প্রচণ্ড গরমে ঘর্মাক্ত শরীরে বসেছিলাম
সাজানো ড্রয়িং রুমের গুমোট অন্ধকারে
তুমি আসলে না।
অপেক্ষায় ছিলাম তুমি আসবে
হলুদ সিল্ক শাড়ীর আঁচল উড়িয়ে
অসংখ্য শাসনের চোখ এড়িয়ে;
পর্দার আড়ালে এসে দাঁড়াবে
ইশারায় কাছে ডাকবে।
তুমি আসলে না।
দেয়ালে কান পেতে রেখেছিলাম
যদি শুনতে পাই চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ
পায়চারী করেছি অধৈর্য্য পদক্ষেপে
সামনের বারান্দায় তুমি এসে দাঁড়াবে
ত্রস্ত পায়ে সিঁড়ির অন্ধকারে।
অসম্ভব সুন্দর ওই মুখখানি
তুলে ধরবে আমার দিকে
লতার মত বাহুতে জড়িয়ে
কাছে টেনে বলবে, ‘তুমি আমার’।
অনেক ভেবেছি
ঘড়ির কাঁটা যতই এগিয়ে গেছে
ততই বিশ্বাস হয়নি
তুমি আমাকে
একটিবারও কাছে ডাকবে না।
ইচ্ছে হচ্ছিল
দরোজার অর্গল খুলে ভেতরে পা রাখি
চিৎকার করে তোমাকে কাছে ডাকি।
পারিনি।
বুকটা ভেঙ্গে আসছিলো অসহ্য অভিমানে,
মনে হচ্ছিল ছুটে যাই সবকিছু ফেলে,
হারিয়ে যাই নিকষ কালো অন্ধকারে।
তবুও অপেক্ষায় ছিলাম।
দীর্ঘ ত্রিশটা বছর কাটিয়েছি
শুধু তোমার প্রতীক্ষায়।
তোমাকে পাবার জন্য আরো
ত্রিশটা বছর কাটাতে পারবো
অথচ এই চার ঘণ্টার প্রতীক্ষা
কেনো এত দীর্ঘ মনে হয়েছিল জানি না।
