‘জিন্দেগী কিয়া হেয় জাননে কে লিয়ে জিন্দা রেহনা বহুত জরুরি হেয়/আজতাক কোয়ি ভি রাহাতো নেহি” (জীবনকে জানার জন্য বেঁচে থাকাটা জরুরি, কিন্তু কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না)। এই পৃথিবীর কোনো কিছুই চিরন্তন নয়। জগতের এই পরম সত্যের পথ ধরে ৭০ বছর বয়সে ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন জগজিৎ সিং। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, সুরের ইন্দ্রজালে দর্শক-শ্রোতাদের সম্মোহিত করতে গজলের আসরে আর কখনোই ফিরে আসবেন না তিনি।
যা কার জাহা ছে কোয়ি ওয়াপাছ নেহি হেয় আতা
ও কওনছি জাগা হেয়, আল্লাহ জানতা হেয়।
কিসমাত মে কিয়া লিখ্খা হেয়, আল্লাহ জানতা হেয়
কেউ তাকে বলে গজল সম্র্রাট, কেউ বা গজলরাজ (কিং অব গজল)। গজলের রাজত্ব ছেড়ে জগজিৎ মৃত্যুকে বরণ করে নিলেও গজল ভক্তদের কাছে অমরত্ব লাভ করেছে তার সঙ্গীত (হোটোঁ সে ছুলো তুম, মেরা গীত অমর কার দো)। জগজিৎ-এর কনসার্ট দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার বেশ ক’বার। গজল পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে কখনো কৌতুক, কখনো টুকরো স্মৃতি-কথার মালা দিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের সাথে তিনি রচনা করেন যোগাযোগের অদৃশ্য সেতু; মোহাবিষ্ট সঙ্গীতপিপাসুদের পৌছে দেন ভালোলাগার অমরাবতীতে। ভজন, লোক সঙ্গীত, গীত, গজল কিংবা ফিল্মী গান, যেটাই হোক না কেন তার গায়কীর মোহন মায়া, কনসার্টের পুরো ব্যাপ্তিজুড়ে শ্রোতাদের সম্মোহিত করে রাখে।
জগজিৎ-এর লাইভ কনসার্টে গিয়েই জানতে পারি রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের একটি অখ্যাত মঞ্চ থেকে তার খ্যাতির শীর্ষে আরোহণের রোমাঞ্চকর কাহিনী। জগজিৎ-এর জন্ম পাঞ্জাবের একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে। জন্মের পর পরই তার নাম রাখা হয় জগমোহন। কিন্তু গুরুর পরামর্শে তার বাবা নাম বদলে রাখেন জগজিৎ। পরবর্তীতে সঙ্গীতের দুনিয়া জয় করে জগজিৎ তার নামের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। ছোটবেলায় তিনি শিখ গুরুদুয়ারাতে ভজন পরিবেশন করতেন। জগজিৎ-এর বাবাই সন্তানের সঙ্গীত প্রতিভা শনাক্ত করেন এবং অন্ধ সঙ্গীত শিক্ষক পন্ডিত ছগনলাল শর্মার কাছে সঙ্গীত শিক্ষার তালিম নিতে পাঠান। পরবর্তীতে তিনি সাইনিয়া ঘরানার গুরু জামাল হোসেনের কাছে শেখেন খেয়াল, ঠুমরি এবং ধ্রুপদ সঙ্গীত।
মঞ্চে প্রথম সাফল্যের স্বাদ পান জগজিৎ আনুমানিক ১৯৫৫/৫৬ সালে, তিনি তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র। রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরের একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পী হিসাবে জগজিৎ নিজের কম্পোজিশনে একটি পাঞ্জাবী গীত পরিবেশন করেন, যা দর্শকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়ে দেয়। করতালিতে ফেটে পড়ে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা। তিনি মুগ্ধ শ্রোতাদের কাছ থেকে সম্মাননা স্বরূপ সর্বমোট ১২৫ রুপি লাভ করেন। দর্শকদের অনুরোধে তাকে আরো একটি গান পরিবেশন করতে হয়। এই ঘটনা তাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি উপলব্ধি করলেন, সঙ্গীতই হবে তার গন্তব্যস্থল। তবে চূড়ান্ত সাফল্যের দেখা পেতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ, করতে হয়েছে প্রচুর সংগ্রাম।
