উন্নত জীবন ও জীবিকার টানে আনুমানিক পঞ্চাশ দশকের গোড়ার দিকে কাতারে বাংলাদেশিদের আগমন ঘটে। তবে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আকর্ষণ ছিল দুবাই। সবাই উপার্জন করার জন্য দুবাই ছুটে যেতে চাইতো। আত্মীয় কিংবা পরিচিত কোনো বন্ধুর আমন্ত্রণে হাতে গোনা কিছু মানুষ আসতো কাতারে। কাতারে আসার জন্য তখন ভিসার কড়াকড়ি তেমন ছিলনা। বাংলাদেশিরা করাচী বন্দর থেকে জাহাজে করে কাতারে আসতেন। কেউ ভিসা নিয়ে আবার কেউ ভিসা ছাড়াই আসতেন।

জাহাজ আল-ওয়াকরার সমুদ্রে নোঙর করতো, অভিবাসন কর্মকর্তারা ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় চেপে জাহাজে এসে পাসপোর্ট নিরীক্ষা করে সিল মেরে দিতেন। অতঃপর যাত্রীরাও নৌকায় চেপে তীরে আসতেন। ভিসাবিহীন যাত্রীরা নানা ধরনের ফন্দি ফিকির করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে কাতারে ঢুকে পড়ত। আবার জাহাজ থেকে সমুদ্রের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে অনেকের পাড়ে আসার ঘটনাও জানা যায়।

কাতারে আসার অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন চট্টগ্রামের মো. ইউসুফ। ষাট দশকের মাঝামাঝির কথা। মো. ইউসুফের পরিচিত দুজন মানুষ জাহাজে করে করাচী থেকে কাতার আসেন। তখন ছিল গ্রীষ্মকাল। জাহাজ থেকে আল-ওয়াকরায় নামার পর মরু আবহাওয়ায় প্রচন্ড গরমে ও পিপাসায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। দোহা শহরে যাওয়ার জন্য তাঁরা একটি টেক্সি ভাড়া করলেন। আলওয়াকরা থেকে দোহার ভাড়া ছিল তখন মাত্র ৩-৪ রিয়াল। তখন বাংলাদেশের মত ফেরি করে রাস্তায় আইসক্রীম ও ঠান্ডা পানীয় বিক্রি হত। কিছুদুর গিয়ে টেক্সিচালক গাড়ী থামিয়ে রাস্তায় একজন ফেরিওয়ালা থেকে তাঁদের ঠান্ডা কোক খেতে দিলেন। দুইটি কোকের দাম ছিল মাত্র ৪ আনা! তখন মুদ্রা হিসাবে কাতারে ভারতীয় রুপির প্রচলিন ছিল। ১৯৬৬ সালে থেকে কাতারি রিয়াল চালু হয়। মরুর বুকে বৃষ্টির মত হঠাৎ করে কোকাকোলার স্বাদ তাঁদের কাছে অমৃতের মত মনে হল। টেক্সিচালককে এজন্য কিভাবে ধন্যবাদ দেবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। সেই কোকের স্বাদ এখনো তাঁদের মুখে লেগে রয়েছে বলে জানালেন, মো. ইউসুফ।

আজকের কাতারী রিয়াল চালু হয়েছে খুব বেশীদিনের কথা নয়। এর আগে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রূপী, গাল্ফ রূপী নামে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশেগুলোতে চালু ছিল। এরপর প্রায় সাত বছর দুবাই এবং কাতার যৌথভাবে রিয়াল বাজারে ছাড়ে। কিন্তু দুবাই আরব আমিরাতে যোগ দেয়ার পর ১৯৭৩ বাজারে আজকের কাতারী রিয়াল চালু হয়।

অর্থের বিনিময়ে অনেকে মাছ ধরার ট্রলারে করেও কাতার সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঢুকে পড়তেন। তবে অনেক সময় ট্রলারের চালক এবং তাঁর সঙ্গীরা যাত্রীদের সাথে প্রতারণা করে ভুল গন্তব্যে নামিয়ে দিত। জীবনের প্রবল ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ বা নৌকায় চড়ে অসংখ্য শরনার্থী এখন ইউরোপ পাড়ি দিচ্ছেন। গভীর সমুদ্রে মর্মান্তিক নৌকা ডুবিতে তাঁদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। অতীতেও এমন বহু ঘটনা ঘটেছে আরব সাগরের বুকে। ট্রলারে চেপে নতুন জীবনের খোঁজে দুবাই যাওয়ার সময়, বহু বাংলাদেশির সলিলসমাধি হয়েছে।

