ষাট দশকের প্রথম দিকের কথা। মেহেদী হাসান তখনো গজল সম্রাট হয়ে উঠেননি। পল্লীগ্রামের একটি গানের জলসায় তাঁর ডাক পড়ে; যেখানে গানের শ্রোতা হলেন গ্রামের নিরক্ষর কৃষক। মেহেদী হাসান প্রথমে ‘গুলুমে রাঙ্গ ভারে’ গজলটি গেয়ে শোনান। গান শেষে প্রচন্ড করতালির মধ্যে গজলটি আবারো শোনাবার ফরমায়েশ আসে। মেহেদী হাসান শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া দেখে রীতিমত অবাক! ‘গুলুমে রাঙ্গ ভারে’ কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজের লেখা একটি অত্যন্ত উচ্চ মার্গের গজল যা শহরের শিক্ষিত গজল বোদ্ধাদেরও ধাঁধায় ফেলে দেয়। আজ সেই গজল সাধারণ কৃষকদের কাছে এত সমাদর পাবে সেটা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকছিল। এর পর তিনি যতবার গজলটি শোনালেন ততবারই জোরালে অভিবাদন পেলেন। মেহেদী হাসান ধাঁধায় পড়ে গেলেন।
তখন শ্রোতাদের মধ্য থেকে একজন প্রবীণ মেহেদী হাসানের কাছে এসে বললেন, ‘তোমার কন্ঠে ঈশ্বরপ্রদত্ত এমন কিছু আছে যা সঙ্গীতের অভিধানে খুঁজে পাওয়া মুশকিল যাকে ‘মেহবুব সুর’ বলা হয়। তাই তোমার গান অজপাড়াগাঁয়ের কৃষকদেরও হৃদয় ছুঁতে পেরেছে; কবি ফয়েজের কাব্যের অর্ন্তনিহিত বাণী তাদের বোঝার প্রয়োজন হয়নি।’ এমনই ছিল মেহেদী হাসানের কন্ঠের যাদু। তাঁর গজল শুনে হয়তো তাই কিংবদন্তি শিল্পী লতা মুঙ্গেশকর বলেছিলেন, ‘মেহেদী হাসানের কন্ঠে বাস করেন স্বয়ং ঈশ্বর।’ প্রয়াত অপর এক কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্ম রফি বলেছেন, ‘আমরা গান করি আম-জনতার জন্য আর মেহেদী হাসান গান করেন আমাদের জন্য।’
সর্বকালের সেরা গজল শিল্পী হিসাবে মেহেদী হাসানকে মেনে নিয়েছেন সবাই। এইজন্য তাঁকে বলা হয় শাহেনশাহ্-ই-গজল। কেউবা আবার ভালোবেসে তাঁকে ডাকেন ‘খাঁ সাহেব’ বলে। খাইবার থেকে ঢাকা, কারাকোরাম হতে কণ্যাকুমারী পর্যন্ত তাঁর অসাধারণ গায়কী এবং কন্ঠের মাধুর্য্য আলো ছড়াচ্ছে লাখো কোটি সঙ্গীতপ্রেমী মানুষের অন্তরে। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করে ২০১০ সালের ১৩ জুন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন গজল সম্রাট মেহেদী হাসান।
মেহেদী হাসানের জন্ম ১৯২৭ সালে ১৮ জুলাই, রাজস্থানের ঝুন ঝুন জেলার লুনা গ্রামে, কালাওয়ান্ত সঙ্গীত পরিবারে। ‘কালা’ মানে কলা বা শিল্প আর ‘ওয়ান্ত’ শব্দের অর্থ হল শিল্পী। তাঁর বাবা ওস্তাদ আজিম আলী খান এবং চাচা ওস্তাদ ইসমাইল খান ছিলেন ধ্রুপদ সঙ্গীতের প্রখ্যাত পন্ডিত। শৈশবে বাবা ও চাচার কাছেই মেহেদীর সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয়। মেহেদীর প্রথম স্টেজ পারফর্মেন্স হল মাত্র বছর বয়সে বারোদার মহারাজার দরবারে। ৪০ মিনিট ধরে বারোদার মাহরাজার সামনে তিনি রাগ বসন্ত পরিবেশন করেন। এরপর শিশু মেহেদী ধ্রুপদি ও খেয়াল পরিবেশন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এভাবেই শুরু হয় ভুবনজয়ী এই শিল্পীর যাত্রা।
