<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<atom:link href="https://mamoon.net/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://mamoon.net</link>
	<description>mamoon.net</description>
	<lastBuildDate>Thu, 22 Oct 2026 04:40:25 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://mamoon.net/wp-content/uploads/2026/05/Logo-Mamoon-Vai-150x150.png</url>
	<title>ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন</title>
	<link>https://mamoon.net</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫৮। জীবনের গল্প শেষ হয়না</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1602</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1602#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 22 Oct 2026 02:59:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Tales of Qatar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1602</guid>

					<description><![CDATA[সিডনী ছেড়ে মরুর দেশ কাতার পাড়ি দিয়েছি এক যুগ পেরিয়ে গেছে। বছর হিসেব করলে অনেক, অথচ কেনো জানি মনে হয়, কাতারে এসেছি এইতো সেদিনের কথা। পেছনে ফিরে তাকালে ফেলে আসা...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সিডনী ছেড়ে মরুর দেশ কাতার পাড়ি দিয়েছি এক যুগ পেরিয়ে গেছে। বছর হিসেব করলে অনেক, অথচ কেনো জানি মনে হয়, কাতারে এসেছি এইতো সেদিনের কথা। পেছনে ফিরে তাকালে ফেলে আসা দিনগুলো গোধূলি বেলার এক চিলতে আলো হয়ে বুকের গভীরে বার বার পরশ বুলিয়ে যায়।</p>
<p>আমরা প্রায় সবাই অতীত নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। দাদু, নানুরা বলতেন বৃটিশ আমলেই ভালো ছিলাম, বয়স্করা বলেন ছেলেবেলাতেই ভালো ছিলাম। আবার অনেকে বলেন বিয়ের আগেই ভালো ছিলাম। আহারে! আগের দিনগুলি কতইনা মধুর ছিল ইত্যাদি। বর্তমান হচ্ছে এলামেলো, ভবিষ্যত অনিশ্চত। তাই বুকের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা অতীতের দিনগুলো সতত মধুর হয়।</p>
<p>দোহা শহর আর আগের মত নেই। অনেক কিছুই বদলে গেছে। ইদানিং দোহা শহরের রাস্তায় বের হলে পরিবর্তনের হাওয়া আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। দোহার বদলে যাওয়া অলি-গলির ভাঁজে ভাঁজে তাই খুঁজে ফিরি ফেলে আসা কিছু ভালোলাগার উপলব্ধি, কিছু প্রিয় মুখ, কিছু প্রিয় মুহূর্ত।</p>
<p>জীবনের পড়ন্ত বেলায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনী শহরের দুই দশকের সাজানো সংসার, স্থিতিশীল সরকারী চাকুরী পেছনে ফেলে হঠাৎ করে কাতার চলে আসি। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অনেকেই সাধারণতঃ এই বয়সে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা অন্যান্য দেশে পাড়ি জমান। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ঘটেছিল ঠিক তার উল্টো। তাই অনেকের কাছে আমার মধ্যপ্রাচ্যে আসাটা ছিল অনেকটা অস্বাভাবিক প্রস্থান।</p>
<p>অস্ট্রেলিয়ায় একজন পেশাদার প্রকৌশলী হিসাবে সরকারী চাকুরী করতাম। এই চাকুরীতেই পেশা জীবনের বাকী দিনগুলো সহজেই কাটিয়ে দিতে পারতাম। পঞ্চোশোর্ধ বয়সে সরকারী চাকুরীর নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে এতবড়ো ঝুঁকি নিয়ে আমার মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাওয়াটা অনেকের কাছে রহস্যজনকও মনে হয়েছে। অর্থ উপার্জনের জন্যই যদি মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া, তাহরে আরও আগে গেলামনা কেনো? তাই স্বভাবতঃই অনেকের ধারণা, চাকুরী চলে যাবার কারণেই হয়তো আমার এমন করে চলে যাওয়া।</p>
<p>নব্বই দশকের প্রথম দিকের কথা। সিডনীতে দু’দিনের একটি ট্রেনিং করছি। ক্লাসের পেছন সারিতে বসা একজন লেবানীজ তরুন মোবাইল ফোন নিয়ে উচ্চস্বরে অবিরাম কথা বলে যাচ্ছিল যা আমাদের সবাইকে বিরক্ত করছিল। সামনের সারিতে বসা একজন ভদ্রমহিলা খবুই বিনয়ের সাথে তাকে নীচু স্বরে কথা বলতে অনুরোধ করলেন। ওমনি সাথে সাথে ছেলেটি ক্ষিপ্ত হয়ে খিস্তি খাউর আওড়িয়ে তেড়ে এল ওই মহিলার দিকে এবং গায়ে হাত দিতে উদ্যত হল। ঘটনার আকস্মিকতায় ট্রেইনার সহ আমরা সবাই এমনভাবে হকচকিয়ে গেলাম যে, সিকিউরিটিকে ডাকার কথাও সবাই ভুলে গেলো। সামান্য একটি ব্যাপার নিয়ে এমন কেউ করতে পারে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল সবার।</p>
<p>সিডনীতে আরব জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে লেবানীজ। এদের অধিকাংশ আবার মুসলিম হওয়াতে, লোবানীজদের সব অপকর্মের দায় মুসলিম হিসাবে আমাদেরও নিতে হত। একবার আমার এক বন্ধু একজন লেবানীজের গাড়ী ওভারটেক করায় তাকে সারা শহর তাড়িয়ে বেড়িয়েছিল ওই লেবানীজ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আরবদের প্রতি নিজের অজান্তেই একটা বিরূপ ধারণা জন্মে গিয়েছিল। ভাল মন্দ মিশিয়েই মানুষ। তাই বলে পুরো লেবানীজ সম্প্রদায়কে আমি মন্দ বলছিনা। তবে সিডনী শহরে বসবাসরত আরব-অস্ট্রেলিয়ানদের আচরণ দেখার পর ভেবেছি আর যেখানেই যাই না কেনো, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশে কখনো নয়। কিন্তু কথায় বলে না? “Man proposes, god disposes&#8230;”</p>
<p>মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। চায় একটা, পায় অন্যটা। যে দেশে কখনো আসতে চাইনি, শেষ পর্যন্ত সেই আরব দেশেই আমাকে পাঠালেন বিধাতা। আর এখানেই কাটলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু সময়। বড়ই বিচিত্র! বিধাতার লীলাখেলা বোঝা দায়।</p>
<p>সিডনী থাকাকালীন সঙ্গীত চর্চা ও পরিবেশনা, রেডিও পরিচালনা, এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে এমন করে জড়িয়ে পড়েছিলাম যে নিজের চাকরী এবং পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের দিকে নজর দেয়া আমার ঠিক হয়ে ওঠেনি। এক সময় মনে হল, বিধাতার দেয়া মেধার প্রতি আমি সুবিচার করছিনা। তাছাড়া আমার অফিসে দু’একজন অবসরে না যাওয়া পর্যন্ত দেখলাম আমার উপরে উঠার সিঁড়ি বন্ধ। তাই চাকরী বদলানোর চিন্তা-ভাবনা করছিলাম।</p>
<p>এর কিছুদিন আগে ইঞ্জিনিয়ার্স অস্ট্রেলিয়ার সাময়িকীতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মেগা-প্রজেক্ট নিয়ে করা একটি প্রচ্ছদ কাহিনী আমার চোখে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে তখন নির্মাণ শিল্পে রীতিমত বিপ্লব চলছে। আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিশাল নির্মাণ প্রজেক্টে কাজ করার জন্য বিশ্বের সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কন্সট্রাকশন কোস্পানীগুলো যেনো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আমার পরিচিত বেশ কিছু অস্ট্রেলিয়ান সহকর্মী ইতিমধ্যে ছুটে গেছেন মধ্যপ্রাচ্যে।</p>
<p>প্রচ্ছদ কাহিনীতে উল্লেখ করা হয়, নির্মানকার্যের জন্য ব্যবহৃত বিশ্বের ভারী ক্রেইনের প্রায় ৭০ শতাংশই তখন মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয়। অষ্ট্রেলিয়ান ইনিঞ্জয়ার্স ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনটি আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে। একজন পুর-প্রকৌশলী হয়ে এই ধরনের পরিকাঠামো বিষয়ক মেগা-প্রজেক্টে সম্পৃক্ত হবার দুর্নিবার আকর্ষণ, আমাকে মধ্যপ্রাচ্যের ধূসর প্রান্তরে নিয়ে যাবার উদ্বীপনা যোগাতে থাকে। অন-লাইনে চাকরীর খোঁজ নিতে থাকি। খুব সহসা Maunsell Consulting (এখনকার AECOM) কোম্পানী থেকে দুবাই শহরের একটি মেগা-প্রজেক্টে চাকরীর অফার পেয়ে গেলাম।</p>
<p>অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে ফের প্রবাস যাত্রা আমার জন্য খুব একটা সহজ ছিলনা। হাসি-কান্না ভরা জীবনের প্রায় কুড়িটি বছর কাটিয়ে দিয়েছি সিডনী শহরে। ওই শহরের মাটি, আলো-বাতাস আর মানুষের জন্য এক ধরনের ভালোবাসা জন্মে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, স্বদেশের বাইরে এই অস্ট্রেলিয়া হল আমার স্থায়ী আবাস; এই দেশ ছেড়ে আবার যাবো কোথায়? অথচ মাতৃভ’মি যে কখনো প্রবাসের সমত’ল্য হতে পারেনা সে কথা আবেগের আবহে ক্ষণিকের জন্য হলেও বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিলাম। মাতৃভ’মির শেকড় ছিড়ে একবার যখন প্রবাস পাড়ি দিতে পেরেছি তখন অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে অন্য প্রবাসভ’মিতে যেতে সঙ্কোচ কিংবা দ্বিধা হবে কেনো?</p>
<p>এ ধরনের আবোল-তাবোল ভাবনায় আবিষ্ট হয়ে যখন দিন কাটছিল তখনই দেখি চিঠির বাক্সে Maunsell Consulting থেকে চাকরীর অফার লেটার এবং রিটার্ন টিকেট এসে হাজির। দু’সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানীর দুবাই হেড অফিসে যোগ দিতে হবে। রীতিমত ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।</p>
<p>ভাবলাম, মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে পরিস্থিতি সরজমিনে যাচাই করে না দেখে অস্ট্রেলিয়ার চাকরীটা ছেড়ে দেয়া ঠিক হবেনা। হিসাব কষে দেখলাম, আমার প্রায় আট মাসের লংসার্ভিস ছুটি জমা হয়ে আছে। বসের সাথে কথা বললাম। দীর্ঘদিনের জন্য ছুটি নেবো শুনে তিনি একটু অবাক হলেন। আমি বললাম,“বহুদিন একটানা কাজ করেছি, এবার একান্ত নিজের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্যে আমার একটা বিরতির প্রয়োজন।” উনি একটু ভেবে বললেন, “ঠিক আছে, এই যদি হয় তোমার সিদ্ধান্ত, তাহলে যাও।”</p>
<p>এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন অফিস থেকে আবার ইমেইল আসলো, এই মুহুর্তে দুবাই নয়, ওদের কাতার অফিসে আমাকে খুব দরকার। কাতারে কিছুদিন কাজ করার পর আমাকে হেড অফিসে আবার ফিরে যেতে হবে। সত্যি বলতে কি, মধ্যপ্রাচ্য বলতে আমি মূলতঃ দুবাইকেই বুঝতাম। কাতারের মতো দেশেও যে বড় বড় প্রজেক্ট হচ্ছে সে কথা আমার কখনোই জানা ছিলনা। এরকম অনেকটা অনির্ধারিতভাবেই ২০০৮ সালের ৩০ জুন আমার কাতারে আগমন।<br />
কাতারের প্রথম দিনগুলোতে মনটা বড় উদাস থাকতো। নিজেকে সবসময় শামুকের মত গুটিয়ে রাখতাম। খুঁজে ফিরতাম অস্ট্রেলিয়ার ফেলে আসা দিনগুলো। কিন্তু সময়ের আবর্তনে ধীরে ধীরে কাতারের স্মৃতি হৃদয়ের পুরো জমিটাই দখল করে নিয়েছে। এখন আর সিডনীর ফেলে আসা জীবনের কথা ভেবে নিজের ভেতরে কখনো শোক কিংবা বৈরাগ্য অনুভব করিনা।</p>
<p>এইতো কিছুদিন আগে সিডনী শহরে ছুটি কাটাতে গিয়ে নিজেকে আগন্তুকের মত মনে হচ্ছিল। রাস্তায় চলতে গিয়ে কোথাও শুনতে পেলামনা মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা অতি পরিচিত আযানের ধ্বনি। রেস্তারাঁর সামনে গাড়ীতে বসে কাড়াক চা আর সিঙ্গারা খাওয়ার জন্য নিজের অগোচরে আনচান করছিল মন। এখানে দেখি শুধু কাপুচিনো আর কাপুচিনো।</p>
<p>পেট্রোল পাম্পে তেল ভরতে গিয়ে নিজের অজান্তেই গাড়ীতে অপেক্ষা করছিলাম কখন আসবে পেট্রাল বয়, তেল ঢেলে দেবে গাড়ীর ট্যাংকে। স্ত্রীর ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম। ও হ্যাঁ! এখানেতো নিজেকেই পেট্রোল ভরতে হবে। পরিবার নিয়ে বেশ কয়েকটা আড্ডায় গিয়ে নিজেকে কেমন বেখাপ্পা লাগছিল। আড্ডার মধ্যমনি হয়েও মনে হচ্ছিল আমি যেন আড্ডায় নেই। বহু দিনের পুরোনো বন্ধুদের আবার যেনো নতুন করে আবিস্কার করলাম।</p>
<p>২০২০ সালের বছরের ৩০ জুন, কাতারে আমার এক যুগ পূর্ণ হল। যদিও দীর্ঘ বারোটি বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও নস্টালজিয়ার অলি-গলিতে হাঁটতে গিয়ে মনে হয় কাতারে এলাম এইতো সেদিন। কাতারে গত একযুগের পথ চলায় সমাজের বিত্তবান মানুষের সাথে যেমন মিশেছি, তেমনি অভাবী, শ্রমজীবী আমজনতার সাথে বসেও আড্ডা দিয়েছি। দোহার রাস্তায়, চোরা গলিতে, বাংলাদেশী চায়ের টেবিলে বসে কান পেতে শুনেছি জীবন থেকে নেয়া এমন কত সুখ দুঃখের গল্প। সত্যি বলতে কি, সুখ, দুঃখ মিলিয়ে কাতারে কাটানো এক যুগ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম সময়ের অংশ হয়ে থাকবে।</p>
<p>কাতারের বহতা দিনগুলোতে পেয়েছি মানুষের নিরন্তর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। মিলেছে বহু আলোকিত ও ভালো মানুষের সন্ধান। পেয়েছি অনেক অকৃত্রিম বন্ধুর সান্নিধ্য। স্বজনহীন প্রবাসে আনন্দ বেদনার সাথী হয়ে ছায়ার মতো এরাই ছিলেন আমার ও আমার পরিবারের পাশে।</p>
<p>বহু সামাজিক, পেশাদার সংগঠনের সাথে কাজ করার ও নেতৃত্ব দেয়ার যেমন সুযোগ হয়েছে তেমনি চারপাশের মানুষ থেকে শিখেছিও অনেক কিছু। তাইতো একযুগ আগের তুলনায় আজকের আমি, একজন অনেক বেশী সমৃদ্ধ এবং পরিপূর্ণ মানুষ। মরুর দেশ কাতারে এসে ভালোলাগার বহতা নদীতে অবগাহন করা সুযোগ করে দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই মহান বিধাতাকে।</p>
<p>কাতারের পাট চুকিয়ে আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবার ডাক শুনতে পাচ্ছি। এ বছরই ফিরে যেতে হবে অস্ট্রেলিয়া। আসা যাওয়া, এতো প্রকৃতিরই নিয়ম। আমরা সবাই যেনো যাযাবর। মরুর বেদুঈনের মত ছুটে যাচ্ছি এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যস্থলে। সব খেলা সাঙ্গ হলে একদিন পাড়ি জমাবো পরপারে।</p>
<p>অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন মনে হত, চারপাশ ঘিরে থাকা জগতটাই হচ্ছে আমার একমাত্র পৃথিবী। এভাবে গ্রিন হাউসের কৃত্রিম পরিবেশে গড়ে ওঠা লতাপাতর মতো কখন যে নিজের অস্তিত্বকেই হারাতে বসেছিলাম, জানি না। কিন্তু কাতারে আসার পর মনে হল, গ্রিন হাউসের কাঁচের দেয়ালের বাইরে রয়েছে অন্য এক পৃথিবী। মধ্যপ্রাচ্যের মরু প্রান্তরে এসে অবশেষে খুঁজে পেয়েছি নিজের অস্তিত্বের ক্লোন দিয়ে গড়া সেই যমজ পৃথিবী, মিলেছে শেকড়ের সন্ধান।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1602/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫৭। করোনাকালের জার্নাল</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1599</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1599#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 21 Oct 2026 07:42:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Tales of Qatar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1599</guid>

					<description><![CDATA[নতুন বছর ২০২০ সালের শুরু হয়েছে। পুরো পরিবার সহ সিডনী যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি। জানুয়ারীর ১৫ তারিখ ফ্লাইট। কাতারে প্রায় দীর্ঘ একযুগ পর কাটানোর অস্ট্রেলিয়ার ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। এবারের...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নতুন বছর ২০২০ সালের শুরু হয়েছে। পুরো পরিবার সহ সিডনী যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি। জানুয়ারীর ১৫ তারিখ ফ্লাইট। কাতারে প্রায় দীর্ঘ একযুগ পর কাটানোর অস্ট্রেলিয়ার ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। এবারের যাত্রায় পরিবার থেকে যাবে সিডনীতে। আর বছরের মাঝামাঝি কোনো এক সময় আমিও ফিরে যাবো অস্ট্র্রেলিয়া।</p>
<p>জানুয়ারির ৫ তারিখ চীনের উহান শহরে কোভিড-১৯ নামে করোনাভাইরাস সংক্রমনের খবর পেলাম সংবাদ মাধ্যমে। বিষয়টাকে তেমন কোনো বিশেষ গুরুত্ব দেইনি আমরা। বার্ড ফ্লু, সার্স কিংবা মার্স ভাইরাসের মত কিছু একটা হবে হয়তো। কিন্তু এই ভাইরাস যে ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বকে গিলে খাবে কিংবা বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেবে, তেমন ভাবনা কারো মাথায় তখনো আসেনি। যথারীতি কাতার এয়ারওয়েজে চড়ে সিডনীতে গিয়ে পৌছলাম। ব্যস্ততায় কাটছিল দিন।</p>
<p>এরই মধ্যে জানুয়ারীর ২৫ তারিখ অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে, চীনের উহান ফেরত একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের দেহে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তবে ভাইরাস নিয়ে তখনো কোথাও অস্থিরতা কিংবা শঙ্কা চোখে পড়েনি। রাস্তায় বেরুলে দু’একজনের মুখে মাস্ক চোখে পড়ছিল, এই যা।<br />
ফেব্রুয়ারীর মাঝামঝি কাতার ফিরে আসলাম। সবকিছুু চলছিল আগের মতই। কিন্তু ২৯ ফেব্রুয়ারী ইরান ফেরত একজন কাতারী নাগরিকের দেহে করোনাভাইরাস সনাক্ত হবার পর বদলে গেলো নিয়মের পৃথিবী, আমাদের চারপাশ। মার্চ মাসের মাঝামাঝি কাতারমুখী সব ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়ে পুরোপুরি লক ডাইনে চলে যায় কাতার।</p>
<p>এদিকে আমার অফিসে হাতে গোনা কয়েকজনকে রেখে বাকী সবাইকে বাড়ী থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হল। এভাবে বাড়ীর চার দেয়ালের মধ্যে শুরু হল আমার অবরুদ্ধ জীবন। এপ্রিলে করোনাভাইরাসের তান্ডব শুরু হয় কাতারে। বাংলাদেশ কমিউনিটির বহু পরিচিত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিলেন। অনেকের মর্মান্তিক মৃত্যু সংবাদও পাচ্ছিলাম। এদিকে সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে উৎকন্ঠায় কাটছিল প্রতিটি মুহূর্ত। সে এক দুর্বিসহ দিনকাল।</p>
<p>অবশেষে করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত হয় গোটা বিশ্ব। দ্রুত বদলে যাচ্ছে আমাদের চেনা পৃথিবী, বদলে যাচ্ছে আমাদের দৈনিন্দন জীবনের দৃশ্যপট। মুখোশের অন্তরালে চলে গেছে আমাদের পরিচিত পৃথিবী। মনে হচ্ছে, আমাদের শহরগুলো দখল করে নিয়েছে ভিনগ্রহের মুখোশধারী কিছু প্রাণী। বিশ্বব্যাপী প্লেগ, মহামারীর কথা এতোদিন শুনেছি, পড়েছি বইয়ের পাতায়। এবার আমরা সবাই করোনা সন্ত্রাশের জিম্মী হয়ে কাটাচ্ছি দিন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২৩/০২/২০২০<br />
