কাতার প্রবাসীদের মন ভালো নেই। আকস্মিক বজ্রপাতের মতো গত ৫ই মে কাতারকে নতজানু করার জন্য যেভাবে অবরোধ আরোপ করা হল তাতে হতবাক সবাই। জল, স্থল, অন্তরীক্ষে এখন অবরুদ্ধ কাতার। এই অবরোধ আরোপ করেছে আর কেউ নয়, কাতারেরই প্রতিবেশী দেশ – সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও মিসর। মুখের ভাষা, পোশাক, সংস্কৃতি, পারিবারিক ও গোত্রীয় সূত্রে এরা সবাই এক অন্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। স্বভাবতইঃ বেশ কিছুদিন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের ফোন পাচ্ছিলাম। সবার উদ্বিগ্ন প্রশ্ন, কেমন আছে কাতার? কেমন আছি আমরা?
খ্যাপা ট্রাম্পের আর্শীবাদ নিয়ে সৌদি জোট ভেবেছিলো অবরুদ্ধ করার ক’দিনের মধ্যে ভেঙ্গে পড়বে পুচকো দেশ কাতার আর আমীরের প্রসাদে ঘটবে ক্ষমতার পট পরিবর্তন। এও শুনেছি কাতার প্রবেশের উদ্দেশ্যে সীমান্তে প্রস্তুত ছিল সৌদি বাহিনী। কিন্তু বিধাতার দয়ায় তেমনটা হয়নি। কাতারে তুরস্কের অগ্নিবীর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত সৌদি জোটের আশার গুড়ে বালি ঢেলে দেয়। দেশের চরম দুঃসময়ে অবিচল থেকে বয়স এবং রাজনীতিতে আপেক্ষাকৃত নবীন আমীর শেখ তামিম যেভাবে সঙ্কটের মোকাবেলা করেছেন তা বিশ্বে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
এখন দেশপ্রেমের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে কাতারে। সৌদি পণ্য বর্জন করে সবাই কিনছেন কাতারী পণ্য-সামগ্রী। বড় বড় দালান, গাড়ীর জানালায় আমীরের পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাজধানী দোহা। প্রবাসী এবং কাতারের স্থানীয় জনতা একাত্ম হয়ে প্রকাশ করছেন কাতারের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাসানো হয়েছে বিশাল বিলবোর্ড যাতে কাতারের স্থানীয় এবং প্রবাসী জনগন দলবেধে কাতারের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা লিখছেন। আমার ছোটো মেয়ে সোফিয়াও লিখল বাংলাদেশ সাপোর্ট কাতার।
অবরোধ আরোপ করা হয়েছে প্রায় দু’মাস হতে চললো। এক কথায় বলা যায় আমরা সবাই এখন ভালোই আছি। তবে অবরোধ আরোপের ঠিক পর পর কাতারে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ঢেউ বয়ে যায়। অবরোধ আরোপের দু’সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইন থেকে কাতারী নাগরিকদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু দেখা গেলো দু’সপ্তাহ অপেক্ষা না করে এই নির্দেশ জারীর পরপরই অনেক কাতারীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এমনকি বিমান বন্দরে পাঠানোর আগে তাদেরকে নিজ পরিবারের সাথে মিলিত হবারও সুযোগ দেয়া হয়নি। এই নির্মমতার শিকার হয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে পরিবার, মা বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সন্তান। যা শুনে মর্মাহত হয়েছি।
অন্যদিকে ওমরা পরলনরত কাতারীদের পবিত্র হারাম শরীফ থেকে বহিস্কার করার মত মর্মান্তিক ঘটনার কথাও শোনা যায়। সীমান্তের ওপারে সৌদি আরবের খামারে পালিত কাতারের নিরীহ পশু উট-ভেড়াও রক্ষা পায়নি এই নির্মমতা থেকে। খামার থেকে বিতাড়িত হয়ে পানি ও খাদ্যাভাবে প্রান হারিয়েছে হাজারো পশু। কাতারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ইমামদেরও ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি গ্রান্ড মুফতি শেখ অব্দুল আজিজ এই অবরোধ বৈধ বলে দিয়েছেন ফতোয়া। একটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে পবিত্র রমজান মাসে দেয়া অবরোধের বৈধতার স্বপেক্ষে কুরআন ও হাদিসের দলিল দেয়ার জন্য কাতারের গ্রান্ড মুফতি সৌদির শেখ আব্দুল আজিজকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন মুসলিম দেশকে অর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এবং হজ্জ্ব কোটা কমিয়ে দেবার ভয় দেখিয়েও কাতারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে সৌদি জোট সফল হতে পারেনি।
সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইনের প্রায় এগারো হাজার নাগরিক বসবাস করছে কাতারে। তাদের অনেকেই কাতারী নাগরিকদের সাথে আত্মীয়তার সূত্রে আবদ্ধ। কাতারের মাটিতে নিজ পরিবার, ব্যবসা-বানিজ্য সবকিছ’ ফেলে রেখে এখন তাদের ফিরে যেতে হবে নিজ নিজ দেশে। এমন একটি পরিবারের কথা জানি যাদের মা হলেন কাতারী আর বাবা হলেন বাহরাইনী। তাদের রয়েছে দু’টি সন্তান। এই অঞ্চলের নিয়ম অনুযায়ী তাদের সন্তান বাবা যে দেশের নাগরিক সেই দেশেরই নাগরিকত্ব পাবে। তাই বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে তারা বাহরাইনে ফিরে না গেলে তাদের নাগরিকত্ব হারাবে। আর লক্ষ লক্ষ মিসরীদের কথা নাইবা বললাম। কাতার মানবাধিকার কমিশনে প্রতিদিন এ ধরনের শত শত অভিযোগ আসছে। বিশ্বের অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও এই বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের মুখপাত্র।
স্থলপথে কাতারে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে দক্ষিণের সৌদি সীমান্ত। সেই পথ বন্ধ করে দেয়ায় নিত্যপয়োজনীয় খাদ্যবাহী শত শত ট্রাক কাতারে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে খাদ্য সঙ্কটে হতে পারে সেই দুশ্চিন্তায় খাবার মজুদ করে রাখার জন্য অবরোধের প্রথত দিখে অনেকেই সুপার মার্কেটে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। সেদিন সুপার মার্কেটে যেয়ে দেখি এক ভদ্রলোক ট্রলি ভর্তি করে কিনেছেন তিন ব্যাগ চাক্কি আটা, দশ ব্যাগ চাল, তিন প্যাক লং-লাইফ দুধ সহ অন্যান্য অনেক সামগ্রী। আমাকে দেখে মুখে স্বস্তির হাসি ঝুলিয়ে তিনি বললেন, ভাই এক মাসের জন্য আর কোনো চিন্তা নেই। আমেরিকান ডলার কেনারও হিড়িক পড়ে গিয়েছিলো কিছুদিন। তড়িৎ গড়িতে খাদ্য সরবরাহের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে বের করে, স্টক মার্কেট ও ব্যাংকিং খাতে অর্থ ঢেলে পরিস্থিতি এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রনে আনতে সফল হয়েছেন সরকার।
কাতারের দক্ষিণে সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলে কি হবে? উত্তরে খুলে গেছে সম্ভাবনার দ্বার। এই অঞ্চলের দুই পরা শক্তি তুরস্ক ও ইরান দুঃসময়ের বন্ধুর হয়ে কাতারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কার্গো বিমানে করে আসছে খাদ্য সামগ্রীর চালান। এদিকে ইরানও বসে নেই। তুরস্কের পর পরই কার্গো বিমানে করে ইরানী খাদ্যের চালানও পৌছে গেছে কাতার। কাতারের উত্তরে আরব উপসাগরের ওই পারে হল ইরানের শিরাজী বন্দর। এই বন্দর থেকে জাহাজে করে আসছে বাকী পন্যের চালান। দোহা বন্দরে নোঙর করতে জাহাজের লাগবে মাত্র ১২ ঘন্টা।
সৌদি মালিকানাধীন আলমরাই সহ অন্যান্য বেশ কিছু কোম্পানী আগে অধিকাংশ খাদ্যপন্য সরবরাহ করতো। এখন তাদের স্থান দখল করে নিচ্ছে তুরস্ক ও ইরানের কোম্পানী। সুপারমার্কেটের তাকে সাজিয়ে রাখা তুরস্কের পন্যের সাথে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে গেছে। সোস্যাল মিডিয়ায় অনেকে শেয়ার করছেন তার্কিশ ভাষায় বিভিন্ন পন্যের নামের তালিকা। ফলে চট্-জলদি তুরস্কের ভাষা শেখারও একটা সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে।
তুরস্ক থেকে খাদ্য আসছে জেনে আবরোধকারী দেশের একজন মন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেছেন, একটি আরব দেশ হয়েও কাতার অনারবদের সাহায্য নিচ্ছে। আরব, অনারব, সাদা কালো সব মুসলিমই হল একটি উম্মাহর অংশ। এই হচ্ছে ইসলামের শ্বাশত বানী যা আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে মহানবী (সাঃ)’র পবিত্র মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছিল। আজ মনে হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর সংজ্ঞা নতুন করে শিখতে হবে তাদের কাছে যারা একটি মুসলিম দেশকে নতজানু করার জন্য পবিত্র রমজান মাসের তোয়াক্কা না করে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
সুপার মার্কেটের সেলফে দেখলাম অস্ট্রেলিয়ার আলু ও কমলা সহ বিভিন্ন দেশের খাদ্যপন্য, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। দুবাই এবং সারজা বন্দর ব্যবহার করতে না দেয়ায় কাতারমুখী যাবতীয় পন্য এখন ওমানের বন্দর ঘুরে আসছে। ফলে কিছু কিছু খাদ্র সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। এজন্য মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের নির্মান শ্রমিকরা কিছুটা সঙ্কটে রয়েছেন। দুবাই ও সৌদি আরব থেকে গার্মেন্টস, স্পেয়ার পার্টসের মতো আমদানী নির্ভর বাংলাদেশী পন্য ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। তাদের অনেকেই এখন বিকল্প ব্যবসায়ের কথা ভাবছেন। সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন ও মিসরের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার এয়ারওয়েজের অনেক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে আবার বহু ফ্লাইটকে ওমান ঘুরে যেতে হচ্ছে। এজন্য বেশ কিছ’ গন্তব্যে যাবার সময় অনেক বেড়ে গেছে। এবার সিডনী যাবার পথে তাই দেখলাম।
