এক তলার ছেলেটি সত্যি ভালোবাসতো
পাশের বাড়ীর মেয়েটিকে
অথচ ওদের দেখা হলেই দু’টি মুখে তালা ঝুলতো।
মেয়েটির ভীষণ ইচ্ছে হত কথা বলতে
কিন্তু দেখা হলেই অচেনা হয়ে যেতো
পরিচয়ের সহজ পথ ছেড়ে টেলিফোনের ইথারে নিত আশ্রয়।
আর একটি টেলিফোনের তৃষ্ণায় মেয়েটির
সিঁদুরের মত লাল ঠোঁটে তির-তির কাঁপন জাগতো।
মেয়েটির চোখ দু’টি ছিল খু-উ-ব গভীর।
ওরা দু’জন শুধু তাকিয়ে থাকতো;
সূর্যমুখী যেমন তাকিয়ে থাকে
আকাশের দিকে মুখ তুলে।
দু’জনার দু’টি চোখ হয়ে যেতো অন্তহীন পথ
কিংবা অলিখিত কোন উপন্যাস।
চোখের তারায় যে নিজের অগোচরে কথা বলা যায়
এমনতো আগে কেউ জানতো না।
কখনো গভীর রাতে কিংবা ক্লান্ত দুপুরে
দরোজায় কড়া নাড়ার মৃদু শব্দে
পাশের বাড়ীতে জেগে উঠতো প্রতীক্ষার একজোড়া চোখ।
এমনকি শব্দহীন বাতাসে ভেসে-আসা
অসতর্ক কোলাহল আর নীলিমায় নক্ষত্র পতনের শব্দে
মেয়েটি চম্কে উঠতো।
তবে ছেলেটি যদি দু’পা এগোয়
মেয়েটি তিনপা পিছোয়।
অসংখ্য শাসনের চোখ ওকে তাড়া করে বেড়ায়,
ওর প্রজাপতি মনের শঙ্খনীল ভালোবাসা
বৈরুতের অবরুদ্ধ প্যালেষ্টাইনী গেরিলার মত বলে উঠেঃ
‘সমর্পিত হব! না পালিয়ে বেড়াবো’।
একদিন মেয়েটি
শাসনের সব চোখ উপেক্ষা করে যখন এগিয়ে এল
ছেলেটি তখন সবার তিরস্কার আর উপহাসের বোঝা নিয়ে
‘জেনারেল বেলগ্রানো’র মত ডুবছে আর ডুবছে।
আর মেয়েটির দ’ুচোখে সুগভীর সুনামী ভেঙ্গে পড়ছে।
এইভাবে একদিন যে প্রেম
কুঁড়ি থেকে কলি হয়ে ফুলে-ফুলে
সুশোভিত হয়েছিল, তার যত পাঁপড়িগুলো
নীরবেই ঝরে গেলো।