এখন কাতারে সুপেয় পানির শতকরা ৯৯ শতাংশ সমুদ্রের লোনা পানিকে পরিশোধিত করে সরবরাহ করা হয়। আগের দিনে এখনকার মত বোতলজাত কিংবা কাহরামা লাইনের পানি ছিলনা। ভ’গর্ভস্থ ক’প অথবা কুয়াই ছিল দৈনন্দিন ব্যবহার ও খাবারের পানির একমাত্র উৎস। আমাদের দেশের মত প্রতি বাড়ীতেই কুপ খনন করা হত। বড় বড় মসজিদের উঠোনেও ক’য়া থাকতো। তবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু বড় বড় কুয়া ছিল। ঘরের রান্না-বান্না ও ধোয়ামোছার কাজের জন্য ইরানি ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি বালতি হিসাব করে পানি সরবরাহ করতো। ক’য়ার পানি ছিল কিছুটা লবনাক্ত। লবনাক্ত পানিতে ডাল সহজে সিদ্ধ হতোনা। তাই অনেকেই ডাল রান্নার জন্য উম সাইদ থেকে বোতলে করে মিষ্টি পানি নিয়ে আসতো।

কাতার প্রবাসী চট্টগ্রামের মোঃ হারুন, দোহা শহরে চাকুরী নিয়ে আসেন ১৯৮২ সালে। তাঁর কাছ থেকে জানতে পারলাম, আলরাইয়ান, উম্ম সালালার বারজান টাওয়ার এবং আবু বকর মসজিদ ও আলওয়াকরার মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত কাতারের পুরোনো প্রবাসীদের কাছে সুপরিচিত তিনটি কুয়ার কথা। দুহাইল পার্ক সহ দোহা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু পুরোনো কূপ এখনো সংরক্ষিত আছে।

যাইদা ফ্লাই ওভারের কাছে ফিরিজি বিন মাহমুদ এলাকায় ছিল আমির সিনেমা হলএ ছাদবিহীন সিনেমা হলে দর্শকদের বসার জন্য কোনো আসন ছিলনা। সাদা দেয়ালে প্রজেক্টর দিয়ে সিনেমা দেখানো হত। সত্তর দশকের শেষের দিকে কাতারের বাড়ী ঘরে টেলিভিশন ও এসির প্রচলন হয়। টেলিভিশন আসার আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমির সিনেমা হলে ভারতীয়, পাঞ্জাবী ও ইরানী ছায়াছবি দেখাই ছিল বিশাল বিনোদন। একবার বৃষ্টির সময় ছাতি ধরে সিনেমা দেখেছিলেন বলে হাসতে হাসতে বললেন আরেকজন প্রবীন বাংলাদেশি। পকেটে টাকা না থাকলে বাকীতে সিনেমা দেখে পরে টিকিটের টাকা দিয়ে দিলেও চলত।

এখন কাতারে গাড়ী-বাড়ী সবখানে এসির শীতল পরশ থাকার পরও গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অতিষ্ট হয়ে হাপিত্যেশ করেন সবাই। এসিবিহীন কাতারের মরুর বুকে সাধারণ নিম্নবিত্ত প্রবাসীরা তখন কিভাবে দিন কাটাতো, ভাবলেই অস্থির মনে হয়। তখন ছিলনা আজকের কর্নিশ। পুরেনো সালতা পাকের্র গা ঘেঁষে ছিল সমুদ্র। সেই সমুদ্র ভরাট করে এখন হয়েছে ইসলামিক আর্ট মিউজিয়াম পার্ক। গরম অসহনীয় হলে অনেকে পুরোনো সালাতা এলাকার সমুদ্র পাড়ে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বসে থাকতেন। কেউবা আবার বাড়ীর ছাদে গিয়ে উন্মুক্ত আকাশে ঘুমাতেন।

