৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেলআভিভের পথে Flydubai FZ1073। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছুটে চলা বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী ও ৮ জন বিমানকর্মী সহ মোট ১৮২ জন।

হঠাৎ মাত্র ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। যাত্রীরা তখনও বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটছে। পরে জানা যায়, ককপিটে সহ-পাইলটের সঙ্গে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে এবং ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার বুঝতে পেরেছিলেন, শুধু নিজের জীবন নয়, বিমানে থাকা ১৮২ জন মানুষের জীবন তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

আহত অবস্থায় তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলটও পরে নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সবাই প্রাণে বেঁচে যান।

এই অসাধারণ সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্য ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘হিরো’ বলা হচ্ছে।

সহ-পাইলট একজন ওমানি নাগরিক। তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে ABC News জানিয়েছে, ২০২৪ সালে Oman Air-এ trainee co-pilot থাকাকালে তাঁকে নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং তাঁর কাছে উগ্রপন্থী উপাদান পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও কীভাবে তিনি আবার বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটে দায়িত্ব পেলেন, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে এসব তথ্যের পূর্ণ সত্যতা ও ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন।

নির্দোষ মানুষের জীবনহানি ও ভুল বার্তা: বিমান বা বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু বানালে কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয় না।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮.৬ শতাংশ, অর্থাৎ ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ মুসলিম, ইসরায়েলের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী। তাই কোনো বিমান যদি সত্যিই যাত্রীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধ্বংস করা হতো, সেখানে মুসলিম ইসরায়েলিরাও প্রাণ হারাতে পারতেন।এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ও হিংসাত্মক ঘটনা সেখানে বসবাসকারী সাধারণ মুসলিমদের জীবনযাত্রা এবং নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এর ফলে সামগ্রقভাবে মুসলিম কমিউনিটির ওপর সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দেয়াল আরও উচু হয়।

এ ধরনের ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল বা অন্যান্য সংবেদনশীল পেশায় কর্মরত মুসলিমদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি এবং সন্দেহ বাড়ে। এমনকি পাইলট বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিমদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক সতর্কতা বা বাধা তৈরি হতে পারে, যা একটি পুরো সম্প্রদায়ের পেশাগত অগ্রগতির পথকে সংকুচিত করে দেয়।

অতীতে বিমান ভ্রমণ যতটা সহজ ও স্বস্তিদায়ক ছিল, এই ধরনের সংকীর্ণ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে আজ সারা বিশ্বের সাধারণ যাত্রীদের, বিশেষ করে মুসলিম যাত্রীদের বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানি ও কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হয়।

এ ধরনের অন্ধ কাজ কোনো ন্যায়সঙ্গত বা মহৎ উদ্দেশ্যে সহায়তা করে না; বরং এটি মূল আন্দোলন বা সংগ্রামকে দুর্বল করে যা রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবেও তা আত্মঘাতী।