আজ সকালে অফিসে গিয়ে আবার বাসায় ফিরতে হয়েছে। সরকারী নির্দেশে পঞ্চান্নোর্ধ কর্মচারীদের বাড়ী থেকে কাজ করতে বলা হচ্ছে। অফিসের সব টি-বয় ছুটিতে। কিচেন বন্ধ। ফ্লাস্কে করে কাড়াক চা বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেটাও খাওয়া হয়নি। বাড়ীতে self-quarantine-এ রয়েছি। মাস্ক, আর হাতে গ্লাভস পড়ে বের হই। গ্রোসারী দোকান ছাড়া আর কোথাও যাওয়া হয়না।</p>
<p>কাতারে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দুরবর্তীভাবে পাঠ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যাদের পরীক্ষা রয়েছে তাদের ফুল মার্কস দেয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। অস্ট্রেলিয়ায় প্রাইমারী, হাইস্কুলগুলো কেনো যে এখনো খোলা তা মাথায় ধরছেনা। সিডনীতে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের কথা ভেবে বুকের ভেতরটা হীম হয়ে আসছে।</p>
<p>কাতারে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েইে চলেছে। কাতার অভিমুখী সব ফ্লাইট বন্ধ। শুধু কি তাই? হেলথ সেন্টারে ডাক্তারের সাথে সব অ্যাপয়েনমেন্ট/অপারেশন বাতিল। টেলিফোনেই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ সারতে হচ্ছে।</p>
<p>সব ধরণের গনজমায়তে বন্ধ। কিন্তু কাতারের বিভিন্ন শ্রমিক ক্যাম্পে/কম্পাউন্ডে ঠাসাঠাসি করে বাস করছে হাজারো লক্ষ শ্রমিক। বাস ভর্তি শ্রমিকদের দেখছি কাজে যেতে। ওদের কি হবে?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২০/০৩/২০<br />
আবারও অবরুদ্ধ কাতার! কাতার জুড়ে আরেপিত হয়েছে লকডাউন। আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশী চারটি দেশ কাতারের উপর আরোপ করেছিল পূর্ণ অবরোধ। তবে এবারের অবরোধের সাথে পার্থক্য হচ্ছে করোনাভাইরাসের ভয়াল আক্রমন মোকাবেলা করতে বিশ্বের অন্যান্য বহু দেশের মত কাতার স্বেচ্ছায় এই পথ বেছে নিয়েছে।</p>
<p>আজকের হিসাব অনুযায়ী কাতারে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪৬০। এদিকে প্রবাসী কয়েকজন শ্রমজীবির শরীরে করোনা সনাক্ত হবার পর সবার মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে আরব অঞ্চলের সরকারগুলো খবর চেপে না রেখে যে ধরণের স্বচ্ছতা প্রদর্শন করছে, দৈনিক কতজন সংক্রমিত হচ্ছে তার হিসাব দিচ্ছে, তা দেখে রীতিমত বিস্মিত হয়েছি।</p>
<p>কাতারের নির্মাণ খাতে কাজ করছে লাখো শ্রমিক। এছাড়া এখানকার বাড়ী বাড়ী রয়েছে অসংখ্য পরিচারিকা, কাজের মানুষ ও ড্রাইভার। অনেক কাতারীতো নিজের হাতে পানি তুলেও খায়না। সবখানেই কাজ করছে হাজারো সেবক/সেবিকা। যেমন পট্রোল পাম্পগুলোতে শীত-গ্রীষ্ম বলে কথা নয়, সবাই গাড়ীতে ইঞ্জিন চালিয়ে বসে থাকে। গাড়ীর ট্যাংকে তেল ভরে দেয় পেট্রোল সেবকের দল। এসব নিম্ন আয়ের শ্রমজীবিরা বাস করে বিভিন্ন ক্যাম্পে। ক্যাম্পের কোনো কোনো রুমে ঠাসাঠাসি করে তাকে ৬/৭ মন মানুষ। সব ধরণের গন জমায়েত বন্ধ হলেও এইসব ক্যাম্প বসবাসরত শ্রমিকরা রয়েছেন ভীষণ ঝুঁকিতে।</p>
<p>কাতারে কর্মরত শ্রমকিদের একটি বিরাট অংশ বসবাস করে দোহা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া বা সানাইয়া এলাকায়। এই এলাকার সব সড়ক বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে বিশেষ নজরদারীতে রাখা হয়েছে। শ্রমিক ক্যাম্পগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে অত্যাধুনিক এম্বুলেন্স। খোলা হয়েছে ৭ টি ভাষায় কথা বলার মতো হটলাইন। দোহা মেট্রোসহ সব গনপরিবহন বন্ধ। পুরো কাতারজুড়ে সব ধরনের হোটেল রেস্টুরেন্টে এখন কেবল পার্সেলে খাবার বিক্রি হচ্ছে, গ্রাহকদের বসিয়ে খাওয়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।</p>
<p>খুব ছোট্ট একটি দেশ হলেও বিপর্যয় মোকাবেলায় কাতারের নীতি নির্ধারকরা বেশ পরিপক্কতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হবার পর কাতার সময় অপচয় না করে তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সাথে সাথে ১৫টি দেশে থেকে আকাশ পথে যাত্রী আগমন নিষিদ্ধ করা হয়। এখন পুরো দেশটাকেই লকডাউন করা হয়েছে।</p>
<p>অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে প্রাইভেট সেক্টরে ২৫ বিলিয়ন ডলার ঢালছে কাতার সরকার। আতিথেয়তা, পর্যটন, খুচরা খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ভাড়া মওকুফ, ব্যংক লোনের কিস্তি স্থগিত সহ ছয় মাসের জন্য বিদ্যুৎ ও পানির বিলের অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় টিস্যু রোল কেনার জন্য বাজারে ক্রেতাদের হুড়োহুড়ি বিশ্বের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে। প্রবাসে টিভির পর্দায় এসব দেখে বেশ বিব্রত হয়েছি। কাতারে এ ধরণের অনাহুত ঘঠনা যাতে না ঘটে সেজন্য সেনিটাইজারের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।</p>
<p>কাতারের সপিং সেন্টারগুলোতে এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি। আগামী ৬ মাস সকল ধরনের খাদ্যপন্য আমদানির উপর সরকারী শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপ খাদ্য ঘাটি মোকাবলোয় সহায়ক হবে। এছাড়া শুল্ক মওকুফের ফলে জনগণ যাতে সুলভ মূল্যে দ্রব্যসামগী কিনতে পারে সেটাও নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। কাতারে এখন স্থানীয়ভাবে বহু ধরনের খাদ্য সামগ্রী উৎপন্ন হচ্ছে। তাই খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করতে কাতারের সক্ষমতা আগের চেয়ে এখন অনেক বেশী।</p>
<p>দোহা শহরের সবচেয়ে আকর্ষণ হচ্ছে মুশাইরিব এলাকার ঐতিহাসিক বাজার “সুক ওয়াকিফ”। যাকে আমি দোহার “টাইম স্কয়ার” বলে থাকি। বিকেল হতেই সুকের গলিতে দোকানে, রেস্তোরাঁর উপচে পড়ে ক্রেতার ভীড়। সিসার রমরমা সুগন্ধে মাতোয়ার হয়ে ওঠে চারপাশ। কিন্তু সেই সুক ওয়াকিফ এমনকি সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও প্রয়ান্ধাকার নিঝুমপরী। ঐতিহ্যবাসী ফার্নিচার মার্কেট সুক হারিজ ও সপিং মল সিটি সেন্টারেও এখন সুনসান নিরবতা। যা দেখে চমকে উঠেছি, ব্যথিত হয়েছি।</p>
<p>নিষেধাজ্ঞার কারণে কাতারের অন্যান্য এলাকায় জনসমাগম কমে গেলেও বাংলাদেশি অধ্যুষিত কিছু এলাকার চিত্র এখনো বদলায়নি। করোনা ভাইরাসের কথা ভুলে এখনো বাংলাদেশিরা রাস্তায়, রেস্তোরাঁর সামনে আড্ডা দিচ্ছে। স্বস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং দেশে বিদেশে বাংলাদেশিদের নিয়ম অগ্রাহ্য করার প্রবনতা দেখে সত্যিই দুঃখ হয়।</p>
<p>কিন্তু সর্বোপরি কাতারি নাগরিক ও নানা দেশের অভিবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাতারের আন্তরিকতা ও ছাড় না দেয়ার মনোবৃত্তি সত্যিই প্রশংসনীয়। যার একটি নমুনা হল পেট্রাল স্টেশনে যাতে নগদ কিংবা কার্ডে টাকা দিতে না হয় সেজন্য জনসবাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে গাড়ীতে প্রিপেইড মাইক্রোচিপ্স লাগিয়ে ঘরে বসেই পেট্রোল কেনার ব্যবস্থা করেছে কাতার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২২/০৩/২০<br />
আমাদের বড় বড় নির্ঘুম শহরগুলোকে করোনা যখন নিরব নিথর মৃত্যুপুরী বানাতে চলেছে, তখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু গবেষকের দল করোনা প্রতিষেধক তৈরী চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছেন।</p>
<p>করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেবার পর বিশ্বব্যাপী প্রতি মূহুর্তে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। এ যেন সময়ের সাথে পাল্লা দেয়ার যুদ্ধ। আরেকটি মানুষ লাশ হবার আগে বের করতে হবে প্রতিষেধক। ভেঙ্গে দিতে হবে করোনার বিষদাঁত।</p>
<p>আশার কথা হল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিছু ধাপ বাকী থাকলেও করোনার প্রতিষেধক খুঁজে পাওয়া গেছে বলে দাবী করেছেন বেশ কিছু গবেষকের দল। সুইজারল্যান্ডের ঔষুধ কোম্পানী রোচে-এর তৈরী বাতের ঔধুষ “অ্যাকটামরা” ফুসফুস থেকে করোনা ভাইরাস সমূলে বিনাশ করতে সক্ষম বলে দাবী করেছে। ইতিমধ্যে চীনের উহানে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে।</p>
<p>আমেরিকার বায়োটেক কম্পানী মডার্না এবং ন্যাশনাল ইসন্সটিটিউট অফ এলার্জি এন্ড ইনফেকসাচ ডিজিজ (এনআইএআইডি) যৌথ গবেষণার মাধ্যমে তৈরী করেছে “এমআরএনএ-১২৭৩” নামের এটি প্রতিষেধক টিকা। পরীক্ষামূলক প্রথম ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে জেনিফার হ্যালার নামের এক মার্কিন নারীর শরীরে। তবে টিকা কাজ করছে কিনা তা জানতে দুই মাসও লেগে যেতে পারে। পরীক্ষা সফল হলে প্রতিষেধকটি বাজারজাত করা হবে।<br />
ক্যানসাইনো বায়োলজিক্স নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে তৈরি করেছে একটি প্রতিষেধক। অসুস্থ রোগী নয় এমন ১০৮ স্বেচ্ছাসেবীর দেহে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হবে।</p>
<p>নতুন ধরনের ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইনোভিয়ো-এর সানিডয়াগো ল্যাবরেটরিতে ‘আইএনও-৪৮০০’ নামের করোনভাইরাসের একটি প্রতিষেধক তৈরা করা হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে এটি মানব দেহে প্রয়োগ করা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।</p>
<p>এদিকে অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরাও পিছিয়ে নেই। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাস নির্মূলে দুটো প্রতিষেধক পেয়েছেন বলে দাবী করেছেন। এ দু’টির মধ্যে একটি হচ্ছে পুরনো এইচআইভির ওষুধ আর অন্যটি ম্যালেরিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হতো। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের উপর দুটি ওষুধ খুব ভালো কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। অস্ট্রেলিয়ার ৫০টি হাসপাতালে এগুলোর পরীক্ষা চালানো হবে।</p>
<p>চীন জানাচ্ছে, ফ্যাভিপিরাভির নামের জাপানের তৈরী একটি ঔষুধ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমানিত হয়েছে। চিনের সর্বাধিক করোনা প্রভাবিত উহান এবং শেনঝেন প্রদেশে একটি হাসপাতালে ৩৪০ জন রোগীর উপরে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল।</p>
<p>এদিকে &#8216;ইন্টারফেরন আলফা টু-বি&#8217; নামে পরিচিত কিউবার একটি ওষুধ কোভিড-১৯ সারাবার ক্ষেত্রে অসাধারণ ফলাফল দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিডল ইস্ট নর্থ আফ্রিকা ফিনান্সিয়াল নেটওয়ার্ক ও মিন্ট প্রেস নিউজ জানাচ্ছে এটি ব্যবহার করে চীনে দেড় হাজারের বেশী রোগী করোনা মুক্ত হয়েছেন। এরপর থেকে সারা বিশ্ব থেকে ঔধুধ কেনার ফরমাশ পাচ্ছে কিউবা। এরমধ্যে &#8216;ইন্টারফেরন আলফা টু-বি&#8217;র একটি চালান কিউবা ইতালিতে পাঠিয়েছে।</p>
<p>ইবোলা, জিকা, মার্স-এর মতো ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরী করতে গবেষকদের কয়েক বছর লেগে গিয়েছিল। ফলে প্রতিষেধকের অভাবে মারা যায় হাজারো মানুষ। কিন্তু এবার বুদ্ধিমত্তার সাথে চীনা কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাসের জেনেটিক কোড বিশ্বকে জানিয়ে দেয়ায় ফলে প্রতিষেধক তৈরী কাজ ত্বরান্বিত হয়েছে। আমেরিকান কোম্পানী মডার্না জেনেটিক কোড পাবার মাত্র ৪২ দিনের মধ্যে তৈরী করেছে করোনা প্রতিষেধক। আশা করছি, খুব সহসা বাজারে আসবে করোনো প্রতিষেধক টিকা। নির্মূল হবে করোনা আতঙ্ক, মৃত্যুর করাল থাবা থেকে রক্ষা পাবে হাজারো প্রান।</p>
<p>যদিও এখন অনেক বিশ্বসেরা ল্যাব থেকে শোনা যাচ্ছে যে করোনা ভ্যাকসিন খুব একটা দূরে নয়, তবে মনে হচ্ছে আমাদের করোনার সাথেই বসবাস করতে হবে। ৩০ বছর পরও এইডস-এর ভ্যাকসিন এখনো বের হয়নি। তেমনি ৭৭ বছর পর ডেঙ্গুর ভেকসিন অনুমোদন পেয়েছে গতবছর। এখনো বহু ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন মানুষ বের করতে পারেনি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ভাইরাস যেভাবে মিউিটেশন করে রূপ বদলায় তাতে অল প্রুফ কার্যকর ভ্যাকসিন বের করা সম্ভব হয়নি। এজন্য ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন প্রতি বছর নতুর করে বানাতে হয়। এইডস-এর ভ্যাকসিন বের হতে এতো দেরী হবারও এটা অন্যতম কারন। এছাড়া সার্স এবং মার্সের ভেকসিন নিয়ে গবেষনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, কোনো সময় ভেকসিনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। এজন্য ভেকসিন বের করতে এতো সময় লেগে যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২৬/০৩/২০<br />
হাত পরিস্কারের জন্য আগে সাবান-পানিই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। অবশ্য করোনা সন্ত্রাশে মোকাবলো করতে এখনও তাই । কিন্তু বাড়ীর বাইরে সব জায়গাতে সাবান-পানি পাবেন কোথায়? এজন্যই বিশ্ব^জুড়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জন্য চলছে ক্রেজ এবং হাহাকার।</p>
<p>১৯৬৬ সালে আমেরিকার বেকার্সফিল্ড শহরে নার্সিংয়ের ছাত্রী ছিলেন লুপি হার্নান্ডেজ। তিনি ভাবলেন সাবান-পানি না থাকলে বিকল্প হিসাবে অ্যালকোহর ব্যবহার করলে কেমন হয়? তাও যদি থকথকে জেলের মতো হয়? এভাবেই তৈরী হয় অদৃশ্য জীবাণু দানব মারার মোক্ষম অস্ত্র হ্যান্ড স্যানিটাইজার।</p>
<p>শুরুতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাসপাতালে, ক্লিনিকে ব্যবহৃত হত। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর প্রচলন শুরু হয়। বিশেষ করে মহিলাদের হ্যান্ডব্যাগেতো এটা থাকবেই। কিন্তু ৫৪ বছর আগে যার মস্তিষ্কপ্রসূত আবিস্কার এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, তার কথা কি কেউ মনে রাখে?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২৭/০৩/২০<br />
করোনা ভাইরাসের সংক্রমন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাতার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিদিনই বিস্তর বিধি-নিষেধ জারী করে চলেছে। যেমন এখন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত খাবারের দোকান, ফার্মেসী এবং হোম ডেলিভারী ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এছাড়া হোটেলের সামনে, রাস্তার পাশে, পার্কে কিংবা কোনো খোলা জায়গায় এখন দু’জন দাঁড়িয়ে কথা বলা যাবেনা।</p>
<p>কাতারে করোনা আক্রান্তের বিষয় গোপন করলে কিংবা রিপোর্ট না করলে ২ লাখ রিয়াল জরিমানা এবং তিন বছরের কারাদন্ডের মত কঠিন সাজা দেয়া হবে। উপরোন্তু, সংস্কৃতি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কিউএফএম ৯৫.৩ ব্যান্ডে এখন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনামূলক প্রচারনা বাংলায় প্রচার করা হচ্ছে। ফলে কাতারের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরকারের হালনাগাদ কর্মসূচী ও বিধিনিষেধ সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিত জানতে পারছেন।</p>
<p>কাতারের শিল্প এলাকা বা সানাইয়া লকডাউন করা হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল। করোনাভাইরাস সংক্রমন রোধে দুই সপ্তাহের জন্য সানাইয়ার ১ থেকে ৩২ নম্বর সড়ক পর্যন্ত এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। কাতারের বিভিন্ন নির্মান প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি সহ অন্যান্য দেশের হাজারো শ্রমিক এই শিল্প এলাকার ক্যাম্পে বাস করছেন। কাতারে এ পর্যন্ত যতজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই থাকেন ওই শিল্প এলাকায়। তবে ওই এলাকার অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য কাতার সরকার বিভিন্ন কমিউনটি সংগঠনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিম লকডাইন এলাকার অভিবাসীদের নিয়মিত পরীক্ষা করছেন। প্রয়োজনে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে খাদ্যের চাহিদা বহুগুনে বেড়ে যাওয়ায় এখন সানাইয়ার লকড ডাউন এলাকার দোকানগুলোতে খাবারের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যে খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যাবে।</p>
<p>গত ২৯ ফেব্রুয়ারী প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হবার পর সময় অপচয় না করে করোনা সংক্রমনরোধে কাতার তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়েছে। খুব ছোট্ট একটি দেশ হলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাতারের নীতি নির্ধারকরা বেশ পরিপক্কতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, যেকোনো ভাইরাস সংক্রমন রোধ করার জন্য কার্যকর শনাক্তরণ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখে। এজন্য কাতারে ব্যাপক হারে করোনা টেস্ট করা হয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে যার পরিমাণ উপমাহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বহুগুন বেশী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>৩০/০৩/২০০<br />
সম্প্রতি আমেরিকার অ্যাবট ল্যাবরেটরীস একটি টেস্ট কিট তৈরী করেছে যা দিয়ে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমন শনাক্ত করা যাবে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে নাক কিংবা গলা থেকে নেয়া সদির্র স্যাম্পলের সাথে একটি বিশেষ ক্যামিকেলের বিক্রিয়া ঘটিয়ে ভাইরাসের শরীর থেকে আরএনএ আলাদা করা হয়। এরপর মিশ্রনটি টেস্ট কিটে দিয়ে করোনাভাইরাসের এবহড়সব ( জেনিটিক তথ্য) শনাক্ত করা হয়। ফলে কভিড-১৯ ছাড়া অন্য কোনো ভাইরাস থেকে দূষণের সম্ভাবনা থাকেনা।</p>
