তুমি চলে গেলে।
শূন্য ঘরে পড়ে থাকা
পরিত্যক্ত সুটকেসের মত
অসহ্য যন্ত্রণা বুকে চেপে দেখলাম
তোমার চলে যাওয়া। তুমি নেই
হৃদয়ের কারিওকিতে বেজে চলে কান্নার সেতার।
কারো সাথে আর হয় না অবিরাম কথা বলা।
চোখের মধ্যে আর জ্বলে ওঠে না
ঈর্ষার আগুন ধিকি-ধিকি।
বৈশাখের প্রখর রোদ্দুরে অকস্মাৎ
নেমে আসে না অঝোরে বৃষ্টি।
তুমি নেই, তাই তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে মন,
বোটানিক্যাল গার্ডেনের শীতল অরণ্যে
কারাভান পার্কের নির্জন অন্ধকারে
দূর থেকে ভেসে আসা সমুদ্রের বিষণ্ন গর্জনে
ইউক্যালিপটাস গাছের শরীরে লেখা
অসংখ্য যুগল নামের ভীড়ে কিংবা
মুনা-মুনা ক্রিকের মরচে ধরা জলে।
মনে হয় পুড়ে-পুড়ে নিঃশেষ হচ্ছি আমি
আতস্ বাজির মত। দেউলিয়া হচ্ছি ক্রমাগত
নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া
রাজনীতিবিদ্দের মত।
আজকাল তোমাকে বড্ড মনে পড়ে।
ফেব্র“য়ারীর চৌদ্দ তারিখ আস্লে
আকাশের সব নক্ষত্র খসে পড়ে;
আর বুকের মধ্যে শুরু হয় বেদনার ফায়ার ওয়ার্কস।
ইচ্ছে হয় সিটি কাউন্সিলের বুলডজার দিয়ে
উপড়ে ফেলি এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টার
আর রক্সের সাজানো রেস্তোরাঁ;
সাদা কাফনে মুড়িয়ে দেই সবুজ চত্বর।
ইচ্ছে হয় রাস্তার মোড়ে-মোড়ে
টাঙিয়ে দেই নিষেধনামা।
আর শহরের সবচেয়ে উঁচু দালানের
ছাদে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলি:
এইখানে ডার্লিং হারবারের এই সবুজ চত্বরে,
তুমি যেখানে আমার হাতে হাত রেখে দাঁড়াতে,
সেখানে অন্য কোন প্রেমিক
আর প্রেমিকার হাত ধরে দাঁড়াতে পারবে না।
এইখানে ফেরী টার্মিনালের এই রেলিঙ-এ
যেখানে হাতে ভর দিয়ে তুমি
আমার চোখে চোখ রাখতে, সূর্যাস্ত দেখতে,
অন্য কোন নারী আর কখনই
সেখানে হাত রাখতে পারবে না
সূর্যাস্ত দেখতে পারবে না
কক্খনো পারবে না।
Leave a comment
