এভাবেই কি মালা গাঁথা হয় ?
এভাবেই কি নিছক ছেলেমি আর হেঁয়ালী থেকে
জন্ম নেয় দাম্ভিক পুরুষ ?
এভাবেই কি ফুল কুড়োতে-কুড়োতে হাতের মালা
খেলার সাথীর গলায় শোভা পায় ?
তোমাকে ভালোবাসতে গিয়ে আজ সবাই
আমায় করছে তিরস্কার আর উপহাস।
সুবাসিত পাপড়ি আজ কাঁটা হয়ে বিঁধছে বুকে।
তবুও বুকে দারুণ জ্বালা নিয়ে আমি হাসছি ;
পরাজয়ের উল্লাসে কিনা জানি না,
পাঁজরে কাঁটার আঘাত নিয়ে তবুও বলছিঃ
‘হ্যাঁ, আমি ভালো আছি’।অথচ কেউ জানে না
বাইরে যখন লু-হাওয়া বয়ে যায়, তখন
আমার বুকের মধ্যে ঘটে যায় প্রচণ্ড তুষারপাত আর
নিদারুণ গ্রীষ্মে আমি লং-কোট পড়ে বসে থাকি চুপচাপ।
কেনো জানি না তোমাকে দেখলে
ইদানিং ভীষণ চুপসে যাই,
যাবতীয় দুঃখবোধ বুকে নিয়ে
ফেরারী আসামী হয়ে পড়ি। সমুখের দেয়াল দু’টি
নি®প্রাণ আন্দুজ পর্বতমালা হয়ে যায়।
অথচ তুমিও যেনো কেমন
আমাকে দেখলে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়;
যত বলি কাছে এস
কাছে আসার নাম করে ততই তুমি
দূরে দূরে থাকো। মিষ্টি হেসে বল, ‘এইতো আমি’।
অথচ এই আসার নেই কোন মানে।
আজকাল তুমি বড় বেশী লজ্জা পাও।
আমার চোখের তারায় তোমার চোখ পড়লেই
তুমি নিজেকে নিজের মধ্যে লুকাতে গিয়ে
ফিরে আসো নিজের বৃত্তে।
এ কেমন ভালোবাসা বুঝি না।
আমি যখন দূরে থাকি
তখন বল, ‘কেনো এই দূরে সরে থাকা?’
তোমার হৃদয়ের স্পন্দন পড়ে
আমার প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলার অবসরে।
ব্যস্ত হও কখন আসবো কাছে
যদি আসতে ভুলে যাই পাছে।
যখনই কাছে আসি তুমি বল, ‘নেই-নেই।’
তোমার দিকে মুখ তুলে তাকালেই
তুমি মুখ তোল আকাশের দিকে
নক্ষত্রের সংখ্যা গোন।
এ কেমন প্রেম, এ কেমন প্রতীক্ষা Ñ বুঝি না।
যখন হঠাৎ প্রশ্ন করে বসো, ‘আমি তোমার কে ?’
ক্ষণিকের জন্য জবাব দিতে পারি না
মনে মনে ঘেমে উঠি।
অথচ এই সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না সহজে
পারি না বলতে একান্ত অধিকারে,
‘তুমি শুধুই আমার’।