<p>করোনাভাইরাস শনাক্তে ব্যবহৃত স্ট্যানডার্ড পদ্ধতি হচ্ছে পিসিআর টেস্ট যা ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ। শরীরে ভাইরাস থাকলে এই টেস্ট করা হয়, এটা দিয়ে ভাইরাস সনাক্ত করা যায়, শরীর ভাইরাস মুক্ত হলে এই টেস্ট কাজ করেনা। শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের প্রায় সাথে সাথেই এই টেস্ট পজিটিভ হয় এবং পজিটিভ থাকে যতদিন শরীরে ভাইরাস থাকে। তবে ডট ব্লট পদ্ধতি সরাসরি ভাইরাস শনাক্ত না করে এন্টিবডির উপর কাজ করে বলে এই প্রক্রিয়ার কিছুু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাবট টেস্ট কিটটি আকারে ছোটো, হালকা এবং যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করা সম্ভব। এপ্রিলের প্রথম দিকেই এটা বাজারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।</p>
<p>প্রতিটি জীবের আলাদা আলাদা জেনিটিক সিকোয়েন্স থাকে যা দিয়ে ওই জীবকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়। যেমন মানুষের ডিএনএ এবং ভাইরাসের ক্ষেত্রে আরএনএ। সরাসরি জিনে হাত দিলে শনাক্তকরণে কোনো সংশয় থাকেনা। অন্যদিকে আমাদের দেহে যখন একটি জীবানু প্রবেশ করে তখন তাকে প্রতিরোধ করার জন্য রক্তের শ্বেতকণিকা এন্টিবডি তৈরী করে। কিন্তু সেটা তাৎক্ষনিক ভাবে হয়না। তিন দিনের মত সময় লাগে। তাই পিসিআর টেস্ট যেমন সংক্রমনের ১ম দিনেই ভাইরাসের উপস্থিতি বলে দিতে পারে কিন্তু ডট ব্লট পদ্ধতিতে এন্টিবডি তৈরী হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া দেহে আগে থেকে অন্য কোনো ভাইরাস থেকে থাকলেও এন্টিবডি তৈরী হতে পারে। তাই টেস্ট করার সময়কাল, দেহে অন্য কিছুুর উপস্থিতি, দেহের রোগ-প্রতিরোধক ব্যবস্থার (immune system) সক্ষমতা, এন্টিজেনের প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি ডট ব্লট পদ্ধতিকে প্রভাবিত হতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ থাকা সত্ত্বেও নেগেটিভ ফলাফল (false negative) কিংবা রোগ না থাকা সত্ত্বেও পজিটিভ (false positive) ফলাফল দিতে পারে।</p>
<p>১০/০৪/২০<br />
অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার জন্য ১০০০ ডলার জরিমানা গুনে পদত্যাগ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের শিল্পকলা মন্ত্রী ডন হারউইন। যদিও রাজ্যে এই আইন বলবৎ হবার আগেই তিনি এই ভ্রমন করেছিলেন বলে দাবী করেছিলেন।</p>
<p>সোস্যাল মিডিয়া পাতায় অনেক প্রবাসী বন্ধুরা আক্ষেপ করে লিখছেন, বাংলাদেশে কেনো এমন হয়না? জানতে ইচ্ছে করে, প্রবাসীদের কাউকে নিয়ে গিয়ে যদি মন্ত্রী বানানো হয়, তখন সময় এলে তিনি কি অষ্ট্রেলিয়ার মন্ত্রীটির মত আচরণ করতে পারবেন?</p>
<p>প্রবাসে বাংলাদেশ কমিউনিটির সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পদের জন্য লড়াই ও বিভক্তি, যে কোনো মূল্যে পদ ধরে রাখার যে সংগ্রাম দেখে আসছি, তাতে কি এমনটা আশা করা যায় ?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>১৫/০৪/২০<br />
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেয়া আর্থিক অনুদান আচমকা বন্ধ করে দিল আমেরিকা। করোনা ক্রান্তিকালে অন্তত এমনটা আশা করেনি কেউ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ব্যর্থতা ঢাকবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে যে বলির পাঁঠা বানিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকা কিছ’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যেগুলোর কথা না বললেই নয়। যেমনঃ</p>
<p>১. চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। এই ভাইরাস একজনের শরীর থেকে আরকেজনের শরীরে ছড়ায়না বলে চীনের দেয়া ভুল তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রচার করে। বলেছে এটা কোনো ছোঁয়াচে ভাইরাস নয়, তাই করোনা থেকে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।</p>
<p>২. তাইওয়ান চীনের এই তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করলেও চীনের চাপে পড়ে তা উপেক্ষা করা হয়। কারন চীন তাইওয়ানকে স্বাধীন রাস্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়না, নিজের দেশের অংশ বলে মনে করে।</p>
<p>৩. ঠিক ওই সময় প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ উহান থেকে সরে পড়ে। চীন এতে কোনো বাধা দেয়নি। এদের মাধ্যমেই করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে আমেরিকার ধারনা। চীন থেকে যেসব যাত্রী বিভিন্ন দেশে যাচ্ছিল, তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যাপারেও যথাযথ নির্দেশনা দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।</p>
<p>৪. আমেরিকার বিশ্বাস, চীন করোনায় আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সঠিক সংখ্যা বলছেনা, কম করে দেখাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের সরকারী পরিসংখ্যানকে অনুসন্ধান না করে মেনে নিয়েছে। ফলে অনেক দেশে এবং দেশের নাগিরকরা করোনা ভাইরাসকে অন্যান্য কম ক্ষতিকারক ভাইরাসের মত হাল্কা ভাবে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেয়ার এটাও একটা অন্যতম কারণ বলে ভাবা হচ্ছে।</p>
<p>৫. করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারী হিসাবে ঘোষনা দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক দেরী করে ফেলেছে।</p>
<p>তবে সবচেয়ে অদ্ভ’ত ব্যাপার হচ্ছে চীনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ট্রাম্প অথচ গত ফেব্রুয়ারীতে টুইটারে করোনা বিস্তার ঠেকাতে চীনের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। অবশ্য এধরনের দ্বিচারিতা একমাত্র ট্রাম্পের পক্ষেই সম্ভব। এছাড়া তাইওয়ান নিয়ে চীন ও আমেরিকার মধ্যে চলমান দ্বন্দ ও রাজনীতিও ট্রাম্পকে ইন্ধন জুগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।</p>
<p>তবে অপ্রিয় হলেও যে কথা সত্য তা হচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেটের ১৫% শতাংশ আসে আমেরিকার কোষাগার থেকে। যার পরিমান হচ্ছে বছরে ৪০০-৫০০ কোটি ডলার! অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হয়েও চীন দিচ্ছে মাত্র ৪০ মিলিয়ন ডলার। এই অসাম্য ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে খাপ্পা করে তোলারও একটি অন্যতম কারণ। চীন যদি সত্যিই বিশ্বের আমজনতার কথা ভাবে তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য তাদের আর্থিক অনুদান এখনই বাড়ানো উচিত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২৫/০৪/২০<br />
করোনা যুদ্ধে নারী সেনাপতিরা এগিয়েঃ বিশ্বের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানদের মাত্র ৬.৬ শতাংশ নারী হলেও বর্র্তমান করোনা সংকট মোকাবেলায় পুরুষদেও চেয়ে বহুগুন বেশী দক্ষতা দেখাচ্ছেন নারীরা।</p>
<p>প্রায় ২.৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ তাইওয়ানের কতাই ধরা যাক। এ পর্যন্ত তাইওয়ানে করোনা রোগীর সংখ্যা শ’চারেক আর মৃতের সংখ্যা ৬। অথচ করোনা আগ্রাসী থাবার ফন্টলাইনে রয়েছে তাইওয়ান। গত ডিসেম্বরে উহানে ভাইরাস সংক্রমেরন খবর আসতেই চীন, হংকং এবং ম্যাকাউ থেকে আসা সব ফ্লাইটের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ তাইওয়ান। এভাবে সংক্রমনের গোড়াতেই অবহেলা না করে নারী প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন আক্রমনাত্মক পদক্ষেপ নিয়ে ভাইরাসের আগ্রাসন রুখে দেন।</p>
<p>নিউজিল্যান্ডের নারী প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই বহিরাগতদের আগমন নিষিদ্ধ করে পুরো দেশকে এক-মাসের জন্য লব-ডাউনে পাঠিয়ে দেন। যার সুফল এখন পাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। ইউরোপেও দেখা যাচ্ছে নারী শাসিত দেশগুলো ভালো করছে।</p>
<p>অন্যদিকে উহানে করোনা সংক্রমনের পর পরই চীনের প্রসেডিন্ট প্রায় ৫ মিলিয়ন অধিবাসীকে উহান ছেড়ে যেতে দিয়ে সমগ্র বিশ্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেন। ইউরোপ এবং আমেরিকায় করোনা বিপর্যয়ের জন্য তাই চীনকে দায়ী করা হচ্ছে।</p>
<p>আমেরিকার প্রিেসডন্ট ট্রাম্প করোনার ভাইরাসকে বিরোধীদের চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কীতরণ উপেক্ষা করে শুরুর দিকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এদিকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ছিলেন আরো একধাপ এগিয়ে। তিনি লক-ডাইন আরোপ করতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানান এবং আরও বলেন, করোনা ভাইরাস আছে জেনেও হাসাপাতলের রুগীদের সাথে তিনি করমর্দন করতে দ্বিধা করবেন না।</p>
<p>দক্ষিণ কেরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে কিছু পুরুষ নেতারও সক্ষমতা দেখাচ্ছেন। তবে সংখ্যায় নগণ্য হয়েও বিজ্ঞান-মনষ্ক নারী সরকার প্রধানরা করোনা বিপর্যয় মোকাবেলায় যে ধরণের নৈপুণ্য দেখাচ্ছেন, তাতে পৃথিবীর সুরক্ষার কথা ভেবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য দেয়াটা কি খুব একটা বেশী চাওয়া হবে?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>০৭/০৪/২০২০<br />
ইদানিং সোস্যাল মিডিয়ার পাতা এবং ফেবুর ইনবক্স সয়লাব হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের করোনা সংক্রান্ত পোস্টে। এর মধ্যে সচেতনামূলক পোস্ট নেই যে তা নয়, কিন্তু কোনো রকমের যাচাই-বাছাই না করে পোস্ট পাঠানোর প্রতিযোগীতা দেখে বিস্মিত হচ্ছি। অনেকে ভেবে দেখেন না, এই পোস্টটি যাকে পাঠানো হচ্ছে হয় তার কাছে পোস্টটি বেশ ক’বার গিয়ে থাকবে কিংবা তথ্যটি তার আগে থেকেই জানা ।</p>
<p>যেমন &#8211; করোনার গ্যারান্টিযুক্ত ঔষুধ, করোনা ভিক্টিমের ভিডিও false positive, বিশেষ দোয়া যা সাথে সাথে ২০ জনকে না পাঠালে সুখবর আসবেনা, পুরোনো চলচ্চিত্র কিংবা ভিডিও ফুটেজ কাট এন্ড পেস্ট করে করোনার বলে চালিয়ে দেয়া ইত্যাদি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য করোনার গ্রাউন্ড জিরো উহানের চীনা ডাক্তার কিংবা বিজ্ঞানীর নামও জুড়ে দেয়া হচ্ছে।</p>
<p>আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রধান প্রফেসর Charles Lieber-এর গ্রেফতারের খবরকে করোনার সাথে যুক্ত কওে সোস্যার মিডিয়ায় একটি পোস্ট এসেছে বার বার। বলা হচ্ছে, এই প্রফেসরের সহযোগীতায় উহানের ল্যাবে করোনা ভাইরাস তৈরা করা হয়েছে। পোস্টে চীনা বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলা হচ্ছে, গরম পানির বাষ্প নিলে করোনা শতভাগ ভালো হয়ে যাবে।</p>
<p>তার মানে, চীনারা যেহেতু ভাইরাস তৈরী করেছে, তাই তার প্রতিষেধক কি হবে সেটাও তারা জানে। আসলে কি তাই? বলা বাহুল্য, শুধু চীন কেনো? আমেরিকা, রাশিয়া সহ বিশ্বের সব পরাশক্তির ল্যাবেই রয়েছে মারাত্মক রাসায়নিক কিংবা জীবানু অস্ত্র সম্ভার। এছাড়া সর্দি, কাশি কিংবা বুকের কফ দুর করার জন্য গরম পানির বাষ্প নেয়ার কথা মানুষ বহু আগে থেকেই জানে। গরম পানির বাষ্প নিলে কিছুটা উপকার হয়। কিন্তু এতে করোনা ১০০ ভাগ সেরে যাবে তার কোনো সুস্পষ্ট প্রমান নেই।</p>
<p>একথা প্রায় সবারই জানা, আমেরিকা ও উন্নত দেশের প্রযুক্তি অনুকরণ করে কিংবা অনেক সময় চুরি করে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়েছে চীন। এজন্য আমেরিকার হাইটেক কোম্পানীগুলোর প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের কাছে অভিযোগ করে আসছেন। সম্প্রতি চীন ও আমেরিকার মধ্যে বানিজ্য-যুদ্ধ শুরু হবার এটাও একটি অন্যতম কারন।</p>
<p>দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক গবেষণায় সময় এবং অর্থ ব্যয় না করে লাফ দিয়ে সবাইকে ডিঙ্গিয়ে যাবার জন্য চীন একটি বিশেষ কৌশল বা সর্টকাট ব্যবহার করে আসছে। তাহল উন্নত দেশের বিজ্ঞানীদের ব্যবহার করে গোপনে তথ্য উপাত্ত যোগাড় করা। এজন্য চীন বিশ্বের ৪০ জন সেরা বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকা তৈরী করে তাদের বড় অঙ্কের বেতন, অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে।</p>
<p>রসায়নবিদ্যার বর্তমান সময়ের সেরা বিজ্ঞানী, অত্যন্ত মর্যাদা সম্পন্ন ডড়ষভ চৎরুব বিজয়ী প্রফেসর চার্লস ছিলেন এই তালিকার শীর্ষে। এছাড়া ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক্স, জীববিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমন্বয় করার বিশ্ব গুরু বলে মানা হয় প্রফেসর চার্লসকে। ন্যানো প্রযুক্তি আয়ত্ব করার জন্য চীন যে কোনো মূল্যে প্রফেসর চার্লসকে হাতের মুঠোয় আনার চেষ্টা করতে থাকে।</p>
<p>বিশাল অংকের বেতন ও অনুদানের লোভ সামলাতে পারেননি বিজ্ঞানী চার্লস। অবশেষে উহান ইউনিভার্সিটি অফ টেকনলজিতে গবেষনাগার স্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পেটেন্ট তৈরী করার কাজে সাহায্য করতে তিনি সম্মত হন। কিন্তু বিষয়টি হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রাখার কারনেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়। অন্য কোনো অভিযোগ তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।</p>
<p>এই ঘটনাটি ঘটে জানুয়ারীর ২৯ তারিখ। কিন্তু হঠাৎ করে দু’মাস পর করোনার রং মাখিয়ে খবরটি চাওর করার উদ্দেশ্য এখন খুবই পরিস্কার। করোনাকালে খবরটি উহান বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে হওয়াতেই অনেকে সুযোগটি নিচ্ছে।</p>
<p>২০১৮ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে বিজ্ঞানে নোবল বিজয়ী জাপানী বিজ্ঞানী তাসুকু হোঞ্জোকে নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় একটি চরম গুজব ছড়ানো হয়। তা হচ্ছে, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীর মতে করোনাভাইরাস চীনের গবেষণাগারে তৈরী একটি কৃত্রিম ভাইরাস। এই দাবী মিথ্যা প্রমান করতে পারলে বিজ্ঞানী তাসুকু নাকি নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে দেবেন। শত শত ফেববুক পেজে জডন খানেক ভাষায় এই গুজব প্রচারিত হয়। শহিদুল ইসলাম নামের একজনের ফেববুক পোস্টেও উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়াতে এই গুজব প্রচার করা হয়। বিজ্ঞানী তাসুকু এই মিথা প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ জানান।</p>
<p>করোনাকালের অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে অনেক পুরোনা গুজবগুলোকেও এখন সামনে টেনে আনা হচ্ছে। আল্লাহর ৯৯টি নাম নিয়ে এবং হজ্জ নিয়ে দুটি গান মাইকেল জ্যাকসনের গাওয়া বলে পোস্ট দেয়া হচ্ছে। আল্লাহর নাম নিয়ে গানটি ওমর ইসার গাওয়া। আর হজ্জ নিয়ে গানটি ইরফান মাক্কির গাওয়া। ওদের গলা মাইকেল জ্যাকসনের মত বলেই এটা অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।</p>
<p>আমি জানিনা কারা এই রটনা শুরু করেছে। তবে কোনো মুসলিম যদি এটা করে থাকে, তাহলে সেটা হবে খুবই দুঃখজনক। মিথ্যের উপর ভর করে ধর্মের প্রচার হয়না। বিভিন্ন সেলেব্রটিকে জোর করে মুসলিম বানানোর প্রক্রিয়া মুসলিমদেরই বেশী ক্ষতি করছে।</p>
<p>এও বলা হচ্ছে হজ্জ গানটি নাকি আমেরিকা প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। ট্রাম্পের আমেরিকা আর যাই হোক সৌদি আরব নয়। ওখানে কোনো গান রিলিজ করার জন্য সরকারের অনুমতি লাগেনা। আর মাইকেল জ্যাকসন যদি সত্যিই গান রিলিজ করতে চান তাহলে বিশ্বের যে কোনো দেশের মিউজিক লেবেল থেকে তা প্রকাশ করতে পারতেন।</p>
<p>সুন্দর গান শেয়ার করা যেতেই পারে। কিন্তু মাইকেল জ্যাকসনের ট্যাগ লাগাতে হবে কেনো? তবে হ্যাঁ, মাইকেলের সহোদর ভাই Jermaine Jackson বাহরাইনে থাকাকালীন মুসলিম হয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের অন্যান্যরা Jehovah&#8217;s Witness  এর অনুসারী।</p>
<p>এছাড়া স্বয়ং মাইকেল জ্যাকসন এবং চাঁদে পা রাখা প্রথম মানব নীল আর্মস্ট্রং-এর মুসলিম হবার মিথ্যে খবরও করোনকালে সোস্যাল মিডিয়ায় বারবার দেখতে পেলাম।</p>
<p>কলি যুগে কোনটা আসল আর কোনটা নকল বোঝা সহজ নয়। ইনবক্সে কিছু এলে তাই সেটা অন্য কাউকে পাঠানোর আগে সূত্রগুলো একটু ঘেটে দেখা উচিত। করোনা ক্রান্তিকালে বেহুশ হয়ে পোস্ট দেয়ার এই প্রতিযোগীতা গুজব এবং আতংক ছড়াচ্ছে। যা হিতে বিপরীত হতে পারে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>০৩/০৫/২০<br />
করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে এখন দেশে দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে কভিডসেফ মোবাইল অ্যাপস। ব্লুটুথের মাধ্যমে এই অ্যাপসটি করোনা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।</p>
<p>অ্যাপস ব্যবহারকারীকে চিহিৃত করার জন্য সবাইকে একটি করে ইউনিক কোড দেয়া হয়। যেমন ধরুণ আপনি কারো সাথে দেখা করলেন। আপনাদের দু’জনের মোবাইলে যদি এই অ্যাপস থাকে তাহলে দেড় মিটার দুরত্বের মধ্যে আসলেই কভিডসেফ ওই ব্যক্তির ইউনিক কোড সনাক্ত করে তারিখ, সময়, দুরত্ব এবং কতক্ষণ ধরে আপনারা একে অপরের সংস্পর্শে ছিলেন তা ফোনে সংরক্ষণ করবে। এই তথ্য ফোনে ঢুকে কেউ দেখতে পারবে না এবং ২১ দিন পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে। আবার করোনামুক্ত মোবাইল ব্যবহারকারী করোনা পজিটিভ ব্যক্তির ‘খুব কাছে’ ১৫ মিনিটের বেশি সময় পার করলে নোটিফিকেশন যাবে।</p>
