কাতারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হল বাংলা নববর্ষ বৈশাখী ১৪২৫। বিভিন্ন সংগঠন এবং কমিউনিটি সংস্থাগুলো বৈশাখীর রঙ মেখে উপভোগ করেছে পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, রকমারী দেশীয় পিঠা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল আয়োজিত বৈশাখী মেলা ও উৎসব ছিল কাতারের সবচেয়ে বড় বৈশাখী আয়োজন। কাতারের সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল আয়োজিত বৈশাখী মেলা। এই মেলায় ছিল হরেক রকমের স্টল আর উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ কমিউনিটির নিজস্ব কোনো হলঘর বা মিলনায়তন নেই বলে কাতারে কোনো সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা অনেকটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগে কাতার ঘুরে গেলেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে বিশ্বের শতাধিক দেশ ভ্রমণকারী বাংলাদেশী নারী নাজমুন নাহার। বাংলা টিভির বিশ্ববাংলা সোসাইটি এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে কাতারের একটি স্থানীয় রেস্তারাঁয় তাঁকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। মাত্র ক’দিনের নোটিশে এ ধরণের একটি আয়োজন করা চাট্টিখানি কথা নয়।

দোহা শহরে বেশ কিছু ছোটো থেকে মাঝারি আকারের বাংলাদেশি ও ভারতীয় রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে ৫০ থেকে ১৫০ জনের বেশী মানুষের সমাবেশ করা যায়না। এই ধরণের রেস্তারাঁর অধিকাংশই দোহা শহরের পুরোনো এবং ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত বলে গাড়ী পার্কিং করাটা একটি বড় ধরনের সমস্যা। ফলে ইচ্ছে থাকলেও অনেকে পরিবার নিয়ে ওই ধরনের রেস্তোরাঁয় আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে যেতে চান না। এছাড়া হল ভাড়া, খাবার-দাবারের খরচ মিলিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন হয়। যা সবার পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব নয়।

কাতারের প্রচলিত আাইনকানুন ও পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনামূলক অনুষ্ঠান করার জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উপর চাপ থাকে। এই ধরনের একটি অনুষ্ঠান রেস্তোরাঁয় সীমিত পরিসরে করা সম্ভব নয়। তদুপরি, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় সমাবেশ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ থেকে যে ধরনের অনুমতি ও ছাড়পত্র লাগে তাতে সদিচ্ছা থাকলেও অনেকের পক্ষে এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ কমিউনিটির একটি নিজস্ব হলঘর কিংবা মিলনায়তের চাহিদা কিভাবে মেটানো যায় সে নিয়ে আমাদের জরুরী ভিত্তিতে কিছু করতে হবে। এ নিয়ে ভাবতে গিয়ে প্রথমেই যে প্রতিষ্ঠানের কথা মাথায় আসে সেটা হচ্ছে কাতারস্থ বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজ। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন বাংলাদেশ স্কুলের একটি মিলনায়তন কিংবা উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ কি এজন্য ব্যবহার করা যায়না? এ নিয়ে আমি পত্রিকায় লেখালেখি করেছি, দূতাবাস এবং কমিউনিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে কথাও বলেছি। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। অনুষ্ঠান করতে দিলে বিশৃংখলা হতে এই ধরণের একটি জুজুর ভয় সবার মধ্যে কাজ করতে দেখলাম। কিন্তু অনাকাংখিত ঘটনা এড়াবার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা সে নিয়ে কেউ কথা বলেন না। উপযুক্ত ভাড়া এবং নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বন্দোবস্ত করার মত শর্ত দিলে বিশৃংখলা হবে কেনো? এছাড়া হল ভাড়া স্কুলের জন্য একটি নিয়মিত আয়ের উৎস হতে পারে।

এক্ষেত্রে কাতারের ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারের পরীক্ষিত পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে। কাতারের বেশ কিছু স্কুল বিভিন্ন ধরনের অুনষ্ঠান করার জন্য হল ভাড়া দিয়ে থাকে। আবুধাবীতে বাংলাদেশ স্কুল কমিউনিটির অনুষ্ঠানের জন্য হল ভাড়া দিচ্ছে। আবুধাবির বাংলাদেশ কমিউনিটি যদি পারে তাহলে আমরা পারব না কেন?

কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি এর একটা সুরাহা করতে পারেন তাহলে কমিউনিটির সবাই উপকৃত হবে। তাতে কাতারে বাংলাদেশ কমিউনিটির কর্মকান্ড আরো উজ্জ্বীবিত হবে।

 

৬ মে, ২০১৮