ছোট্টবেলার কথা। তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। বাবা সরকারি চাকরি করতেন বলে স্কুলজীবনের প্রথম দিকটা কেটেছে চাটগাঁর বাইরে, দেশের বিভিন্ন শহরে। তবে ছুটিতে কক্সবাজারে যখনই আসতাম, তখন টেকপাড়ার বৌদ্ধমন্দিরে বেড়াতে যেতাম। বৌদ্ধমন্দিরকে স্থানীয় ভাষায় আমরা কিয়্যাং আর মন্দিরের পুরোহিতকে ঠউর বা ঠাকুর বলে ডাকতাম। বৌদ্ধ মন্দিরের ভেতরে তমসাচ্ছন্ন কক্ষে রাখা বিশাল বুদ্ধমূর্তি আমাকে ভীষণ টানতো। কিছুটা ভীতি এবং এক অজানা আকর্ষণে যখন মঠে যেতাম তখন মনে হতো নানুর কাছে শোনা সেই কামরূপ-কামাক্ষ্যার মায়াবী রাজ্যে এসে পৌঁছেছি।
মহাশয় হাত দেখে ভাঙ্গা চাটগাঁইয়া মিশ্রিত বার্মিজ ভাষায় আমাকে বললেন, ‘তুমি পড়াশোনায় ফাঁকি দাও, তাই না?’ আমি রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। মনে মনে বললাম, ‘আমি হলাম ক্লাসের ফার্স্ট বয়, ব্যাটা বলে কি রে?’
বাড়ি যাবার পথে আপু আমাকে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে বললেন। পরে আরো বেশ ক’বার রামু এবং টেকপাড়ার বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়েছি। কলেজজীবনে আমার অত্যন্ত কাছের একজন বন্ধু ছিল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের। অন্তর্জালের ডাকে ওর সাথে এখনো নিয়মিত যোগাযোগ হয়। সম্প্রতি আমার বন্ধুটির ইমেইল পড়ে বুঝতে পেরেছি রামুর ঘটনা তাকে কি ভীষণ রকম আহত করেছে। ওর লেখায়, রক্তাক্ত অন্তরাত্মা থেকে উৎসারিত বেদনার যে দুঃসহ দীর্ঘ ছায়া আমি দেখেছি তার জবাব কি দেব ভেবে পাইনি।
ফেসবুকের কিছু ছবি নিয়ে রামু, উখিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উত্তম কুমার বড়ুয়া (ছদ্মনাম কিনা জানি না) নামের একজন তরুণের ফেসবুকে যে আপত্তিকর ছবিগুলো ট্যাগ করা হয়েছে সেজন্য উত্তম দায়ী কিনা সে বিষয়ে এখনো কেউ নিশ্চিত নন। এ ছাড়া দাঙ্গা লাগানোর উদ্দেশ্যে এটা পরিকল্পিত কোনো ফাঁদও হতে পারে। তাই কোনো বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য না জেনে রাতের অন্ধকারে যেভাবে বৌদ্ধদের পবিত্র প্রার্থনার স্থান পুড়িয়ে দেয়া হলো, নিরীহ সংখ্যালঘুদের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হলো, এ ছোট্টবেলার কথা। তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। বাবা সরকারি চাকরি করতেন বলে স্কুলজীবনের প্রথম দিকটা কেটেছে চাটগাঁর বাইরে, দেশের বিভিন্ন শহরে। তবে ছুটিতে কক্সবাজারে যখনই আসতাম, তখন টেকপাড়ার বৌদ্ধমন্দিরে বেড়াতে যেতাম। বৌদ্ধমন্দিরকে স্থানীয় ভাষায় আমরা কিয়্যাং আর মন্দিরের পুরোহিতকে ঠউর বা ঠাকুর বলে ডাকতাম। বৌদ্ধ মন্দিরের ভেতরে তমসাচ্ছন্ন কক্ষে রাখা বিশাল বুদ্ধমূর্তি আমাকে ভীষণ টানতো। কিছুটা ভীতি এবং এক অজানা আকর্ষণে যখন মঠে যেতাম তখন মনে হতো নানুর কাছে শোনা সেই কামরূপ-কামাক্ষ্যার মায়াবী রাজ্যে এসে পৌঁছেছি।
একদিন আমার এক বড় আপুর সাথে গিয়েছিলাম রামুর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দিরে। ওই সময় ঘরের মেয়েদের অনেকেই বার্মিজদের অনুকরণে ত্বককে মসৃন রাখার জন্য মুখে চন্দনের প্রলেপ দিত। আপুর ডাক শুনে গেরুয়া বসন পরিহিত পুরোহিত উঠোনে এসে দাঁড়ালেন। পুরোহিতের মুখেও দেখলাম চন্দনের প্রলেপ। আপু ঠাকুরের কাছে একটি চন্দন কাঠের টুকরো চাইলেন। ঠাকুর হাসিমুখে ভেতরে থেকে এক খন্ড চন্দন আপুর হাতে তুলে দিলেন। আপু তো মহা খুশি। একদম অরিজিনাল, বার্মা থেকে আনা। শুনেছি ওই পুরোহিত নাকি ভবিষ্যদ্বাণীও করতে পারতেন। নিজের কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে অবশেষে আপুকে অনুরোধ করলাম ঠাকুরকে বলে আমার হাত দেখে দিতে।