<p>এভাবে কভিডসেফ দিয়ে একজন করোনা পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে কারা এসেছিল তা খুব তাড়াতাড়ি বের করা যায়। ফলে এই অ্যাপস ব্যবহারকারী কেউ করোনা পজিটিভ হলে অে স্ট্রলিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সাথে সাথে যারা রোগীর সংস্পর্শে এসেছিল তাদের সতর্ক করে দিয়ে কি করতে হবে তা জানিয়ে দেয়।</p>
<p>অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, ইংল্যান্ড ও জার্মানী সহ আরো বেশ কিছু দেশ এই ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করছে। একই পথ ধরে এখন কাতারেও চালু হয়েছে কভিড অ্যাপস EHTERAZ. এখন অফিস-আদালত, সপিং মল ইত্যাদিতে ঢোকার আগে দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যাপসের সবুজ সঙ্কেতও দেখাতে হয়। লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে মানুষকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরিয়ে আনার জন্য কভিড অ্যাপস বড় ভূমিকা রাখতে পারে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২০/০৫/২০<br />
করোনা সারাবিশ্বকে বদলে দিয়েছে। আমাদের চোখের সামনে এনে দিয়েছে অনেক মর্মান্তিক, বেদনাময় অধ্যায়। চট্টগ্রামে ফিল্ড হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। তার সাত বছরের সন্তান এসে বাবাকে শেষবারের বিদায় দিতে কপাল স্পর্শ করলো। কিশোর সন্তানের শব্দহীন এই স্পর্শ, বুকের মধ্যে গভীর কান্নার ঢেউ তোলে।</p>
<p>করোনায় মারা যাওয়া মানুষের দাফনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্বজনদের তীব্র অবহেলার কথা নিয়মিত খবরে দেখছি। ফেসবুকের পাতায় নওগাঁর নিয়ামতপুরের বন কর্মকর্তা শফিউর রহমানের শেষ যাত্রার করুণ কহিনী পড়ে নিজেকে চিমটি কাটছিলাম, আমরা সত্যিই কি মানুষ? না অন্যকিছু।</p>
<p>কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চারজন সদস্য খাটিয়াসহ লাশ বইতে পারছিলেন না। মৃতের ভাইকে খাটিয়া বইতে সহায়তা করতে বলামাত্র সেখান থেকে এক প্রকার দৌঁড়ে চলে গেলেন! আর এলেন না। চারপাশে কোন আত্মীয় স্বজন নেই। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চারজন সদস্য লাশের খাটিয়া উঠানোর চেষ্টা করছে। উঠানোর পর এগুতে পারছেনা। আবার নামিয়ে ফেলছে। সদ্য প্রয়াত শফিউর রহমানের দ’ুটো সন্তান কেঁদেই চলেছে। ওরা কাছেও আসতে পারছে না। বড় ছেলে নাসিম চিৎকার করে লাশবহনকারীদের বলছিল ‘ভাই ভারী মনে হলে একটু নামিয়ে নিয়েন, তবু আব্বু যেন পড়ে না যায়!’</p>
<p>নারায়ণগঞ্জে গলাচিপা এলাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে বাড়ির সিঁড়িতে পড়েই মারা যান এক ব্যবসায়ী। তার শারীরিক অবস্থা যখন খারাপ হয় তখন আশপাশের ফ্ল্যাটে থাকা তার বন্ধুদের এবং পরিচিত আত্মীয় স্বজনদের সাহায্য চাওয়া হয়েছিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ তার ডাকে সাড়া দেয়নি। পরে স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়েই বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নামিয়ে আনছিলেন। তবে নামানোর পথে সিঁড়িতেই তিনি মারা যান। তবে নির্মম এই মৃত্যুর পর মরদেহ ছুঁয়েও দেখেনি তার আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা।</p>
<p>ভারতের কাটোয়া এলাকার একটি বাড়িতে করোনাভাইরাস সন্দেহে স্বামীকে ঘরে ঢুকতে দিলনা স্ত্রী। চিকিৎসকরা করোনামুক্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত ঘরে ঢুকতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে দরজা আটকে দেন তিনি।</p>
<p>ফেনীর সোনাগাজিতে ঘরে একা রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে স্বজনরা সরে পড়ার পর মারা গেলেন সাহাব উদ্দিন নামে করোনা আক্রান্ত এক বক্তি। তার স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়িতে তার কক্ষের বাইরে ছিটকিনি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় চলে যান। এক সময় শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে গেলে চিৎকার করে তিনি খাবার ও পানি চাইলেও কেউ দেয়নি। ছোট ছেলে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকেও বোনেরা বাধা দেয়। এভাবে চিৎকার করতে করতে ওইদিন রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।</p>
<p>করোনা সন্দেহে মাকে সখীপুরের বনে ফেলে গেছেন সন্তানেরা। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে অন্য জেলা থেকে আসা গার্মেন্টকর্মীর বাড়িতে যাওয়ায় করোনা হয়েছে সন্দেহ করে বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন সন্তানরা।</p>
<p>টাঙ্গাইলের সখীপুরে করোনা সন্দেহে এক নারীকে জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী-সন্তানেরা। পঞ্চাশোর্ধ্ব মা সংসারের বোঝা ছিলেন না। ছেলে, দুই মেয়ে, মেয়েদের জামাই, নাতি-নাতনিদের রান্না করে খাওয়াতেন। সেই মায়ের জ্বর-স্বর্দি-কাশি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করারও প্রয়োজনবোধ করলেন না সন্তানেরা। নিজের পেটে ধারণ করা সন্তানরা সন্ধ্যার সময় মা-কে নিয়ে বনের মধ্যে ফেলে আসলেন।</p>
<p>করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে সাভারে এক বৃদ্ধা মাকে ফেলে পালিয়েছে তার সন্তানরা। সমাজের কাছে হেয় হবেন এই ভয়ে সন্তানদের পরিচয়ও প্রকাশ করছেন না এই মা।</p>
<p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি অসুস্থ পিতাকে মাঠের মাঝখানে রেখে যাওয়ার ঘটনা। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। টঙ্গীতে এক নারী অসুস্থ হয়ে রাস্তায় মারা গেলেও করোনা সন্দেহে তার মরদেহ ধরেনি সন্তানসহ এলাকাবাসী। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়কেই পড়েছিল ওই নারীর লাশ। আরও বেশ কিছু ঘটনায় মৃত স্বজনের লাশ রেখে চলে গেছে আত্মীয়রা।</p>
<p>করোনার ভয়ে সন্তান যখন মা-বাবাকে রাস্তায়-মাঠে-চরে ফেলে যাচ্ছে, মৃতদেহ গ্রহণ করতে, দাফন করতে অস্বীকার করছে তখন মা-বাবার স্নেহের কাছে পরাজিত হয়েছে করোনা। চট্টগ্রামের পটিয়ায় করোনা আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হাসপাতাল থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে মৃত সন্তানের শিয়রে বসে থাকা মা আনমনে মৃত সন্তানকে মাথায়, কপালে হাত বুলাচ্ছিলেন। চরম ঝুঁকির মাঝেও সন্তানকে ছেড়ে না গিয়ে আদর করার এই দৃশ্য অনেকের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে।</p>
<p>মৃত শিশুটির হতভাগ্য বাবাও সন্তানটিকে ছেড়ে যেতে পারেননি। দাফন করার সময় বুকে আগলে লাশ নিয়ে যান কবরে। অথচ আদরের সন্তানের লাশের ভেতরে ঘাতক করোনা লুকিয়ে আছে। কোনও সুরক্ষা ছাড়াই শেষবারের মতো সন্তানকে বুকে আগলে ধরেছিলেন বাবা।</p>
<p>করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা ভারত যখন লকডাউনে তখন প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ আটকে পড়া ছেলেকে ফেরাতে স্কুটি চড়ে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ছেলেকে ফিরিয়ে আনেন তেলঙ্গানা রাজ্যের এক মা রাজিয়া সুলতানা। ভারতের কেরালার অসুস্থ ছেলেকে দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যোধপুর গেলেন পঞ্চাশ বছর বয়সী মা সিলাম্মা ভাসান। ছেলের গুরুতর অসুস্থতার কথা জানার পর মা কেরালা থেকে তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য ঘুরে তিন দিন ধরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজস্থানে অসুস্থ ছেলের কাছে পৌঁছান।</p>
<p>বিপন্ন প্রায় একজন মানুষের প্রতি আর একজন মানুষ কতটা সহানুভূতিসম্পন্ন হতে পারে, কিছু মানুষ তার অনন্য উদাহরণ যেমন সৃষ্টি করে চলেছেন তেমনি আর কিছু মানুষ এরকম সংকটকালে নিজেদের হীন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে মনের অজান্তেই নরকের কীটে পরিণত হচ্ছেন।</p>
<p>করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীর ভিক্ষুক নজিমউদ্দিন তার ভিক্ষালব্ধ ১০ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। তিনি নিজের থাকার ঘর তৈরির জন্য ভিক্ষা করে এ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। নজিমউদ্দিনের উদারতা দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। অন্যদিকে একশ্রেণির স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে বিপন্ন মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল এবং গম চুরির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব মানুষের স্বার্থপরতা দেখে ধিক্কার জানানোরও ভাষা খুঁজে পাওয়া যায়না।</p>
<p>চোখের সামনে মৃত্যুর ভয়াল রূপ দেখার পরও কিছু ডাক্তার, পুলিশ, নার্স, সরকারী কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ নিজের পরিবার ও জীবনের মায়া ভুলে সামনে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন।</p>
<p>তারা কখনো করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন বা সৎকার করতে ছুটছেন, কখনো খাবারের থলি নিয়ে ছুটছেন অসহায়, দুস্থ নিন্ম কিংবা মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি। আবার কখনো লকডাউন নিশ্চিত করতে পথে প্রান্তরে ছুটছেন। কখনো অসাধু ব্যাবসায়ীদের কবল থেকে মানুষকে রক্ষায় বাজার মনিটরিং বা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসাচ্ছেন। গুজব রুখতে নজর দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তেমন একজন করোনা যোদ্ধা হলেন নরসিংদীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ আলম মিয়া। গর্ভবতী স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাকে ঘরে রেখে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য দিনরাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এভাবে নরসিংদীতে সবার মাঝে হয়ে উঠেছেন একজন &#8216;বাস্তব জীবনের সুপার হিরো&#8217;।</p>
<p>একজন পুলিশ সদস্যের কথা জানি, যিনি সন্তানের ছুড়ে ফেলা মায়ের মৃতদেহ তুলে নিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করেছেন। তেমনি আরেকজন বৃদ্ধ ভ্যানচালক অসহায় করোনা রোগীকে নিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হবার পরও রাতের অন্ধকারে ছুটে যাচ্ছেন এক হাতপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। ফ্রন্ট লাইলের এসব যোদ্ধাদের অনেকে করোনার পরাজিত হয়ে মৃত্যুকে করছেন আলিঙ্গন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২০/০৫/২০<br />
সূর্যে লকডাউনঃ সূর্য আরেকটি সোলার মিনিমাম-এর দিকে এগুচ্ছে খবর দিয়েছে নাসা। তার মানে আগের তুলনায় সূর্য শীতল হয়ে আসছে। মিডিয়ায় সোলার মিনিমামকে সূর্য লকডাউনে যাচ্ছে বলে আখ্যা দিয়ে বলা হচ্ছে এর ফলে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্প ও দুর্ভিক্ষের মতো ভয়ংকর দুর্যোগ দেখা দেবে। করোনাকালে দিশেহানরা মানুষের কাছে আতঙ্কের অপর নাম হচ্ছে লকডাউন। তাই সূর্যে লকডাউনের এই খবর চারদিক ত্রাসের সঞ্চর করেছে। আসলেই কি তাই?</p>
<p>সোলার মিনিমাম একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা ১১ বছর অন্তর হয়ে থাকে। এই অবস্থা নূন্যতম চয় মাস স্থায়ী হয়। একজন মানুষ নিজের জীবদ্দশায় অনেক সোলার মিনিমামের মধ্য দিয়ে যায় যা টেরও পান না। সোলার মিনিমাম পরিস্থিতিতে সূর্যের তাপ উৎপাদনের মাত্রা হ্রাস পায়। সোলার ফ্লেয়ার ও সোলার স্পটের সংখ্যাও কমে যায়। সোলার মিনিমামের সময় সূর্যের চৌম্বকীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে বলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে ক্ষতিকর রশ্মির পরিমাণ বাড়তে পারে। যা মেরুঅঞ্চল ও নভোচারীদের এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।</p>
<p>১৮১৬ সালে সোলার মিনিমামের সময় একবার প্রবল ভ’মিকম্প হয়েছিল। ওই সময় পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যাভাব দেখা দেয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যা কিছু ঘটেছে তা ইন্দোনেশিয়ার টাম্বোরা আগ্নেয়গিরিতে প্রবল অগ্নুৎপাতের কারণেই ঘটেছে, এর সাথে সোলার মিনিমামের কোনো সম্পর্ক ছিলনা।</p>
<p>সোলার মিনিমামের ফলে যে পরিমাণ তাপমাত্রায় পরিবর্তন হবে সেটি পৃথিবীতে খুব একটা পারির্বতন আনতে পারবেনা বলেই ধারনা করছেন বৈজ্ঞানিকরা। কারণ সোলার মিনিমামের কারণে ১১ বছরে পৃথিবী যে পরিমান শীতল হবে তার চেয়ে কার্বন নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রার ছয়গুন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সোলার মিনিমাম যদি আরো একশ বছরও স্থায়ী হয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী শিথিল না হয়ে আরো উষ্ণতর হবে।</p>
<p>তারমানে জলবায়ুর যা ক্ষতি করার তা আমরা আগেই করে ফেলেিেছ। জাতিসংঘের আইপিসিসি’র রিপোর্টে বলা হয়েছে পৃথিবীকে আবাসযোগ্য রাখতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রীর নীচে রাখতে হবে। আর এজন্য কার্বণ নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কমিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্যে নিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দূষণকারী দেশ আমেরিকা ট্রাম্পের নের্তৃত্বে প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসার পর এটা কি সম্ভব?</p>
<p>জলবায়ু পরির্বনের কারণে এই শতকের শেষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সর্বোচ্চ ১ মিটার পর্যন্ত বাড়বে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক কথা হল, কার্বন নিঃসরণ এই মুহূর্তে পুরোপুরি বন্ধ করে দিলেও এ পর্যন্ত যে পরিমান কার্বন বায়ুমন্ডলে নির্গত হয়েছে তার প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অগামী কয়েক শতাব্দী ধরে বেড়েই চলবে। এভাবে আমরা একটি অপরির্তনীয় (irreversible) অবস্থার দিকে এগিয়ে চলেছি।</p>
<p>কারোনাকাল বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়েছে ঠিকই কিন্তু এটার সুফল সাময়িক। পৃথিবী ছন্দে ফিরলে আবারও বিষাক্ত ধূয়োয় ভরে যাবে বিশ্ব। মনে হচ্ছে, আমাদের পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য অনূজীবের আক্রমন না হলেও প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্বকে স্বেচ্ছায় লকডাউনে রাখতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২২/০৫/২০<br />
করোনাভাইরাসের সাড়াঁশি আক্রমনে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। বিভিন্ন দেশ যে লকডাউন কার্যকর করেছে তাতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কমে গেছে। যান চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে, লোকজন ঘরে বসে আছে এবং বৈশ্বিক চাহিদা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।</p>
<p>তেলের বাজারে নেমেছ ধ্বস নেমেছে। ১৯৯১ সালে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের পর বিশ্ব বাজারে তেলের দরে এত বড় পতন আগে দেখা যায়নি। আমেরিকান তেলের দাম এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি মাইনাস ৩৭ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।</p>
<p>করোনা ভাইরাসের ঘায়ে নতজানু হয়ে অবশেষে সৌদি আরব আগামী জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ভ্যাটের পরিমান তিন গুন বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করছে। এছাড়া চাকুরীজীবিদের বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুযোগ সুবিধা স্থগিত করে দিচ্ছে। আরব্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং বাহরাইন ২০১৮ সাল থেকে ৫% ভ্যাট চালু করেছে।</p>
<p>তবে ভ্যাট চালু না করলেও, অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে কাতারের সরকারী মন্ত্রণালয়গুলোতে যে করেই হোক ৩০% ব্যয় কমানোর নির্দেশ এসেছে। সরকারী খাতের সাথে সাথে বেসরকারী খাতেও ব্যাপক হারে কর্মী ছাটাই করা হচ্ছে। প্রায় সব সেক্টরে কর্মচারীদের বেতন ১৫ -৩০ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। চাকুরীর চুক্তিপত্রে থাকার পরও অন্যান্য ভাতা, সুযোগ সুবিধা, বাৎসরিক দেশে যাতায়তের টিকেটও বাতিল করা হচ্ছে। তবে ছাটাই ও বেতর কমানোর খড়গ নেমে আসছে কেবল প্রবাসীদের উপর। কাতার গড়ার জন্য শ্রম, মেধা সবকিছু দেয়ার পরও প্রবাসীদের এভাবে বলির পাঁঠা বানানোর সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। এই দেশটা যাদের, সেই কাতারী নাগরিকরা যদি স্বদেশের সুরক্ষার জন্য কিছুটা হলেও আত্মত্যাগ না করে, তাহলে করবে কারা?</p>
<p>২৭/০৭/২০২০<br />
করোনা যুদ্ধোত্তর বিশ্বের দিনকাল শুরু হয়েছে। একে বলা হচ্ছে New Normal. এই নতুন পৃথিবীতে সবাই সুরক্ষা-বিধি মেনে নিজেদের ঢেকে রেখেছে মুখোশের অন্তরালে। কাতারে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দুই থেকে তিস শ’র মধ্যে নেমে এসেছে। অফিস আদালতে উপস্থিতির সংখা শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশী। বিধি-নিষেধ মেনে সপিং সেন্টার, রেস্তাঁরা খুলেছে। কোনো কারণে সামান্য জ্বর কিংবা সাথে কোভিড আ্যাপ্স না থাকলে, মন্দ কপাল। কোত্থাও ঢোকা যাবেনা।</p>