আজকের এই অবরোধ কাতারের জন্য মুখোশের অন্তরালে আর্শীবাদ বয়ে আনবে বলে আমার ধারনা। কাতার আগের মত প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বনির্ভর হবার জন্য কাতার এখন আটঘাট বেধে নেমেছে। দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে চার হাজার গরু উড়িয়ে আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাতারের নিজস্ব খামারে উৎপাদিত দুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষিকাজ করার জন্য অষ্ট্রেলিয়ায় দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার হেক্টর জমি ক্রয় করেছে কাতার। এছাড়া আমেরিকা, ইউক্রেন ও ইউরোপের কৃষিখাতেও কাতার বিনিয়োগের কথা ভাবছে। সরকার কৃষিখাতে উৎপাদন বাড়িয়ে স্বনির্ভর হতে সচেষ্ট হয়েছেন এবং এজন্য সরকারী সহায়তা দেয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন।
এতো কিছুর পরও কাতার উদারতা ও মানবতার পথ থেকে সরে আসেনি। সৌদি জোটের কোনো নাগরিককে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করেনি কাতার। তারা সবাই কাতারে আগের মতোই আছে। কাতারে সৌদি আরব কিংবা আমিরাতের কোনো মিডিয়া চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করা হয়নি। কাতারে সরবরাহকৃত সব ধরনের বানিজ্যিক চালান বন্ধ করে দেয়া হলেও কাতার সৌাদি জোটের কোনো দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়নি। এজন্য আরব সহ সমগ্র বিশ্বের সাধারন মানুষের স্বতঃস্ফ’র্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে কাতার।
আমার পরিচিত বেশ কিছু প্রবাসী আরবদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানতে পেরেছি এই ভালোবাসার কথা। তাদের মতে আরব দেশেগুলোর ৯০ শতাংশ আম-জনতা কাতারের পক্ষে। কাতারকে অন্যায়ভাবে কোনঠাঁসা করার বিপক্ষে। ধীরে ধীরে যতই দিন যাচ্ছে, সৌদি জোটের এই অবরোধের মূল উদ্দেশ্য খোলাসা হয়ে আসছে। কাতারের গ্যাস সম্পদের উপর কর্তৃত্ব নেয়া এবং আরব দেশগুলোর মোড়ল হবার স্বপ্নই মনে হচ্ছে জোটের হেভিওয়েট সদস্য সৌদি আরবকে এই হিংসাত্মক পথে নিয়ে এসেছে।
কাতারের উত্তরে পরস্য উপসাগরের নীচে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস ভান্ডার। যার এক তৃতিয়াংশের মালিক হচ্ছে ইরান। এই বিশাল গ্যাসক্ষেত্র থেকে কাতার ও ইরান, ভাগাভাগি করে গ্যাস উত্তোলন করে। তাই ইরানের সাথে কাতার বরাবরই সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী। ইয়ামেনের যুদ্ধ, বাজারে তেলের অবমূল্যায়নের কারনে সৌদি আরব এখন মরিয়া হয়ে বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজছে। সৌদি আরব চায় কাতার ইরানের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ুক যাতে কাতারের গ্যাস সম্পদের দখল নিতে পারে। বেশ কিছুদিন ধরে সিরিয়ার মধ্য দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন টেনে ইউরোপের বাজারে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে কাতার। গ্যাস পাইপলাইন যাতে সৌদি ভুখন্ড দিয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করতে চায় সৌদি আরব যাতে গ্যাস সরবরাহের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্টের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কাতারের আমীরের ভ’য়া বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে বলে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। রিপোর্টে আরব আমিরাত এই হ্যাকিংয়ের আয়োজন করেছিলো বলে দাবী করা হয়। ফলে যে অজুহাতে কাতারের উপর অন্যায় অবরোধ চাপানো হয়েছিল তার বৈধতা তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়েছে। যার পরিনতিতে সৌদি জোট ১৩টি শর্ত থেকে সরে এসে কেবল ছয়টি মুলমন্ত্র মেনে চলার জন্য কাতারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তাদের এই সরে আসা এবং মূলমন্ত্র মেনে চলার জন্য কাতারের প্রতি রীতিমত আকুতির মধ্য দিয়ে কাতারেরই কূটনৈতিক এবং দৃঢ়তারই বিজয় হয়েছে।
১২ জুন, ২০১৭