১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর মেহেদীর পরিবার ভারত ছেড়ে পাকিস্তানের শাহিওয়াল এলাকায় চলে আসেন। মহেদী তখন ২০ বছরের টগবগে যুবক। নতুন দেশে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে আর্থিক সঙ্কটে পড়ে যায় তাঁর পরিবার। বেঁচে থাকার তাগিদে তাই জীবন সংগ্রামে নামতে হয় মেহেদী হাসানকে। কয়েকটি পাম্প, কিছু পুরোনো টায়ার ও যন্ত্রপাতি যোগাড় করে তিনি বাই-সাইকেল মেরামতের ব্যবসা শুরু করে দেন। এভাবে দিনে ১২-১৫ রুপি আয় করতেন যার মধ্যে ৫ রুপি বাবাকে দিয়ে দিতেন।
পরবর্তীতে ডিজেল ইঞ্জিন মেরামতের ডিপ্লোমা নিয়ে ভাওয়ালপুর ও সারেগোদা এলাকায় ট্রাক্টর ইঞ্জিন ফিটার এবং লাহোরের পাঞ্চলি ফিল্ম স্টুডিওতেও কিছুদিন কাজ করেন মেহেদী হাসান। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে বুকের গভীরে সঙ্গীতের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ অনুভব করতেন বলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি নিয়মিত সঙ্গীতচর্চাও চালিয়ে যান। একজন বড় সঙ্গীতশিল্পী হতে হলে ফসফুসে জোর লাগে; বাবার এই পরামর্শ শুনে তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা শুরু করেন। সকালে দৌড়াদৌড়ি এবং সন্ধ্যায় কুস্তিগীরদের আখড়ায় শরীরচর্চা, এই ছিল তাঁর রুটিন। উপরন্তু শরীরকে কৃশকায় রাখার জন্য খাবারের তালিকায় থাকতো দুধ, মাংস ও কাজু বাদাম। মেহেদী হাসান আক্ষেপ করে বলতেন, শরীরের প্রতি যত্নবান ছিলেন না বলে তার সমসাময়িক অনেক সম্ভাবনাময় শিল্পীর অকাল মৃত্যু হয়েছে।
সাফল্যের শীর্ষে আরোহন করতে মেহেদী হাসানের মতো কালজয়ী শিল্পীকেও ক্যরিয়ারের প্রথম দিকে কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি লাহোরের বেশ কিছু অনুষ্ঠানে পারফর্র্ম করেন। কিন্তু তাতে সাফল্য আসেনি। অবশেষে ১৯৫৭ সালে রেডিও পাকিস্তানের করাচি স্টুডিওতে তিনি অডিশনের সুযোগ পান। অডিশনে মেহেদী হাসান প্রথমে ঠুমরি, তারপর একে একে রাগ খাম্বাজ, পিলু, দেশ, তিলক কমোদ গেয়ে শোনান।
রেডিও কর্মকর্তা জেড বুখারি এবং রফিক আনোয়ার তার গান শুনে মুগ্ধ হন। মেহেদী হাসান এ-গ্রেড ক্যাটাগরির শিল্পী হিসাবে কাজ পান। যদিও এ-গ্রেডের সম্মানী ছিল ১৫ রুপি; কিন্তু প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ মেহেদী হাসানের সম্মানী ৩৫ রুপি নির্ধারণ করা হয়। তার গলার ‘আকার’ (signature) ঠুমরি ও গজলের জন্য মানানসই ছিল। তাই তিনি বিশুদ্ধ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের পরিবর্তে হালকা-ক্ল্যাসিকাল ও গজলের দিকে মনোনিবেশ করেন। তার গায়কীর স্বতন্ত্র ধারা ও মিষ্টি কণ্ঠ শ্রোতাদের নজর কাড়তে শুরু করে। মেহেদী হাসানের শিল্পী খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে।