<p>উড়োজাহাজে যাত্রীদের দুরত্ব-বিধি মেনেই সিট দেয়া হচ্ছে। আমার সেজদা সেদিন আমিরাতে চড়ে সিডনী থেকে ঢাকা ফিরলেন। সিডনী থেকে দুবাই পর্যন্ত সুরক্ষা-বিধি মেনে চলা হল। কিন্তু দুবাই থেকে ঢাকা রুটে আগের মতই যাত্রীদের পাশাপাশি বসানো হল। কষ্ট পেলাম জেনে।</p>
<p>বিশ্বের বহু দেশেই এখন সংক্রমনের হার ধীরে ধীরে কমে আসছে। কাতারেও করোনা সংক্রমনের হার নিম্নমুখী। বেশ কিছুদিন ধরে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচশ’র আশেপাশে উঠানামা করছে। আর মৃত্যুর হার হচ্ছে ০.১৫ শতাংশ, যা উপসাগারীয় অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে কম।</p>
<p>অনাদিকাল থেকে সংক্রামক ব্যাধি সঙ্গী হয়েছে আমাদের। বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত মহামারীতে মারা গেছে লাখো কোটি মানুষ। আজ থেকে ৫০০ বছর আগে গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়ে মধ্য আমেরিকার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এর পর ১৯১৮ সালে ভয়ংকর স্প্যানিশ ফ্লুতে মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রানহানি হয়েছিল প্রায় পাঁচকোটি মানুষের। সেই তুলনায় করোনায় আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর হার অনেক কম।</p>
<p>বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, করোনা রোগে আক্রান্ত প্রায় ১% রোগীর মৃত্যু হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাকী ৯৯% যারা বেঁচে থাকবে তারা সবাই কি পরিপূর্ণ সুস্থ থাকবে? এই বিষয়টিই গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ অন্যান্য ভাইরাসের মত মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখনো সম্পূর্ন নিশ্চিত নন।</p>
<p>জার্মান মিসল্স নামে পরিচিত হাম হচ্ছে একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আনুমানিক ০.২% মানুষের মৃত্যু হয়। কিন্তু হাম, আক্রান্ত রোগীদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা কিংবা মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। অনেককে হামের কারণে বধির হতেও দেখা যায়। অন্যদিকে পলিও নামের অন্য একটি ভাইরাস জনিত রোগের পার্শ^-প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেকেই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর পলিওতে আক্রান্ত ৭০% মানুষের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়না। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যাচ্ছে, করোনা ভাইরাসও কোনো রকম উপসর্গ না দেখিয়ে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।</p>
<p>করোনার আক্রান্ত বহু রোগীদেও দীর্ঘসময় ধরে আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেশনে থাকতে হচ্ছে। লম্বা সময় আইসিইউতে থাকাটা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভেন্টিলেশন করোনার রোগীদের জীবন রক্ষা করলেও, দীর্ঘায়িত ভেন্টিলেশন ব্যহার করার ফলে আলসার, বাকটেরিয়া সংক্রমন সহ অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি যেসব করোনা রোগী আইসিইউতে যাননি, তাদের অনেকের কিডনী সহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া মানসিক রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক করোনা রোগী। তাই কেবল মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বিচার করা সঠিক হবেনা। মানুষের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এই ভাইরাসের দীর্র্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাবও গভীরবাবে বিবেচনা করতে হবে।</p>
<p>একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, একবার করোনা সংক্রমনের পর শরীরে যে প্রতিরোধক শক্তি বা এন্টিবডি তৈরী হয় তার স্থায়িত্ব মাত্র কয়েক মাস। তাই করোনায় পুনঃসংক্রমনের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। ইদানিং অস্ট্রেলিয়া, চীন ও আমেরিকায় কোভিড ভাইরাস যেভাবে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তা খুবই উদ্বেগজনক। এর ফলে করোনা ভ্যাক্সিন কতটা ফলপ্রসূ হবে সে নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।</p>
<p>দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষা-বিধির মেনে চলতে গিয়ে অবসাদগ্রস্থ হয়ে অনেকে সরকারী নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। তাই দীর্ঘসময় ধরে সুরক্ষা-বিধি মনে না চললে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন আবারো ফিরে আসতে পারে।</p>
<p>করোনা সংক্রমনের শুরুতে আমরা জানলাম কতটা ভয়ংকর হতে পারে করোনা নামের এই অতিক্ষুদ্র অনূজীব। এরপর সংক্রমনরোধের জন্য চলল গবেষণা, হল বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা-বিধি সহ দুরত্ব-বিধির আগমন। এখন চলছে মানুষকে আবারো সচল করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলার প্রক্রিয়া। আমরা এখনো জানিনা, কি হতে পারে এর পরিনাম কিংবা এজন্য কতটা মূল্য দিতে হবে আমাদের।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২৭/০৭/২০<br />
কাতার সরকার আমার বয়সী মানুষদের বিনামূল্যে করোনা টেস্ট করানোর জন্য আমন্ত্রণ পাঠাচ্ছে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে Drive-in Swab টেস্ট করালাম। গাড়ী থেকে বেরুতে হয়নি। গাড়ীর জানালা দিয়েই গলা এং নাক থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করলেন বিনয়ী নার্স । আজ রেজাল্ট পেলাম &#8211; নেগেটিভ। আলহামদুলিল্লাহ! কভিড-১৯ ভেক্সিন ও টেস্ট নিয়ে বেশ লেখালেখি করেছি। এবার নিজেই কেরোনা টেস্টের বৈতরণী পার হলাম।</p>
<p>৩০/০৫/২০<br />
অনাদিকাল থেকে সংক্রামক ব্যাধি সঙ্গী হয়েছে আমাদের। বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত মহামারীতে মারা গেছে লাখো কোটি মানুষ। আর আজ একুশ শতকে সারাবিশ্বে নেমে এসেছে মরণঘাতি মহামারি কোভিড-১৯। এ পর্যন্ত করোনা মহামারীতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি এবং মৃতের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে পরিবহনব্যবস্থা ১৯১৮ সালের তুলনায় অনেক উন্নত এবং দ্রুততর। ফলে একটি ভাইরাস দ্রুত গতিতে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তার মরণ থাবা বিস্তার করতে পারে। করোনাভাইরাস ধনী, গরীব, উন্নত, অনুন্নত বলে কোনো বৈষম্য করছেনা। বিশ্বের ক্ষমতাধর পরাশক্তিগুলোও আজ বিপর্যস্তত্ম। যেসব দেশে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন আমেরিকা, ইকে, ইটালী, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানী, তারাই সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ।</p>
<p>মহামারীর আঘাতে মৃত্যুর মিছিল যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি দুঃস্বপ্নের চোখে চোখ রেখে এক নতুন সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্নও দেখাচ্ছে। প্রকৃতির কোনও লকডাউন নেই। বিশ্বজুড়ে যখন চলছে লকডাউন, তখন আমাদের চারপাশে মহাসমারোহে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। করোনাভাইরাস আক্রান্ত পৃথিবীতে পরিবেশ দূষণ হঠাৎ করে সাংঘাতিক হারে কমে গেছে। করোনা নামের অতিক্ষুদ্র একটি অনূজীবের বিশ্বজুড়ে ডাকা হরতালে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা পৃথিবী। রাস্তায় গাড়ী নেই, উধাও হয়ে গেছে জানযট, কারখানার চিমনীতে ধূয়ো নেই, বাতাসে নেই ডিজেলের পোড়া গন্ধ। শহরের বড় বড় চৌরাস্তার মোড়ে, অফিস পাড়ায়, ক্যাফে ও চায়ের দোকানে আড্ডার যায়গাগুলোতে এখন শ্মশানের নিরবতা। সারা বিশ্বের সকল শহরে জনকোলাহলের তরঙ্গে যেনো বাঁধ দেওয়া হয়েছে। রূপকথার গল্পের মত করোনা যাদুতে শহরতলীর জনমানব অদৃশ্য হয়ে গেছে।</p>
<p>করোনার প্রভাবে বিশ্বের ল্যান্ডস্কেপে বদলে গেছে। বায়ু দূষণ এতই কমেছে যে, দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই প্রথম পাঞ্জাব থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শুভ্র হিমালয় পর্বতমালা খালি চোখে দেখা যাচ্ছে। ভর দুপুরে ব্যস্ত শহরের অরণ্যে শোনা যাচ্ছে পাখির কলতান। সমুদ্র সৈকতে বসেছে লাল কাকঁড়ার মেলা, সাগর তীরে আবার ফিরে এসেছে ডলফিন। দূরপাল্লার মহাসড়কে পরম নির্ভয়ে গা এলিয়ে দিচ্ছে বন্য প্রানীর দল। এমন দুঃসাহস আগে কখনো দেখায়নি প্রানীক’ল। করোনাকাল যেনো প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দিয়েছে তার হারানো যৌবন।</p>
<p>করোনাকালে আমরা সবাই এখন নিজ গৃহে বন্দি। তবে এই গৃহবন্দী অবস্থায় আমরা শিখেছি অনেক কিছু। নীল আকাশ আর চার পাশের পরিবেশ কতটা সুন্দর যা আগে ভাবিনি। শিখেছি সঞ্চয়ের মূল্য, সম্পর্ককে আরও আঁকড়ে রাখতে হয় কী ভাবে, কী ভাবে স্বল্পে মেলে বিস্তরের আনন্দ। ছোট্ট ঘরের মধ্যে যে এত ছোট্ট-ছোট্ট অমূল্য মুহূর্ত আছে আগে কখনও ভেবে দেখার সুযোগ মেলেনি। অবসরের জীবন আর প্রকৃতি কী অনবদ্য আনন্দ আনতে পারে আগে বুঝিনি এমন করে।</p>
<p>করোনা মহামারী মানুষকে আরও বিনয়ী হতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে অন্যের প্রতি দরদী ও সহানুভ’শীল হতে। জীবন-যাপনের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টিয়ে দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, পৃথিবী একদিন সেরে উঠবেই, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হবে মানুষ। তবে অতিগ্রাসী মানবজাতিকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে মানবজীবনের। সন্মান করতে হবে প্রকৃতিকে। শিখতে হবে নতুন জীবনযাত্রার।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1599/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫৬। মধ্যপ্রাচ্যে স্বাস্থ্যখাতের জনশক্তির ভবিষ্যত</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1595</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1595#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 20 Oct 2026 06:26:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Tales of Qatar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1595</guid>

					<description><![CDATA[যদিও ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে দেশের আবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করার দিকেই কাতার সবশক্তি নিয়োগ করেছে, কিন্তু বিশ্বকাপ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে শুরু কাতার সরকার। আমদানী ও জ্বালানী-নির্ভর অর্থনীতি...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>যদিও ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে দেশের আবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করার দিকেই কাতার সবশক্তি নিয়োগ করেছে, কিন্তু বিশ্বকাপ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে শুরু কাতার সরকার। আমদানী ও জ্বালানী-নির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে বহুমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য কাতার জরুরী ভিত্তিতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।</p>
<p>২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হওয়ার পর, কাতারের নির্মানখাতে জনশক্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তাই জনশক্তির নির্ভরশীল নয় এমন সব হাই-টেক শিল্প-কারখার নির্মিত হচ্ছে কাতারে। এজন্য দক্ষ জনশক্তি আমদানির উপর বেশী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।</p>
<p>সম্প্রতি বাংলাদেশে থেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী সহ অন্যান্য দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ কাতার সরকার। বাংলাদেশ সফরের সময় কাতারের প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখী একথা বলেছেন। কাতারে গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের হাতে দুই জন নেপালি নাগরিক হবার পর অঘোষিতভাবে বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য ভিসা বন্ধ ছিল। এতে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে জনশক্তি রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে কাতার কর্তৃপক্ষ সরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে । ফলে বহুদনি পর কাতাওে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির ঢোকার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।</p>
<p>দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতীয়রাই কাতারের দক্ষ জনশক্তির বিভিন্ন খাতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে প্রকৌশলী, আইটি বিশেষজ্ঞ, ব্যাংক, মানব-সম্পদ ইত্যাদি প্রায় সবখানেই ভারতীদের দেখা যায়।</p>
<p>এদিকে প্রায় শ’তিনেক প্রকৌশলী, ডজনখানেক ডাক্তার ছাড়া হাসপাতালে বাংলাদেশি কোনো নার্স নেই বললেই চলে। কাতারের জনশক্তি বাজারে প্রতিযোগীতা এখন তুঙ্গে। ভারতীয় নাগরিকটা ভিসা ছাড়াই কাতারে প্রবেশ করতে পারেন। বিমান বন্দওে অবতরণের পর তাদের ভিসা দেয়া হয়। এই সুযাগ কাজে লাগিয়ে প্রচুর দক্ষ ভারতীয় নাগরিক কাতারের জনশক্তি বাজারে প্রবেশ করছে। যা বাংলাদেশি নাগরিকদের কাতারের দক্ষ জনশক্তির বাজারের ঢোকা দুরূহ করে দিচ্ছে।</p>
<p>একটা সময় ছিল যখন মধ্যপ্রাচ্য এবং আরব দেশগুলো থেকে সরকারী দল তাদের স্বাস্থ্যখাতে কাজ করার জন্য বাংলাদেশে গিয়ে শত শত ডাক্তার নিয়ে আসতেন। কিন্তু ইদানিং বাংলাদেশের নিম্নগামী শিক্ষার মান এবং সনদপত্রের সত্যতা নিয়ে নিয়ে সংশয় থাকার কারনে আগের মত বাংলাদেশ থেকে কেই সরাসরি ডাক্তার নিয়োগ দিতে চায়না।</p>
<p>এছাড়া কাতারে কাজ করতে হলে ডাক্তার ও নার্সদের একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হয়। প্রকৌশীদের যেমন পরীক্ষা দিয়ে কাতার পৌরসভা এবং পরেিবশ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন নিতে হয় তেমনি ডাক্তারদেরও কাতার কাউন্সিল ফর হেল্থকেয়ার প্র্যাক্টিশনারস (কিউসিএইচপি) থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। এজন্য প্রথমে দিতে হয় পরীক্ষা। পরীক্ষায় পাশ করলে আন্তজার্তিক সংস্থা ডাটা ফ্লোর মাধ্যমে সব সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় কাজপত্র যাচাই করে জমা দিতে হয়। এর পর কিউসিএইচপি সব মূল্যায়ন করে তবেই নিবন্ধন দেয়। কেবল আমেরিকা, বৃটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো থেকে পাশ করা ডাক্তার ও নার্সদের পরীক্ষা দিতে হয়না।</p>
<p>কাতারের একজন ভুক্তভোগী বাংলাদেশী ডাক্তার জানালেন, ডাটা ফ্লো থেকে বাংলাদেশে তথ্য যাচাই বাছাইয়ের জন্য অনুরোধ গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময় মতো সত্য সরবরাহ করেনা। অনেক সময় তাদের অবহেলার কারণে ছয় মাসেও ডাটা ফ্লো তথ্য পায়না। এজন্য অনেক বাংলাদেশী নার্স ও ডাক্তার প্রবাসে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ ভারত থেকে একজন আবেদনকারী তথ্য এক সপ্তাহের মধ্যে ডাটা ফ্লো সংস্থার কাছে চলে আসে।</p>
<p>বাংলাদেশের শ্রম, প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয় ও কাতারস্থ বাংলাদেশে দূতাবাসের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই বিরূপ পরিস্থিতির উন্নতি করা না গেলে, কাতারে দক্ষ জনশক্তি রফতানি কেবল আলোচনার টেবিলেই রয়ে যাবে। আশার কথা হল বাংলাদেশে থেকে প্রথম বারের মত প্রায় শ’খানেক নার্স আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে বলে জানিয়েছে কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1595/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫৫। কাতারে ‘প্রথম আলো’</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1592</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1592#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 20 Oct 2026 06:24:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Tales of Qatar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1592</guid>

					<description><![CDATA[মধ্যপ্রাচ্যের মরু প্রবাসে প্রথম বাংলা পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণ বের করার সাহস দেখায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো। কাতারের স্থানীয় আল-সার্কের বৈদেশিক প্রকাশনা শাখার তত্ত্বাবধানে প্রথম আলোর মধ্যপ্রাচ্য সংস্করণ যাত্রা...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মধ্যপ্রাচ্যের মরু প্রবাসে প্রথম বাংলা পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণ বের করার সাহস দেখায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো। কাতারের স্থানীয় আল-সার্কের বৈদেশিক প্রকাশনা শাখার তত্ত্বাবধানে প্রথম আলোর মধ্যপ্রাচ্য সংস্করণ যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর। আপাততঃ দৈনিকের বদলে সাপ্তাহিক সংখ্যা বের করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটা কাতারের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ছিল একটি মাইল ফলক। প্রথম আলোর ঢাকা অফিসেই পুরো পত্রিকা কম্পোজ করে কাতারের আল-সার্ক পত্রিকার প্রেসে প্রিন্ট করার ব্যবস্থা করা হয়।</p>