পুরোহিত মহাশয় হাত দেখে ভাঙ্গা চাটগাঁইয়া মিশ্রিত বার্মিজ ভাষায় আমাকে বললেন, ‘তুমি পড়াশোনায় ফাঁকি দাও, তাই না?’ আমি রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। মনে মনে বললাম, ‘আমি হলাম ক্লাসের ফার্স্ট বয়, ব্যাটা বলে কি রে?’
বাড়ি যাবার পথে আপু আমাকে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে বললেন। পরে আরো বেশ ক’বার রামু এবং টেকপাড়ার বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়েছি। কলেজজীবনে আমার অত্যন্ত কাছের একজন বন্ধু ছিল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের। অন্তর্জালের ডাকে ওর সাথে এখনো নিয়মিত যোগাযোগ হয়। সম্প্রতি আমার বন্ধুটির ইমেইল পড়ে বুঝতে পেরেছি রামুর ঘটনা তাকে কি ভীষণ রকম আহত করেছে। ওর লেখায়, রক্তাক্ত অন্তরাত্মা থেকে উৎসারিত বেদনার যে দুঃসহ দীর্ঘ ছায়া আমি দেখেছি তার জবাব কি দেব ভেবে পাইনি।
ফেসবুকের কিছু ছবি নিয়ে রামু, উখিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উত্তম কুমার বড়ুয়া (ছদ্মনাম কিনা জানি না) নামের একজন তরুণের ফেসবুকে যে আপত্তিকর ছবিগুলো ট্যাগ করা হয়েছে সেজন্য উত্তম দায়ী কিনা সে বিষয়ে এখনো কেউ নিশ্চিত নন। এ ছাড়া দাঙ্গা লাগানোর উদ্দেশ্যে এটা পরিকল্পিত কোনো ফাঁদও হতে পারে। তাই কোনো বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য না জেনে রাতের অন্ধকারে যেভাবে বৌদ্ধদের পবিত্র প্রার্থনার স্থান পুড়িয়ে দেয়া হলো, নিরীহ সংখ্যালঘুদের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হলো, এ কোন ধরনের সভ্যতা? শত বছরের পুরোনো বৌদ্ধ পুরাকীর্তির যে নিদর্শনগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেল তা কখনোই টাকার মানদন্ডে মাপা সম্ভব নয়। সহনশীলতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুতো দিয়ে বোনা আমাদের সামাজের ভিত, যেভাবে ঘৃণার আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হলো তা আমাদের সবার জন্য অপমানজনক এবং লজ্জাকর। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিতর্কের জের ধরে সমস্ত বিশ্বজুড়ে এখন চলছে বিক্ষোভ। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। তার ওপর কিছুদিন আগে নাফ নদীর ওপারে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে কারণে পুরো কক্সবাজার এলাকার বহু মানুষ একধরনের চাপা ক্ষোভ এবং উত্তেজনা লালন করে চলছে। ছাইয়ের নিচে লুকিয়ে রাখা বারুদের স্তূপে আগুন দিলে কি হতে পারে তা জেনেও ফেসবুকের মাধ্যমে এমন উস্কানিমূলক আচরণ কেন করা হলো সেটা বোধগম্য নয়। বাক-স্বাধীনতার নামে স্বোচ্ছাচারিতা, হিংসা ও ঘৃণা বিস্তার কখনোই কাম্য নয়। তাই উত্তম কুমার বা অন্য কেউ যদি অন্যায় করেই থাকে তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। উত্তম কুমার কি পুরো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে? একটি