পাকিস্তানী ফিল্মী গানের সর্বকালের সেরা গানগুলি মেহেদী হাসানেরই গাওয়া। তবে প্লেব্যাক শিল্পী হিসাবেও তার খ্যাতি তাৎক্ষণিক আসেনি। তাঁর প্রথম ফিল্মী গান হল শিকার ছায়াছবির ‘নাজার মিলতেহি দিল কি বাত কা চার্চা না হো যায়ে’। ১৯৫৬ সাল থেকে ৬১ পর্যন্ত তিনি মাত্র ৯টি ফিল্মী গান করেন যেগুলো তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। কিন্তু ১৯৬২ সাল ছিল তাঁর জন্য পয়মন্ত বছর। ওই বছর তিনি ৫টি ফিল্মী গান করেন তার মধ্যে তিনটি ছিল সুপার হিট।
অতঃপর ফিরিঙ্গী (১৯৬৪) ছবিতে ফয়েজ আহমদ ফয়েজের লেখা ও তাঁর বড় ভাই পন্ডিত গোলাম কাদিরের কম্পোজিশানে ‘গুলুমে রাঙ্গ ভারে’ গজল তাকে এনে দেয় গগনচুম্বি সাফল্য আর খ্যাতি। গুলাম কাদিরের কম্পোজিশনে আরো দুটি গজল ‘মোহাব্বাত কারণে ওয়ালে (হাফিজ হোসিয়ারপুরী)’ এবং ‘ভুলি বিছরী চান্দ উমিদে (রাজি তিরমিজী)’ সুপার হিট হয়। ঘুরে যায় মহেদেী হাসানের ভাগ্যের চাকা। এর পর তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। মেহেদী হাসানের অনেক ফিল্মী গান ছিল বড় বড় কবিদের লেখা গজল। দুরূহ গজলকে গীতের হালকা রং মেখে তিনি যেভাবে পরিবেশন করতেন, তাতে চলচ্চিত্রের সস্তা বাণিজ্যিক অবেদন ছাড়িয়ে মেহেদীর গানগুলোর মধ্যে শ্রোতারা ভিন্ন ধরনের স্বাদ খুঁজে পেতেন। এমন দুটো উদাহরণ হচ্ছে আহমেদ ফারাজের লেখা মাষ্টারপিস গজল ‘আবকে হাম বিছড়ে তো শায়েদ’ এবং রাগ আইমানের উপর রচিত ‘রাঞ্জিস হি সাহি’।
মেহেদী হাসান ধ্রুপদ সঙ্গীতের অঙ্গন থেকে ফিল্মী গানের জগতে আসেন। তাঁর রেওয়াজ চর্চিত কন্ঠে সব ধরনের গানই অমরত্ব পেয়েছে। কিন্তু আজকের যুগের অধিকাংশ শিল্পরা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে গলা তৈরি না করে হিট গানের সন্ধানে কেবল শর্ট-কাট খোঁজেন বলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা হারিয়ে যাচ্ছেন। গিটার হাতে তুলে নেয়ার আগে আমাদের নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গীতের মৌলিক বিষয়গুলো যেমন রাগ, ঠাট, তাল সম্পর্কে জেনে নিয়ে গলার গাঁথুনী শক্ত করা উচিত, তাহলে চলার পথে হোঁচট খেতে হবে না। ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত রয়েছে যার দখলে, আধুনিক, পপ, ফিউশনসহ সঙ্গীত ভুবনটাই থাকবে তার দখলে। আজকের বলিউড কাঁপানো ওস্তাদ রাহাত ফতেহ আলী খান হলেন এর সেরা নিদর্শন।
মেহেদী হাসান পঁচিশ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। জিন্দেগী মে সাভি পিয়ার কিয়া কারতে হেয়, তেরে ভিগে বাদানকি খুশবু, পিয়ার ভারে দো শারমিলে নেয়ন, রোমান্টিক সঙ্গীতে যেমন ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে তেমনি এক নায়ে মোড়পে, মুঝে তুম নাজারছে, ইক হুসনেকি দেবী ছে মুঝে পেয়ার হুয়া থা, গায়কীর চূড়ান্ত মানদন্ড বলে ধরা হয়। মেহেদী হাসান পপস্টার ছিলেন না, কিন্তু ৭০ দশকের শেষের দিকে রবিন ঘোষের সুরে গাওয়া ‘কাভি ম্যায় সোচতা হু’, ‘মুঝে দিলছে না ভুলানা’ উপমহাদেশে ফিউশন মিউজিকের দ্বার খুলে দেয়।