<p>খবর সংগ্রহ, লেখা থেকে শুরু করে পুরো পত্রিকা চালানোর দায়িত্ব পড়ে অনুজপ্রতিম সাংবাদিক ও লেখক তামিম রায়হানের উপর। আর পত্রিকার উপদেষ্টা হিসাবে ছিলাম আমি। লেখালেখি করি বলে পত্রিকা ও সাহিত্য নিয়ে রয়েছে আমার অদম্য আগ্রহ। তাই কাতারে প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংস্করণের সাথে কিভাবে যেনো জড়িয়ে পড়ি। এরপর পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিটির সুখ-দুঃখ নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখা শুরু করি।</p>
<p>প্রতি বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের বাড়ীর দরোজায় পত্রিকা সরবরাহ করা হত। সকালে অফিসে যাবার সময় দরোজা খুললেই চোখে পড়ত পত্রিকা। মেঝে থেকে কাগজ হাতে তুলে নিয়ে বিভিন্ন পাতায় চট্-জলদি একটু চোখ বুলিয়ে নিয়েই রওয়ানা দিতাম অফিসে। প্রবাসে বসে স্বদেশের মতো বাংলা খবরের কাগজ বাড়ীর দ্বার গোড়ায় পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে ধূমায়িত চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আয়াসে পত্রিকা পড়াটা আমার দীর্ঘদিনের অভ্যেস। কাতারে আসার বহুদিন পর আবারো পত্রিকা হাতে পেয়ে মনে হচ্ছে যেনো স্বর্গ ফিরে পেয়েছি।</p>
<p>পত্রিকায় স্থানীয় কমিউনিটির সংবাদ ছাড়া বেশ কিছু বিভাগ পাঠকদের মধ্যে সাড়া জাগায়। যেমন চাকুরির খোঁজ, আরবী ভাষা শিক্ষা, জেনে রাখুন, বাংলাদেশে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আঁকা ছবি, আইনি পরামর্শের বিভাগ ইত্যাদি। চাকুরির খোঁজ এবং আইন বিভাগের পরামর্শ অনেকের কাজে লেগেছে বলে জানান বেশ কিছু পাঠক। এটা প্রথম আলোর জন্য বড় ধরনের সাফল্য বলতে হবে।</p>
<p>বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও আলোর ৪র্থ বর্ষপূর্তি বেশ ধূমধাম করে পালিত হয় স্থানীয় আবুবকর স্কুলে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম আলোর শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা সহ দুজন কন্ঠশিল্পীও আসেন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করতে। এই অনুষ্ঠানে আমার প্রথম অডিও অ্যালবাম ‘তোমার জন্য’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং আমি নিজেও কয়েকটি গান পরিবশেন করি।</p>
<p>আজকের জিডিটাল বিশ্বে প্রায় সব পত্রিকাই এখন অনলাইনে পড়া যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তার কারণে মূলধারার খবর সরবরাহকারী মাধ্যম যেমন পত্রিকা, রেডিও ইত্যাদির অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে পড়েছে। মনে হচ্ছে খবরের কাগজ কিছুদিন পর শহরের মিউজিয়ামে আশ্রয় নেবে। নিউইয়র্ক টাইম্স এবং ওয়াশিংটন পোস্টের মতো ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলোও আজ প্রিন্ট ভার্সনের পাপাপাশি অনলাইন সংস্করন চালু করতে বাধ্য হয়েছে। প্রথম আলোর মধ্যাপ্রাচ্যে সংস্করণও এর ব্যতিক্রম ছিলনা।</p>
<p>কাতারের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে প্রথম আলো পত্রিকার গ্রাহকের সংখ্যা প্রতিষ্ঠার সময় থেকে পরবর্তী কয়েক বছরে বহুগুনে বেড়ে গেলেও পত্রিকাটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য তা যথেষ্ট ছিলনা। পত্রিকা চালু রাখার জন্য প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার কোনো অভাব ছিলনা। কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ভর্তূকি দিয়েই পত্রিকা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পাঁচটি বছর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলার পর অবশেষে ২০১৯ সালে থেমে যায় মরুর বুকে প্রথম আলোর পথচলা। যা আমার মত অনেকের জন্য ছিল বড় ধরনের একটি দুঃসংবাদ।</p>
<p>প্রবাসে বাংলা পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশের জন্য সাংবাদকিদের বেতন, পত্রিকা ছাপনোর খরচ, গ্রাহকদের কাছে পত্রিকা বিলি ইত্যাদি বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাতে প্রতি মাসে প্রচুর খরচ হয়। এখানে যেহেতু সরকারী বিজ্ঞাপন পাবার কোনো সুযোগ নেই, তাই গ্রাহক ফি এবং বানিজ্যক বিজ্ঞাপন থেকেই পুরো খরচ তুলে আনতে হয়, যা কাতারের মতো প্রবাসে সত্যিই দুরূহ ব্যপার। পত্রিকা প্রকাশনার খরচ মেটানো জন্য তাই প্রয়োজন নিয়মিত বড় অংকের বিজ্ঞাপন। কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসা-বানিজ্য থেকে আশানুরূপ বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি।</p>
<p>কাতারের চার লাখ বাংলাদেশ কমিউনিটির মাত্র মাত্র এক শতাংশ আগ্রহ দেখালেই গ্রাহকের সংখ্যা চার হাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। দোহা শহরে বাড়ী বাড়ী গিয়ে পত্রিকা পৌছে দেয়ার কাজ ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই পত্রিকা সরবরাহে কিছু সমস্যা ছিল ঠিকই। কিন্তু বিদেশের মাটিতে একটি বাংলা পত্রিকা চালু রাখার জন্য গ্রাহক হয়ে পরোক্ষভাবে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছি। কাতারে ভারতীয় এবং অন্যান্য কমিউনিটির বেশ কয়েকটি পত্রিকা চালু রয়েছে। কিন্ত আমরা তা পারিনি। এই ব্যর্থতা শুধু প্রথম আলোর নয়, আমাদেরও।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1592/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫৪। মেড ইন বাংলাদেশ</title>
		<link>https://mamoon.net/writings/1589</link>
					<comments>https://mamoon.net/writings/1589#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Oct 2026 07:45:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Writings]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1589</guid>

					<description><![CDATA[একটি দেশের পর্যটন, সংস্কৃতি, শাসন ব্যবস্থা, রপ্তানী, জনশক্তি এবং বিনিয়োগ, এই ছয়টি ক্ষেত্র বিবেচনা করে প্রতি বছর “ন্যাশন ব্র্যান্ড ইনডেক্স” নামের তালিকা প্রকাশ করে “এনহল্ট-জিএফকে রোপার” নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এ...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>একটি দেশের পর্যটন, সংস্কৃতি, শাসন ব্যবস্থা, রপ্তানী, জনশক্তি এবং বিনিয়োগ, এই ছয়টি ক্ষেত্র বিবেচনা করে প্রতি বছর “ন্যাশন ব্র্যান্ড ইনডেক্স” নামের তালিকা প্রকাশ করে “এনহল্ট-জিএফকে রোপার” নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এ বছর তালিকার শীর্ষ স্থানটি দখল করে নিয়েছে জার্মানী। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর পরাশক্তি আমেরিকা নেমে গেছে ষষ্ঠ স্থানে। তবে আশার কথা হল, শীর্ষ ৫০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম এসেছে। বাংলাদেশে তৈরী উন্নতমানের পোশাক শিল্পের চমকপ্রদ সাফল্যই এর কারণ বলে মনে করছেন সবাই। এখন বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরের নামী দামি ব্র্যান্ডের জামা-কাপড় বহন করছে “মেড ইন বাংলাদেশে’ ট্যাগ। যা দেখে স্বদেশ নিয়ে খুব গর্ব হয়। তবে পোশাক শিল্প ছাড়া অনেক কিছুতেই মেড ইন বাংলাদেশ ব্যান্ডিং সম্প্রসারণের সুয়োগ রয়েছে।</p>
<p>বাংলাদেশের যে ইতিবাচক দিক যে নেই, তা নয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বিশ্ব মিডিয়ার শিরোনামে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক খবরগুলোই বেশী প্রাধান্য পায়। মধ্যপ্রাচ্যে, বাংলাদেশ একটি শ্রমিক ও গৃহপরিচারিকা (খাদ্দামা) সরবরাহকারী দেশ হিসাবেই পরিচিতি। আমাদের দেশে প্রচুর দক্ষ জনশক্তি থাকলেও ইতিবাচক প্রচারনার অভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নীতিনির্ধারকদের কাছে সেই খবর যাচ্ছে না। আরব্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশ কাতারে বসবাসরত প্রবাসী জনসংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ কমিউনিটি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, কাতারী কর্তৃপক্ষের কাছে ভারত, শ্রীলংকা, ফিলিপিন্স কমিউনিটির তুলনায় দেশের ভাবমূর্তিকে আমরা তেমন করে তুলে ধরতে পারিনি। উপরোন্তু, কিছু মানুষ বিভিন্ন ধরণের বেআইনী কাজে জড়িয়ে পড়ার ফলে বাংলাদেশ কমিউনিটির সুনাম এখন চরম ক্ষতিগ্রস্থ। তাই একটি দেশ ও জাতি হিসাবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড তৈরি করার এখনই সময়।</p>
<p>কাতারের সাথে বাংলাদেশে বানিজ্যক লেনদেনের পরিমান আনুমানিক ১২ কোটি ডলার। বাংলাদেশ কাতার থেকে বছরে প্রায় ৪০ লক্ষ টন ইউরিয়া সার আমদানী করে থাকে। এছাড়া সম্প্রতি কুতুবতিয়ার মাতারবাড়ীতে প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দরপত্র জমা দিয়েছে কাতার। বাংলাদেশের সাথে কাতারের বানিজ্য মূলতঃ জ্বালানী খাতেই মধ্যেই সীমাবদ্ধ হলেও অন্যান্য খাতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বানিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের আরোপিত অবরোধের পর কাতারে বানিজ্যের নতুন দ্বার খুলে গেছে। কাতার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথেও বানিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা করছে। ফলে এখন কাতারের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশের এখন অনুক’ল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।</p>
<p>কাতারের নীতি-নির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জনশক্তি, পর্যটন, দেশে তৈরী পন্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সেবা তুলে ধরার জন্য “মেড ইন বাংলাদেশ” শিরোনামের একটি বানিজ্য মেলার আয়োজন করেছে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সংগঠন “বাংলাদেশ ফোরাম কাতার”। কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই প্রদর্শনী জানুয়ারীর ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারী পর্যন্ত রাজধানী দোহার দোহার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্র “দোহা এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে (ডিইসিসি)” অনুষ্ঠিত হয়।</p>
<p>তিন দিন ব্যাপী চলা এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও কাতার ব্যবসায়ী সমিতির চেয়ারম্যান শেখ ফয়সাল বিন কাসিম আল থানি। ৬০ হাজার বর্গ মিটারের এই প্রদর্শনী কেন্দ্রে ছিল ১০০টি স্টল। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের কৃষি, ব্যাটারি, তার ও বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, সিরামিক, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য ও পানীয়, মৎস্য ও মাংস, আসবাব, চামড়া, আবাসন, প্লাস্টিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, জাহাজ নির্মাণ, বস্ত্র ও পাট, প্রসাধন এবং পর্যটন সহ ১৮টি সেক্টরের সেবাদাতা কোম্পানিগুলো যোগ দেয়। প্রদর্শনীর পাশাপাশি সেমিনার, বাংলাদেশি খাবার উপস্থাপন, ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন ছিল।</p>
<p>কাতারে বাংলাদেশি গ্রোসারির দোকান ছাড়া অন্যান্য প্রধান সপিং মলে বাংলাদেশেী পন্য খুব একটা চোখে পড়েনা। তবে সুযোগ দেয়া হলে, গুণগত মান বিচারে কাতারের বাজারে ঢোকার সক্ষমতা বাংলাদেশি পন্যের রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বিএফকিউ আয়োজিত এই প্রদর্শণী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি কাতারে বাংলাদেশি পন্যের বাজার তৈরী করতে সাহায্য করবে। এই প্রদর্শনীর সাথে কাতারের ব্যবসায়ীদের সংগঠন কাতার চেম্বারও থাকার ফলে কাতারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যায়।</p>
<p>মেড ইন বাংলাদেশ প্রদর্শনী আয়োজনে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ছাড়াও সহায়তা করেছে কাতার সরকার। এই আয়োজন সফল করার জন্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাতারের পুরো বাংলাদেশ কমিউনিটি যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা সত্যিই প্রসংশনীয়। প্রবাসে এমন একটি আয়োজন দেশেকে নিয়ে বিশ্বের কাছে একটি সুন্দর বার্তা পৌছে দেবে এবং বাংলাদেশকে নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে সাহায্য করবে।</p>
<p>তবে প্রদর্শণী শেষ হবার পর একটি সাংবাদিক সন্মেলন করে মেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজকদের একটি উন্মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল বলে অনেকে মতামত দিয়েছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>৩০ জানুয়ারী ২০২০</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/writings/1589/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫৩। একই সুতোর বাঁধা আমরা চুয়েটিয়ান</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1586</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1586#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Oct 2026 07:43:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Tales of Qatar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1586</guid>

					<description><![CDATA[২০১৯ সালের সম্ভবতঃ নভেম্বরের মাঝামাঝি ঢাকা থেকে অনুজ প্রকৌশলী তুহিনের টেলিফোন পেলাম। চুয়েটের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে থিম সং লেখার জন্য তুহিন বিনীত অনুরোধ জানালো। আর মাত্র...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>২০১৯ সালের সম্ভবতঃ নভেম্বরের মাঝামাঝি ঢাকা থেকে অনুজ প্রকৌশলী তুহিনের টেলিফোন পেলাম। চুয়েটের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে থিম সং লেখার জন্য তুহিন বিনীত অনুরোধ জানালো।</p>
<p>আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠান। আমি থাকি প্রবাসে। এতো কম সময়ের মধ্যে গান লিখে, সুর করে মিউজিক ভিডিও কিভাবে তৈরী হবে ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমি সাথে সাথেই তুহিনকে বললাম, “তরুণ চুয়েটিয়ানদের দিয়ে কাজটা করাও না?”। কিন্তু যাদের দিয়ে কাজটা করানো হবে তা যাচাই বাছাই করতে সময়ের প্রয়োজন। আর এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে, পুরো বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বরের ৬ তারিখ সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে এসব কিছু করা অনেকটা অসম্ভব, বললো তুহিন।</p>
<p>সত্যি বলতে কি সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান এক বছর পিছিয়ে যাওয়াটা আমার ভালো লাগেনি। এজন্য চুয়েটিয়ানদের মধ্যে বিভিন্ন কোন্দলের খবরও কানে এসেছে। নেপথ্যে যাই ঘটুক, শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি যে হচ্ছে সেটাই আমাদের সবার জন্য ছিল সবচেয়ে বড় পাওয়া। এছাড়া আয়োজক কমিটিতে কারা আছে, কারা নেই, এদের দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় কি সেটা আমার কাছে মূখ্য ছিলনা। এরা সবাই চুয়েটিয়ান আর একজন প্রাক্তন চুয়েটিয়ান হিসাবে সুবর্ণ জয়ন্তীতে কিছু করার দায়ব্ধতা থেকেই শেষ পর্যন্ত কাজটা হাতে নিতে আমি রাজী হলাম।</p>
<p>সুবর্ণ জয়ন্তীর থিম সং লিখাটা খুব সহজ কাজ ছিলনা। কারণ এই থিম সং যেমন কোনো একটি ব্যাচের স্মৃতিকে নাড়া দেয়ার জন্য নয়, তেমনি চুয়েট থেকে গত পাঁচ দশকে যতগুলো এলামনাই বের হয়েছে তাদের সবার অনুভূতি একটি গানের মধ্যে নিয়ে আসাটাও কখনো সম্ভব নয়। এছাড়া গত পাঁচ দশকে চুয়েট ক্যম্পাসে যে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন এসেছে তা কিভাবে গানে তুলে আনা যায় এসব ভাবতে ভাবতে গানটি নিয়ে কাজ শুরু করলাম।</p>
<p>৮০ দশকে তোরে পুতুলের মত সাজিয়ে, মুখরিত জীবনের মত বেশ কিছু কালজয়ী গান লিখার পর বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রায় সব খ্যাতিমান কন্ঠশিল্পীদের অনুরোধ সত্বেও আমার আর গান লিখা হয়নি। কিন্তু চুয়েটের এই কাজটা অনেকটা আবেগতাড়িত হয়েই হাতে নেয়া। যাই হোক দু’দিনের মধ্যে গান লিখে ঢাকায় পাঠালাম সুর ও মিউজিক করার জন্য। আমার সাথে ভোকাল দেয়ার জন্য এই প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী শাব্বির ও কোনালকে নেয়া হল। এদিকে তুহিন ওর টিম নিয়ে ছুটে গেলো ক্যাম্পাসে মিউজিক ভিডিও তৈরী করতে। সোস্যাল মিডিয়ার যুগ বলেই রক্ষে। আমি আমার ভোকাল ও ভিডিও প্রবাসের স্টুডিওতে রেকর্ড করে পাঠালাম। এভাবেই তৈরী হল চুয়েট সুবর্ণ জয়ন্তীর থিম সং “একই সুতোয় বাঁধা আমরা চুয়েটিয়ান”।</p>
<p>থিম সং লিখেও অনুষ্ঠানে যাওয়া হলনা আমার। কাতারে কর্মরত আমার মতো অনেকেরই যাওয়া হয়নি স্বুর্ণ জয়ন্তী উৎসবে। কিন্তু তাতে কি? কাতারের সব চুয়েটিয়ানরা মিলে সিদ্ধান্ত নিল মরু-প্রবাস কাতারে আবার বসবে সুবর্ণ জয়ন্তীর আসর।</p>
<p>১৩ ডিসেম্বর, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার, দোহা শহরের অভিজাত এলাকার একটি আবাসিক কম্পাউন্ড প্রাঙ্গনে আয়োজিত হল চুয়েট প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা। মরুর দেশ কাতারে এখন শীতের আমেজ। সকাল থেকেই রাজধানী দোহা শহরের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মনে হচ্ছে এই বুঝি নামবে বৃষ্টি। অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ভাবনগুলো হয়ে যাচ্ছিল এলোমেলা। চুয়েট ক্যম্পাস ছেড়েছি তিন দশক পেরিয়ে গেছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেই কেটেছে আমার মত বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থীর তারুণ্যে ভরা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো। এখন আমি যৌবন অতিক্রান্ত এক সুদূরের যাত্রী।</p>
