অবস্থাপন্ন প্রায় সব কাতারীদের শহর থেকে দুরে এক বা একাধিক খামার বাড়ী রয়েছে। বড় এলাকা জুড়ে এই সব খামার বাড়ীর প্রবেশ মুখে থাকে প্রাসাদ কিংবা জমিদার বাড়ীর আদলে তৈরী বিশাল তোরণ।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা সময় পেলেই ওরা পরিবার পরিজন নিয়ে খামার বাড়ীতে ছুটে যায়। খামারে মনোরম বাড়ীঘর ছাড়াও রয়েছে বেদুইনদের ঐতিহ্যবাহী তাবু। প্রাচুর্য ও সম্পদের মধ্যে বেড়ে ওঠা কাতারী ছেলে মেয়েদের মরুর বেদুইন জীবনের স্বাদ দেয়ার জন্য তাবুতে পুরো পরিবার নিয়ে সময় কাটায়, বন্য প্রানী শিকার করে। এ যেন কাতারীদের শেকড়ে ফিরে যাওয়া।

সব্জি বাগান, মৎস খামার, গবাদি পশু যেমন উট, গরু, ছাগল, মুরগীর খামার, কি নেই এখানে? অনেকে বিভিন্ন পশু-পক্ষী, দুষ্প্রাপ্য জন্তু এমনি কি বাঘ, হরিণ ইত্যাদি বিদেশ থেকে এনে খামারের একটি অংশে গড়ে তুলেছে রীতিমত চিড়িয়া খানা। কোরবানীর সময় এই ধরনের খামারবাড়ী থেকে প্রবাসীরা গরু, কিংবা খাসী কিনে থাকে। এই সব খামারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য কাজ করছে বহু কর্মী। যাদের অধিকাংশই হলেন বাংলাদেশি।

কিছুদিন আগে কাতারের একটি সব্জি খামারে বেশ কিছু বাংলাদেশি পরিবারের সাথে বনভোজন করতে গিয়েছিলাম। খামারটি দোহা শহরের আনুমানিক ৫৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বাঞ্চলের আল-খোর এলাকায় ।

কাতারের দীর্ঘ মরুর রাস্তা পেরিয়ে খামারে ঢুকেই সবুজের সমারোহ দেখে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে মনটা ভরে গেল। মনে হল যেনো গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথে পা রেখেছি।

বিবর্ণ মরুভ’মির মধ্যে এমন সবুজে ভরপুর উদ্যান থাকতে পারে তা চোখে না দেখলে আবিশ্বাস্য মনে হবে। লাউ, পটল, ঢেরস, লাল শাক, করলা, পটল সহ বাংলাদেশি প্রায় সব ধরণের বাংলাদেশি শাক-সব্জির চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রীন হাউস ও উন্মুক্ত মাঠেও চাষাবাদ করা হচ্ছে।

কাতারী কফিলের অধীনে কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এই খামারটি পরিচালনা করছেন। এই খামারে কর্মরত অর্ধিকাংশ শ্রমিক হল বাংলাদেশি। কাতারী মালিককে খামারের বাড়া দিতে হয় মাসে ৭০ হাজার রিয়াল (প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা)। খামারে উৎপন্ন শাক-সব্জি বাজারে বিক্রি করে ভাড়া, ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে মোটামুটি ভালই করছেন বলে জানালের খামারের বাংলাদেশি মালিক। কাতার জুড়ে নাকি ছড়িয়ে আছে এমন বহু খামার।

 

১ নভেম্বর ২০১৯