কলেজে পড়াকালীন তিনি জলন্ধর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে বি-গ্রেড শিল্পী হিসাবে গান করার সুযোগ পান। রেডিওতে গাওয়া তার নিজস্ব কম্পোজিশন, ‘গুম সুম ইয়ে জাহা হেয়/ হাম দাম তু কাহা হেয়/গাম জাদা হো গেয়ি/ জিন্দেগী আভি যা’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। জগজিৎ-এর কলেজ জীবনের একটি কম্পোজিশন হল আনোয়ার মির্জাপুরীর লেখা গজল ‘রুখছে পর্দা উঠাদে জারা সাকি, বাছ আভি রাঙ্গ মেহফিল বাদাল যায়েগা/ হেয় যো বেহুশ হেয় হোশমে আয়েগা/ গিরনে ওয়ালা হেয় যো ও সামহাল যায়েগা’। এত অল্প বয়সের কম্পোজিশন যে কতটা উঁচু মানের তা শুনলে বিস্মিত হতে হয়।
ষাট দশকের শুরুতে ভাগ্যের অন্বেষণে তিনি বলিউডের ছায়াছবির জগতে প্রবেশের চেষ্ট করেন। কিন্তু অবাক করা কথা হল, যে মখমলী গলার জন্য তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন সেই গলাই বাধ সেধে বসে। মোহাম্মদ রফি, কিশোর ও মুকেশের বাইরে অন্য কারো গলা, মুম্বাই ফিল্ম হিরোদের মুখে চলতে পারে এ কথা কেউ ভাবতেই পারতো না। তবে জীবন্ত কিংবদন্তী লতা মুঙ্গেশকর ছিলেন ব্যতিক্রম। রেডিওতে শোনা জগজিৎ-এর গজল তাকে আলোড়িত করে। লতা বিশিষ্ট কম্পোজার মদন মোহনকে তার ছবির গানে জগজিৎকে নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ফিল্মে জগজিৎ-এর গলা বেমানান, এই একই যুক্তিতে মুম্বাইয়ের ছবিতে তার আর গান গাওয়া হয় না। কিন্তু সেটা ভারতের মৃতপ্রায় গজল শিল্পের জন্য শাপে বর হয়। জগজিৎ-এর সুরের যাদুতে ভারতের গজল শিল্প ফিরে পায় জীবন। পরবর্তীতে বোম্বের ফিল্ম জগৎ তার পদতলে এসে ধর্ণা দিতে থাকে।
এখন মনে হয়, ছায়াছবির প্লেব্যাক শিল্পী হিসাবে ক্যারিয়ারের শুরুতেই যদি জগজিৎ সুযোগ পেতেন তাহলে গজলের অবতার হিসাবে হয়তো আজকের জগজিৎকে আমরা পেতাম না। সস্তা জনপ্রিয় গীতের আড়ালে হয়তো হারিয়ে যেত জগজিৎ-এর রাগমিশ্রিত গজল কম্পোজিশনের দুর্লভ দক্ষতা। ছবিতে গান করার সুযোগ না পেলেও গতানুগতিক প্লেব্যাক শিল্পীদের মতো জগজিৎ নিজেকে বদলে দেননি। নিজস্ব স্টাইল বজায় রেখে তিনি সৃষ্টি করেন নতুন ধারা, আর সেখানেই আসে চূড়ান্ত সাফল্য।
১৯৭০ সালে সঙ্গীতশিল্পী চিত্রার সাথে জগজিৎ-এর বিয়েটা হল তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। ১৯৭৫ সালে বের হয় জগজিৎ ও চিত্রার ডুয়েট গজলের এলবাম ‘দি আনফরগেটেবল’। এই এলবামের গানগুলোর আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা জগজিৎকে বানিয়ে দেয় সুপারস্টার। ভারতের প্রতিটি ঘরে ঘরে উচ্চারিত হতে থাকে তার নাম। জগজিৎ-এর গজলের সুনামিতে ভেসে যায় উপমহাদেশের সঙ্গীতপ্রেমিক মানুষ। ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশেও তৈরি হয় তার সঙ্গীতের ভক্ত বলয়। ১৯৮০ সালে মহেশ ভাটের কম বাজেটের ছবি ‘সাথ সাথ-এ তিনি কাজ করার সুযোগ পান। স্টুডিওর খরচ দেয়ার সামর্থ্য ছিল না ছবির পরিচালকের, তাই রেকর্ডিংয়ের খরচ জগজিৎ নিজের পকেট থেকেই দিয়ে দেন। একই বছর অন্য একটি ছবি ‘আর্থে’ও মিউজিক দেন জগজিৎ। এই দুটো ছবির গানই সুপার ডুপার হিট হয়। শুধু তাই নয়, ছবি দুটোর গানের ক্যাসেট এইচএমভি’র সর্বকালের অন্যতম বিক্রিত ক্যাসেট হিসাবে স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে সরফারোশ, মুধমন, প্রেমগীত ও তুম বিন ইত্যাদিতে তার গাওয়া গান পায় তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।
লতা মুঙ্গেশকরের প্রিয় গজলশিল্পী হলেন জগজিৎ। জগজিৎ-এর ‘আহিস্তা আহিস্তা’ গজলটি রেডিওতে শোনার পর লতার মগজের মধ্যে এমনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে যে তিনি সাথে সাথেই গানের এলবামটি কিনে নেন। ১৯৯১ সালে লতার সাথে করা ‘সাজদা’ সর্বকালের কøাসিক গজল এলবাম হিসাবে স্বীকৃত। প্রথমে জগজিৎ-এর সুরে কেবল লতারই গাইবার কথা ছিল। কিন্তু জগজিৎ-এর সাথে গাইবার সুযোগ লতা এত সহজে হাতছাড়া করতে চাননি। তিনি জানিয়ে দেন, এলবামে জগজিৎ-এর গান চাইই। ‘সাজদা’র কয়েকটি গজল হল – ‘আদমি আদমি কো কেয়া দেগা’ (মানুষ মানুষকে কি দিতে পারে), ‘হার তারাফ হার জাগা বেশুমার আদমি/ ফির ভি তানহাই কা শিকার আদমি’ (আশেপাশে চতুর্দিকে অসংখ্য মানুষ/ তারপরও মানুষ নিঃসঙ্গতায় ভোগে)।
মেহেদী হাসান, ফরিদা খানম, ইকবাল বানু ও মালিকা পখরাজের মতো ওস্তাদ শিল্পীরা পাকিস্তানে গজলকে বাঁচিয়ে রাখলেও সত্তর দশকের শুরুতে বেগম আক্তারের মৃত্যুর পর ভারতের সঙ্গীতাঙ্গন থেকে গজল হারিয়ে যেতে বসে। আর ঠিক তখনই গজলের অবতার হিসাবে আর্বিভূত হন জগজিৎ। স্ত্রী চিত্রার সাথে জুটি বেঁধে তিনি উপমহাদেশে গজলের পুনর্জাগরণের সৃষ্টি করেন। জগজিৎ ঐতিহ্যবাহী দেশীয় বাদ্য যন্ত্র যেমন তবলা, ঢোলক, বঙ্গো, সিতার, সন্তুর, বাঁশী, হারমোনিয়াম ইত্যাদির সাথে পশ্চিমা গিটার ও কীবোর্ড যোগ করে রীতিমত বিপ্লব ঘটান। গজল গায়কীর সাথে গীতের মেলোডির সংমিশ্রণে প্রচলিত ধারার চেয়ে ভিন্নতর লয়ে তিনি নতুন ধারার সৃষ্টি করেন, যা গজলকে সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি নিয়ে আসে। ভিন্নতার স্বাদ পেয়ে তার কনসার্টে জিনস্ পরিহিত নতুন প্রজন্মকেও ভিড় করতে দেখা যায়।
গজল হচ্ছে বড় বড় উর্দু কবির লেখা কাব্য বা শায়েরীরই গীতিরুপ। মির্জা গালিব থেকে শুরু করে গুলজার, কায়ফি আজমি, ফিরাক গোরখাপুরী, কফিল আজার, নিদা ফাজলি, সুদর্শন ফকির, কাতিল শিফায়ীসহ প্রায় সব খ্যাতিমান উর্দু কবিদের রচিত গজল তাঁর মখমলী গলার যাদুতে পেয়েছে জীবন। উর্দু, পাঞ্জাবী, হিন্দি, গুজরাটি, সিন্ধি, নেপালী ভাষায় গাওয়া অসংখ্য গীত ও গজল ছাড়া বাংলাতেও তিনি গেয়েছেন অসাধারণ কিছু গান, মিটিয়েছেন বাঙালি সঙ্গীতপ্রেমীদের তৃষ্ণা। তার গাওয়া ‘বেদনা মধুর হয়ে যায় তুমি যদি দাও’, ‘বুঝিনি তো আমি’ কিংবা ‘তোমার চুল বাঁধা দেখতে দেখতে’ কি কখনো ভোলোা যায়?