মানুষের জন্য পুরো সস্প্রদায়কে শাস্তি দেয়া বর্ববরতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ভবিষ্যতে যাতে এমন হীন কাজ করার কেউ সাহস না পায় সেজন্য দোষীকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এ দায়িত্ব সরকারের। তবে রহস্য উন্মোচনের আগে সরকার এবং বিরোধীদল যেভাবে একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করে চলেছেন তা সত্যিই দুঃখজনক। এটা বন্ধ করতে হবে, না হলে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। রাজনীতিকরণের ডামাডোলে পুরো বিষয়টি হারিয়ে যেতে পারে বলে ইতিমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ বৌদ্ধ সম্প্রদাযের নেতৃবৃন্দ। এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা থেকে নিবৃত্ত না হলে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং নেতৃবৃন্দ নির্বাচন প্রসঙ্গে ব্রিটেনের ওয়েস্টমিন্সটার ডেমোক্রেসির উদাহরণ টেনে আনছেন বারবার। ওয়েস্টমিন্সটার গণতন্ত্রের আদলে পরিচালিত উন্নত দেশে বড় কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
দেশের এমন নাজুক সময়ে তাই সরকারের উচিত দেরি না করে একটি গ্রহণযোগ্য জুডিশিয়াল কমিটির ওপর তদন্তের ভার ছেড়ে দেয়া। সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি যারা সব হারিয়েছেন তাদের সর্বোচ্চ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব বৌদ্ধ স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে সেগুলো প্রয়োজনে বিদেশ থেকে কারিগর এনে সরকারি খরচে ঠিক আগের মতো করে নির্মাণ করে দিতে হবে।
স্যাম বেসিলের চলচ্চিত্র নিয়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সহিংসতা থেকে আমরা যে কিছুই শিখিনি, রামুর বৌদ্ধমন্দিরে ন্যাক্কারজনক হামলা সে কথাই প্রমাণ করে। ধর্ম কেবল পাঠ করার বিষয় নয়, চর্চা করার বিষয়। তবে সেই চর্চা হতে হবে শুদ্ধ। ধর্মের প্রতি অনুরাগ দেখাতে গিয়ে ধর্মান্ধতা ও হিংসাকে পরিগ্রহ করে মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিলে চলবে না।
আসুন, আমরা সবাই শুদ্ধ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক চেতনাকে বুকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হই। ফিরিয়ে আনি জটিলতামুক্ত শৈশবের সেই অসাম্প্রদায়িক সোনালি দিনগুলি। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মুখে আবারো ফিরিয়ে আনি রামুর বৌদ্ধমন্দিরে দেখা পুরোহিতের চন্দন চর্চিত মুখের সেই সরল হাসি।
(২০১২ সালে রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা নিয়ে লেখা)
কোন ধরনের সভ্যতা? শত বছরের পুরোনো বৌদ্ধ পুরাকীর্তির যে নিদর্শনগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেল তা কখনোই টাকার মানদন্ডে মাপা সম্ভব নয়। সহনশীলতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুতো দিয়ে বোনা আমাদের সামাজের ভিত, যেভাবে ঘৃণার আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হলো তা আমাদের সবার জন্য অপমানজনক এবং লজ্জাকর। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিতর্কের জের ধরে সমস্ত বিশ্বজুড়ে এখন চলছে বিক্ষোভ। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। তার ওপর কিছুদিন আগে নাফ নদীর ওপারে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে কারণে পুরো কক্সবাজার এলাকার বহু মানুষ একধরনের চাপা ক্ষোভ এবং উত্তেজনা লালন করে চলছে। ছাইয়ের নিচে লুকিয়ে রাখা বারুদের স্তূপে আগুন দিলে কি হতে পারে তা জেনেও ফেসবুকের মাধ্যমে এমন উস্কানিমূলক আচরণ কেন করা হলো সেটা বোধগম্য নয়। বাক-স্বাধীনতার নামে স্বোচ্ছাচারিতা, হিংসা ও ঘৃণা বিস্তার কখনোই কাম্য নয়। তাই উত্তম কুমার বা অন্য কেউ যদি অন্যায় করেই থাকে তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। উত্তম কুমার কি পুরো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে? একটি মানুষের জন্য পুরো সস্প্রদায়কে শাস্তি দেয়া বর্ববরতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ভবিষ্যতে যাতে এমন হীন কাজ করার কেউ সাহস না পায় সেজন্য দোষীকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এ দায়িত্ব সরকারের। তবে রহস্য উন্মোচনের আগে সরকার এবং বিরোধীদল যেভাবে একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করে চলেছেন তা সত্যিই দুঃখজনক। এটা বন্ধ করতে হবে, না হলে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। রাজনীতিকরণের ডামাডোলে পুরো বিষয়টি হারিয়ে যেতে পারে বলে ইতিমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ বৌদ্ধ সম্প্রদাযের নেতৃবৃন্দ। এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা থেকে নিবৃত্ত না হলে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং নেতৃবৃন্দ নির্বাচন প্রসঙ্গে ব্রিটেনের ওয়েস্টমিন্সটার ডেমোক্রেসির উদাহরণ টেনে আনছেন বারবার। ওয়েস্টমিন্সটার গণতন্ত্রের আদলে পরিচালিত উন্নত দেশে বড় কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
দেশের এমন নাজুক সময়ে তাই সরকারের উচিত দেরি না করে একটি গ্রহণযোগ্য জুডিশিয়াল কমিটির ওপর তদন্তের ভার ছেড়ে দেয়া। সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি যারা সব হারিয়েছেন তাদের সর্বোচ্চ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব বৌদ্ধ স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে সেগুলো প্রয়োজনে বিদেশ থেকে কারিগর এনে সরকারি খরচে ঠিক আগের মতো করে নির্মাণ করে দিতে হবে।
স্যাম বেসিলের চলচ্চিত্র নিয়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সহিংসতা থেকে আমরা যে কিছুই শিখিনি, রামুর বৌদ্ধমন্দিরে ন্যাক্কারজনক হামলা সে কথাই প্রমাণ করে। ধর্ম কেবল পাঠ করার বিষয় নয়, চর্চা করার বিষয়। তবে সেই চর্চা হতে হবে শুদ্ধ। ধর্মের প্রতি অনুরাগ দেখাতে গিয়ে ধর্মান্ধতা ও হিংসাকে পরিগ্রহ করে মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিলে চলবে না।
আসুন, আমরা সবাই শুদ্ধ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক চেতনাকে বুকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হই। ফিরিয়ে আনি জটিলতামুক্ত শৈশবের সেই অসাম্প্রদায়িক সোনালি দিনগুলি। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মুখে আবারো ফিরিয়ে আনি রামুর বৌদ্ধমন্দিরে দেখা পুরোহিতের চন্দন চর্চিত মুখের সেই সরল হাসি।
(২০১২ সালে রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা নিয়ে লেখা)