সত্তর দশকের মাঝামাঝি মুশাইরিব এলাকায় ন্যাশনাল কোম্পানীর একটি শোরুম খোলা হয়। এর স্বত্ত্বাধীকারি ছিলেন নাসির বিন আব্দুল্লাহ এন্ড মোহাম্মদ সিদ্দিকুর ট্রেডিং কোম্পানী। ধীরে ধীরে এই শোরুম ঘিরে বাংলাদেশি রেস্তরা, গ্রোসারী ও অন্যান্য দোকানপাট গড়ে উঠতে থাকে। এভাবে একসময় শোরুম সংলগ্ন এলাকা প্রবাসী কমিউনিটির কাছে “ন্যাশনাল” বা কাতারের ‘বাঙলা টাউন” হিসাবে পরিচিতি পায়।
আজ যারা কাতারে নতুন আসছেন, তাঁরা অধুনালুপ্ত ন্যাশনালের কথা বললে হয়তো অজানা বিস্ময়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাবেন। বলবেন, এটা অবার কি? দানবাকৃতির বুলডোজারের ঘায়ে বাঙালির প্রানের ঠিকানা ন্যাশনাল ভেঙ্গে এখন গড়ে উঠছে আধুনিক মুশাইরিব ডাইনটাউন। এখন যেখানে বিশাল মুশাইরিব মেট্রো স্টেশন নির্মিত হয়েছে ঠিক সেখানেই ছিল ন্যাশনাল এলাকা, সোফিটেল এবং আরব এক্সচেঞ্জ হচ্ছে পূর্বদিকের সীমানা।

কিন্তু একসময় কাতারের প্রবাসী বাংলাদেশিদের একমাত্র ঠিকানা ছিল মুশাইরিবের এই ন্যাশনাল এলাকা। বেলা শেষে কিংবা ছুটির দিনে ওই এলাকা বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হত, চলত খবরা-খবর ও ভাবের আদান-প্রদান। ন্যাশনাল শোরুম হবার আগে ওই এলাকায় একটি বিশাল জেনারেটর ছিল। তখন দোহা শহরতলী বলতে মুশাইরিব এলাকাকেই বোঝাতো। এই জেনারেটর দিয়ে দোহা শহরতলীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হত। জেনারেটর থাকার কারণে মুশাইরব এলাকাকে “পাওয়ার হাউস” বলা হত।

সোফিটেলের পেছনে রয়েছে গোল্ডেন ফর্ক রেস্তোরাঁ এবং দোহা প্যালেস হোটেল। এ দুটো স্থাপনা এখন কেবলই স্মৃতি। আগে বাংলাদেশিদের ছোটো-বড় প্রায় সব অনুষ্ঠানই এখানে হত। এখন ওই এলাকায় নির্মান কাজের ধূম পড়ে গেছে। গোল্ডেন ফর্ক আসগালের দেয়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বন্দী। দোহা প্যালেস হোটেলের নামের ফলক থেকে কিছু অক্ষর খসে পড়েছে। অচিরেই মুশাইরিব সিটির আগ্রাসী থাবা বিলান করে দেবে সব।

সেদিন ওই এলাকায় হাঁটতে গিয়ে একটি মজার ঘটনা মনে পড়ে গেলো। কাতারে এসেছি খুব বেশিদিন হয়নি। একজন বন্ধুর পীড়াপিড়িতে দোহা প্যালেস হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে গেলাম। অনুষ্ঠান শুরু হতে হতে রাত দশটা বেজে গেলো। শুক্রবার রাত। হল ভর্তি মানুষ। নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা চলছেতো চলছেই। রাত বারোটা বাজতে চললো তখনও দেখি বেশ কয়েকজন বক্তা বাকি। খিদেয় পেট চো চো করছিল। আমি বসেছিলাম প্রথম সারিতে। হঠাৎ পেছন ফিরে দেখি পেছনের সারিতে বসা অর্ধেকের চেয়েও বেশী মানুষ উধাও।

কোথায় গেলো সব? দেখলাম পেছনের হল রুমে খাবার আসার সাথে সাথে আয়োজকদের আমন্ত্রণের অপেক্ষা না করেই সবাই রীতিমত ঝাপিয়ে পড়েছে খাবারের টেবিলে। আমার বন্ধুটি বললেন, চলুন খাবার নিয়ে নেই। যেয়ে দেখি, সে এক ইলাহি কারবার। বড় বড় থালাতে দেয়া হয়েছে বিরানী। কিন্তু থালার কাছে যাবার কোনো পথ নেই। পঙ্গপালের মতো খাবারের থালা ঘিরে রেখেছে মানুষের ঝাক। কার আগে কে নেবে, সে নিয়ে চলছে প্রতিযোগীতা। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ভিড় কমে আসলে কাছে গিয়ে গিয়ে দেখি টেবিলে পড়ে আছে কেবল শুন্য থালা। পরে ন্যাশনালের ঢাকা রেস্টুরেন্টে গিয়ে দু’জনে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। এ নিয়ে দু’জনে অনকেক্ষন হাসা হাসি করলাম। বন্ধুটিকে বললাম, এবার কোনো অনুষ্ঠানে গেলে আর সামনের সারিতে বসছিনা।