<p>সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সারাদিনব্যাপী সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠান। প্রাতঃরাশ সেরে সুবর্ণ জয়ন্তীর থিম সং বাজিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল দিনের আয়োজন। দেখলাম গাল্ফ অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসাবে দুবাই থেকে এই আনন্দ মেলায় যোগ দিতে এসেছে প্রকৌশলী শামীম।</p>
<p>কাজের তাগিদে কাতারের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চুয়েটিয়ানরা। জীবনের ব্যস্ততায় আমরা এমন করে ডুবে আছি যে, একই শহরে থেকেও যেনো আমরা বাস করছি ভিন্ন গ্রহে। অনেকে দুই দশক ধরে কাতারে আছেন, অথচ সতীর্থ কোনো চুয়েটিয়ানের মুখোমুখি হননি কখনো। কিন্তু সুবর্ণ জয়ন্তীর এই আয়োজন, ক্যাম্পাসের হারিয়ে যাওয়া বহু চেনা মূখ ও দুর্লভ মুহূর্তগুলো আবার যেনো ফিরিয়ে দিল। পুরোনো বন্ধুদের সান্নিধ্যে এসে খুনসুটিতে মেতে উঠেছিল সবাই।</p>
<p>অনুষ্ঠানে সব বয়সীদের জন্য ছিল মজার মজার আয়োজন। তবে আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল চুয়েটিয়ানদের স্মৃতিচারণ। চুয়েটের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে এসে বহু দিন পর ক্যাম্পাসের স্মৃতিগুলো যেনো হঠাৎ করে আড়মোড়া ভাঙল। শিক্ষকদের চোখে ধুলে দিয়ে সার্ভে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কাজে ফাঁকি দেয়া, শীতকালে ক্যাম্পাসের আশেপাশের গ্রাম থেকে আনা হাঁড়ি ভর্তি খেজুরের রস খাওয়া, হোস্টেলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে গোলাগুলির মধ্যে রাত কাটানো, সেশন জটের জন্য জীবনের সোনালী দিনগুলো হারিয়ে যাওয়ার মতো বহু অম্ল-মধুর ঘটনা উঠে আসে স্মৃতিকথায়।</p>
<p>স্মারক হিসাবে কাতারের সব চুয়েটিয়ানদের একটি করে সুর্বণজয়ন্তীর লগো আঁকা টি-সার্ট, কফি মাগ ও নিজের নাম খোদই করা ক্রেষ্ট উপহার দেয়া হল। এছাড়া সুবর্র্ণ জয়ন্তী উৎসবের থিম সং-এর গীতিকার ও সহযোগী কন্ঠশিল্পী হিসাবে সন্মানিত করে আমাকে একটি বিশেষ ক্রেষ্টও প্রদান করা হয়, যা আমার জন্য ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। কাতারে আইইবির টানা চার বছর চেয়ারম্যান ছিলাম। এছাড়া বেশ কিছ’ সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃত্ব¡ দেয়ার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আমরা মানুষকে যথাযথ সম্নান দিতে খুব কুন্ঠাবোধ করি। অথচ অন্যকে সন্মানিত করলে নিজের সন্মান কমেনা বরং বাড়ে।</p>
<p>বিগত পাঁচ দশকে চুয়েটের রূপান্ত বিস্ময়কর! ১৯৬৮ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৬-তে বিআইটি, আর এখন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা চুয়েট। চট্টগ্রাম শহরের জনপদ থেকে বহু দুরে রাউজানের সবুজ বনারণ্যে ১৭১ একর আয়তনের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত চুয়েট ক্যাম্পাস। চুয়েটের এই অদম্য যাত্রার আমিও ছিলাম এজন সারথী, ভাবতেই ভালো লাগে। ৭০ দশকের মাত্র তিনটি ডিপার্টমেন্টের সংখ্যা এখন ১৫। হয়েছে বহু ছাত্রাবাস। আমাদের সময়তো কোনো ছাত্রীও ছিলনা চুয়েটে। আর এখন ছাত্রীদের জন্য রয়েছে দুটো হোস্টেল। ক্যাম্পাসে তৈরী হয়েছে গবেষণা কেন্দ্র এবং ইন্সটিটিউট। সুকুমারবৃত্তি চর্চার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ডিবেটিং সোসাইটি ও বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন।</p>
<p>তবে সবকিছুর সাথে পাল্লা দিয়ে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর দাপটও বেড়েছে অনেক। আধিপত্য বিস্তার করতে যেয়ে সহিংসতার খবরও শুনছি। যা আগে ছিলনা। আমাদের সময়েও ছাত্র রাজনীতি ছিল কিন্তু এ নিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি হতে দেখিনি। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পরিচয় নয় বন্ধুত্বই ছিল বড়। ইদানিং র‌্যাগিংএর নামে নবাগত শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের খবর শুনে স্মম্ভিত হয়েছি। বিশ্বাস করতে মন চায়নি যে চুয়েট ক্যাম্পাসে এসব ঘটছে। মনে পড়ে চুয়েটে আসার পর ফাইনাল ইয়ারের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের বড় ভাইয়েরা আমাকে মনসুরের দোকানে মিষ্টি খাইয়ে তাদের দলে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ছিল সত্তর দশকের র‌্যাগিং। কোথায় গেল সেই দিন!</p>
<p>ইদানিং দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নেই বলে অনেককে আক্ষেপ করতে শুনি। তবে কাতারের সুবর্ণ-জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অনুজ চুয়েটিয়ানরা সিনিয়রদের যেরকম সন্মান দেখালো, তা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আজকের প্রজন্মের চুয়েটিয়ানরা আমাদের সময়ের চেয়ে উন্নত চিন্তা-ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তবে সতর্ক থাকতে হবে অত্যাধিক আত্মবিশ্বাস যাতে ঔদ্ধত্যে রূপ না নেয়। যা একজন আলোকিত মানুষ হবার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1586/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫২। অবরোধের আড়াই বছর</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1583</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1583#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 18 Oct 2026 01:48:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Tales of Qatar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1583</guid>

					<description><![CDATA[ডিসেম্বরের ৫ তারিখ কাতারের উপর আরোপিত চারটি প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্র আরোপিত অবরোধের আড়াই বছর পূর্ণ হল। অবরোধের অন্তরালে কেমন আছে কাতার? কেমন কাটছে প্রবাসীদের দিন? অবরোধের অন্তরালেঃ ২০১৭ সালের মে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডিসেম্বরের ৫ তারিখ কাতারের উপর আরোপিত চারটি প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্র আরোপিত অবরোধের আড়াই বছর পূর্ণ হল। অবরোধের অন্তরালে কেমন আছে কাতার? কেমন কাটছে প্রবাসীদের দিন?</p>
<p>অবরোধের অন্তরালেঃ ২০১৭ সালের মে মাসের কথা। সৌদি আরবের রিয়াদে ৪১ মুসলিম রাষ্ট্রসহ ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল বিশাল সন্মেলন। এই সন্মেলনের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় ছিল প্রধান অতিথি হিসাবে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যোগদান। শুধু তাই নয়, সন্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মুসলিমদের সত্যিকারের বন্ধু হিসাবে আখ্যায়িত করে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে ভূষিত করা হয়। এছাড়া সৌদি আরব আমেরিকার তৈরি ১০ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কেনারও অঙ্গীকার করে।</p>
<p>সৌদি রাজ পরিবারের ট্রাম্পকে তোয়াজ করার মাত্রা দেখে অবাক হয়েছে বিশ্ব। সৌদি বাদশাহের সাথে তলোয়ার নৃত্য শেষ করে ট্রাম্প আমেরিকা ফিরে যাবার পরই ধীরে ধীরে সব কিছু পরিস্কার হতে শুরু করে। সৌদি আরবের এই চরম আনুগত্যের প্রতিদানে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যা খুশী তাই করার ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।</p>
<p>তবে এই সন্মেলনে আমেরিকার অন্যতম মিত্র দেশ কাতারকে সাইড লাইনে রেখে ইরানকে রুখে দেয়ার আহ্বান যেনো অশুভ কোনো কিছুর ঈঙ্গিত দিচ্ছিল। রিয়াদ সন্মেলন শেষ হবার ঠিক পরদিন কাতার সরকারী সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক করে ইরানের প্রশংসা আর আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনা করে সৌদি জোটের হ্যাকার বাহিনী মিথ্যে খবর পোষ্ট করে। যা আরব আমিরাত ও সৌদি সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়। সেই সূত্র ধরে মাত্র দু’সপ্তাহ পর ২০১৭ সালের ৫ই জুন, সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর কাতারের উপর পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে। কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাশের মদদ দেয়া সহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয়।</p>
<p>শুরুতে ঘটনার আকস্মিকতায় কাতার অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। পুরো কাতার জুড়ে তখন থমথমে পরিবেশ। যেকোনো সময় সৌদি সেনাবাহিনী কাতারে অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল চারিদিক। ২০১১ সালে শিয়া বিদ্রোহ দমনের জন্য বাহরাইনের রাস্তায় যেরকম সৌদি ট্যাঙ্ক নেমেছিল, ঠিক তেমনি কাতারে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে তাদের পছ›ন্দের একজনকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া হতে পারে বলে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। কিন্তু তাতে বাধ সেধে বসেন আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব রিক্স টিলারসন। তিনি সৌদি আগ্রাসনে সায় দেননি। ট্রাম্পের অবাধ্য হবার জন্য রিক্স টিলারসনকে যে পরে মাশুল দিতে হয়েছে সে কথা আমাদের সবারই জানা।</p>
<p>তবে সবাইকে উপেক্ষা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান কাতারের পক্ষে দাঁড়িয়ে গেলে সৌদি আরব পিছু হঠতে বাধ্য হয়। ২০১৪ সালে কাতারে তুর্কী সামরিক ঘাঁটি করার জন্য চুক্তি হলেও নব নির্মিত ঘাটিতে মাত্র ১০০ জন তুর্কি সৈন্য অবস্থান করছিল। কিন্তু আবরোধ আরোপের পর পরই সৌদি আগ্রাসন রুখে দিতে জরুরী ভিত্তিতে পাঁচটি সাজোয়া গাড়ী সহ বেশ কিছু সৈন্য কাতারে পাঠানোর নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এর কিছুদিনের মধ্যে ৩০০০ হাজার সৈন্য আগমন করে তুর্কি ঘাঁটিতে। এখন এই সংখ্যা বেড়ে ৫০০০ হাজারে যেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। আমেরিকার পাশাপাশি কাতারের মাটিতে তৃতীয় শক্তি হিসাবে তুরস্কের আবির্ভাব সৌদি জোটের করা পরিকল্পনায় ঠান্ডা পানি ঢেলে দেয়।</p>
<p>অবরোধের পরবর্তী সময়গুলো উৎকন্ঠা আর অস্থিরতায় কাটছিল সবার। কাতারের অধিকাংশ খাদ্যপণ্য আসতো সৌদি আরব ও আমিরাত থেকে। অবরোধের পর আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিনের মধ্যে সপিং মলের পন্য-সামগ্রী ভর্তি সারি সারি তাক শুন্য হয়ে গিয়েছিল। দুঃসময়ের প্রস্তুতি হিসাবে অনেকে চাল, ডাল, অন্যান্য আবশ্যকীয় পণ্যদ্রব্য কিনে বাড়ীতে মজুদ করছিল। বহু কাতারী ও ভারতীয়রা ব্যাংকের সঞ্চিত টাকা ডলার করে কাতারের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যাতে কাতার থেকে বের হওয়া যায় সে জন্য আমি কাতারের অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসে যোগাযোগ করলাম। জরুরী নথিপত্র, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক সহ অন্যান্য মুল্যবান জিনিস পত্র একটি ব্যাগে গুছিয়ে রাখলাম। যাতে প্রয়োজনে কয়েক ঘন্টার নোটিশে কাতার ছাড়তে পারি। প্রস্তুতি থাকলেও জরুরী ভিত্তিতে কাতার ছেড়ে যাবার প্রয়োজন হয়নি।</p>
<p>শিয়া ফ্যাক্টরঃ ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আরব অঞ্চলে শিয়া-সুন্নীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই বহু দিনের। তাই কাতারের উপর এই অবরোধের অন্তরালে ইরান/শিয়া ফ্যাক্টর কাজ করছে বলে অনেকের ধারণা। সুন্নী শাসক শ্রেনী, শিয়াদের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করে। এজন্য যে কোনো মূল্যে শিয়াদের উত্থান প্রতিহত করতে তারা বদ্ধ পরিকর। এই অঞ্চলের বেশ কিছু আরবদের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেখেছি শিয়াদের প্রতি সুন্নী আরবরা কি ধরণের ঘৃণা পোষণ করে। শিয়ারাও সুন্নী আধিপত্যের অবসান ঘটাতে বিভিন্ন সময় আরব অঞ্চলে বিদ্রোহ করেছে, অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। উল্লেখ্য, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও বিপুলসংখ্যক শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও কাতারেও শিয়া জনসংখ্যা কম নয়। কাতারের বড় বড় ব্যবসা ইরানী বংশোদ্ভূত কাতারীদের হাতে।</p>
<p>বাহরাইনের ৭০ শতাংশ জনসংখ্যা শিয়া মতাবলম্বী। কিন্তু এর পরও শাসন ক্ষমতা সুন্নীদের হাতে। তাই বাহরাইনে শিয়াদের অসন্তোষ দানা বেধে বিদ্রোহে রুপ নিয়েছে বহুবার। ২০১১ সালের মার্চে শিয়া বিদ্রোহ দমন করার জন্য বাহরাইনের অনুরোধে সৌদি আরব সেনাবাহিনী ও ট্যাংক পাঠায়। সৌদি আরবের উত্তর পূর্বাঞ্চলের তেল সমৃদ্ধ এলাকার সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ হচ্ছে শিয়া। শিয়া অধ্যুষিত ইরান হচ্ছে শিয়া-শক্তির মুল উৎস। তাই আরব উপ-অঞ্চলের সুন্নী রাষ্ট্রগুলো ইরানকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে জোট বেধেছে।</p>
<p>কাতারের সাথে ইরানের সম্পর্ক যেন “শ্যাম রাখি না কূল রাখি” অবস্থা। কাতারের উত্তরে আরব সাগরের নীচে রয়েছে ৯৭,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাব্যাপী বিস্তৃত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্র, যা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কাতার ও ইরান। সৌদি জোটের পক্ষ নিয়ে ইরানকে উত্তেজিত করার পরিণতি যে কি হতে পারে সেকথা কাতার খুব ভালো করেই জানে। তবে কাতারের সাথে ইরানের সুসম্পর্ক সৌদি আরব কখনোই ভালো চোখে দেখেনি।</p>
<p>অবরোধ আরোপের পর ইরান কাতারকে এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করার জন্য সর্বোতভাবে সাহায্য করে। চট্-জলদি পন্যসামগ্রী আমদানি করার জন্য ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলো কাতারে জন্য খুলে দেয়া হয়। খাদ্য সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে অবরোধের প্রথম দিকে প্রতিদিন ১২০০ টনের খাদ্র সামগ্রী পাঠাতে থাকে ইরান। ফলে অবরোধের চাপে রেখে ইরানের সান্নিধ্য থেকে কাতারকে ছাড়িয়ে আনার সৌদি চাল মাঠে মারা পড়ে। উল্টো, বিপদের বন্ধু হিসাবে ইরানের সাথে কাতারের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো ঘনিষ্ঠতর হয়েছে।</p>
<p>কাতারের স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি ও আল-জাজিরাঃ পররাস্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কাতার, আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের মোড়ল সৌদি আরব ও আমিরাতের দিক-নির্দেশনা মেনে চলবে এমনটাই তারা আশা করে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে কাতারের স্বাধীন পদক্ষেপ তাদের ক্ষোভের কারন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া আরব বিশ্বের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার প্রচারণা সৌদি নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বা বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে বলে সৌদি রাজ পরিবার বেশ শঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে কাতারের উপর ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়।</p>
<p>নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গের মত আরব দেশগুলোর মধ্যেকার এই আত্মঘাতী বিরোধে সবচেয়ে বেশী লাভবান হচ্ছে আমেরিকা ও ইসরাইল। কাতার এবং সৌদি আরব, এ দুটি দেশেই রয়েছে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি। আমেরিকাকে সন্তুষ্ট রাখতে সৌদি আরবের সাথে পাল্লা দিয়ে সম্প্রতি কাতারও আমেরিকা থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছে।</p>
<p>আমেরিকার আনুকূল্য পাওয়ার জন্য ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ট হবার রীতিমত প্রতিযোগীতায় নেমেছে সবাই। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার পিআর কোম্পানী ও লবিষ্ট গ্রুপের আয় এখন আকাশ ছুঁতে চলেছে। আমেরিকার সিনেটর এবং প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য ২০১৭ সালের অবরোধের পর পিআর কোম্পানীর পেছনে কাতার ব্যয় করেছে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার! একই খাতে সৌদি জোটের ব্যায়ের পরিমান কাতারের দ্বিগুন।</p>
<p>২০১৭ সালে অবরোধ আরোপের পর এই প্রথম কাতারের মাটিতে গাল্ফ কাপ টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছে সৌদি ও আমিরাতি ফুটবল দল। তবে আসলেই এই বিরোধের অবসান হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ডিসেম্বর, ২০১৯</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1583/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কাতারে জীবন যেমন র্পব ৫১। যত বাঙালি তত সমিতি</title>
		<link>https://mamoon.net/opinion/1580</link>
					<comments>https://mamoon.net/opinion/1580#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 18 Oct 2026 01:43:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Tales of Qatar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1580</guid>

