সিডনী থেকে প্রশান্ত মহাসাগর ঘুরে
সবুজ বাংলায়
খুঁজে ফিরছি প্রিয়তমা।
ছোট্টবেলায় শের আলী চাচার কিনে দেয়া পুতুল
যৌবনে তরুণীর চঞ্চলতা
কোনটাই ধরে রাখতে পারেনি আমাকে ।
ছুটে গেছি আমি আন্তঃমহাদেশীয়
ক্ষেপণাস্ত্রের মত অলৌকিক গতিতে;
এক শহর থেকে অন্য শহরে
এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে
জনপদ থেকে জনারণ্যে;
কখনো মাইক্রোফোন হাতে মানুষের
সুখ-দুঃখের ভীষণ কাছাকাছি।
আর যখন নিভে যায়
অডিটরিয়ামের সবকটা রঙিন লাইট
রাজপথে মিলিয়ে যায় মানুষের কোলাহল
আমার বুকের মধ্যে জেগে ওঠে একা মানুষটি।
ফিরে যাই বেইলী স্ট্রীটে আমার ঘরে
Ñ চার দেয়ালের গহীন অন্ধকারে।
মুহূর্তে খুলে পড়ে সব মুখোশ
হয়ে পড়ি আবার একা।
বাহাদুর শাহ্ জাফরের কোন বিষণ্ন গজলের মত
ভীষণ একা, তবুও ছুটেছি;
অবশেষে একদিন থম্কে দাঁড়ালাম।
বাইরে তখন হাঁটুজল, বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
দেখলাম তোমাকে।
প্রচলিত নিয়মের কথা শেষে জিজ্ঞেস করলাম:
‘কেমন আছো’ ?
তুমি বললে, ‘ভালো নেই’।
অবাক হইনি, মনে করেছি;
কড়া কড়া কথা বলা মানে আর কিছু নয়
ভালোলাগার অন্য রকম প্রকাশ।
শরৎ বাবু নিশ্চয় ভুল করেছেন এবার;
না হয় তোমার হৃদয়ে শোনা যেতো না ভিন্ন কোন স্পন্দন
সুপারনোভা হয়ে জ্বলতো না চোখে পুরোনো স্মৃতি।
আমি তো সাদ্দাম নই যে তোমার ভালোবাসার পাত্রকে
নাপাম বোমায় পোড়াবো অথবা জর্জ বুশও আমি নই যে
নিষ্পাপ শিশুদের অবরুদ্ধ শহরে আটকে রাখবো।
আমি একজন বিশ্বস্ত প্রেমিক।
ভালোবাসার জন্য নেলসন ম্যান্ডেলার মতো
কারাগারে ২৮ বছর প্রিয়তমাহীন জীবন আমি কাটাতে পারি।
ভালোবাসার জন্য অষ্টম এডওয়ার্ডের মত
সিংহাসনও আমি ছাড়তে পারি।
এর চেয়ে ভালো- যদি পারো ছুঁড়ে দাও
হৃদয়ের লঞ্চিং প্যাড থেকে টমাহক মিসাইল
বুমেরাঙের আঘাতে চিরে ফেলো আমার বিস্তৃর্ণ বুক।
প্রিয়তমা, আমি তো
তোমাকে খুঁজতে গিয়ে পথ হারিয়েছি।