কাতারে বসবাসরত প্রবাসীরা এখন জমির নিষ্কন্টক মালিক হতে পারবেন। কাতারী আইন ১৬ (২০১৮) অনুযায়ী, কাতারের ১০টি নির্দিষ্ট এলাকায় তারা জমি কিনতে পারবেন। এছাড়া আরো ১৬টি এলাকায় ব্যবসা-বানিজ্য করার জন্য দোকান, অফিস এবং থাকার জন্য ফø্যাট কিংবা ভিলা ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নিতে পারবেন। ওয়েষ্ট বে, দাফনা, পার্ল, আলখোর, আলওয়াসেইলের মতো এলাকায় জমি কেনা যাবে। আর মুশাইরিব, ফিরিজ আব্দুল আজিজ, বিন মাহমুদ, নাজমা, গানিম, মুগোলিনা, আলসাদের মতো শহরের পুরোনো এবং ব্যবস্ততম এলাকায় ইজারা নেওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এটা প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে। তারা আগের চেয়ে অনেক বেশী আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাতারের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন এবং কাতারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত হবেন।

প্রবাসী নাগরিকেরা যদি সর্বনিম্ন ২ লাখ ডলার মূল্যের আবাসন ক্রয় করেন, তাহলে যতদিন মালিকানা থাকবে তত দিনের জন্য তাদের স্থায়ী রেসিডেন্সি কার্ড দেয়া হবে। অন্যান্য প্রবাসীদের পাঁচ বছর মেয়াদী হারে রেসিডেন্সি কার্ড দেওয়া হবে। জমি না কিনে বা ইজারা না নিয়েও প্রবাসীরা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য রেসিডেন্সি পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন, আবেদনকারী যদি সরকারী কর্র্মচারী হন, তাহলে তাঁর নূন্যতম মূল বেতন হতে হবে ২০ হাজার কাতারী রিয়াল। আর বেসরকারী খাতে যারা চাকুরী করছেন তাদের নূন্যতম মোট বেতন ৩০ হাজার কাতারি রিয়াল হতে হবে। এর ফলে অনেক প্রবাসী নাগিরক কাতারে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পাবেন।

এদিকে যারা মূলধন বিনিয়োগ করতে চান তাদেরকেও কাতারে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তবে এজন্য ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া কাতারে জন্মগ্রহনকারী প্রবাসী যারা সামরিক বাহিনীতে কাজ করছেন কিংবা যারা কাতারে ৫০ বছরের বেশী সময় ধরে বসবাস করছেন, তাদের জন্য ওপরের শর্তগুলো প্রযোজ্য হবে না।

আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানির এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত প্রবাসীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদেরও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা এখন অনেক স্বত্বির সাথে ব্যবসা-বানিজ্য করতে পারবে। প্রবাসীদের কাতারে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ দেওয়ার পলে কাতারের অর্থনীতিকে যে আরও চাঙ্গা করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

৪ এপ্রিল, ২০১৯