কি ভীষণ দুর্ভাগা দেশ এই বাংলাদেশ
লাশের ভীড়ে চারিদিক গুণে করা যাবে না শেষ।
এখানে শাড়ীর সুদৃশ্য আঁচল
ফাঁস হয়ে ঝুেল থাকে মরিয়মের গলায়।
যৌতুকের আগুন কেরোসিনের শিখা হয়ে দগ্ধ করে
রহিমার শরীর। এখানে ফুটপাতে পাওয়া যায়
ক্ষুধার্ত শরীর, আহত স্বপ্নের দলিল
রাজপথে-ট্রেনে, মিশুকে লাশের মিছিল।
দরোজার বাইরে পা রাখলেই মনে হয়
যেন গোরস্থানে পা রাখছি।
তবে অতো কিছু ভাববার সময় নেই আমার;
এখন সময় হল শুধু একটি লাশ খুঁজে দেখবার।
যে লাশের নাম, গোত্র, বংশ-পরিচয় না হলেও চলবে।
যে লাশ বেয়োনেটের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হলেও চলবে।
যে লাশে মর্গের কাটা দাগ, দুর্গন্ধ থাকলেও চলবে।
কারণ,
একটি লাশ পেলে স্বৈরাচারের পতন ঘটবে।
একটি লাশ পেলে আন্দোলন তুঙ্গে উঠবে।
নেতার নেতৃত্ব সচল হবে
ঘুমন্ত মিছিল আবার বজ্র কণ্ঠে আওয়াজ তুলবে।
একটি লাশ পেলে হরতাল, অবরোধ বৈধ হবে
আরো অনেক টোকাই জীবন দিতে তৈরী হবে।
যদিও এই একটি লাশ পেলে শহীদের সংখ্যা আরো একজন বাড়বে
শহরের মাষ্টার প্ল্যানে উঠে আসবে আরো একটি শহীদ মিনার;
তবুও মনে হয় একটি লাশ পেলে অন্ততঃ একটি মানুষ
শকুনের হাত থেকে রক্ষা পাবে
পরম নিশ্চিন্তে ঘুমুবে নিষিদ্ধ কবরস্থানে।
Leave a comment