তবে ন্যাশনাল জমে উঠার আগে সুক ওয়াকিফের ঐতিহাসিক “বিসমল্লিাহ” হোটেল ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাতিঘর। দেশের খবরাখবর নেয়া, ও অন্যদের সাথে দেখা সাক্ষাতের জন্য সবাই বিসমিল্লাহ হোটেলে ভীড় জমাতেন। দেশ থেকে কাতারে আসার পর পরিচিত কারো দেখা না পেলে সবাই বিসমিল্লাহ হোটেলে গিয়েই উঠতেন। বিসমিল্লাহ হোটেলর মালিক ছিলেন একজন ভারতীয়। তিনি একজন খুবই পরোপকারী এবং হৃদয়বান ব্যক্তি ছিলেন। টাকার জন্য কাউকে জোর-জবরদস্তি করতেন না। কাতারের আসার পর অনেকেই চাকুরী না পাওয়া পর্যন্ত দিনের পর দিন বিসমিল্লাহ হোটেলে থাকতেন। থাকা ও খাওয়া-দাওয়ার খরচ বাকীর খাতায় লিখে রাখা হত। চাকুরী পেলে কিংবা সামর্থ্য হলে সবাই বাকীর টাকা পরিশোধ করে দিতেন। তখন হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হতো। আর চিঠি ছিল স্বদেশের সাথে একমাত্র সেতুবন্ধন। সচরাচর বিভিন্ন গ্রোসরী দোকানে রাখা ডাক বাক্স থেকেই সবাই নিজের চিঠি যোগাড় করে নিতেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের “বাঙালি কমিউনিটি” নামে কেবল একটি সামাজিক সংগঠন ছিল। যদিও সংগঠনের সংখ্যা বেড়ে এখন পঞ্চোশর্ধ। সেই বাঙালি কমিউনিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে জনাব ইয়াকুব খান ও মৌলবী মোমেন। একাত্তরের পরে নাম বদলে সংগঠনটি বাংলাদেশ কমিউনিটিতে পরিনত হয়। এছাড়া কাতারের আরেকটি সবচেয়ে পুরোনো সংগঠন হচ্ছে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত “নিখিল বঙ্গবন্ধু পরিষদ”। ১৯৯০ সালে নিখিল শব্দটি বাদ দিয়ে কেবল “বঙ্গবন্ধু পরিষদ” নামে সংগঠনটির কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়। যার সভাপতি ছিলেন ব্যাংকার জনাব সাইফুদ্দিন খালেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল বশর।

আগের দিনে দেশ থেকে কেউ আসলে সবাই সদলবলে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা করতে যেতো। সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ও মুঠোফোন বিহীন সেই যুগে, ফেলে আসা প্রিয়জন ও স্বদেশের খবর জানার জন্য উদগ্রীব, সবাই ছুুটে যেতো কাতারে আগত নবাগত অতিথির কাছে। কেউ আর্থিক সমস্যায় থাকলে তখনই সবাই যতটুকু সম্ভব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো। কাতারে এসে চাকুরী না পেলে, যেভাবেই হোক কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দিতো কেউ না কেউ।

মো. ইউসুফ আক্ষেপের সুরে বললেন, আর এখন ? সবাই কেমন যেনো বদলে গেছে, পর হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে আগের মতো আর ভালোবাসা নাই। দুঃখ জাগানিয়া নষ্টালজিক স্মৃতির জাবর কাটতে গিয়ে মনে হল ভদ্রলোক হারিয়ে যাচ্ছিলেন অতীতের মেঘলা ধূসর প্রহরে। তাঁর দৃষ্টির সীমান্তে দেখতে পেলাম উদাসী বনের ছায়া। আর চোখের তারায় চিক চিক করছিল নিখোঁজ সুখস্বপ্ন ফিরে পাবার আকুতি। দু’চোখের কোনে ভর করে থাকা সূক্ষ জলের কণা গাল বেয়ে পড়বে কি পড়বে না, সেই ভেবে যখন দিশেহারা; ঠিক তখনই আমাদের অদূরে বসে থাকা একজন প্রবাসীর মুঠোফোনে বেজে উঠলো একটি খুবই প্রিয় গানের সুর – “আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম আমরা ..আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”।

১২ জানুয়ারী, ২০১৭