জগজিৎ-এর গায়কী ও মধুমাখা গলার কারিশমা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি নিদা ফাজলী বলেছেন, ‘আমরা যদিও দেখি জগজিৎ হাসি মুখে গাইছেন কিন্তু সবার অগোচরে গজলের শব্দের ফাঁকে তিনি শব্দহীন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন আর সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও কাঁদাচ্ছেন।’ মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে রাখা আমাদের পৃথক সত্তা নিয়ে তিনি যে প্রশ্ন করেছেন তা অবিস্মরণীয় হয়ে আছে এই গজলে ‘তুম ইতনা যো মুসকারা রেহে হো/ কিয়া গাম হেয় জিসকো ছুপা রেহে হো।’ জগজিৎ-এর গলার যাদু মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। তার গজলের মধ্য দিয়ে শ্রোতারা নিজেদের হাসি, কান্না, রাগ অনুরাগ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পায়, তাই তো সাধারণ মানুষের কাছে তার গজল এতটা প্রিয়।
জগজিৎ তার পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে বের করেছেন ৮০টি এলবাম। তার জনপ্রিয় গানের তালিকা এতই বড় যে মতো স্বল্প পরিসরে তা লিখে শেষ করা যাবে না। আমি কেবল আমার পছন্দের কিছু গজলের উল্লেখ করছি মাত্র:
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর রচিত ‘লাগতা নাহি দিল মেরা’ (মন বসে না আমার)
এয় মেরা গীত কিসসে না গানা
মেরা নামকা কোয়ি অউর হেয়
তুমকো দেখা তো খায়াল আয়া
হাজার বার রুখে হাম হাজার বার চালে
জাব কিসিসে কোয়ি গিলা রাখনা/সামনে আপনে আয়িনা রাখনা (কারো বিরেুদ্ধে অনুযোগ করার আগে আয়নায় নিজের সরূপ দেখো )
মিলকার জুদা হুয়েতো না সোয়া কারেঙ্গে হাম
তেরে খুশবুমে বাছে খাত মেয় জ্বালাতা কেয়সে? (তোমার সুবাসমাখা চিঠি আমি পোড়াই কি করে?)
গাম কা খাজান তেরা ভি হেয় মেরা ভি হেয়/ আপনে গামকো গীত বানাকে গা লে না
দুনিয়া জিসে কেহেতি হেয় জাদুকা খিলোনা হেয়/ মিল যায়েতো মি্িট্ট হেয়/ খো যায়েতো সোনা (এই পৃথিবী হল মরীচিকা/ হাতের মুঠোয় পেলে মনে হয় মূল্যহীন মাটি আর না পেলে দুর্লভ সোনা)
সুদর্শন ফকিরের লেখা ‘ইয়ে দৌলত ভি লে লো শোহরত ভি লে লো/ মাগার মুঝকো লওটা দো বাচপান কা সাওয়ান… (আমার ধন-সম্পদ- মর্র্যাদা সবই কেড়ে নাও/ চাও তো আমার এ সোনালি যৌবনও কেড়ে নাও। কিন্তু এর বিনিময়ে আমাকে ফিরিয়ে দাও শৈশবের সেই বর্ষণমুখর শ্রাবনের দিনগুলো )
জগজিৎ কেবল একজন বড় শিল্পীই ছিলেন না তার হৃদয় ছিল আকাশের মতো উদার। তার মহানুভবতার কথা বলতে গিয়ে জগজিৎ এর ব্যক্তিগত সহকারী কুলদিপ দেশাই বললেন, ‘কোনো কিছুু চাইবার আগেই তিনি মানুষকে দু’হাত ভরে দিতেন।’ যদিও মুম্বাইতে কেউ তাকে তেমন কোনো সাহায্য করেনি, কিন্তু জগজিৎ কখনো নিজের কম্পোজিশন দিয়ে, কখনো আবার নিজের নাম ব্যবহার করতে দিয়ে উঠতি গজল শিল্পীদের প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছেন, যা এ যুগে মেলা ভার। ভারতের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কুমার সানুকে জগজিৎ প্রথম গান গাইবার সুযোগ করে দেন। এছাড়া অভিজিৎ, তালাত আজিজ, অশোক খোসলা, সুজা রায়, বিক্রম সিং, বিনোদ সেগালের মতো শিল্পীদের ক্যারিয়ার গড়তেও তিনি সাহায্য করেছেন।
মানবতার জন্য তিনি ধর্ম, বর্ণ, ভৌগলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাকিস্তানের অসুস্থ গজল কিংবদন্তী মেহেদী হাসানের চিকিৎসার জন্য তিনি এক কোটি রুপীর তহবিল সংগ্রহ করে সংগৃহীত অর্থ নিজে মেহেদী পরিবারের হাতে তুলে দেন। তার এলবাম বিক্রির একটা বিরাট অংশ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়; যার মধ্যে রয়েছে রিলিফ এন্ড ইউ, আরবিন্দ আশ্রম, স্যামনার এসোসিয়েশন অব ব্লাইন্ড, মুম্বাই হাসপাতাল, CRY, Save the Children, ALMA ইত্যাদি।
জগজিৎ-এর গান লক্ষ মানুষের সুখ দুঃখের সাথে এমনভাবে মিশে আছে যে তার চলে যাওয়াটাকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবো জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, জগজিৎ ভক্তদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরদিন… ‘তুম চালে যাওগে তো সোচেঙ্গে/ হামনে কেয়া খোয়া হামনে কেয়া পায়া…’