					<description><![CDATA[কথায় বলে, “যত বাঙালী তত সমিতি”। দু’জন বাঙালি এক জায়গায় হলে নাকি দু’টো সংগঠন হয়ে যায়। দেশে, বিদেশে সবখানেই অধিকাংশ বাংলাদেশিরা সংগঠন বা দলাদলি প্রিয়, এমন অনেক কথাই আমাদের কমিউনিটিতে...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কথায় বলে, “যত বাঙালী তত সমিতি”। দু’জন বাঙালি এক জায়গায় হলে নাকি দু’টো সংগঠন হয়ে যায়। দেশে, বিদেশে সবখানেই অধিকাংশ বাংলাদেশিরা সংগঠন বা দলাদলি প্রিয়, এমন অনেক কথাই আমাদের কমিউনিটিতে প্রচলিত আছে। আত্মসমালোচনা করতে যেয়ে এই ধরনের কথা আমরা প্রায়ই বলে থাকি। তবে উদ্বেগের কারন হল, আমাদের কমিউনিটি ক্রমশঃ বিভিন্ন দল, গোষ্ঠি, গোত্র, উপদলে বিভিক্ত হয়ে খন্ড-বিখন্ড হয়ে পড়ছে। আগে ছিল বিভাগীয় সংগঠন, আর এখন জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন ভিত্তিক আঞ্চলিক সমিতি গঠিত হচ্ছে।</p>
<p>আমাদের কমিউনিটিতে বিভিন্ন শ্রেনীর এবং মনোবৃত্তির মানুষ রয়েছে। তার মধ্যে এক ধরনের এলিট শ্রেনী আছেন যারা কেবল কিছু বাছাই করা মানুষ ছাড়া অন্য কারো সাথে মিশতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। কিন্তু অন্যদিকে যারা নিজেদের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি বলে মনে করেন তারাও আপন গন্ডির বাইরের কাউকে ছাড় দিতে চান না পাছে কমিউনিটিতে তাদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। মোদ্দা কথা হল, আমরা নিজেরা উপরে উঠতে না পারলেও অন্যকে কিছু করতে দেইনা। এভাবে আমাদের বহু ভালো প্রচষ্টা, আশা আকাংখা কেবল স্বপ্নই থেকে যায়।</p>
<p>বিশ্বের বহু দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে খুব ভালো করছেন। তবে কমিউনিটির মধ্যে ক্রম-বর্ধমান বিভেদ ও অনৈক্য, এই সাফল্য ও ঔজ্জ্বলতাকে ম্লান করে দিচ্ছে। সবাই মিলেমিশে কোনো আয়োজন করা যাচ্ছেনা। দেখা যায় কোনো গ্রুপ যদি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাহলে বিপরীত গ্রুপ আপ্রান চেষ্টা করে যাতে অনুষ্ঠান বিফল হয়। অনুষ্ঠান ভন্ড’ল করার জন্য প্রয়োজনে দেশে টেলিফোন করে, দূত পাঠিয়ে আমন্ত্রিত অতিথি এবং শিল্পীদের অপপ্রচার ও ভ’ল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। যা সত্যিই হতাশার এবং বেদনাদায়ক।</p>
<p>দেখা যাচ্ছে, সংখ্যায় অনেক ছোটো কমিউনিটিও আমাদের ডিঙ্গিয়ে প্রবাসী কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ছেন আর সরকার থেকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কোন্দলের কারনে আমরা কমিউনিটি হিসাবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছতে ব্যর্থ হচ্ছি। মাঝে মধ্যে একতা নিয়ে অনেকে আওয়াজ তুললেও তা মরুভ’মির মরীচিকার মত শূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বাংলাদেশি কমিঊনিটিতে একই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায়। মনে হয় আমরা ক্ষুদ্র গোষ্টিগত থাকতে পছন্দ করি। আর এই জন্যে হয়তো ক্ষুদ্রতা থেকে বেরিয়ে এসে বৃহত্তর ঐক্যে আসতে পারিনা।</p>
<p>কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২০১৬ সালের মার্চে ছিল দুই লাখ আশি হাজার। আদমসুমারীর পরিসংখ্যান মতে কাতারে বাংলাদেশি জনসংখ্যা ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই তিন বছরে গড়ে ১০৪% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ! অবাক হয়েছি। আমি মনে করতাম কাতারে নেপালীদের সংখ্যাই তর তর করে বাড়ছে। কিন্তু আমার এই ধারনা সঠিক ছিলনা। বাংলাদেশের কাছাকাছি রয়েছে ফিলিপিন্স এবং পাকিস্তান, যাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ওই তিন বছরে ছিল ৪০ শতাংশ। কাতারে বাংলাদেশিদের সংখ্যা এখন প্রায় ৪ লাখের কাছাকাছি। এছাড়া বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরো প্রায় তিন লক্ষ কর্মী আনার যে চুক্তি হয়েছে তাতে এই সংখা খুব সহসা বেড়ে ছয় লক্ষে পৌছতে পারে।</p>
<p>আমার জানা মতে কাতারে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি সব মিলিয়ে বাংলাদেশি সংগঠনের সংখ্যা এখন প্রায় পঞ্চাশ। তার মানে কাতার প্রবাসী প্রতি আট হাজার বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে একটি করে সংগঠন। উল্লেখ্য, কমিউনিটির জনসংখ্যার শতকরা নব্বই শতাংশ হলেন খেটে খাওয়া মানুষ যারা এইসব সংগঠনের নাগাল পান না কখনো। কারন অধিকাংশ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম দোহা সহ বিভিন্ন শহরতলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার পদগুলো ধরে আছেন প্রায় একই মানুষ। আর এরাই হলেন সমিতি বা সংগঠন ভাঙ্গা-গড়ার কারিগর।</p>
<p>তবে কেবল বাংলাদেশি কমিউনিটিতেই যে সংগঠনের সংখ্যা বেশী এমন ধারনা সত্য নয়। আসুন অন্য কমিউনিটিতে কি হচ্ছে সেটা একটু তথ্য-সূত্র ঘেটেই না হয় দেখা যাক! কাতারে প্রায় ৯০টি দেশের প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন। সংখ্যা বলুন কি প্রভাব-প্রতিপত্তি, সবদিক দিয়ে ভারতীয়রা হচ্ছে কাতারের সবচেয়ে বড় কমিউনিটি। এদের সংখ্যা এখন প্রায় সাড়ে ছয় লাখের মত। ভারতীয়দের রয়েছে ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টার (আইসিসি) নামের একটি কেন্দ্রিয় সংগঠন। এই সংগঠনের ছাতার নীচে রয়েছে প্রায় শ’খানেক নিবন্ধিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। আইসিসি’র বাইরেও রয়েছে বেশ কিছু সংগঠন। উপরের হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে প্রতি সাড়ে ছয় হাজার ভারতীয়দের জন্য রয়েছে একটি করে সংগঠন।</p>
<p>অন্যদিকে নেপালিদের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের কিছুটা বেশী। ওদের সংগঠনের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ১৩০; তার মানে প্রতি তিন হাজার নেপালির জন্য একটি করে সংগঠন। তবে নেপালিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নাম হল নন-রেসিডেন্ট নেপালিজ এসোসিয়েশন। ইন্টারন্যাশনাল কর্ডিনেশন কাউন্সিলের ছাতার নীচে দারুন কার্যকর একটি সংস্থা তৈরী করেছে প্রবাসী নেপালি কমিউনিটি। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে এর ৭০টি শাখা। এর কাজ হলো প্রবাসী নেপালিদের কল্যাণ ও অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া, সরকারী পর্যায়ে লবিং এবং নেপালে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা। একটি কার্যকরী কমিটি নিয়ে নির্বিঘ্নে নিজস্ব কমিউনিটির জন্য ওরা কাজ করে যাচ্ছে। কাতারে নেপালিদের এই সংগঠন কিন্তু বিভক্ত হয়নি।</p>
<p>তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সংগঠনের সংখ্যা কাতারে অন্যান্য কমিউনিটির চেয়ে অনেক কম। তবে পার্থক্য হল, অন্য কমিউনিটির প্রায় সবই হচ্ছে সামাজিক ও সাংস্কৃতি ভিত্তিক সংগঠন; যাদের মধ্যে রয়েছে অদ্ভুত সমন্বয় এবং ঐক্য। রাজনৈতিক দল, উপদল নেই বললেই চলে। এদিকে আমাদের কমিউনিটিতে ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক সংগঠনতো রয়েছেই, আবার সেই সংগঠনগুলো নিজেরাই অর্ন্তকোন্দলের জন্য বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। এইসব সংগঠনের নেতারাই হলেন অধিকাংশ বাংলাদেশি সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের চালিকা শক্তি। ফলে অরাজনৈতিক সংগঠনেও রাজনৈতিক ভাবধারার লাইনে হচ্ছে মেরুকরণ এবং বিভক্তি। প্রতিটি মানুষেরই একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকতে পারে। এতে দোষের কিছু দেখিনা। কিন্তু সবকিছুতেই এই বিশ্বাসের প্রয়োগ করতে গেলেই শুরু হয় বিভক্তি আর কোন্দল। তাই সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের গুনগত বিচারে অন্য কমিউনিটির চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছি আমরা।</p>
<p>আমি ভারতীয়দের আসিসির আদলে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে একটি কেন্দ্রিয় সংস্থা তৈরী করার প্রস্তাব রেখেছিলাম প্রথম আলোরই একটি কলামে। এই ধরনে সংস্থা গঠন করতে খুব একটা বেগ পেতে হবেনা। সংগঠনের নেতৃত্ব কে বা কারা আসবেন সে নিয়েই হয়তো প্রথম শুরু হবে বিতর্ক এবং চর দখলের প্রতিযোগীতা। প্রশ্ন হচ্ছে, বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে? ভালোমন্দ নিয়েই মানুষ। আমরা কেউ ধোয়া তুলসী পাতা নই। কিন্তু আমার দলের কিংবা মতাদশের্র অনুসারী না হলে যতই সাংগঠনিক দক্ষতা কিংবা অন্যান্য গুনাগুন থাকুকনা কেনো, সেই মানুষ গ্রহনযোগ্য হবেনা, এই ধরনের মানসিকতা পরিহার করতে না পারলে সমানে এগুনো যাবেনা।</p>
<p>কারো যদি বিশেষ কোনো দক্ষতা থাকে শত্রু হলেও তার মূল্যায়ন করতে হবে। কিন্তু আমরা যাকে প্রতিদ্বন্দ্বি ভাবি তাকে ঠ্যাং ধরে টেনে কিভাবে নীচে নামানো যায় সেই চেষ্টাই করি। এজন্য প্রয়োজনে মিথ্যাচার, দুর্নাম করতেও দ্বিধা করিনা। এছাড়া অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠনের নেতৃত্বে থাকার পর নিজেকেই তার মালিক ভাবতে শুরু করেন। এরকম একজন কমিউনিটির নেতাকে আক্ষেপ করে বলতে শুনেছি, “আমার সংগঠনটা ওই লোকটা দখল করে নিচ্ছে”। এভাবে সংগঠনের নেতৃত্বে উঠে আসার পথ বন্ধ করে দেয়া হয় বলে হতাশা এবং অসন্তোষ থেকে ভাঙ্গনের শুরু হয়।</p>
<p>কমিউনিটিতে বিভক্তি থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। অন্য কমিউনিটিতে যে বিভক্তি নেই তা নয়। কিন্তু এজন্য হানাহানি কিংবা তিক্ততা কেনো? একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে বিভক্তি নিয়েও এক টেবিলে বসে কাজ করা যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>২৩ নভেম্বর, ২০১৯</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/opinion/1580/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মরুভূমিতে ন্যায়বিচারের মরীচিকা: মিসকিনদের জন্য কিসের আইন?</title>
		<link>https://mamoon.net/daily-diary/1577</link>
					<comments>https://mamoon.net/daily-diary/1577#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 03:31:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Daily Diary]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1577</guid>

					<description><![CDATA[সৌদি আরবে সম্প্রতি দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি দণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও কিছু...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div dir="auto">সৌদি আরবে সম্প্রতি দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি দণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও কিছু জানানো হয়নি।</div>
<div dir="auto">বাস্তবতা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের মতো দেশগুলোতে আমাদের দেশের মানুষদের একরকম ‘মিসকিন’ বা নিচু চোখেই দেখা হয়। সেখানে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য এক আইন, আর ঘাম ঝরানো প্রবাসী কর্মীদের জন্য আরেক আইন! তবে হ্যাঁ, পশ্চিমা নাগরিকদের কথা আলাদা। তাঁরা কখনো স্থানীয় নাগরিকদের চেয়েও বেশী খাতির যত্ন পান। তাই তথাকথিত ‘মিসকিন’দের বিচারে যে জবাবদিহিতার প্রয়োজন আছে, তারা তা মনেই করে না।</div>
<div dir="auto">সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত হাজারো কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর আমরা প্রতিনিয়ত পাই। বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীরা দিনের পর দিন নির্মম শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন, এমনকি হাত-পা ভাঙা অবস্থায় পুলিশের কাছে গেলেও বিচার পাওয়া যায় না; পুলিশ মামলা নিতেই চায় না উল্টো মারধর করে।পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্তের রিপোর্টগুলো অত্যন্ত অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী। কোথাও মৃত্যুর কারণ হিসেবে ট্রমা, পুড়ে যাওয়া বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়, আবার কোথাও লেখা হয় ‘ব্রেইন ডেড’। অথচ শেষমেশ সেই দেশের পুলিশ বলে দেবে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’!</div>
<div dir="auto">যে শরিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে এত আলোচনা, শত শত প্রবাসীর মৃত্যু ও নারী কর্মীদের নির্যাতনের ক্ষেত্রে সেই আইনের প্রয়োগ কই? সেখানে ন্যায়বিচার কেন অধরা?</div>
<div dir="auto">মূলত সৌদি আরব চলে একজন শাসকের খেয়ালখুশিমতো। দেশটিতে রাজা কিংবা বর্তমান শাসক রাজকুমার মোহাম্মদ বিন সালমানের (MBS) ইচ্ছাই শেষ কথা। এমন একটি দেশে কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পায় না। ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট থেকে বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে গায়েব করে দেওয়ার পর আজও কি কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে?</div>
<div dir="auto">এখানে বাংলাদেশ সরকারেরই বা কী করার আছে? কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ করতে গেলেই হুমকি আসে, লাখো প্রবাসী বাংলাদেশিকে বের করে দেওয়া হবে! বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ চাইলে যে কাউকে আটক করে কোনো কারণ না দেখিয়ে দেশে ফেরত পাঠাতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকার সুবাদে এমন অনেক অভিজ্ঞতা আমার নিজের দেখা। এমনকি অনেকে ছুটি কাটাতে দেশে গিয়ে আর ফিরতে পারেননি, কারণ হঠাৎ করেই তাদের ভিসা বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল।</div>
<div dir="auto">সবমিলিয়ে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌদি সরকারের কাছে সুবিচার বা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করা মানে মরুভূমিতে মরীচিকার পেছনে ছোটাই বৈকি!</div>
<div dir="auto">17 October 2026</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/daily-diary/1577/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিগ ব্যাংয়ের আগে কী ছিল?</title>
		<link>https://mamoon.net/daily-diary/1574</link>
					<comments>https://mamoon.net/daily-diary/1574#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[admi@mamoo252]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Oct 2026 03:29:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Daily Diary]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://mamoon.net/?p=1574</guid>

					<description><![CDATA[মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এ নিয়ে কথা বলতে বাঘা বাঘা পদার্থবিজ্ঞানীরাও দু&#8217;বার চিন্তা করেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে এমনকি টঙের দোকানে চায়ে চুমুক দিতে দিতেও...]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div dir="auto">মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এ নিয়ে কথা বলতে বাঘা বাঘা পদার্থবিজ্ঞানীরাও দু&#8217;বার চিন্তা করেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে এমনকি টঙের দোকানে চায়ে চুমুক দিতে দিতেও যে কেউ এখন বিগ ব্যাং নিয়ে লেকচার দিতে শুরু করেছেন!</div>
<div dir="auto">তাঁরা এমন ভাব ধরে বসেন যেন বিগ ব্যাং তাঁদের চোখের সামনেই ঘটেছে। এ পদার্থবিদ্যা নয় , যেন কোনো রান্নার রেসিপি নিয়ে আলোচনা চলছে! এভাবে বলতে গিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং ব্যক্তিগত ধারণাকে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেন।</div>
<div dir="auto">বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থায়। সেখান থেকে মহাবিশ্বের প্রসারণ শুরু হয় এবং ক্রমে শীতল হতে হতে গড়ে ওঠে পরমাণু, নক্ষত্র, ছায়াপথ ও গ্রহ-উপগ্রহ।</div>
<div dir="auto">তাহলে কি বিগ ব্যাং থেকেই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব শুরু হয়েছিল? এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর বিজ্ঞানীদের জানা নেই। বিগ ব্যাং তত্ত্ব মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা থেকে তার সম্প্রসারণ ও বিবর্তন ব্যাখ্যা করে; কিন্তু বিগ ব্যাং থেকেই যে মহাবিশ্বের চূড়ান্ত উৎপত্তি কিংবা অস্তিত্বের শুরু, সে কথা বলেনা।</div>
<div dir="auto">বিগ ব্যাংয়ের আগে কি অন্য কোনো মহাবিশ্ব ছিল? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বিকল্প ধারণা নিয়ে গবেষণা করছেন। একটি সম্ভাবনা হলো চক্রাকার মহাবিশ্বের ধারণা (Cyclic Universe)। আরও কিছু মডেলে বিগ ব্যাংয়ের পরিবর্তে একটি বিগ বাউন্স (Big Bounce)-এর ধারণা রয়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী সংকোচনপর্বের পর মহাবিশ্ব আবার প্রসারিত হতে শুরু করে।</div>
<div dir="auto">সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈজ্ঞানিক বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠিত তথ্য, তাত্ত্বিক মডেল এবং অনুমানের পার্থক্য বোঝা জরুরি। অনেকেই বিজ্ঞানকে ধর্মের মুখোমুখি দাঁড় করান, অথচ বিজ্ঞান কোনো ধর্ম নয়, এটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাইকৃত গবেষণার ফল। ‘বিজ্ঞানীরা সবকিছু জানেন না’ যেমন সব জ্ঞানকে অস্বীকার করার অজুহাত হতে পারে না, তেমনি ‘বিজ্ঞান একটি তত্ত্ব দিয়েছে’ মানে এই নয় যে সব প্রশ্নের উত্তর মিলে গেছে।</div>
<div dir="auto">9 October 2026</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://mamoon.net/daily-diary/1574/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
