মাত্র দুই মাস আগে নিয়োগ পাওয়া চুয়েটের উপাচার্য ড. সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শরিফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার খবরটি শুনে কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবো তার ভাষাই খুঁজে পাচ্ছিলামনা।
ড. সায়েম আমার প্রায় উনিশ বছরের জুনিয়র চুয়েটিয়ান। প্রথমে তাঁর নিয়োগের খবরেও অনেকের মতো আমিও বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ কেবল মেধার নয়, এটি প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বেরও পরীক্ষা। তারপরও ভেবেছিলাম, মেধাবী ও কর্মঠ একজন মানুষ হয়তো নতুন উদ্যমে চুয়েটকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
কিন্তু কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তাঁকে কাজ করার ন্যূনতম সময়টুকুও কি দেওয়া উচিত নয়? যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে সরানো যেতে পারে। সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু কয়েক মাস পরপর উপাচার্য পরিবর্তন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুভ বার্তা হতে পারে না। এটি দাবার বোর্ড নয় যে, হঠাৎ একটি ঘুঁটি সরিয়ে আরেকটি বসিয়ে দেওয়া হবে। এরকম সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবহিকতা, পরিকল্পনা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপক শরিফুল আলমও একজন চুয়েটিয়ান, আমার অনুজ। ব্যক্তিগতভাবে দুজনই আমার কাছে সমান শ্রদ্ধার ও প্রিয়। আজ দেখছি, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হচ্ছে, নতুন উপাচার্যকে তাঁরই প্রিয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা আসছে। এই পরিস্থিতি কার জন্যই বা সুখকর?
ভিসি নিয়োগ নিয়ে কেন ছাত্রদের রাস্তায় নামতে হবে? এ ধরনের অস্থিরতায় কেউ পক্ষে থাকে, কেউ বিপক্ষে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয় ছাত্রদের। সেশনজট বাড়ে, শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হয়। কারণ চেয়ার বদলায়, কিন্তু সময় আর ফিরে আসেনা।
আমি নিজেই এর সাক্ষী। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ‘প্রিন্সিপাল খেদাও’ আন্দোলন এবং পরে কলেজ খোলার আন্দোলনের কারণে জীবনের মূল্যবান ১৮ মাস হারিয়েছিলাম। সেই ক্ষতির প্রভাব পেশাগত জীবনেও বহন করতে হয়েছে।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, চুয়েটকে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’-এর খেলায় পরিণত করবেন না। ব্যক্তির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিন।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Leave a comment
