ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ওভাল মাঠ। বাইশ গজের ঠিক মাঝখানে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। গ্যালারিজুড়ে পিনপতন নীরবতা আর টানটান উত্তেজনা। মাত্র ৪টি রান! তাতেই ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারের গড় রান স্পর্শ করবে ঠিক ১০০। কিন্তু প্রকৃতি হয়তো চায়নি কোনো মরণশীল মানুষের কীর্তি শতভাগ নিখুঁত হোক। তাই তো শূন্য রানেই ফিরতে হলো তাঁকে। ৯৯.৯৪ গড়ে থেমে গেল এক মহাকাব্য, যার ধারেকাছে আজও পৌঁছাতে পারেনি আর কোনো মানব সন্তান। আধুনিক ক্রিকেটের সেরা ক্রিকেটারদের গড় ৬০-এর ঘরে এসে থমকে গেছে!
গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। সিডনির কোলাহল ছেড়ে মাত্র দেড় ঘণ্টার পথ পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম সেই কিংবদন্তির শৈশবের চারণভূমি ‘বোরাল’ (Bowral) শহরে। এই শান্ত শহরেই হয়েছিল ডনের ক্রিকেটের হাতেখড়ি। সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘ব্র্যাডম্যান মিউজিয়াম’। ডন ব্র্যাডম্যানের অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি তো আছেই, সাথে নারী ক্রিকেটের উত্থান এবং স্পিন জাদুকর শেন ওয়ার্নের মতো বহু স্মরণীয় অধ্যায় ও স্মারক দিয়ে সাজানো হয়েছে এই সংগ্রহশালা।
মিউজিয়ামের ঠিক পাশেই সবুজ মাঠ ঐতিহাসিক ‘ব্র্যাডম্যান ওভাল’। এই মাঠেই মিশে আছে কিশোর ব্র্যাডম্যানের বিশ্বজয়ী হয়ে ওঠার প্রথম গল্প। ১৯২৫ সাল, মাত্র ১৭ বছর বয়সে এই মাঠেই মস ভেলের বিপক্ষে অপরাজিত ৩০০ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
এই মাঠ ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে ২০ গ্লিব স্ট্রিটের সেই পুরোনো বাড়িটি (ছবিতে দেখুন)। আমার মত ক্রিকেট রোমান্টিকদের কাছে এ যেন এক পবিত্র তীর্থস্থান। এটি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের
শৈশবের দ্বিতীয় বাড়ি।
ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম একজন ‘ক্রিকফ্যানাটিক’। মনে পড়ে গেল, অস্ট্রেলিয়া আসার আগে ইমিগ্রেশন অফিসার যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, “অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কারণ কী?” আমি সোজা সাপটা উত্তর দিয়েছিলাম, “অন্যতম প্রধান কারণ, ক্রিকেট!” আমার কথা শুনে সেই অফিসারতো হেসেই খুন।
পুরো মিউজিয়াম এলাকাটা ঘুরে দেখতে দেখতে বারবার রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম। বেশ কিছু ছবিও তুললাম। বোরাল শহরে তখন বসন্তের আগমনীতে রঙিন ‘টিউলিপ ফেস্টিভ্যাল’ চলছে। একদিকে ক্রিকেটের ইতিহাস, অন্যদিকে ফুলের সমারোহ, সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ভালোলাগা আর এক বুক নস্টালজিয়া নিয়ে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরলাম।
৬ অক্টোবর, ২০২৬
Leave a comment
