খবর চাই! খবর চাই!
গত র্বষায় ক’বার ঘরের চাল ফুঁটো হল,
সে খবর জানতে চাই।
গ্রীষ্মের রোদ্দুরে ক’টা নদীর জল শুকালো
ক’জন তুখোড় ছাত্রনেতা স্বৈরাচারের দোসর হল,
ক’জন দেশপ্রেমিক দেশটাকে
সর্ষেবাটার মত চিবিয়ে খেলো সে খবর জানতে চাই।
সালমান রুশদী জাতিসংঘের ক’খানা পদক পেলো
গোবেচারা জমির আলী ক’বার বউ ঠেঙ্গালো
সে খবরও জানতে চাই।
খবর দেবার প্রতিশ্রুতি চারিদিক
অথচ ম্যাগাজিনের পাতা উল্টালেই ঝল্সে ওঠে
আদম ব্যাপারীর হিংস্র চোখ
ছাপার অক্ষরে লেপটে থাকে
হায়নাররূপী বুদ্ধিজীবির লালসার লালা।
সংবাদপত্রগুলো যেনো হাসপাতালে পড়ে-থাকা
ব্যান্ডেজে বাধা অসহায় রোগী কিংবা
মজনু ফকিরের গায়ে জড়ানো র্মচে ধরা জীর্ণ আল্খেল্লা।
সম্পাদক সাহেবের বহুমুখী প্রতিভা অনস্বীকার্য;
দর্জি-দোকানের পুরোনো কাপড় রিপু করার কৌশল
তিনি সহজেই করেছেন রপ্ত।
জঘন্য মিথ্যাচারের সুরম্য দালান গড়তে তিনি সিদ্ধহস্ত।
তিনি সবই পারেন: গরুকে জলে ঠেলে দিয়ে
রচনা করতে নদী বিষয়ক কাব্য অথবা
ভণ্ডামীর কারুকাজ করা কটির নীচে
রাজাকারের কবজ লুকিয়ে
স্বাধীনতার পক্ষে ছুঁড়তে পারেন তিনি মেশিনগান।
জারজ দক্ষতায় মুক্তিযোদ্ধাদের বানাতে পারেন রাজাকার
অথবা অনুগত বেদুদের দিয়ে
লেখাতে পারেন নপুংসক কলাম।
ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী,
একখানা ধারাল কাঁচি আর
এক কৌটা গ্লু থাকলেই এখন
বিশাল মানচিত্র ছেটে-ছুটে ঢোকানো যায় পকেটে;
সৃষ্টি করা যায় ইতিহাস।
এক ডলারে কেনা যায় বিশ্ব ভ্রমণের রিটার্ণ টিকেট।
একটি স্কেনার থাকলেই হয়
৬২ হাজার গ্রাম উঠে আসে কাগজের পাতায়।
ফটোকপিয়ারের উরুতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন অমিতাভ বচ্চন
আর তাবৎ লেখকের দল।
‘চমৎকার হয়েছে ম্যাগাজিন!’ বললেন জনৈক বুদ্ধিজীবি
‘পাঠকের সব হবেতো হজম’?
বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে মুখ খুললেন সম্পাদক মহোদয়
‘হতেই হবে হজম, সংবাদ পড়তে গেলে পাঠকের ফুরোবে দম;
এটাই হল কাট এন্ড পেস্ট জার্নালিজম’।
Leave a comment
