গোপসাগরে ঢোকার আগেই ফিরে যায়। আরব সাগরের বুকে তিন পরাশক্তি রাশিয়া, আমেরিকা এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর এই নিরব লড়াই একাত্তরের যুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।</p>
<p>বিমানের বেমাবর্ষন দেখেছি কিন্তু যুদ্ধজাহাজ থেকে তেড়ে আসা গোলাবর্ষণ যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা আগে জানা ছিল না। ডিসম্বরের ১০ তারিখ হবে। বিকেলে কক্সবাজার শহরতলীর বড়বাজার থেকে বাসায় ফিরছি। বাসার কাছাকাছি আসতেই দেখি বিকট গর্জন করে মাথার উপর দিয়ে লালচে গোলা উড়ে যাচ্ছে বড়বাজারের দিকে। একের পর এক ছুটছে গোলা। প্রচন্ড শব্দে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। পথচারীরা আতঙ্কে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছিল। কি হচ্ছে ঠিক বুঝা যাচ্ছিল না। আশেপাশের অনেকের মতো আমিও কানে আঙ্গুল দিয়ে রাস্তার পাশের ঢালু দিকটায় শুয়ে পড়লাম। গোলার গর্জনে যেভাবে মাটি কেঁপে কেঁপে উঠছিল তাতে মনে হলো যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। উপরের আকাশটা কেমন লাল বর্ণ ধারণ করেছিল। প্রায় আধঘন্টা ধরে চলল এই লঙ্কাকাণ্ড। গোলাবর্ষণ শেষ হবার পর বাসার দিকে ছুটলাম। মা-বাবা তো চিন্তায় অস্থির। পরে জানতে পারলাম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অদূরেই নোঙর করেছে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ বিক্রান্ত। এই জাহাজের কামান থেকেই বর্ষিত হচ্ছিল গোলা। কিছুদিন ধরে আকাশ থেকে যে বোমা বর্ষিত হচ্ছিল সেগুলোও যুদ্ধজাহাজ বিক্রান্ত থেকে উড়ে আসা বোমারু বিমানেরই কারসাজি। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পশ্চাদপসরণরত পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যাতে কক্সবাজারের সৈকত দিয়ে পালাতে না পারে সেজন্যই এই গোলাবর্ষণ।</p>
<p>যাই হোক, এর কয়েকদিন পর সম্ভবত ১৬ ডিসেম্বর রাতে ভারতীয় মেরিন সেনারা যুদ্ধজাহাজ থেকে কক্সবাজার শহরে ঢুকে পড়ে এবং কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউজে অবস্থান নেয়।</p>
<p>অনেক রক্তপাত, ত্যাগ ও তিতিক্ষার পর দেশ স্বাধীন হয় একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। চূড়ান্ত বিজয়ের সেই দিনটির অনুভূতি ঠিক লিখে প্রকাশ করতে পারবো না। সে কি উল্লাস চারিদিকে! মনে হচ্ছিল বুকের যে অংশে একটা তীব্র ব্যথা ছিল তা কর্পুরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে, মগজের মধ্যে তীব্র ঘৃণার যে কীট লালন করছিলাম তার দংশন বন্ধ হয়ে গেছে। ওইদিনই আমরা সবাই ছুটে গেলাম কক্সবাজার বিমানবন্দরে। দেখি বিমানবন্দরের রানওয়েতে বোমার আঘাতে তৈরি হয়েছে বিশাল সব গর্ত। যেন ছোটোখাটো পুকুর। কোনো কোনো গর্ত ভরে আছে পানিতে। বিমানবন্দরের একটি কক্ষকে রাজাকার বাহিনী বানিয়েছিল টর্চার সেল। রুমের ভিতর গিয়ে শিউরে উঠলাম। দেয়ালে, মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্ত আর চারিদিক গুলির চিহ্ন। সাগর পাড়ে গিয়ে দেখলাম নোঙর করে আছে দানবাকৃতির যুদ্ধজাহাজ বিক্রান্ত।</p>
<p>১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে বাবাকে দেখতাম রেডিওর পাশে বসে মনোযোগ দিয়ে যেসব দেশ বাংলাদেশেকে স্বীকৃতি দিচ্ছে তার একটি তালিকা তৈরি করতে। সেই তালিকায় নতুন কোনো দেশের নাম যোগ হলে সঙ্গে সঙ্গে উচ্চস্বরে তিনি বাড়ির সবাইে ক ডেকে জানিয়ে দিতেন। তখন আমেরিকার ৭ম নৌবহর বঙ্গোপসাগরে হানা দিতে পারে শোনা যাচ্ছিল। এ নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন বাবা। আমাদের বললেন, দেখিস আমেরিকা স্বীকৃতি দিলে পাকিস্তান আমাদের আর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।</p>
<p>জানুয়ারির প্রথম দিকে কেসি-১ গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কক্সবাজার আসেন বিবিসির বিখ্যাত সাংবদিক মার্ক টালি। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালি ছিলেন বিশ্ববাসীর কাছে রণাঙ্গনের খবর জানানো একমাত্র অবলম্বন। রেডিওতে কান পেতে তাঁর কন্ঠস্বর শোনার অপেক্ষায় থাকতো পুরো জাতি। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবনে মার্ক টালি এবং মুজিবাহিনীর বিজয়ী সেনাদের সাথে নিয়ে ছবি তোলার এক বিরল সুযোগ হয়, যা এখনো আমাকে আলোড়িত করে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/317/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
