মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এ নিয়ে কথা বলতে বাঘা বাঘা পদার্থবিজ্ঞানীরাও দু’বার চিন্তা করেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে এমনকি টঙের দোকানে চায়ে চুমুক দিতে দিতেও যে কেউ এখন বিগ ব্যাং নিয়ে লেকচার দিতে শুরু করেছেন!
তাঁরা এমন ভাব ধরে বসেন যেন বিগ ব্যাং তাঁদের চোখের সামনেই ঘটেছে। এ পদার্থবিদ্যা নয় , যেন কোনো রান্নার রেসিপি নিয়ে আলোচনা চলছে! এভাবে বলতে গিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং ব্যক্তিগত ধারণাকে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেন।
বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন অবস্থায়। সেখান থেকে মহাবিশ্বের প্রসারণ শুরু হয় এবং ক্রমে শীতল হতে হতে গড়ে ওঠে পরমাণু, নক্ষত্র, ছায়াপথ ও গ্রহ-উপগ্রহ।
তাহলে কি বিগ ব্যাং থেকেই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব শুরু হয়েছিল? এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর বিজ্ঞানীদের জানা নেই। বিগ ব্যাং তত্ত্ব মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা থেকে তার সম্প্রসারণ ও বিবর্তন ব্যাখ্যা করে; কিন্তু বিগ ব্যাং থেকেই যে মহাবিশ্বের চূড়ান্ত উৎপত্তি কিংবা অস্তিত্বের শুরু, সে কথা বলেনা।
বিগ ব্যাংয়ের আগে কি অন্য কোনো মহাবিশ্ব ছিল? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বিকল্প ধারণা নিয়ে গবেষণা করছেন। একটি সম্ভাবনা হলো চক্রাকার মহাবিশ্বের ধারণা (Cyclic Universe)। আরও কিছু মডেলে বিগ ব্যাংয়ের পরিবর্তে একটি বিগ বাউন্স (Big Bounce)-এর ধারণা রয়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী সংকোচনপর্বের পর মহাবিশ্ব আবার প্রসারিত হতে শুরু করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈজ্ঞানিক বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠিত তথ্য, তাত্ত্বিক মডেল এবং অনুমানের পার্থক্য বোঝা জরুরি। অনেকেই বিজ্ঞানকে ধর্মের মুখোমুখি দাঁড় করান, অথচ বিজ্ঞান কোনো ধর্ম নয়, এটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাইকৃত গবেষণার ফল। ‘বিজ্ঞানীরা সবকিছু জানেন না’ যেমন সব জ্ঞানকে অস্বীকার করার অজুহাত হতে পারে না, তেমনি ‘বিজ্ঞান একটি তত্ত্ব দিয়েছে’ মানে এই নয় যে সব প্রশ্নের উত্তর মিলে গেছে।
9 October 2026