মে মাসের প্রথম দিকে দোহা শহরের হলিডে ভিলা হোটেলে সেন্টার এনআরবি’র উদ্যোগে একটি সেমিনার হয়ে গেলো। আয়োজকদের ভাষ্যমতে, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, জাতীয় পরিচয় পত্র, ভোটধিকার সহ প্রবাসীদের জন্য কল্যানকর এমন বেশ কিছু কার্যক্রমের দিকে আলোকপাত করাই ছিল এই সেমিনারের উদ্দেশ্য।
এ বছরের ফেব্রুয়ারীতে ম্যাকস্ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার প্যান-প্যাসিফিক সোনার গাঁ হোটেলে সম্পন্ন হয়েছে দু’দিনব্যাপী আরেকটি এনআরবি সন্মেলন, কোন-২০১৯। আমেরিকার কিছু প্রবাসী প্রকৌশলী হলেন এই সন্মেলনের উদ্যোক্তা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রকৌশলীসহ বিশেষজ্ঞ পেশাজীবিরা যাতে দেশের উন্নয়নের তাদের মেধা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন সেজন্যই আয়োজন করা হয় এই সন্মেলনের। এছাড়া ২০১৪ সালে আবুধাবীতে একটি জিসিসি এনআরবি সন্মেলন হয়, যাতে কাতার থেকে আমিও অংশ নেই। এর পর আজ অবধি জিসিসি এনআরবি সংগঠনের আর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
এ রকম আরো বেশ কিছু এনআরবি সংগঠন রয়েছে যাদের লক্ষ্য ও কার্যক্রম পরিস্কার নয়। ধুমকেতুর মতে উদয় হয়ে দু’একটি অনুষ্ঠান করার পর তাদের আর কোনো খাঁজ খবর থাকেনা। প্রবাসী এবং দেশের মঙ্গলের জন্য কিছু করাই যদি এই ধরণের সংগঠনের লক্ষ্য হয়, তা হলে তাদের কার্যক্রমে ধারাবহিকতা থাকা উচিত। সেই বিচারে ফেব্রুয়ারীতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এনআরবি সন্মেলন একটি ব্যতিক্রম।
প্রবাসীরা যে ধরনের পদক্ষেই নেন না কেনো, তাতে সরকারকে সম্পৃক্ত করা না গেলে খুব একটা সফলতা আশা করা যায়না। ঢাকায় অনুষ্ঠিত কোন-২০১৯ সন্মেলনের উদ্যোক্তারা ঠিক সেই কাজটিই করেছেন। এই সন্মেলনের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সাথে যোগ দেন ডজনখানের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ইআরডি, এমওএফএ, এসডিজি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।
এই সন্মেলনে প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা দেশের উন্নয়ন, নগরপরিকল্পনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্প সরকারী মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেন। মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো যথাযথ বিবেচনা করে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হয়।
বিশ্বজুড়ে মেধাবী বাংলাদেশি প্রকৌশলী, পেশাজীবি, উদ্যোক্তারা বিভিন্ন খাতে সুনামের সাথে কাজ করে চলেছেন। কারো রয়েছে সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কেউবা আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছেন। এদের অনেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভ’মিকা রাখতে চান, দেশের জন্য কাজ করতে চান। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত বড় বড় প্রজেক্টে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো গেলে বিদেশী প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলীদের উপর আর নির্ভর করতে হবেনা। এনআরবি সংগঠনগুলোর উচিত এই ধরনের উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করা এবং কিভাবে প্রবাসী জনশক্তি ও মেধাকে দেশের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো যায় সে নিয়ে কার্যক্রম হাতে নেয়া। না হলে এই ধরনের সংগঠন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।
মে, ২০১৯
