খয়েরী রংয়ের জীর্ণ মাফলার গলায় পেচিয়ে নিলেন
মৌলবী সাহেব। বার কয়েক কেশে নিয়ে অতঃপর
বললেন, ‘কবুল’ বল মা বল, ‘কবুল’।
নতজানু চর্চিত মুখ আরো ঝুঁকে পঁড়েছিল তোমার।
তিন জোড়া শানিত চোখের সমুখে ঝল্সে উঠছিলে তুমি।
কী এক ভীষণ মৌনতায় ঘিরে ছিল চারপাশ,
রায় ঘোষণার ঠিক আগে পিন পতন নিরবতায়
আচ্ছন্ন থাকে আদালতের কক্ষ যেমন।
হঠাৎ মনে হল তোমার গোলাবী ঠোট যেন কেঁপে কেঁপে উঠলো ক’বার।
সেই থেকে, সেই বিশেষ ক্ষণ থেকে তুমি হলে আমার।
বৃত্তাকার আয়নায় তোমার মুখ দেখে মনে হল
ভালবাসতে হলে চোখে চোখ রাখতে হয়না,
শব্দ করে বলতে হয়না ‘ভালোবাসি’।
কারণ মুখ থেকে বার হওয়া
সব কথাইতো আর সত্যি হয়না।
‘কবুল’, তিন অক্ষরের একটি শব্দ;
এই একটি শব্দ দিয়ে জীবনের সাথে গাঁথা হল জীবন।
মনের সাথে গাঁথা হল মন, নিঃশ্বাসে জুড়ে গেল বিশ্বাস।
তুমি ছিলে এতো কাছে অথচ তোমাকে খুঁজে ফিরেছি
আবাসিক দালানের বেলকনিতে, কখনো বিপনি বিতান,
মিনি সুপার মার্কেটের জনারণ্যে কিংবা
মেডিক্যাল কলেজের করিডোরে।
অদৃষ্ট আর গায়েবী মোজেজায় বিশ্বাস করিনি কখনো।
বিস্মিত হতাম, ভেবে যীশুর কোমল ফুৎকারে নিহত কবুতর
ডানা মেলে কেমন করে উড়ে যেতো আকাশে কিংবা
আবাবীল পাখীর ছুঁড়ে দেয়া কংকর কিভাবে
কুপোকাৎ করেছিল আব্রাহা-র বিশাল হস্তীবহর।
নেপোলিয়ান নাকি হাত কেটে লিখেছিলেন নিজের ভাগ্য লিখন।
অথচ যেদিন তোমাকে পেলাম মনে হল
ভাগ্যের কাছেই সমর্পিত হলাম আমি।
সেই থেকে তোমাকে ছাড়া আমি অন্য কিছু বুঝিনি
তোমাকে ছেড়ে অন্য কোথাও ঈশ্বরের মানে খুঁজিনি।
যদি তুমি বল উড়িয়ে দিতে পারি বিশ্বের আছে যত যুদ্ধযান
যদি তুমি বল নিষ্ঠুর দানবের হিংস্র থাবা থেকে
ছিনিয়ে আনতে পারি প্যালেষ্টাইন।
যদি বল নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ধাবমান ট্রাকের নীচে
পেতে দিতে পারি আমার এ বুক।
যদি চাও প্রশান্ত মহাসাগরের তল থেকে
কুঁড়িয়ে আনতে পারি টাইটানিকের কোন হারানো ঝিনুক।
পেয়েছি তোমায় খুঁজে পাওয়া না পাওয়ার মাঝে
বন্ধু আমার অনুপমা।
কথা দাও থাকবে হৃদয়টা ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কথা দাও থাকবে জীবনটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে
হে আমার প্রিয়তমা।
Leave a comment