মেহেদী হাসান উর্দু সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন না। অথচ মীর, গালিব, ফয়েজ, আহমাদ ফারাজ কিংবা পারভীন শাকিরের মতো সেরা উর্দু কবিদের রচিত গজলে ব্যবহৃত শব্দ এবং ছন্দের নিগুঢ় বার্তা বোঝার ছিল তাঁর অসাধারণ ক্ষমতা। উর্দু গজলের কোন স্বরের ব্যাপ্তি কতটুকু কিংবা কোন শব্দের উপর কতটুকু জোর দিলে কাব্য স্তবকের মর্মাথ বেরিয়ে আসবে সেটা তার মতো করে কোনো গজল শিল্পী গাইতে পারেননি। মেহেদী হাসানের অনন্য গায়কীর জন্য অত্যন্ত জটিল রাগ-রাগিনীও শিশুর সহজ সরল মিষ্টি হাসির মতো শ্রোতাদের হৃদয়ে ঢেউ তোলে – ‘বাত কারনি মুঝে মুশকিল কাভি এয়সি তো নেহি (বাহাদুর শাহ জাফর)’।
মেহেদী হাসানের ভক্তরা ছড়িয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে। নেপালের রাজা বিরেন্দ্র ছিলেন তাঁর গানের একনিষ্ঠ ভক্ত। একবার রাজার আমন্ত্রণে তিনি নেপালের রাজপ্রাসাদে গান পরিবেশন করছিলেন। ‘জিন্দেগী মে তো সাভহি পিয়ার কিয়া কারতে হ্যায়’ গানটি গাইবার সময় মেহেদী হাসান গানের কথা ভুলে যান। দর্শকদের সারি থেকে রাজা বীরেন্দ্র তৎক্ষনাত দাঁড়িয়ে গানের ভুলে যাওয়া লাইনটি নিজে গেয়ে শুনিয়ে দেন। এমনই ছিল তার জনপ্রিয়তা। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও কবি অটল বিহারী বাজপায়ী, কিংবদন্তি শিল্পী লতা, মোহাম্মদ রফি, অভিনেতা দিলীপ কুমার, জগজিৎ সিং, হরিহরন, তালাত আজিজ ও বলিউডের এই প্রজন্মের সেরা গায়ক সনু নিগামও মেহেদী হাসানের গানের একনিষ্ঠ অনুরাগী।
মেহেদী হাসানের মতো মহৎ শিল্পী ও তার সঙ্গীতকে ভৌগলিক সীমারেখা দিয়ে বাঁধা যায় না। প্রকৃত অর্থে তিনি কোনো দেশের নন। বাংলাদেশেও রয়েছে মেহেদী হাসানের অগনন ভক্ত। তাঁর গাওয়া বাংলা গান ‘হারানো দিনের কথা মনে পড়ে যায়’, রাজাসাহেব ছায়াছবির ‘ঢাকো যতনা নয়ন দু’হাতে’ এবং ‘তুমি যে আমার’ বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীরা চিরদিন মনে রাখবে।
মেহেদী হাসান গুটিকতক পাকিস্তানীদের মধ্যে একজন যিনি বাঙালিদের অধিকার হরণের জন্য পাক শাসক গোষ্ঠীকে ধিক্কার দেন। ১৯৮৫ সালে সার্ক সম্মেলন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন মেহেদী হাসান। তখন রেকর্ডিং স্টুডিওতে সাংবাদিক শরাফুল ইসলামকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে এই মহান শিল্পীর অপার শ্রদ্ধার কথা। ওই আলাপচারিতায় মেহেদী হাসান বাঙালির মুখের ভাষা কেড়ে নেয়ার জন্য পাকিস্তানী শাসকদের দায়ী করে ভাষা শহীদদের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
গজল গায়কীতে ভিন্ন ধারা প্রবর্তন করে গজলকে উৎকর্ষতার প্রান্তিক স্তরে নিয়ে গেছেন মেহেদী হাসান। মেহেদী হাসানের সাফল্য আমাদের উপমহাদেশে গজলকে পেশা হিসাবে নিতে শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে। আজ বিশ্বের দেশে দেশে গজল শিল্পীরা যে কনসার্টের আমন্ত্রণ পাচ্ছেন, তা মেহেদী হাসানেরই অবদান। মেহেদী হাসান আমাদের মাঝে নেই, তবে বিশ্বের গজলপ্রেমী মানুষের কাছে অমরত্ব পেয়েছে তাঁর সঙ্গীত।
ভুলি বিছরি চান্দ উমিদে চান্দ ফাসানে ইয়াদ আয়ে
তুম ইয়াদ আয়ে অওর তুমহারে সাথ জামানে ইয়াদ আয়ে
